খুঁজুন
, ,

করোনায় একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৩৯

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 9 August, 2022, 5:55 pm
করোনায় একজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৩৯

করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। তবে এ সময়ে ১ জন মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক বিজ্ঞপ্তি থেকে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন একজনসহ এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৩০৮ জন। এদের মধ্যে ১৮ হাজার ৭০৮ জন পুরুষ এবং ১০ হাজার ৬০০ জন নারী। দেশে মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২০ লাখ সাত হাজার ৮৭০ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৪৮৯ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ১৫৪ জন। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৮৮০টি ল্যাবরেটরিতে পাঁচ হাজার ৪৮৭টি নমুনা সংগ্রহ এবং পাঁচ হাজার ৫০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্তের হার গিয়ে দাঁড়িয়েছে চার দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এর দশ দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এন-কে

Feb2
Feb2

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন : ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2026, 11:44 pm
দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন : ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগটি বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে।’

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনরত উপজেলা হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়; কিন্তু সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতোই আপন। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, ‘আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেই উপজেলা তো আপনার দেশেরই একটা অংশ। সেখানে যে মানুষগুলোকে দেখছেন, তারা হয়তো আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ। ছোট একটা দেশ। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।’

শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন দূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, “উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন। এভাবে আপনারা পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখতে পারেন।”

একইভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনকে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খেলাধুলার আয়োজনের জন্য শুধু বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয়ভাবে ভালো যেকোন বিষয় নিয়ে এমনকী স্থানীয় কোনো মানুষের জন্মদিন উপলক্ষ্যেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে, এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে, সমাজ ধ্বংস হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে আপনাদের উদ্যোগ নিতে হবে।

‘সৃষ্টির সেরা জীব যদি আমরা হয়ে থাকি, তাহলে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও ভাবতে হবে’- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু মানুষের প্রতি নয়, আশপাশের পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও যত্নবান হতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিশুদের এসব বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার থেকে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো তাদের পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একসময় পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া হতো। বর্তমানে এসব মূল্যবোধ অনেকটাই অনুপস্থিত। এগুলো ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনওদের প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকার এবং জনগণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাতে আমার বিশ্বাস, আপনারা জনগণের জন্য অনেক ভালো কিছুই করতে পারবেন বলেন, আপনারা নিজেদের যোগ্যতায় এ পর্যায়ে এসেছেন। আল্লাহ আপনাদের মানুষের জন্য এবং রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষের কল্যাণে তা কাজে লাগাতে হবে।

সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন, সেচব্যবস্থা ও কৃষিকাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন তারা। উপকারভোগীদের কৃতজ্ঞতার বার্তা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এর মাধ্যমে নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, ‘দিন দিন আমাদের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয় কিন্তু এক। লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও এক।’ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি তাদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বন্য প্রাণী ও পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুর না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ জায়গা।’

সভায় খাল খনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩ টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, ড. নাসিমুল গণি , প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও রিকশা উপহার পেলেন ৩ জুলাই যোদ্ধা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2026, 3:55 pm
সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও রিকশা উপহার পেলেন ৩ জুলাই যোদ্ধা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দুই যোদ্ধার আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তার লক্ষ্যে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও দুটি প্যাডেল চালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৮ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এসব উপহার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা, পরিবার ও জীবিকা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সিএনজি চালিত অটোরিকশা পেয়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিরপুর বাংলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজ শেখ। তিনি সিএনজি চালিয়ে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের ভরণপোষণ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মিরপুর-১০ এলাকায় অংশ নিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার শরীরে ৩৬টি গুলির স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, অবশ্যই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।

কুষ্টিয়ার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা মো. গফফারকে দুটি প্যাডেল চালিত রিকশা উপহার দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের নিয়মিত পানি সরবরাহ করেছেন এবং নিজের রিকশায় আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি জানান, উপহার পাওয়া রিকশা ঢাকাতেই চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবেন। আরেকটি রিকশা ভাড়া দেবেন।

এছাড়া বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি আসাদুল হক বিশুকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে উপহার পাওয়া বাহনগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হবে তা প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি তারা কীভাবে নিরাপদে এসব বাহন নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাবেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতার দায় ভারত এড়াতে পারে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2026, 3:41 pm
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতার দায় ভারত এড়াতে পারে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে গেলে এর দায় ভারত এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে এ সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা—দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না।

তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে সেই সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। কিন্তু ভারত যদি ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করে, তাহলে তা পরস্পরবিরোধী অবস্থান হবে।

শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি স্পষ্ট করে যে বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ভারত সমর্থন করে না, তাহলে বাংলাদেশ সেই অবস্থানকে স্বাগত জানাবে। তবে একই সঙ্গে একজন সাবেক স্বৈরশাসক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও বাংলাদেশের আপত্তি রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রশ্ন তোলেন, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে—এমন একজন রাজনৈতিক নেতাকে ভারত কীভাবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নেতা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতার দায় ভারত এড়িয়ে যেতে পারে না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের পার্থক্য রয়েছে। বিএনপির নেতারা দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে নির্বাসনে ছিলেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভারতকে যা দিয়েছে, দেশটি তা চিরদিন মনে রাখবে। তার মতে, শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘পারস্পরিক প্রতিদান’ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।