খুঁজুন
, ,

কাশ্মিরের কারাগারে ৮ বছর থেকে দেশে কক্সবাজারের ৫ যুবক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 13 August, 2022, 11:50 am
কাশ্মিরের কারাগারে ৮ বছর থেকে দেশে কক্সবাজারের ৫ যুবক

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের শিকার কক্সবাজারের রামুর ৫ যুবক ৮ বছর পর দেশে ফিরেছেন। ভারতের কারাগারে বন্দি জীবন শেষে স্বজনদের পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তারা।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পালস বাংলাদেশ তাদের দেশে ফিরিয়ে আনে।

৮ বছর আগে চাকরির প্রলোভনে পড়ে দালালচক্রের ফাঁদে পড়ে ভারতে পাড়ি জমান কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের উত্তর পাড়ার আলী আহমদের ছেলে শফিউল আলম, সুলতান আহমদের ছেলে আবদুল হামিদ, দক্ষিণ পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে সোহেল রানা, পূর্ব তিতারপাড়ার মৃত রশিদ আহমদের ছেলে নুরুল আজিম ও টেকপাড়ার মৃত রশিদ আহমদের ছেলে মুহাম্মদ ইসমাঈল।

কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আইনি জটিলতায় ভারতের কারাগারে বছরের পর বছর বন্দি ছিলেন তারা। এসময়ে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেননি। এদিকে সন্তানদের খবর না পেয়ে নির্বাক ছিলেন স্বজনরা।

খবর পেয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পালস বাংলাদেশের সহায়তায় ওই ৫ যুবক কারামুক্ত হয়ে দেশের মাটিতে ফেরেন। তবে, তাদের সঙ্গে যাওয়া মনজুর আলম নামের আরেকজন ভারতের কারাগারে অসুস্থ হয়ে প্রায় ৩ বছর আগে মারা যান।

স্বজনরা বলছেন, দীর্ঘ ৮ বছর পর সন্তানদের মুখ দেখতে পেয়ে আনন্দিত তারা।

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশের মাটিতে পৌঁছলে স্বজনদের আবেগ আর কান্নার রোল পড়ে যায়। এসময়ে অবতারণা হয় ভিন্ন এক দৃশ্যের। তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন মা, বাবা, ভাই, স্ত্রী কিংবা স্বজনেরা।

অন্ধকার জগৎ থেকে ফেরা ওই পাঁচজন এখন নিজ ঘরে, স্বজনের কাছে।

ভারত থেকে ফেরত আসা নুরুল আজিম জানান, “দালালদের খপ্পরে পড়ে বেশি বেতনের চাকরির ফাঁদে পড়ে ভারত পাড়ি জমাই। সেখানে যাওয়ার পর দালালচক্র আমাদের ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশের হাতে আটক হলে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবে আমরা ৫ জন দীর্ঘ ৮ বছর ভারতের কারাগারে ছিলাম। এখন দেশে আসতে পেরে খুব খুশি লাগছে।”

পালস বাংলাদেশ’র প্রধান নির্বাহী সাইফুল ইসলাম কলিম বলেছেন, “বছরখানেক আগে খবর আসে রামুর ৬ জন ছেলে ভারতের কারাগারে বন্দি আছেন। পরে নিশ্চিত করা হয় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ভারতের জম্বু কাশ্মির, হরিয়ানা কারাগারে বন্দি এ ৫ যুবক। তাদের মুক্ত করতে পরিবারের সদস্যরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেন। একটি টিমও ভারতে পাঠান। নানা জটিলতায় তাদেরকে কারামুক্ত করতে পারেননি। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৫ জনকে কারামুক্ত করে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।”

এদিকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা যুবকদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান করা হয়। শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পালসের হেড অফিসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক তরিকুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানব সম্পদ ও উন্নয়ন) নাসিম আহমেদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশের ইবনে হালিম, ক্যাম্প-২৩ ইনচার্জ, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, পালসের আবদুল হামিদ, আবুল বাশের, মাহবুবুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এন-কে

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।