মিরসরাইয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল দশা
গ্রাম্য মানুষদের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো। আর যখন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোই রোগাক্রান্ত তখন গ্রামবাসীর রোগ সারানোর চিকিৎসা নেওয়ার উপায় কি ? ভুক্তভোগীদের উত্তর এখনও অজানা। শুধু নামেই দাঁড়িয়ে আছে সেবাদানকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো!
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রের দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই। একসময় এই সেবা কেন্দ্র থেকে হাজার হাজার মানুষ সেবা নিতো বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় সেবা না পেয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত নয়-দশ বছর ধরে মিরসরাই উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর নড়বড়ে অবস্থা। আবার কোনো স্বাস্থ্য কেন্দ্র এতিমের মতো নিজের চিকিৎসার জন্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
মেশিনগুলোও প্রায়ই অকেজো। নেই কোনো রোগের ওষুধ। তারমধ্যে ইছাখালী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্র অন্যতম। গ্রামের সহজসরল মানুষগুলো প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে এসে বিনা চিকিৎসায় ফেরত যাচ্ছেন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে।
একসময় যেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ সেবাো নিত, বর্তমানে সেবাতো দূরে থাক রয়েছে ভবনে তালাবন্ধী, যেন নিরবে কান্না করছে ভবনটি আর চিকিৎসা না পেয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এই সেবা কেন্দ্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ৯ এলাকার মানুষ।
প্রায় দুই-তিন বছর ধরে নেই চিকিৎসক, ভবনে ধরেছে পাটল, ভবনের রং উঠে আগাছায় রঙিন, জানালা ভেঙ্গে চৌচির আর অপরিচর্যায় গাছের ডালে লুকিয়ে গেছে ভবনটি।
এদিকে, মিরসরাই উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিক আছে ৪১টি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আছে ৮ টি এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে ৭টি। তবে কয়টিতে কার্যক্রম আছে বা নেই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কথা না বলায় তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি।
এর আগে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে বার বার তার সাথে যোগাযোগ করেও কোন সুফল পাননি এই প্রতিবেদক। মুঠোফোন বেজে গেলেও কেন রিসিভ করেননি তাও অজানা।
সর্বশেষ রবিবার ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭.১২ মিনিট এবং রাত ১০.৫ মিনিটেও তার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা জানান, ইছাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানকার মানুষের শহরাঞ্চলে গিয়ে সেবা নেওয়াটা অনেক কষ্টের।
যখন কেন্দ্রটি সেবা দিতো তখন প্রচুর মানুষ উপকৃত হতো, বর্তমানে সেটি বন্ধ থাকায় চিকিৎসা সেবা পেতে মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে।
ভবনটি পুনঃনির্মাণ ও চিকিৎসা সেবা চালুর বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানিয়েছি এবং উপজেলায় মাসিক মিটিং এ বিষয়টি তুলেছি কিন্তু এখনও কোন সমাধান পায়নি।
অপরদিকে, মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমান জানান, উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলো দীর্ঘদিন বন্ধ আছে। এবিষয়ে আগামী জেলা বৈঠকে কথা বলবো।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ ইলিয়াছ চৌধুরী জানান, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের সহযোগিতা করা স্যাকমো না থাকায় অনেকগুলো কেন্দ্র বন্ধ আছে।
আপনারা অবগত আছেন ২০১৩ সালে স্যাকমো নিয়োগের সময় নিয়োগ অবাঞ্ছিত হয়। দীর্ঘদিন সেবিষয়ে মামলা চলমান থাকার পর ইতিমধ্যে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
স্যাকমো নিয়োগের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের জন্য লিখিত আবেদন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে অনুমোদন পেলে স্যাকমো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলো পুনরায় চালু হবে। আর ভবন গুলো এবছর পুনরায় সংস্কারের কাজ শুরু হবে। তবে সবগুলো একসাথে হবে না পর্যায়ক্রমে হবে।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কল রিসিভ না করা বা কথা না বলার বিষয়ে তিনি জানান, আপনারা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারব।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন