পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পনা!
পাকিস্তান সম্প্রতি এমন এক পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চলে যাবে। আর এই পদক্ষেপের ফলে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।
ইসলাম খবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাশ্মীরের নাগরিকরা ইসলামাবাদ সরকারের এই পদক্ষেপের কারণে ক্ষুব্ধ, কারণ বারবার তারা এই বিশেষ ক্ষমতার অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন করার এবং প্রশাসনের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পাকিস্তান সরকারের দেশটির সংবিধানের একটি ১৫তম সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করেছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ইসলামাবাদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চলে যাবে।
ইসলাম খবর আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে নিয়ে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। সেখানকার জনগণের এটা বদ্ধমূল ধারণা যে, ইসলামাবাদের সরকার কাশ্মীরি জনগণের প্রতি আস্থাশীল নয় এবং তাদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এখানকার জনগণের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয় না।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরিদের অভিযোগ, বর্তমানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রণয়ন এবং কর আদায়ের যে ক্ষমতা তাদের রয়েছে, তা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ছিনিয়ে নিতে চায়।
সংবিধান সংশোধনের জন্য ইসলামাবাদ যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে এই অঞ্চলটি একটি স্ব-শাসিত এলাকা হিসাবে তার মর্যাদা হারাবে। কাশ্মীরের জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। এর ফলে যা কাশ্মীরের জনগণ এবং সরকারের মধ্যে অবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসলাম খবর সূত্রে জানা গেছে, এই অঞ্চলের অন্তত ১০ জেলায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা বলছে, যে ইসলামাবাদের সাম্রাজ্যবাদী নীতিগুলো পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের একটি অংশ বানাতে চায়।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের একজন মানবাধিকার কর্মী শাবির চৌধুরী পাকিস্তানের সমালোচনা করতে গিয়ে জানান, ‘শৈশব থেকেই, আমাদের শিশুদের সামাজিক, শিক্ষাগত, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মগজ ধোলাই করা হয়। কীভাবে পাকিস্তানের ভালো দাস হতে হয় সে বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়।’
ইসলাম খবর বলছে, এখন সেখানকার বাসিন্দারা কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধনীর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কারণ এটি তাদের অধিকার এবং স্বাধীনতাকে বিচ্ছিন্ন করছে।
গত ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে নিরাপত্তা সংস্থার কঠোর দমন-পীড়ন সত্ত্বেও পাকিস্তান থেকে মুক্তি চেয়ে কাশ্মীরজুড়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কাশ্মীরি জনগণ সেদিন রাস্তায় নেমে আসে, শহরগুলো একরকম স্থবির হয়ে পড়ে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সে সময় তারা স্লোগান দিতে থাকে। পাকিস্তানের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টি আমলে না নিলেও সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিবাদের ভিডিওতে ভরে গেছে বলে জানিয়েছে ইসলাম খবর।
শহীদ লতিফ চৌধুরী নামে এক মেডিকেল শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা এই ১৫তম সংশোধনী প্রত্যাখ্যান করছি। কাশ্মীরিরা শুধু তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার চায়। আমাদের প্রিয় রাষ্ট্রের পরিচয় নিয়ে আমরা কোন আপস করবো না।’
অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের সভাপতি মেহতাব আহমেদ বলেছেন, ইসলামাবাদের দ্বারা কাশ্মিরের অবস্থা পরিবর্তনের যে কোনো প্রচেষ্টার পরিণতি হবে ‘গুরুতর।’
এদিকে, এই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। কাশ্মীরের পুলিশ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
দুনিয়া টিভির স্ক্রিপ্ট রাইটার সৈয়দ তাকি উল হাসান তরুণ কাশ্মীরিদের স্বাধীনতার স্লোগানের একটি ভিডিও শেয়ার করার পরেই, পুলিশের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের।
কাশ্মীরিরা এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল ভাণ্ডারকে কাজে লাগাতে ইসলামাবাদের যে অভিপ্রায় রয়েছে, তা সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ পোষণ করছে। বারবার অভিযোগ উঠেছে যে, পাকিস্তান সেখানে সমৃদ্ধ বন, খনি এবং জলসম্পদ শোষণ করছে, যখন সেখান থেকে কাশ্মীরি জনগণ কোনো সুবিধাই পাচ্ছে না।
ইসলাম খবর জানিয়েছে, পাকিস্তান এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের খোঁজ করা এবং সেটি আহরণের আগে স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো পরামর্শই করে না। ইসলামাবাদ সেখানে একটি পর্যটন শিল্প প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করছে, যা বন সুরক্ষার জন্য কার্যকর আইনগুলোকেও অগ্রাহ্য করবে।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন