খুঁজুন
, ,

বন্দর থেকে আমদানিপণ্য যেভাবে খালাস হয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 27 August, 2022, 7:15 pm
বন্দর থেকে আমদানিপণ্য যেভাবে খালাস হয়

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগই হয় সমুদ্র্রপথে। এরমধ্যে ৯২ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রধান এ সমুদ্রবন্দরে বাড়ছে ব্যস্ততা। জরিপ বলছে, ২০১৮ থেকে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ঘটবে। ২০৩০ সাল নাগাদ এ বন্দর দিয়ে হ্যান্ডলিং হবে ৪০ লাখ টিইইউস (টুয়েন্টি ফুট ইক্যুয়েভেলেন্ট ইউনিট) কনটেইনার।

২০৪৩ সালে তা উন্নীত হবে ৫৬ লাখ টিইইউসে। তবে বন্দরে চাপ ও ব্যস্ততা বাড়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আমদানিপণ্য খালাসে ফাঁকফোকরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনুসন্ধানে মিলেছে নানা অসঙ্গতি ও অনিয়ম।

সদ্যবিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর ৩২ লাখ ৫৫ হাজার টিইইউস কনটেইনার এবং ১১ কোটি ৮১ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে। সাধারণত, আমদানি পণ্য বন্দর থেকে খালাস করতে কিছু নিয়মনীতি অনুসরণ করতে হয়।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিদেশি মদের চালান বের হওয়া এবং বহির্নোঙর থেকে বাল্কপণ্য খালাস নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক সামনে এসেছে।

কাস্টমস, আমদানিকারক, পণ্য খালাসকারী সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং) প্রতিষ্ঠান ও লোকাল শিপিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমদানিপণ্য দেশের সমুদ্রসীমায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে খালাসের প্রথম ধাপের কাজটি শুরু করেন পণ্য নিয়ে আসা জাহাজের ক্যাপ্টেন।

কাস্টমস আইন অনুযায়ী, জাহাজ বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশের আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পণ্যের আইজিএম (ইমপোর্ট জেনারেল ম্যানিফেস্ট) কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে সাবমিট করতে হয়।

আইজিএম হচ্ছে আমদানিপণ্যের তথ্য সম্বলিত তালিকা। যেখানে পণ্যবাহী জাহাজের নাম, রোটেশন নম্বর, আমদানি-রপ্তানিকারকের নাম-ঠিকানা, পণ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, পণ্যের পরিমাণ ও গন্তব্য ইত্যাদি তথ্য থাকে।

এরপর জাহাজ বন্দরে বার্থিং করার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কনটেইনাগুলো বন্দর বার্থে নামে। এরপর বেসরকারি অফডকে (বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো বা আইসিডি) খালাসযোগ্য পণ্য হলে স্ক্যানিং হয়ে কনটেইনারগুলো অফডকে চলে যায়।

দ্বিতীয় ধাপে পণ্যের কায়িক পরীক্ষা ও শুল্কায়ন করতে হয়। বন্দরে পণ্যভর্তি কনটেইনার নামার পর এবং রপ্তানিকারক থেকে শিপমেন্ট নথি পাওয়ার পর অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে বিল অব এন্ট্রি (সি নম্বর) সাবমিট করেন আমদানিকারক প্রতিনিধি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট।

এরপর পণ্য চালানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিশেষ কোনো পর্যবেক্ষণ না থাকলে কাস্টমস হাউজে পণ্যের শুল্কায়ন হয়। শুল্ক নির্ধারিত হওয়ার পর অ্যাসেসমেন্ট নোটিশের মাধ্যমে ব্যাংকে শুল্ক কর পরিশোধ করেন আমদানিকারক।

এরপর কাস্টমস থেকে পণ্য ছাড়ের অনুমতি দেওয়া হয়। বন্দরের যাবতীয় ফি পরিশোধ শেষে বন্দর অভ্যন্তরে থাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আমদানিপণ্য খালাস নেওয়া হয়।

এক্ষেত্রে পণ্যের চালানে পর্যবেক্ষণ থাকলে বা সি নম্বর লক থাকলে কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধি ও আমদানিকারকের প্রতিনিধিসহ অন্য প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পণ্যের কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়।

কায়িক পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ পরবর্তীসময়ে কাস্টমসে নথি উপস্থাপন করা হলে সে অনুযায়ী শুল্কায়ন করে কাস্টমসের পণ্য ছাড়ের প্রক্রিয়া শেষ করে খালাসের পদক্ষেপ নিতে হয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে।

এক্ষেত্রে বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষণা দেওয়া পণ্যের সঙ্গে কায়িক পরীক্ষায় মিল থাকলে স্বাভাবিক শুল্কায়ন শেষে পণ্য ছাড় হয়। যদি ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে কায়িক পরীক্ষায় মিল না থাকে তবে কাস্টমস আইন অনুযায়ী ফাইন পেনাল্টিসহ শুল্কায়ন শেষে পণ্য ছাড় দেওয়া হয়।

বেআইনি পণ্য হলে আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আবার আমদানিপণ্য বন্দরে আসার পর আমদানিকারক পণ্য খালাস না নিলে বা মামলা জটিলতা না থাকলে নির্ধারিত সময়ের পর পণ্য নিলাম ও ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে আমদানি পণ্য শিল্পকারখানার ক্যাপিটাল মেশিনারিজ হলে আমদানিকারক জাহাজে আসা কনটেইনার সরাসরি নিজের কারখানায় নিয়ে যেতে পারেন। এ পদ্ধতিকে বক্স ডেলিভারি বলা হয়।

এক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি ছাড়াও বন্দর ত্যাগের আগে পণ্যভর্তি কনটেইনার বাধ্যতামূলকভাবে স্ক্যানিং করা হয়। অফডক থেকে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের।

এছাড়া শতভাগ রপ্তানিমুখী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর (ইপিজেড) কারখানাপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পান উদ্যোক্তারা। সাধারণ আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারককে ব্যাংকে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে হলেও ইপিজেড কারখানাগুলোর পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে হয় না।

বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটির (বেপজা) আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) সুবিধা নিয়ে পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে ইপিজেড কারখানার। এজন্য তাদের কোনো শুল্ককরও দিতে হয় না।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইপি জালিয়াতি করে সম্প্রতি অবৈধভাবে বিদেশি মদের চালান আমদানি করে জালিয়াতচক্র। এরমধ্যে মদবাহী দুটি কনটেইনার বন্দর থেকে খালাস হয়। বাধ্যবাধকতা থাকলেও কনটেইনার দুটি স্ক্যানিং করা হয়নি।

জাল স্ক্যানিং দেখিয়ে বন্দর থেকে বের করে নেওয়া হয় কনটেইনারগুলো। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরে দ্রুত র‌্যাবের সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে মদভর্তি কনটেইনার দুটি জব্দ করে। বিষয়টি গণমাধ্যমের খবরে এলে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়।

গত ২২ জুলাই রাতের এ ঘটনার পরবর্তী তিনদিনে বন্দর থেকে আরও তিনটি মদের কনটেইনার জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সুতা, মেশিনারি ও শিল্পের কাঁচামাল ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা পাঁচটি চালানে ৭৭ হাজার লিটার মদ ছিল। এতে প্রায় ৫৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করেছিল জালিয়াতচক্র। একইসঙ্গে দেশি টাকাও বিদেশে পাচার করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসালটেন্সির মাধ্যমে বন্দরের জন্য একটি জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০৪৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ঘটবে।

জরিপ অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ এ বন্দর দিয়ে ৪০ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হবে। ২০৪৩ সালে তা উন্নীত হবে ৫৬ লাখ টিইইউসে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩২ লাখ ৫৫ হাজার ৩’শ ৫৮ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ২’শ ৬৩ টিইইউস।

গত অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১১ কোটি ৮১ লাখ ৭৪ হাজার ১’শ ৬০ মেট্রিক টন। আগের ২০২০-২১ অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছিল ১১ কোটি ৩৭ লাখ ২৯ হাজার ৩’শ ৭৩ মেট্রিক টন। একই সময়ে ১’শ ৬৯টি জাহাজ বেশি হ্যান্ডলিং করেছে চট্টগ্রাম বন্দর।

২০২১-২০২২ অর্থবছরে কনটেইনার, কার্গো, ট্যাংকার মিলে ৪ হাজার ২’শ ৩১টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। আগের অর্থবছরে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৪ হাজার ৬২টি জাহাজ। সব মিলিয়ে এ তিন পর্যায়ে প্রবৃদ্ধিও হয়েছে।

কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে একটি অংশ বন্দরের জেসিবিতে (জেনারেল কার্গো বার্থ) সম্পন্ন হলেও বড় অংশটির পণ্য খালাস হয় বহির্নোঙরের মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটারেজ দিয়ে। পরে এসব লাইটারেজ আমদানিকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যায়। বন্দর থেকে কনটেইনার খালাসের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়, কার্গোর ক্ষেত্রে তা কিছুটা ভিন্ন।

কার্গোবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে আসার পর কাস্টমস ও আমদানিকারকের প্রতিনিধির সমন্বয়ে জাহাজে কী পরিমাণ পণ্য এসেছে তা যৌথ সার্ভে করা হয়। সার্ভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুল্কায়ন শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পণ্য ছাড়ের অনুমতির পর মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটারেজ করে পণ্য খালাস শুরু হয়।

এতে কিছু ক্ষেত্রে বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে কিছু পণ্য নামিয়ে বন্দরে বার্থিং উপযোগী করার পর জাহাজ বন্দর অভ্যন্তরে এসে পণ্য খালাস করে। আবার কিছু পণ্য লাইটারেজের মাধ্যমে পুরো জাহাজ খালাস করা হয়।

বিশেষত, পাথর, কয়লা, সার, গম, চিনি, সিমেন্ট ক্লিংকার, ভুট্টাসহ কয়েক ধরনের পণ্য মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটারেজ করে খালাস হয়। এক্ষেত্রে শুল্কায়ন শেষে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের অনুমোদন পেলে আমদানিকারক মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহনের জন্য লোকাল শিপিং এজেন্ট নিয়োগ করেন।

লোকাল শিপিং এজেন্ট পরবর্তীসময়ে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি) বাল্ক খালাসের জন্য লাইটারেজ বরাদ্দ নেন। ডব্লিউটিসি থেকে লাইটারেজ বরাদ্দ পাওয়ার পর লোকাল শিপিং এজেন্ট মাদার ভ্যাসেল থেকে বাল্কপণ্য খালাস করে গন্তব্যে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় লোকাল শিপিং এজেন্ট সমতা শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং এজেন্সির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাল্কে আসা আমদানিপণ্য শুল্কায়নের পর খালাসের জন্য আমদানিকারক লোকাল শিপিং এজেন্ট মনোনীত করেন।

এরপর লোকাল শিপিং এজেন্ট ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি) মাধ্যমে লাইটারেজ বুকিং নেয়। ডব্লিউটিসির বুকিং করা লাইটারেজ জাহাজ দিয়ে আমদানিকারকের চাহিদামতো মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস ও নির্ধারিত গন্তব্যে পরিবহন করা হয়।

জে-আর

Feb2
Feb2

৫ লাখ বাংলাদেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মাইলফলকে চেন্নাই অ্যাপোলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 11:26 pm
৫ লাখ বাংলাদেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মাইলফলকে চেন্নাই অ্যাপোলো

ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রায় ৫ লক্ষাধিক বাংলাদেশি রোগীকে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপন করেছে অ্যাপোলো হসপিটালস।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১২টায় চেন্নাইয়ের হায়াত রিজেন্সি হোটেলের কনফারেন্স হলে বর্ণাঢ্য এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সাফল্য উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের অর্ধশত রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা আরও সহজ করতে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা এবং এবং চট্টগ্রামে টেলিমেডিসিন ও টেলি-রেডিওলজি সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল চেন্নাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার মো. আলিমুজ্জামানের। তবে হঠাৎ অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে না পারায় তাঁর পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা দেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিক।

অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো চেন্নাই হাসপাতালের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) নাভিন ভি বলেন, “ভারতের বৃহত্তম হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে কার্ডিওলজিস্ট ড. প্রতাপ চন্দ্র রেড্ডির হাত ধরে। বর্তমানে কেবল চেন্নাই অঞ্চলেই আমাদের ১০ টারও বেশি হাসপাতাল রয়েছে।” বিশ্বমানের প্রযুক্তি আমদানির ক্ষেত্রে অ্যাপোলোর অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আমরাই প্রথম ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত আধুনিক ‘প্রোটন বিম থেরাপি’ নিয়ে এসেছি। ওয়ার্ল্ড ক্লাস ক্লিনিক্যাল আউটকাম এবং রোবটিক সার্জারির অনন্য বেঞ্চমার্কের কারণেই বাংলাদেশিরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন।”

বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সেবার পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে নাভিন ভি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে অ্যাপোলোর ৫টি তথ্য কেন্দ্র (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ) চালু আছে এবং খুব শীঘ্রই সিলেটে নতুন শাখা চালু হবে। এসব অফিস থেকে রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভিসা প্রসেসিং ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া খুব দ্রুতই একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে রোগীরা দেশেই বসে সরাসরি চেন্নাইয়ের চিকিৎসকদের কাছ থেকে ‘সেকেন্ড মেডিকেল অপিনিয়ন’ নিতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হসপিটালসের রিজিওনাল সিইও ডা. ইলেন কুমারান কে. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করে বলেন, “এই ৫ লাখের মাইলস্টোন মূলত একটি গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমাদের দুই দেশের ভৌগোলিক সীমানা আলাদা হলেও, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীতের সুর আমাদের এক সুতোয় বেঁধেছে।”

প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. ইলেন কুমারান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ইউরোপের মতো আমাদের বর্ডারহীন সীমান্ত না থাকলেও ভারত ও বাংলাদেশের চমৎকার কালচারাল কানেকশনের কারণে রোগীরা এখানে এসে নিজেদের বাড়ির মতো কমফোর্ট ও কনফিডেন্স পান। চিকিৎসার পর রোগীরা যাতে নিজেদের দেশেই ফলো-আপ করতে পারেন, সেজন্য আমরা বাংলাদেশে মাল্টিপল ক্লিনিক করার পরিকল্পনা করছি।”

দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ ভৌমিক অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “চেন্নাই বিভিন্ন সময়েই বাংলাদেশি রোগীদের প্রথম পছন্দের ডেস্টিনেশন। ৫ লাখের এই বিশাল সংখ্যাটিই প্রমাণ করে রোগীরা এখানে এসে কেমন সেবা পাচ্ছেন।” চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চেন্নাইয়ে আসা যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিককে যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার আশ্বাস দেন তিনি।

এপোলো হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট গুরু প্রসাদ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বড় তথ্যটি দিয়ে জানান, “বাংলাদেশি রোগীদের সুবিধার্থে এবং তাঁদের ফলো-আপ কেয়ার সহজ করতে আমরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা শুরু করেছি। ঢাকা বা চট্টগ্রামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ এবং অনুমতি সাপেক্ষে টেলিমেডিসিন সেন্টার চালুর পরিকল্পনা আমাদের পাইপলাইনে রয়েছে।”

এপোলো হাসপাতালে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেস্কের ইনচার্জ সানজিৎ নায়েকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাপোলো হাসপাতালের বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দ রিফাত ফারুক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শীর্ষ গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একটি ফটো সেশন ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 11:09 pm
দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষ্যে আমি সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে।

অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা।

এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে, যা বাস্তব জীবনে যেকোনো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে। এ কারণেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি শুধু পরিকল্পনা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সেইসব প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে জায়গা করে নিতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায়ও পারদর্শী হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

মাদক কারবারিকে এআই দিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরানো সেই পুলিশকে শোকজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 10:39 pm
মাদক কারবারিকে এআই দিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরানো সেই পুলিশকে শোকজ

ইয়াবাসহ আটক আর্জেন্টাইন সমর্থককে এআই দিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরানো বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানজিল আহমেদকে শোকজ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মঙ্গলবার (৩০ জুন) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনারের নির্দেশে তাকে শোকজ করা হয়।

বিএমপি কমিশনার মো. আশিক সাঈদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শোকজের জবাব পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে, সোমবার (২৯ জুন) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বরিশাল নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর কলোনি থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয় ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি, আর্জেন্টাইন সমর্থক রাসেল হাওলাদারকে (৩৫)।

আটকের সময় মাদক কারবারি রাসেলের গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি ছিল। কাউনিয়া থানা পুলিশ রাসেলকে আটকের পর তার জার্সিটি উল্টো করে পরিয়ে ছবি তুলে বিএমপির মিডিয়া সেলে পাঠায়।

পরে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিবর্তন করে মাদক কারবারিকে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে বিএমপির মিডিয়া উইং থেকে ছবি পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। মিডিয়া উইংয়ের গ্রুপের এমন ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা এবং ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ছবি পরিবর্তন করে পুনরায় সঠিক তথ্য ও ছবি মিডিয়া সেলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং ই-মেইলে প্রকাশ করা হয়।

জানা গেছে, গণমাধ্যমে ভুল তথ্য এবং এআই দিয়ে বানানো ছবি পাঠানো মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিদর্শক তানজিল আহমেদ আর্জেন্টাইন সমর্থক। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইংয়ে কর্মরত আছেন।

যদিও-বিষয়টি ‘দুষ্টুমির ছলে’ করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন বিএমপির মিডিয়া সেলের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানজিল আহমেদ। তাছাড়া দায়িত্বশীল পদে থেকে অপেশাদার আচারণের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের পরিদর্শক মো. মনির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপ-পরিদর্শক তানজিল আহমেদকে কমিশনার স্যার নিজ দপ্তরে তলব করেছিলেন। তাকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিডিয়া উইং থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টি কমিশনার স্যার নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক তানজিল আহমেদকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।