খুঁজুন
শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে নাশকতার আশংকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে নাশকতার আশংকা

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে নাশকতার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ আশংকার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ১৩টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে ১৯ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া বন্দর এলাকা এবং জ্বালানি তেলের ডিপোসহ স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আমদানি রপ্তানি ব্যয় বাড়ার সংকটকে পুঁজি করে একটি মহল পরিস্থিতি উস্কে দিতে পারে বলে ধারন করা হচ্ছে। এ কাজে বন্দরের শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক ও ইপিজেড শ্রমিকদের কাজে লাগাতে পারে মহলটি।

এছাড়া আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে বন্দরে নাশকতার আশঙ্কা আছে। নানা ধরনের পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। আর সরকারবিরোধী চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে। এটা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পরে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বন্দরে মদ, সিগারেটের একাধিক চালান ধরা পড়ছে। এর মানে, জালিয়াতি করে বন্দর দিয়ে অনেক চালান বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য বিপজ্জনক পণ্যের চালানও বেরিয়ে যেতে পারে।

বন্দরের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো অফডক ইনল্যান্ড ডিপো থাকার কথা নয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবস্থিত ১৯টি কনটেইনার ডিপোর মধ্যে প্রায় সবগুলোই বন্দরের একেবারে কাছাকাছি এলাকায়। বিপদজ্জনক দ্রব্য ও কাভার্ডভ্যানের যত্রতত্র বিচরণের কারণে বন্দর এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বন্দরের নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন ৬’শ ৫০ জন। এছাড়া এক হাজার ৫০ জন আনসার, ২’শ সেনা সদস্য, ২০ পুলিশ সদস্য (সার্বক্ষণিক সহায়তা দেন ৫’শ ৯৩ জন) ও নৌবাহিনীর একজন সদস্য রয়েছে। এছাড়া বন্দরের মালামালবাহী পরিবহণগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থায় প্রতিদিন ২’শ জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

বন্দরের অভ্যন্তরে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য অফিস রুম থাকলেও বিশেষ একটি সংস্থার জন্য রুম বরাদ্দ নেই। এ বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে বারবার আবেদন করেও ফল আসেনি। তাই বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ওই গোয়েন্দা সংস্থা যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বন্দরের নানা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতিবছর দুই ঈদের আগে জাহাজ জট হয়। জাহাজ জটের কারণে আমদানিকারকদের পণ্য পেতে সময় লাগে। বর্তমান পণ্য আমদানি কমতির দিকে। সরকার বিলাসীপণ্য ও তুলনামূলক কম প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করায় আমদানি কিছুটা কমছে। তবে শিল্পের ও খাদ্যপণ্যের আমদানি বাড়ছে।

প্রতিবেদনে পতেঙ্গা টার্মিনাল নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ও রপ্তানির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বলা হয়, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানিতে ধরা খাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা সব সময় অস্বীকার করেন। এ কারণে বিআইএন, আইপি ও এলসি থাকলেও প্রকৃত অপরধীদের আইনের আওতায় আনতে বেগ পেতে হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দর শ্রমিকরা নোঙ্গর অপারেটর ও সাইফ পাওয়ারটেক অপারেটর কোম্পানি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। সাইফ পাওয়ারটেক ২০০৮ সাল থেকে একচেটিয়াভাবে বন্দর অপারেটর হিসাবে কাজ করছে। তারাই একমাত্র বন্দর অপারেটর, যারা বর্তমানে প্রতিযোগী কাউকে কাজের অনুমতি দিচ্ছে না।

বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, বন্দরের অনিয়ম বন্ধ, চোরাচালান তালিকাভুক্ত সিএনএফ এজেন্ট সিন্ডিকেট দমন, বন্দরের অফিসিয়াল কাজে ব্যবহৃত সার্ভারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কাস্টম হাউজ সপ্তাহের ৭ দিনই ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সুপারিশ করা হয়।

বন্দরে বহিরাগতরা প্রবেশ করে চুরিসহ নানা ধরনের অপকর্ম চালাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে চোর সন্দেহে বন্দরের অভ্যন্তরে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

বন্দরে কে যাচ্ছে, কে আসছে এবং কতক্ষণ অবস্থান করছে সে তথ্য সংরক্ষণের সুব্যবস্থাপনা বন্দর কর্তৃপক্ষের নেই। কনটেইনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমস্যা হলে অটো অ্যালার্ম ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৫৩২ হাজার টিইউইএস এবং দৈনিক মালামাল লোড-আনলোডের সক্ষমতা ৩৫০০ টিইউইএস। পাঁচ হাজার ৫০০ জনবলের বিপরীতে বন্দরের কনটেইনার জেটি আছে ১৩টি। বন্দরে একসঙ্গে জাহাজ ভেড়ানো যায় ১১টি।

আশংকার বিষয়ে বন্দর সচিব মো: ওমর ফারুক ২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ কে বলেন, আমরা ইতিমধ্য বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত হয়েছি, এটি খুবই স্পর্শকাতর বিষয়, তারা কিসের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন দিয়েছেন সেইটা আমরা জানিনা এই ব্যাপারে আমাদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা ও হয়নি তবু আমরা বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

জে-আর

Feb2

ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ প্রস্তুত। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, মর্যাদা, আধিপত্য, প্রতিশোধ এবং ইতিহাস গড়ারও লড়াই। বাংলাদেশের সামনে বিরল কীর্তি গড়ার হাতছানি। ২০২২ ও ২০২৪ সালের পর এবারও শিরোপা জিতলে টানা তৃতীয়বার সাফের চ্যাম্পিয়ন হবেন লাল-সবুজের মেয়েরা। স্বাগতিক ভারতের লক্ষ্য হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা।

ফাইনালে ওঠার পথে দুদলের যাত্রা ছিল ভিন্ন। গ্রুপপর্বে ভারত বাংলাদেশের অপরাজেয় পথচলায় ধাক্কা দেয় ৩-০ গোলের জয়ে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ছন্নছাড়া দেখালেও সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় পিটার বাটলারের দল। অন্যদিকে ভারত ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। ফাইনালের আগে বাংলাদেশ শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। কোচ পিটার বাটলার শুরু থেকেই বলে আসছেন, ভারতের বিপক্ষে তার দল ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামবে। গ্রুপপর্বের পরাজয়কে তিনি দেখছেন শিক্ষার অংশ হিসাবে। তার বিশ্বাস, ভারতের আক্রমণাত্মক ফুটবল বাংলাদেশের জন্য পালটা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সেই কৌশল রপ্ত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে দল। বাংলাদেশের ফুটবলাররাও জানেন, ফাইনাল একেবারেই আলাদা ম্যাচ। গ্রুপপর্বের ফল এখানে কোনো মূল্য বহন করে না। বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য আগেও দেখিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতও সতর্ক। কোচ ক্রিসপিন চেত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মতো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, ফাইনালে দুদলের সম্ভাবনাই সমান। ভুটানের বিপক্ষে জয় পেলেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন তিনি। ভারতেরও লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা উপহার দেওয়া।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন দুদলের তারকা ফুটবলাররা। বাংলাদেশের আক্রমণভাগে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। ভারতের আশা থাকবে সানফিদা নংরুম, মালাভিকা এবং গোলরক্ষক পন্থোই চানুকে নিয়ে।

একদিকে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে ভারতের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধারের আকাক্সক্ষা। সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে গোয়ার ফাইনাল আজ রূপ নেবে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণে। অপেক্ষা শেষ বাঁশির। কার হাতে উঠবে সাফের সোনালি ট্রফি। কার মাথায় শোভা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার রানির মুকুট।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ৮টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি।

শনিবার (৬ জুন) সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে ৩ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল সীমান্তের শূন্য লাইনে অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা প্রদান করে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ভারত কর্তৃক ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিহত করে।

তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে তাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় ৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হলে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। একই ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় আরও ৪ জন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বর্তমানে উক্ত ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে এবং বিজিবি সেখানে নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান করায়। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করলেও তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। বিজিবি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এছাড়া নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন বলিশী গিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্বে জড়ো করে রাখা ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিজিবি উক্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করছে যে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানি ড্রোন ও রাডার স্টেশনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
ইরানি ড্রোন ও রাডার স্টেশনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা

হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত করার পর পরবর্তী সম্ভাব্য হামলা রুখতে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনগুলোতে যৌথ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

তবে এই হামলার ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক দিন আগে হওয়া বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন করে এই উত্তেজনা দেখা দিল। এতে দুই দেশের মধ্যে থাকা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

তবে বিমান বন্দরে এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইন্টারসেপ্টর) ভুলের কারণেই এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

সেন্টকম অবশ্য ইরানের এই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায়ভাবে কুয়েতের ওই বিমানবন্দরে এই হামলা চালিয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন পুরোপুরি স্থবির এবং যুদ্ধ অবসানের চুক্তিটি যখন আলোর মুখ দেখছিল না, ঠিক তখন আবার এই হামলার ঘটনা ঘটল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ইরানের এই পদক্ষেপের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়।

গত এপ্রিলের শুরুর দিকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরপরই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, তা প্রত্যয়িত করা এবং চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগপর্যন্ত এই বন্দর অবরোধ কর্মসূচি পুরোপুরি বহাল থাকবে।