খুঁজুন
সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাসের মন্ত্রিসভায় রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাসের মন্ত্রিসভায় রদবদল

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল এনেছেন লিজ ট্রাস। নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন ট্রাসের ঘনিষ্ঠ অনেকে। দেশটির প্রভাবশালী অনেক নেতাই আবার বাদ পড়েছেন মন্ত্রী তালিকা থেকে।

মঙ্গলবার স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসেলে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করেন ট্রাস। এ সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ট্রাসকে নতুন সরকার গঠনের অনুমোদন দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে রানির ৭০ বছরের রাজত্বকালে ১৬তম প্রধানমন্ত্রী হন ট্রাস।

ট্রাসের নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোয়াসি কোয়ার্টেংকে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জেমস ক্লিভারলি। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুয়েলা ব্রাভারম্যানকে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মিশেল ডোনেলান। যুক্তরাজ্যের নতুন উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছেন ট্রাসের কাছের বন্ধু থেরেসে কফে।

সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মন্ত্রিসভার অনেকে। তাঁদের একজন সাবেক বিচারবিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক রাব। নতুন মন্ত্রীদের তালিকায় নেই সাবেক পরিবহনমন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপস ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিভ বার্কলে।

সাবেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী পেনি মরডান্টকে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের নেতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন কেমি ব্যাডেনচ। কর্ম ও পেনশন বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন ক্লো স্মিথ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন কিট মাল্টহাউস।

ট্রাসকে দীর্ঘ সময় ধরে সমর্থন দিয়ে আসা জ্যাকব রিস–মগকে ব্যবসা, জ্বালানি ও শিল্প কৌশল বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন। লেভেলিং আপ মন্ত্রণালয়ের হাল ধরছেন সিমন ক্লার্ক। আর অ্যানি-ম্যারি ট্রেভেলিয়ানকে পরিবহন মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে নতুন মন্ত্রিসভায় পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন রনিল জয়াবর্দেনা। ব্রান্ডন লুইসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। অর্থমন্ত্রীর পদ ছেড়ে আন্তঃসরকার সম্পর্ক ও সমতা বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন নাদিম জাহাবি। আর গতবারের মতোই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিজের দখলে রেখেছেন বেন ওয়ালেস।

মন্ত্রিসভার অন্যদের মধ্যে ক্রিস হিটন–হ্যারিস নর্দান আয়ারল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন। আলিস্টার জ্যাক ও রবার্ট বাকল্যান্ড যথাক্রমে স্কটল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রী ও ওয়েলস বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির (টরি) চেয়ারম্যান ও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হয়েছেন জেক বেরি। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লর্ড ট্রু। মন্ত্রিসভায় কপ–২৬–এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের পদ ধরে রেখেছেন অলোক শর্মা।

টরির নেতৃত্বের দৌড়ে গত সোমবার সাবেক অর্থমন্ত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাককে হারিয়ে দলের নেতা হন ট্রাস। ট্রাসের পক্ষে ৮১ হাজার ৩২৬ জন টরি সদস্য আর সুনাকের পক্ষে ৬০ হাজার ৩৯৯ জন ভোট দেন। এর মাধ্যমে ট্রাসের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। ওই দিনই তিনি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাতে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পান।

এন-কে

Feb2

মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ফ্যামিলি কার্ডের মতো মা-বোনেদের হাতে এলপিজি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার। যেন রান্নাবান্নার কাজে তাদের আর কষ্ট করতে না হয়।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে যশোরের শার্শায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‌‘রান্নার কাজে মা-বোনেদের খুব কষ্ট হয় আমি জানি। এ কষ্ট গ্রামের মা-বোনেদের ও শহরের মা-বোনেদেরও। আমরা যেভাবে সারাদেশের মা-বোনোদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি সেভাবে এলপিজি কার্ডও পৌঁছে দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটিকে খনন করেছিলেন। আমরা চার কিলোমিটারের এই খাল পুনঃখনন করবে। এই খাল খনন করলে এলাকার মানুষ পানি পাবে। এতে প্রায় ২০ হাজারের বেশি কৃষক উপকৃত হবে। ১৪০০ টনের মতো খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। খালের পানিতে ৭২ হাজারের মতো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। খাল খনন শেষ হলে এই খালের পাড়ে তিন হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা সরকার গঠন করলে শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে। আগামী ৫ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করতে চাই। যাতে গ্রামে বসবাসকারী মানুষ সেখান থেকে আয় করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়াশোনা ফ্রি করে দিয়ে গেছেন। আমরা নারীদের পড়াশোনা উচ্চতর ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করে দিতে চাই। পাশাপাশি মেধাবী নারী শিক্ষার্থীদেরকে উপবৃত্তি দেওয়া হবে।

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন প্রমুখ।

প্রাণহানি ছাড়াই জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণে: চট্টগ্রাম ডিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
প্রাণহানি ছাড়াই জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণে: চট্টগ্রাম ডিসি

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর একসময় এমন একটি এলাকা ছিল, যাকে অনেকে ‘স্টেট উইথিন স্টেট’ বলতেন। সেখানে সন্ত্রাসীরা নিজেদের মতো করে জমি বরাদ্দ দিত, বিদ্যুৎ–সংযোগ নিত, বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তুলত। সবকিছুই ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এভাবে তো একটি দেশ চলতে পারে না। নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করি এবং সফলভাবে তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ধরনের প্রাণহানি ছাড়াই আমরা অভিযান সম্পন্ন করেছি।’

আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সবার মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে একধরনের আশঙ্কা ছিল। কখন কী ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই শঙ্কা কাজ করত। অতীতের ঘটনাপ্রবাহও সুখকর ছিল না। বহুবার দেখা গেছে, সন্ত্রাসীরা নিরীহ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে এবার তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নির্বাচন শেষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যেন কোনো নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হন। ড্রোনের মাধ্যমে আগেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে সুপরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সব বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সফলতা এসেছে।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার নিরপরাধ ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছে। সলিমপুরে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিও পরিচালিত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সেখানে ইতিমধ্যে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সলিমপুরের সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে। নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। আগে অনুমোদিত হলেও বাস্তবায়ন করা যায়নি—এমন কিছু সরকারি স্থাপনাও এখন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা কারাগার, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা স্থাপনের আবেদন নিয়েও কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন,
মানুষের সুবিধার্থে সেখানে একটি ভূমি অফিস স্থাপন করা হয়েছে, যাতে জমি–সংক্রান্ত সিন্ডিকেট বন্ধ করা যায়। খুব শিগগির এর কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি সেখানে বসবাসরত মানুষকে আইনানুগ কাঠামোর মধ্যে পুনর্বাসনের বিষয়েও কাজ চলছে।

তিনি আরো বলেন, এখন সলিমপুরের সাধারণ মানুষ নিজেদের অনেক বেশি নিরাপদ মনে করছেন। তাঁরা ভয়মুক্তভাবে জীবনযাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, কেউ আর চাঁদাবাজির অভিযোগ করেননি।

তিনি আরও বলেন, সলিমপুরের এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায়। ভবিষ্যতেও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

রাউজানে ৩ দিনের মাথায় ফের বিএনপি কর্মী খুন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
রাউজানে ৩ দিনের মাথায় ফের বিএনপি কর্মী খুন

চট্টগ্রামের রাউজানে ফের রাজনৈতিক সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। তিন দিনের ব্যবধানে উপজেলায় নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে আরও এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই হামলার শিকার হন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাটি ও পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

নাছির উদ্দীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসের পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত দুদু মিয়া (প্রকাশ দুইধ্যা মধু)। একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাছির। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। নাছির বিএনপি নেতা ও রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাছিরকে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউজান থেকে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে একাধিক স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় মাটিকাটা, পাহাড় কাটা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাছির উদ্দীনের সঙ্গে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম নামের এক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার পেছনে সেই বিরোধের জের থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকমাস আগে নাছিরকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল। সেইবার আশঙ্কাজনক হাসপাতালে ভর্তির পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়েছিলেন।

এর আগে, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসার উর জামান বাবলু নামের এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে রাউজান। রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়ে উপজেলাটিতে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা চলছেই। এ সময়ে রাউজানে অন্তত দেড় ডজনেরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে। বাকিগুলো ঘটেছে পারিবারিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও দখলকে কেন্দ্র ধরে।