খুঁজুন
, ,

কুমিল্লা সদরের পাঁচথুবিতে বাঁধ ও সড়কের গাছ চুরির হিড়িক! জড়িত স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 11 December, 2019, 6:59 pm
কুমিল্লা সদরের পাঁচথুবিতে বাঁধ ও সড়কের গাছ চুরির হিড়িক! জড়িত স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি গোমতী বেড়িবাঁধের ওপর থেকে এবং বামইল সমিতির সামনের সড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে সরকারি জায়গার ১৫ লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪মাস ধরেই পাঁচথুবি ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের নেতা, সাবেক চেয়ারম্যান, স’মিল মালিক ও কিন্ডারগার্টেন পরিচালক সহ কয়েকেজন বিভিন্ন সময় পুরোনো ও বড় সাইজের প্রায় ২০-২৫টি একাশী ও মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

পাঁচথুবি এলাকার জালুয়াপাড়া ও ঝাকুনি পাড়া স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোমতী বাঁধের জালুয়াপাড়া মোড় থেকে ঝাঁকুনি পাড়া পর্যন্ত এক কিলোমিটার জায়গা থেকে দিনে ও রাতে বিভিন্ন সময় প্রায় ২০টি মূল্যবান গাছ কাটা হয়।

স্থানীয়দের মাঝে একজন জালুয়াপাড়া এলাকার লাল মিয়া, বাঁধের ওপরের চা দোকানী আলামিন, শিহাব সহ এলাকার কয়েকজন বলেন, পাঁচথুবি ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সাবেক সভাপতি স’মিল মালিক সেলিম এবং সাদেক মিয়ার নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা ও বাঁধের ওপর থেকে লাল মিয়া নিজে সহ আরো কয়েকজন শ্রমিক হিসেবে এসব গাছ কেটেছেন বলে স্বীকার করেন।

লাল মিয়া বলেন, বাধেঁর ওপরের সরকারি জমির গাছ তারা কিনেছেন জানিয়ে আমাকে কাটার জন্য চুক্তি দিলে আমি মজুরির বিনিময়ে কিছু গাছ কেটে দিয়েছি। এসময় বাধেঁর নিচের দ্বিতীয় ধাপের প্রায় ১কি মি এলাকা ঘুরে বেশকিছু মোটা গাছের কাটা গুঁড়িও দেখা যায়। এছাড়াও কিন্ডারগার্টেন নির্মাণের কথা বলে গত একমাস ধরে ইউনিয়নের বামইল সমিতির সামনের শিবেরবাজার- নিশ্চিন্তপুর সড়কের পাশ থেকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জাকির হোসেন রতন, আব্দুল জলিল জুয়েল, এনায়েতুল সহ একটি চক্র সরকারি ২০-২৫ টি গাছ কেটে নিয়েছে রাতের আঁধারে।

এলাকাবাসী প্রতিবাদ করে সরকারি গাছ কাটতে বাঁধা দিলে, ফরেস্ট অফিসকে ম্যানেজ করে অনুমতি নিয়েই গাছ কাটছেন বলে জানায় তারা ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেদককে জানান, এভাবে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বনবিভাগের লোকজন গোপনে অনুমতি কিংবা অবৈধ সুবিধা নিয়ে দুঃষ্কৃতিকারীদের সহায়তা করলে আর কোন গাছই থাকবে না।

সাংবাদিকদের স্থানীয় সচেতন নাগরিকগন বলেন, এভাবে বৃক্ষ নিধন করা হলে জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পরবে। ভারত সীমান্তবর্তী পাঁচথুবি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে সরকারি সম্পদ চুরি ও মূল্যবান গাছ কাটার হিরিক পরেছে তা দ্রুত বন্ধ করা সহ সরকারি সম্পদ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

গেমতী বাঁধের ওপরের সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে পাঁচথুবি ইউপি আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি গাংচরের খাগড়াছড়ি স’মিল মালিক সেলিমের কাছে ফোন দিলে, তিনি ফোনে কথা বলবেন না জানিয়ে প্রতিবেদককে সরাসরি তার স’মিলে আসতে অনুরোধ করেন। সেখানে গেলে তিনি জানান, এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি কোন গাছ কাটেন নি। এসব তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি । এলাকায় গাছ কাটা নিয়ে সাদেক ও জামিলের মধ্যে বিবাদ রয়েছে এ নিয়ে একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

পরে এলাকাবাসীর বক্তব্যের ভিডিও দেখালে তিনি তা অস্বীকার করে সাংবাদিকের বলেন “আমি কে চেনেন আপনি” ভিডিওগুলো দেখার কথা বলে তার সাথে থাকা অপর একজন ফোন থেকে কয়েকটি ভিডিও ডিলেট করে দেন। এসময় প্রতিবেদককে ফোন সহ সাথে সবগুলো ডিভাইস বন্ধ করতে বাধ্য করা সহ হুমকি ধমকিও দেন।

এবিষয়ে জালুয়াপাড়া গোলদার বাড়ি এলাকার অভিযুক্ত সাদেক হোসেন সরকারি জমির গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারি জমি বা বাঁধের কোন গাছ তিনি কাটেন নি।

এ বিষয়ে পাঁচথুবি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল হোসেন বাহালুল বলেন, নিয়ম অনুযায়ি ইউনিয়ন এলাকায় সরকারি জমি, সামাজিক বানায়ন কিংবা বন বিভাগের গাছ বিক্রির একটি অংশ (রেভিনিউ) ইউনিয়ন পরিষদের পাওয়া কথা রয়েছে। নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বা টেন্ডার ছাড়া এসব গাছ কেউ কাটার কথাও নয়। আমরা জানা মতে কোন টেন্ডার হয়েছে বলেও শুনিনি। আমার কাছে এমন কোন তথ্য নেই। কবে কারা এসব গাছ কেটেছে সেটাও জানি না। কেউ বেআইনি ভাবে কেটে থাকলে আশাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে জেলা বন কর্মকর্তা মোঃ নুরুল করিম বলেন, “গাছ কাটার এমন কোন তথ্য আমার জানা নেই। জালুয়াপাড়া বেড়িবাঁধের জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। এলাকাটির বন বিভাগ দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন রয়েছেন দিলিপ কুমার তার সাথে কথা বলুন”।

এবিষয়ে দিলিপ কুমারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়েছিলাম । সরকারি জমি থেকে কোন গাছ কাটা হয়ছে এমন কোন আলামত পাওয়া যায় নি। তবে বাঁধের পাশের কয়েকটি গাছ উপরে পরায় স্থানীরা তা কেটে নিয়েছেন বলে শুনেছি।

এ বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন বলেন, প্রতিরক্ষা বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হওয়ায় গাছগুলো সরকারি বন বিভাগ অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি। কেউ অবৈধ ভাবে কেটে থাকলে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।