খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা সদরের পাঁচথুবিতে বাঁধ ও সড়কের গাছ চুরির হিড়িক! জড়িত স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
কুমিল্লা সদরের পাঁচথুবিতে বাঁধ ও সড়কের গাছ চুরির হিড়িক! জড়িত স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি গোমতী বেড়িবাঁধের ওপর থেকে এবং বামইল সমিতির সামনের সড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে সরকারি জায়গার ১৫ লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪মাস ধরেই পাঁচথুবি ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের নেতা, সাবেক চেয়ারম্যান, স’মিল মালিক ও কিন্ডারগার্টেন পরিচালক সহ কয়েকেজন বিভিন্ন সময় পুরোনো ও বড় সাইজের প্রায় ২০-২৫টি একাশী ও মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

পাঁচথুবি এলাকার জালুয়াপাড়া ও ঝাকুনি পাড়া স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোমতী বাঁধের জালুয়াপাড়া মোড় থেকে ঝাঁকুনি পাড়া পর্যন্ত এক কিলোমিটার জায়গা থেকে দিনে ও রাতে বিভিন্ন সময় প্রায় ২০টি মূল্যবান গাছ কাটা হয়।

স্থানীয়দের মাঝে একজন জালুয়াপাড়া এলাকার লাল মিয়া, বাঁধের ওপরের চা দোকানী আলামিন, শিহাব সহ এলাকার কয়েকজন বলেন, পাঁচথুবি ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সাবেক সভাপতি স’মিল মালিক সেলিম এবং সাদেক মিয়ার নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা ও বাঁধের ওপর থেকে লাল মিয়া নিজে সহ আরো কয়েকজন শ্রমিক হিসেবে এসব গাছ কেটেছেন বলে স্বীকার করেন।

লাল মিয়া বলেন, বাধেঁর ওপরের সরকারি জমির গাছ তারা কিনেছেন জানিয়ে আমাকে কাটার জন্য চুক্তি দিলে আমি মজুরির বিনিময়ে কিছু গাছ কেটে দিয়েছি। এসময় বাধেঁর নিচের দ্বিতীয় ধাপের প্রায় ১কি মি এলাকা ঘুরে বেশকিছু মোটা গাছের কাটা গুঁড়িও দেখা যায়। এছাড়াও কিন্ডারগার্টেন নির্মাণের কথা বলে গত একমাস ধরে ইউনিয়নের বামইল সমিতির সামনের শিবেরবাজার- নিশ্চিন্তপুর সড়কের পাশ থেকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জাকির হোসেন রতন, আব্দুল জলিল জুয়েল, এনায়েতুল সহ একটি চক্র সরকারি ২০-২৫ টি গাছ কেটে নিয়েছে রাতের আঁধারে।

এলাকাবাসী প্রতিবাদ করে সরকারি গাছ কাটতে বাঁধা দিলে, ফরেস্ট অফিসকে ম্যানেজ করে অনুমতি নিয়েই গাছ কাটছেন বলে জানায় তারা ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেদককে জানান, এভাবে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বনবিভাগের লোকজন গোপনে অনুমতি কিংবা অবৈধ সুবিধা নিয়ে দুঃষ্কৃতিকারীদের সহায়তা করলে আর কোন গাছই থাকবে না।

সাংবাদিকদের স্থানীয় সচেতন নাগরিকগন বলেন, এভাবে বৃক্ষ নিধন করা হলে জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পরবে। ভারত সীমান্তবর্তী পাঁচথুবি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে সরকারি সম্পদ চুরি ও মূল্যবান গাছ কাটার হিরিক পরেছে তা দ্রুত বন্ধ করা সহ সরকারি সম্পদ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

গেমতী বাঁধের ওপরের সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে পাঁচথুবি ইউপি আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি গাংচরের খাগড়াছড়ি স’মিল মালিক সেলিমের কাছে ফোন দিলে, তিনি ফোনে কথা বলবেন না জানিয়ে প্রতিবেদককে সরাসরি তার স’মিলে আসতে অনুরোধ করেন। সেখানে গেলে তিনি জানান, এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি কোন গাছ কাটেন নি। এসব তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি । এলাকায় গাছ কাটা নিয়ে সাদেক ও জামিলের মধ্যে বিবাদ রয়েছে এ নিয়ে একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

পরে এলাকাবাসীর বক্তব্যের ভিডিও দেখালে তিনি তা অস্বীকার করে সাংবাদিকের বলেন “আমি কে চেনেন আপনি” ভিডিওগুলো দেখার কথা বলে তার সাথে থাকা অপর একজন ফোন থেকে কয়েকটি ভিডিও ডিলেট করে দেন। এসময় প্রতিবেদককে ফোন সহ সাথে সবগুলো ডিভাইস বন্ধ করতে বাধ্য করা সহ হুমকি ধমকিও দেন।

এবিষয়ে জালুয়াপাড়া গোলদার বাড়ি এলাকার অভিযুক্ত সাদেক হোসেন সরকারি জমির গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারি জমি বা বাঁধের কোন গাছ তিনি কাটেন নি।

এ বিষয়ে পাঁচথুবি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল হোসেন বাহালুল বলেন, নিয়ম অনুযায়ি ইউনিয়ন এলাকায় সরকারি জমি, সামাজিক বানায়ন কিংবা বন বিভাগের গাছ বিক্রির একটি অংশ (রেভিনিউ) ইউনিয়ন পরিষদের পাওয়া কথা রয়েছে। নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বা টেন্ডার ছাড়া এসব গাছ কেউ কাটার কথাও নয়। আমরা জানা মতে কোন টেন্ডার হয়েছে বলেও শুনিনি। আমার কাছে এমন কোন তথ্য নেই। কবে কারা এসব গাছ কেটেছে সেটাও জানি না। কেউ বেআইনি ভাবে কেটে থাকলে আশাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে জেলা বন কর্মকর্তা মোঃ নুরুল করিম বলেন, “গাছ কাটার এমন কোন তথ্য আমার জানা নেই। জালুয়াপাড়া বেড়িবাঁধের জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। এলাকাটির বন বিভাগ দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন রয়েছেন দিলিপ কুমার তার সাথে কথা বলুন”।

এবিষয়ে দিলিপ কুমারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়েছিলাম । সরকারি জমি থেকে কোন গাছ কাটা হয়ছে এমন কোন আলামত পাওয়া যায় নি। তবে বাঁধের পাশের কয়েকটি গাছ উপরে পরায় স্থানীরা তা কেটে নিয়েছেন বলে শুনেছি।

এ বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন বলেন, প্রতিরক্ষা বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হওয়ায় গাছগুলো সরকারি বন বিভাগ অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি। কেউ অবৈধ ভাবে কেটে থাকলে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।