খুঁজুন
সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে রাজধানী পরিবর্তন করছে মিশর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
যে কারণে রাজধানী পরিবর্তন করছে মিশর

মিশর। রহস্যঘেরা পিরামিড আর নীলনদের দেশ। প্রচীন সভ্যতার লীলাভুমি এবং রহস্যঘেরা দেশটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে কত ইতিহাস আর ঐতিহ্য। আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত যে দেশটি তার নামই মিশর। আধুনিক যুগে যাকে বলা হয় ইজিপ্ট। প্রায় চার লাখ বর্গমাইল আয়তনের মিশরের রাজধানী কায়রো।

কায়রো থেকে সরিয়ে পূর্ব মরুভূমি অঞ্চলে নতুন করে মিশরের রাজধানী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে দেশটি। তবে কেন তারা তাদের দীর্ঘ ইতিহাস সমৃদ্ধ রাজধানী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পেছনে অবশ্য রয়েছে বেশকিছু কারণ।

মিশরের বর্তমান রাজধানী কায়রো পরিচিত অতি জনবহুল দেশ হিসেবে। জায়গা স্বল্পতা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঘনবসতি এবং ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়ার কারণে ২০১৫ সালের মার্চে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

কায়রো বিশ্বের ঘনবসতি শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্যানুযায়ী বর্তমানে কায়রোতে বাস করে প্রায় ১০ কোটিরও বেশি মানুষ। প্রতিবছরই মিশরের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তিও বাড়ছে। মন্ত্রণালয় আর দূতাবাসগুলোকে নতুন রাজধানীতে স্থানান্তরিত করলে যানজট কমবে। মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবে।

মিশরের নতুন রাজধানীর নাম দেয়া হয়েছে নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটাল বা নতুন প্রশাসনিক রাজধানী। মিশর সরকার আশা করছে, প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার পর এর আয়তন হবে ৭০০ বর্গকিলোমিটার, যা প্রায় সিঙ্গাপুরের আয়তনের সমান। নতুন শহরটি কায়রোর ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে এবং দ্বিতীয় বৃহত্তর কায়রো রিং রোডের ঠিক বাইরে সমুদ্রবন্দর শহর সুয়েজের পাশেই বড় অনুন্নত এলাকায় স্থাপিত হচ্ছে । পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরটি মিশরের নতুন প্রশাসনিক ও আর্থিক রাজধানী হয়ে উঠবে, যেখানে প্রধান সরকারি বিভাগ ও মন্ত্রণালয় এবং বিদেশি দূতাবাস থাকবে। শহরটির জনসংখ্যা ধারণক্ষমতা ৬৫ থেকে ৭০ লাখ হতে পারে।

এখানে প্রথম দফায় কাজ সম্পন্ন হচ্ছে মন্ত্রণালয়, সরকারি ভবন, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক এবং আবাসিক এলাকার। তবে শহরের শতকরা ৫১ ভাগের মালিকানা সেনাবাহিনীর, বাকি ৪৯ শতাংশের মালিক দেশটির গৃহায়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। দেশটির সরকার চায়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারা নতুন রাজধানীতে কার্যকলাপ শুরু করবে ।

নতুন রাজধানীর পরিকল্পনাসমূহ:

নতুন শহরটি ২১টি আবাসিক জেলা ও ২৫টি নির্ধারিত জেলা নিয়ে গঠন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর কেন্দ্রস্থলে আকাশচুম্বী অট্টালিকা থাকবে, যার মধ্যে অবলিস্কো ক্যাপিটালও রয়েছে, যা ফারাওনিক ওবেলিস্কের আকারে নকশা করা হয়েছে এবং এটি উচ্চতায় ১০০০ মিটার, যা আফ্রিকার সবচেয়ে উঁচু ভবন হতে যাচ্ছে।

শহরটিতে থাকবে একটি কেন্দ্রীয় উদ্যান, কৃত্রিম হ্রদ, প্রায় দু-হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন উদ্যান, ৬৬৩টি হাসপাতাল , ১২৫০টির মতো মসজিদ ও গির্জা, নব্বই হাজার আসনবিশিষ্ট একটি স্টেডিয়াম, চল্লিশ হাজার কক্ষবিশিষ্ট হোটেল। ডিজনিল্যান্ডের আকারের চার গুণ বড় একটি প্রধান থিম পার্ক। আরও থাকছে নব্বই বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৌরশক্তি খামার।

এ ছাড়াও থাকছে কায়রোর সঙ্গে একটি বৈদ্যুতিক রেলপথ, যা বাণিজ্যিক উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন মিশরবাসী। মিশরীয় বিমানবাহিনীর বিদ্যমান ওয়াদি আল জান্দালি বিমানবন্দরের জায়গায় আরও একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকবে।

৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের মধ্য দিয়ে শহরটিকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বলা হচ্ছে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মিশর কেমন হবে তারই সূচনা হচ্ছে হাইটেক মডেল সিটি নির্মাণের মাধ্যমে। ঘনবসতিপূর্ণ কায়রো শহর থেকে চলতি বছরের শেষ নাগাদ শহরের বর্ধিত অংশে সরকারি কর্মচারীরা কাজ শুরু করবেন নতুন কর্মস্থলে। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য ও বিনিয়োগও করেছে।

এর আগেও কায়রোকে ঘিরে কয়েকটি উপশহর নির্মাণ করা হলেও তাতে আশানুরূপ আবাসন গড়ে ওঠেনি। তাই নতুন এ রাজধানী নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে মিশরীয়দের মনে।

এন-কে

Feb2

মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
মা-বোনদের কষ্ট লাঘবে এলপিজি কার্ড দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ফ্যামিলি কার্ডের মতো মা-বোনেদের হাতে এলপিজি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার। যেন রান্নাবান্নার কাজে তাদের আর কষ্ট করতে না হয়।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে যশোরের শার্শায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‌‘রান্নার কাজে মা-বোনেদের খুব কষ্ট হয় আমি জানি। এ কষ্ট গ্রামের মা-বোনেদের ও শহরের মা-বোনেদেরও। আমরা যেভাবে সারাদেশের মা-বোনোদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি সেভাবে এলপিজি কার্ডও পৌঁছে দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটিকে খনন করেছিলেন। আমরা চার কিলোমিটারের এই খাল পুনঃখনন করবে। এই খাল খনন করলে এলাকার মানুষ পানি পাবে। এতে প্রায় ২০ হাজারের বেশি কৃষক উপকৃত হবে। ১৪০০ টনের মতো খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। খালের পানিতে ৭২ হাজারের মতো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। খাল খনন শেষ হলে এই খালের পাড়ে তিন হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা সরকার গঠন করলে শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবে। আগামী ৫ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করতে চাই। যাতে গ্রামে বসবাসকারী মানুষ সেখান থেকে আয় করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়াশোনা ফ্রি করে দিয়ে গেছেন। আমরা নারীদের পড়াশোনা উচ্চতর ডিগ্রি পর্যন্ত ফ্রি করে দিতে চাই। পাশাপাশি মেধাবী নারী শিক্ষার্থীদেরকে উপবৃত্তি দেওয়া হবে।

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন প্রমুখ।

প্রাণহানি ছাড়াই জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণে: চট্টগ্রাম ডিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
প্রাণহানি ছাড়াই জঙ্গল সলিমপুর নিয়ন্ত্রণে: চট্টগ্রাম ডিসি

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর একসময় এমন একটি এলাকা ছিল, যাকে অনেকে ‘স্টেট উইথিন স্টেট’ বলতেন। সেখানে সন্ত্রাসীরা নিজেদের মতো করে জমি বরাদ্দ দিত, বিদ্যুৎ–সংযোগ নিত, বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তুলত। সবকিছুই ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এভাবে তো একটি দেশ চলতে পারে না। নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করি এবং সফলভাবে তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ধরনের প্রাণহানি ছাড়াই আমরা অভিযান সম্পন্ন করেছি।’

আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সবার মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে একধরনের আশঙ্কা ছিল। কখন কী ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই শঙ্কা কাজ করত। অতীতের ঘটনাপ্রবাহও সুখকর ছিল না। বহুবার দেখা গেছে, সন্ত্রাসীরা নিরীহ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে এবার তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় ব্যস্ততার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নির্বাচন শেষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যেন কোনো নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হন। ড্রোনের মাধ্যমে আগেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে সুপরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সব বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সফলতা এসেছে।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার নিরপরাধ ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছে। সলিমপুরে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিও পরিচালিত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সেখানে ইতিমধ্যে দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সলিমপুরের সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে। নতুন সড়ক নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। আগে অনুমোদিত হলেও বাস্তবায়ন করা যায়নি—এমন কিছু সরকারি স্থাপনাও এখন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জেলা কারাগার, র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা স্থাপনের আবেদন নিয়েও কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন,
মানুষের সুবিধার্থে সেখানে একটি ভূমি অফিস স্থাপন করা হয়েছে, যাতে জমি–সংক্রান্ত সিন্ডিকেট বন্ধ করা যায়। খুব শিগগির এর কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি সেখানে বসবাসরত মানুষকে আইনানুগ কাঠামোর মধ্যে পুনর্বাসনের বিষয়েও কাজ চলছে।

তিনি আরো বলেন, এখন সলিমপুরের সাধারণ মানুষ নিজেদের অনেক বেশি নিরাপদ মনে করছেন। তাঁরা ভয়মুক্তভাবে জীবনযাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, কেউ আর চাঁদাবাজির অভিযোগ করেননি।

তিনি আরও বলেন, সলিমপুরের এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায়। ভবিষ্যতেও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

রাউজানে ৩ দিনের মাথায় ফের বিএনপি কর্মী খুন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ
রাউজানে ৩ দিনের মাথায় ফের বিএনপি কর্মী খুন

চট্টগ্রামের রাউজানে ফের রাজনৈতিক সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। তিন দিনের ব্যবধানে উপজেলায় নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে আরও এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই হামলার শিকার হন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাটি ও পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

নাছির উদ্দীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসের পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত দুদু মিয়া (প্রকাশ দুইধ্যা মধু)। একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাছির। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। নাছির বিএনপি নেতা ও রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাছিরকে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউজান থেকে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে একাধিক স্থানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় মাটিকাটা, পাহাড় কাটা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাছির উদ্দীনের সঙ্গে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম নামের এক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার পেছনে সেই বিরোধের জের থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকমাস আগে নাছিরকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল। সেইবার আশঙ্কাজনক হাসপাতালে ভর্তির পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়েছিলেন।

এর আগে, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসার উর জামান বাবলু নামের এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে রাউজান। রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়ে উপজেলাটিতে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা চলছেই। এ সময়ে রাউজানে অন্তত দেড় ডজনেরও বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে। বাকিগুলো ঘটেছে পারিবারিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও দখলকে কেন্দ্র ধরে।