খুঁজুন
, ,

‘চট্টগ্রামের ডিসিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 18 September, 2022, 3:15 pm
‘চট্টগ্রামের ডিসিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে’

জেলা পরিষদ নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে।

রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা।

নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয় কামনা করে দলীয় নেতাদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেওয়া ও দোয়া চাওয়ার অভিযোগে জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সংস্থাপন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান এই আইনি নোটিশ পাঠান।

নোটিশদাতা আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান নোটিশে উল্লেখ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয় চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার মোনাজাত ও বক্তৃতা’ শিরোনামে অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত খবরটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ থেকে আরও জানা যায় মোনাজাত পরবর্তী বক্তব্যে ডিসি মোহাম্মদ মমিনুর রহমান একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট চেয়েছেন এবং অন্যদেরকেও উক্ত রাজনৈতিক দলের জন্য দোয়া করতে অনুরোধ করেছেন। অথচ জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর নিরপেক্ষ ভূমিকা থাকার উচিত ছিল। গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সেই দোয়া অনুষ্ঠানে একজন প্রার্থীর জয় কামনা করে ডিসি আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছেন। এ কারণে সকল ভোটার ও অন্য প্রার্থীরাও আস্থাহীনতায় ভুগছেন। ডিসির এমন কার্যকলাপে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।’

নোটিশে আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান আরও উল্লেখ করেন, একজন রিটার্নিং কর্মকর্তার (ডিসি) মাধ্যমে ২০১৬ সালের জেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ৭৯, ৮০ ও ৮১ বিধির লঙ্ঘন হওয়া সত্যেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা (অপর নোটিশ গ্রহীতারা) সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, যা আপনাদের অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি উদ্বেগেরও।

নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিসির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে, আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবেন বলেও নোটিশে হুঁশিয়ারি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান।

উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ‘আ. লীগের বিজয়ের জন্য বিএনপি-জামায়াতেরও দোয়া করা উচিত’- শিরোনামে সমকালের শেষ পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার এমন আচরণে চট্টগ্রামে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তার এমন বক্তব্যে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন প্রার্থীসহ বিশিষ্টজনরা।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান প্রার্থীর বিজয় কামনা করে দলীয় নেতাদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন।

একপর্যায়ে আ’লীগ প্রার্থীকে নিজের পাশে বসিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যও রাখেন তিনি। সেই বক্তব্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার যেন আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়, সে জন্য বিএনপি-জামায়াতেরও দোয়া কামনা করেন তিনি।

বক্তব্যে আগামী নির্বাচনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তির হাতে থাকবে নাকি স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির হাতে যাবে। আমি মনে করি যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে যদি থাকে, তাহলে আমাদের দেশে আওয়ামী লীগ বলি, বিএনপি বলি, জামায়াত বলি, সবাই নিরাপদ থাকবে। আমি মনে করি, বিএনপি-জামায়াতেরও এখন দোয়া করা উচিৎ শেখ হাসিনা যেন আবার ক্ষমতায় আসেন।’

২৪ঘণ্টা/এনআর

Feb2
Feb2

পলাতক ফ্যাসিস্টের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ: দীপ্তি-শাহেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 8:38 pm
পলাতক ফ্যাসিস্টের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ: দীপ্তি-শাহেদ

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বা সহিংসতার নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরী।

তিনি আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চলমান রাজনীতির বিরুদ্ধে করণীয় শীর্ষক প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপ্তি বলেন, জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে বেকাঁদায় ফেলতে পলাতক ফ্যাসিস্ট পুরানো জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি বেচে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের এ জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি এ দেশে আর চলবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সফর বানচাল করতে পলাতক আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, সন্ত্রাসের জবাব আরেক সন্ত্রাস নয়-আইনের শাসন। প্রতিহিংসার জবাব প্রতি হিংসা নয়-ন্যায় বিচার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ হৃদয়ে ধারণ করে সরকার কর্তৃক জনগণের কল্যাণে গৃহিত কর্মসূচি ঘরে ঘরে পৌছে দিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তাই হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি এসময় রাজনৈতিক সহিংসতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আওতাধীন ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড যুবদল নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলে প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমন, জাহাঙ্গীর আলম, গফুর বাবুল, সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, জসিমুল ইসলাম কিশোর, মুজিবুর রহমান, অরুপ বড়ুয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, সেলিম উদ্দিন রাসেল, সহ সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি সিকদার, মুজিবুর রহমান রাসেল, আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাঁচা, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, তানভীর মল্লিক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মহিউদ্দিন মুকুল, আসাদুজ্জামান রুবেল, এস এম বখতিয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, সহ- সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মানিক, কামরুল ইসলাম, কমল জৌতি বড়ুয়া, শাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, হাফেজ কামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, মোহাম্মদ ইউসুফ, মিজানুর রহমান দুলাল, মো: হাসানুজ্জামান, ইয়াছিন আজাদ, আবুল কালাম, ফারুক হোসেন স্বপন, সদস্য কলিম শিকদার, গোলাম ইয়াজদানী সাবাব, প্রফেসর সাইদুল হক শিকদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আজম, মোশাররফ আমীন ,বজল আহমেদ, খোরশেদ আলম, সদস্য সচিব শওকত খান রাজু, মোহাম্মদ মুসা, মো: ইলিয়াস, মনজুর আলম মনজু, মোরশেদ কামাল, আশিক মল্লিক, মোস্তাকিম মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম রুবেল, মো: ইয়াছিন, সাজ্জাদ হোসেন সাদ্দাম, মোহাম্মদ সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক এস এম আলী, মোহাম্মদ হাসান, আবু বক্কর বাবু, বাদশাহ আলমগীর, সাইফুল ইসলাম, মাসুদ আলমসহ থানা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 6:54 pm
দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের যে কষ্ট হবে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে অব্যাহতভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট প্রতিদিন নতুন মাত্রায় আমাদের সামনে আবির্ভূত হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে বিমার প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া বাড়ছে। এ অবস্থায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের পক্ষে এ মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। জনগণের জীবনমানের কষ্ট লাঘবের অভিপ্রায়ে রাজনীতিতে এসেছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের যে কষ্ট হবে, এটি আমি উপলব্ধি করি।

তিনি বলেন, সরকার নিরুপায় না হলে এমন অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে চাইত না। তবে চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানি তেলের দাম আবার সমন্বয় করে আগের পর্যায়ে বা তার চেয়েও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

গাজী নজরুল চার দিন ও তার স্ত্রী এক দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 6:25 pm
গাজী নজরুল চার দিন ও তার স্ত্রী এক দিনের রিমান্ডে

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ৪ দিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে গাজী নজরুলকে বুলেট প্রুপ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে এজলাসে আনা হয়। এসময় তিনি তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার এজাহার পড়ে দেখেন। পরে ওকালতনামায় সই করেন।

৫ কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়—

১. ভিকটিম মরিয়ম ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যুবরণ করার সময় একই বাসায় এজাহারনামীয় গ্রেপ্তার আসামিরা ছিল। তাই ভিকটিমের আত্মহত্যায় তাদের প্রভাব আছে কি না তা উদঘাটন।

২. ভিকটিমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার বিষয়ে আসামিদের ভূমিকা উদঘাটন।

৩. ভিকটিম মরিয়মের আত্মহত্যায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা।

৪. ভিকটিম মরিয়মের আত্মহত্যায় অজ্ঞাতনামা আসামি জড়িত রয়েছে কি না তা শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা।

৫. মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করা।

এর আগে গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং শ‍্যালক ওবায়দুর রহমান—এই ৩ জনকে আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এই ঘটনার পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার এবং একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।

এদিকে, ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ও মৃত মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিক্টিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকাস্থ সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ৩য় তলায় বসবাস করত। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল অনুমান সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভিক্টিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলে। বাসায় এসে দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত।

তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভেতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে দেখতে পান। এসময় বিছানার ওপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।