মায়ানমারের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছেন ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা !
মায়ানমারের পক্ষ হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছেন শূন্যরেখার ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা! তারা বাংলাদেশের তথ্য সে দেশের সেনাবাহিনী ও মগদের কাছে পাচার করছেন। চলমান উত্তেজনায় বাংলাদেশের নেয়া নানা উদ্যোগের তথ্য প্রতিমুহূর্তে মিয়ারমারে পাচার করে দিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তবতীর্ শুন্য রেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতারা এ তথ্য পাচারে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তুমব্রু বাজার এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, ‘শূন্যরেখায় রোহিঙ্গারা সব সুযোগ—সুবিধা বাংলাদেশ থেকে নিচ্ছেন। কিন্তু তারা তলে তলে এ দেশের ‘বেড়া’ কেটে দিচ্ছে।
আলী হোসেন বলেন, এ রোহিঙ্গাদের মায়ানমার প্রীতি অত্যধিক। যার কারণে তারা চলমান উত্তেজনায় প্রতি সেকেন্ডের খবর সাথে সাথে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও মগদের কাছ পৌঁছে দেয়।’ তুমব্রু বাজারের একটি খাবার হোটেলে অবস্থান করা স্থানীয়রা একই অভিযোগ আনলেন।
স্থানীয় এক গ্রাম পুলিশ সদস্য বলেন, ‘শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের জন্য সামীন্তের বাংলাদেশীরা আজ এই সংকটে পড়েছে। সীমান্তের কাঁটাতারের লাগোয়া হওয়ায় এই রোহিঙ্গারা স্বাভাবিকভাবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও মগদের সাথে উঠাবসা করছে। এভাবেই তারা প্রতিনিয়তি তথ্য পাচার করে বাংলাদেশের চরম ক্ষতি করছে।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের তোলা এই অভিযোগ আরো যাচাই করতে ক্যাম্পের আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারাও অকপটে জানিয়েছেন এই অভিযোগের কথা!
রোহিঙ্গা ক্যাম্প লাগোয়া ভাজাপাড়ার বাসিন্দা দোকানদার মো. সেলিম বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও মগদের সাথে ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সাথে দহরম মহরম সম্পর্ক। মূলত এই সম্পর্কটা হলো অবৈধ ব্যবসা কেন্দ্রিক। রোহিঙ্গাদের দিয়ে ব্যবসা করে সে দেশের মগরা।
রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে প্রতিনিয়তি সোনা ও ইয়াবা, সিগারেটসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য বাংলাদেশে পাচার করে মগরা। সে ব্যবসা থেকে ভাগ নেয় সেনারা। আগে নিতো বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। এভাবে সখ্যতা তৈরি হওয়ায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের তথ্য পাচার করে দিচ্ছে।
শূন্যরেখার এই আলোচিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প লাগোয়া উত্তরে তুমব্রু উত্তর পাড়া বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘এই রোহিঙ্গা ক্যাম্পটি সুসজ্জিত। সেখানে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ। তবে প্রতিবেশি হওয়ায় মাঝে—মধ্যে যাওয়া সম্ভব হয়। তখন দেখা যায়, সেখানকার রোহিঙ্গাদের অনেকের তীব্র মায়ানমার প্রীতি। মূলত অবৈধ ব্যবসার সুবিধা পাওয়ার কারণে এই প্রীতি।
নাম প্রকাশ না করা করার শর্তে তুমব্রু বাজারের এক দোকানদার বলেন, শূন্যরেখার কিছু রোহিঙ্গা সব সময় বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের আশপাশে ঘোরাঘুরি করে। তারা এভাবেই খবরাখবর সংগ্রহ করে মিয়ানমারে জানিয়ে দেয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দীল মোহাম্মদ ভুট্টো বলেন, রোহিঙ্গাদের গুপ্তচরবৃত্তির করার কথাটি এখন জনে জনে শোনা যায়। এই নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিকরা বেশ ক্ষুব্ধ।
তারা বিভিন্ন সময় আমাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের কথা বলার কিছু নেই। তবে এ বিষয়ে জানতে বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন