‘চা’ শেষ হওয়ার আগেই ছেলে খুন !
ছেলে আকাশের সাথে কথা বলে দোকানে গিয়ে চা পান করতে বসেন বাবা, সেই চা শেষ হওয়ার আগেই হতভাগা বাবা শুনেন ছেলে আকাশকে হত্যা করেছেন অজ্ঞাতরা। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে শহিদুল ইসলাম আকাশ (২৮) নামে এক যুবলীগ কমীর্কে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে জবাই করে হত্যার ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এলাকায়। গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের চিনকির হাটে নিজের মালিকানাধীন দোকান থেকে টেনে বাইরে এনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে এবং পরে জবাই করে তাকে হত্যা করা হয়।
সে উপজেলার ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী। হামলার পর রাত ৯ টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আকাশ হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামের মানত মিঝি বাড়ির নুরুল ইসলামের একমাত্র পুত্র।
নিহত শহিদুল ইসলাম বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যায় চিনকীর হাট বাজারে ছেলের সাথে কথা বলে চা খেতে বসেন, এমন সময় তার ছেলে আকাশ কে কেউ কোপাচ্ছে শুনে দৌঁড়ে যান। এসময় দুর্বৃত্তরা আকাশের গলায় চুরি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এসময় তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন মামুনের নেতৃত্বে ইকবাল, মোতালেব সহ কয়েকজন মিলে আমার ছেলেকে খুন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সোমবার সন্ধ্যা ৬ টার সময় বারইয়ারহাট—করেরহাট সড়কের চিনকিরহাট বাজারে যুবলীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম আকাশের মালিকানাধীন নাজমা টিম্বার এন্ড ফার্ণিচার মাটে বসে ব্যবসায়িক কাজ করছিলেন।
এসময় স্থানীয় ইসলামপুর গ্রামের সন্ত্রাসী হুমায়ুন কবির মামুনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ১০—১৫ জন হামলা চালায় আকাশের উপর। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় আকাশকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবণতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আকাশ।
হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সন্ধ্যা ৬ টায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আধিপত্য নিয়ে হামলা করে শহিদুল ইসলাম আকাশের ওপর। ২০১৮ সালেও তাঁর ওপর হামলা হয়েছিল। এবার তাঁকে (আকাশ) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে।
হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোনা মিয়া জানান, আমি খুনের ঘটনা সম্পর্কে সঠিক এখনো জানি না। আমার এলাকায় সন্ত্রাসী নেই। বারইয়ারহাট কেিান্দ্রক কিছু ছেলে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। কে জড়িত পুলিশ তদন্ত করে বের করবে।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নূর হোসেন মামুন বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনো পরিবারের তরফ থেকে মামলা দায়ের করেনি। কাউকে আটকও করা যায়নি। তবে এ ঘটনার সাথে জড়িত এমন কয়েকজনের পরিচয় চিহ্নিত করা গেছে।
বাকিটা পরে জানানো হবে। আকাশের বাবার বক্তব্যে হত্যাকান্ডের সাথে কয়েকজন জড়িত থাকার বিষয়ে ওসি বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে থানায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নারী—নির্যাতনসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন