খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপূজায় চট্টগ্রামে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাবলয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় চট্টগ্রামে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাবলয়

চট্টগ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিমা তৈরির স্থান থেকে শুরু করে পূজামন্ডপ এবং শেষে বিসর্জন পর্যন্ত দেওয়া হবে নিরাপত্তা।

প্রতিটি মন্ডপে থাকবেন পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। টহলে থাকবে র‌্যাব-পুলিশ। সাদা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে চলছে গোয়েন্দা নজরদারি। চলছে সাইবার টহলও। এছাড়া মন্ডপগুলোতে রাখা হবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

পঞ্জিকা অনুসারে, রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। ১ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে মন্ডপে হবে দেবীর অধিষ্ঠান। ২ অক্টোবর সপ্তমী, ৩ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ৪ অক্টোবর মহানবমী ও ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী।

পুলিশ-র‌্যাবের দায়িত্বশীলরা বলছেন, দুর্গোৎসব ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা হামলার তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তারপরও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করতে শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

গত বছর কুমিল্লার নানুয়ার দিঘিরপাড়ের পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে যায় এক যুবক। এরপর ওই মন্ডপসহ নগরের আরও কয়েকটি মন্ডপে ভাঙচুর চালানো হয়। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এমন ঘটনা রোধে এবার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে পূজামন্ডপের আয়োজকদের কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো: মন্ডপে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক আসা-যাওয়ার পথ রাখা। করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় মন্ডপের প্রবেশমুখে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা।

মন্ডপের চারদিকে বা ওপরের অংশ উন্মুক্ত রাখা। মন্ডপের ভেতরে একসঙ্গে ২০ জনের বেশি লোক অবস্থান না করা। মন্ডপের প্রবেশমুখে ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মন্ডপসহ আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা।

জরুরি সেবাদানকারীদের ফোন ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করা এবং তা মন্ডপের দৃশ্যমান স্থানে টাঙানো। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর প্রস্তুত রাখা। বিদ্যুতের ক্রটিপূর্ণ সংযোগ দ্রুত মেরামত করা। সার্বক্ষণিক একজন ইলেকট্রিশিয়ান নিয়োগ করা।

পূজামন্ডপে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হ্যান্ড হেল্ড মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ইত্যাদি স্থাপন করা। অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার এক্সটিংগুইসার, পানি, বালু ইত্যাদি মজুদ রাখা। মন্দির বা পূজামন্ডপে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে অনুষ্ঠান বা কার্যক্রম পরিচালনা করা। অহেতুক কোনো প্রকার থিম,

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা ডিজে পার্টি না করা। কোনও দ্বন্দ্ব থাকলে নিজেরা অথবা মহানগর পূজা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মীমাংসা করা। আগত দর্শনার্থীদের অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টি থেকে সতর্ক করা। নামাজ ও আজানের সময় সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ রাখা। প্রতিমা পরিবহনে সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির সঙ্গে সমন্বয় করা।

এছাড়া পূজামন্ডপে নারী দর্শনার্থীরা যাতে ইভটিজিং বা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করা।

পূজামন্ডপের ব্যবস্থাপনা কমিটি মন্ডপসমূহে সার্বক্ষণিক নারী ও পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা। স্বেচ্ছাসেবকদের চেনার সুবিধার্থে গেঞ্জি, ক্যাপ, আর্মড ব্যান্ড ব্যবহার করা, স্বেচ্ছাসেবকদের নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছে পাঠাতে হবে।

যেকোন ধরনের ঘটনার সংবাদ দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। মদ ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পূজামন্ডপের আশপাশে মেলা ও জুয়ার আসর বসানো যাবে না। আতশবাজি, পটকা ফোটানো যাবে না। যেকোন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা বা গুজবের বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, গতবছর পূজার সময় সারাদেশে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা সরকার ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য। আমাদের সম্প্রীতিকে নষ্ট করার জন্য অপচেষ্টা।

এরকম কাজ যারা করে তারা সংখ্যায় কিন্তু কম। কোনো পূজামন্ডপে ডিজে অনুষ্ঠান হবে না। এসময় মোবাইলের ইন্টারনেটে ধীরগতি থাকলে ফেসবুকে উল্টাপাল্টা লিখে অপপ্রচার চালানো বন্ধ হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিক প্রশাসন। নগরের ২৮২টি পূজামন্ডপে পুলিশ সদস্য থাকবে। প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছি।

আর্থিক সংগতি সাপেক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে মন্দিরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রেখে বাইরে আলোকসজ্জা পরিহার করতে বলা হয়েছে। পূজামন্ডপে ডিজে চললে আমরা নিজেরেই গিয়ে সেটা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পূজা হবে সাত্তি¡কভাবে।

চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত বলেন, নগর ও জেলায় মোট ২ হাজার ৩’শ ২৪টি প্রতিমা ও ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় জানান, শারদীয় দুর্গাপূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। নিরাপত্তার জন্য সাদা পোশাকে পুলিশ নিয়োগের পাশাপাশি চার স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং করা হবে।

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ্ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যাবতীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

গুরুত্ব অনুসারে পূজামন্ডপ অতিগুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ শ্রেণিতে বিভক্ত করে সে অনুপাতে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

এছাড়া পূজা উদযাপনকালে সড়ক-মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২৪ ঘণ্টা / জে-আর

Feb2

৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গেল ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতক শিশু মারা গেছে। এ ঘটনাটিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, তাদের তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। আজ বিকেল ৩টায় সেই প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি দেখেছে যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযোগী না। তদন্ত কমিটি পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষনম্বর-২ পরিদর্শন করেছে। তাদের কাছে মনে হয়েছে, কক্ষটিতে দীর্ঘসময় এসি বন্ধ থাকায় ও স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রার ঘাটতি হয়েছে। পাশাপাশি, কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কক্ষের দায়িত্বরত সব সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মৃত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাতে প্রমাণ পেয়েছে যে সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।

‘নবজাতকের আকস্মিক শারীরিক অবনতির অবস্থায় হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোনো চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত করেনি। বরং কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং নবজাতকের মৃত্যুরোধের উপযুক্ত যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি’—বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কক্ষটি ৯০০ বর্গফুটের। যেখানে ১১ জন রোগী, নবজাতক ও রোগীর লোকসহ প্রায় ৫০ জনের উপস্থিতি ছিল। যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমাণ পেয়েছে, তারা একটি হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালনে সক্ষম ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড দুইয়ে রোগীদের দেখাশোনার কোনো চিকিৎসক ছিল না। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেবিকাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না। কক্ষটিতে আলো-বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেশনের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কক্ষটিতে অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা হবে বলেও জানিয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে অনেক রোগী আছে। আমরা সেটা বন্ধ করে দিতে পারি না। তবে, আইন অনুসারে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
‘বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শিলিগুড়ি সাইবার থানায় রিংকি চ্যাটার্জি সিং নামে এক আইনজীবী এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা, জনসমাবেশ এবং গণমাধ্যমের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি অভিযোগকারীর।

অভিযোগে সিং দাবি করেছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভা, রাজনৈতিক মঞ্চ এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি (মমতা ব্যানার্জি) ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু উসকানিমূলক ও উগ্র মন্তব্য করেছেন। অভিযুক্ত প্রকাশ্যে এই ধরনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা, নিরপেক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের প্রতি জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগে গত ২ জুন একটি রাজনৈতিক মঞ্চে করা মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জুন রানি রাসমণি স্মরণে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত দাবি করেন— ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার গোপন আলোচনা হয়েছিল। এরপর তিনি ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে অভিযোগ তোলেন। এই ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে জনগণ ও গণমাধ্যমের সামনে করা হয়েছিল, যার স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক মহলে ভারত সরকারের ভাবমূর্তি ও নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা।

মামলার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গত ২ জুন কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া মমতার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সমাবেশে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যা মামলার এক অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগকারী রিংকি চ্যাটার্জি সিং দাবি করেন, মমতার এই বক্তব্য পরোক্ষভাবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি বিদেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে।

তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এমন মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে এক সপ্তাহ আগে কলকাতায় একটি ঈদ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ করা হয়। সেখানে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় করা সর্বশেষ অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ধর্মতলার সমাবেশে সেই বক্তব্যে মমতা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ‘রেভোল্যুশন’ হয়েছিল।…মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে।…আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।…তারপর হোম মিনিস্টার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন…এত দিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি…আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে…আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি…।’

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট দুজনকে আটক ও তাদের কাছ থেকে চোরাই তামার তার উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে সিটিটিসির সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তাররা হলেন রঞ্জন চন্দ্র (২৫) ও রেজাকুল ইসলাম (৩২)।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তার চুরি করেন।

পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একুশে হলের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে রেজাকুলের তথ্যে চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনী দালান রোডে একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আজ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। এই রহস্য উদঘাটন করেছি। সংশ্লিষ্ট রঞ্জন চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করেছি। এছাড়া ৮ কেজি তার উদ্ধার করা হয়েছে একটি ভাঙারির দোকান থেকে, যেখানে তার বিক্রি করেছিল রঞ্জন। এছাড়া ভাঙারির দোকান মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১ জুন সচিবালয়ের দায়িত্বরত কর্মীরা অফিসে এসে দেখতে পান গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন লাইনগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। সচিবালয়ের পুরাতন ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত টেলিযোগাযোগের অত্যন্ত মূল্যবান কপার ক্যাবলগুলো ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইনের বিভিন্ন স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন।

কোথাও কোথাও তার কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিছু কিছু জায়গায় তার ছিল না। এতে শুধু সাধারণ টেলিফোনই নয়; বরং অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগগুলো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।