খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত ১১

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 26 September, 2022, 11:25 am
চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত ১১

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ জনের দেহে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৮.৯৪ শতাংশ। তবে এই একই সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসে কারো মৃত্যুও হয়নি।

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর, সোমবার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, চট্টগ্রামে ১২টি ল্যাবে ১২৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১১ জনের দেহে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৯ জন নগরীর ও বাকি ২ জন সাতকানিয়া, আনোয়ারার উপজেলার বাসিন্দা।

চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে নগরীর বাসিন্দা ৯৩ হাজার ৯৫৭ জন। বাকিরা বিভিন্ন উপজেলার।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে মোট এক হাজার ৩৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩৭ জন নগরীর বাসিন্দা। আর বিভিন্ন উপজেলায় মৃত্যু হয়েছে ৬৩০ জনের।

২০২০ সালের ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ৯ এপ্রিল ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম কোনো ব্যক্তি মারা যান।

এন-কে

Feb2
Feb2

তরুণ সমাজ ধ্বংসের ‘টাইম বোমা’ ইয়াবা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 9 August, 2026, 10:03 am
তরুণ সমাজ ধ্বংসের ‘টাইম বোমা’ ইয়াবা

দেশে মাদকের ব্যবহার মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে চলছে। রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের মাদক ব্যবহার এবং বেচাকেনা চলছে প্রকাশ্যে। সর্বনাশা মাদকের এই আগ্রাসন থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তরুণ সমাজের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সর্বাধিক। পাশাপাশি চলছে অনলাইন জুয়া। ইয়াবাও যত্রতত্র হাতের কাছে পাওয়া যায়। ‘ইয়াবা’ তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার টাইম বোমা বলে উল্লেখ করেছেন মনোরোগ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইয়াবাসহ কোনো মাদক যেন দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তা বলেন, দেশের অভ্যন্তরে যারা এই কারবারে জড়িত হবে তাদের বিরুদ্ধে চীন, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এই ভয়ংকর মাদকের ব্যবসা ও ব্যবহার নির্মূল করা সহজেই সম্ভব।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, দেশেই এখন ইয়াবা তৈরি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিপূর্বে কেরানীগঞ্জসহ একাধিক স্থানে এই মাদক তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে। বর্তমানে রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত যত্রতত্র পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা। বেচাকেনা হচ্ছে প্রকাশ্যেই। তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি আসক্ত ইয়াবায়। রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে মাদক ছোবল দেয়নি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, হাত বাড়ালেই এই মাদক মেলে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকের মূল হোতাদের দমনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কর্তৃক আয়োজিত মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন সভায় তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাদক বিস্তার রোধ করা বর্তমানের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর প্রতি জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত মাদকের গডফাদার, ব্যবসায়ী ও ডিলারের তালিক আপডেট করার কার্যক্রম শুরু করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, রাজধানী থেকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, গডফাদার ও সরবরাহকারীদের তালিকা তাদের হাতে রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা মাদকের গডফাদার ও ব্যবসায়ে জড়িত এবং সেখানে থেকে সারা দেশে সরবরাহকারীদেরও তালিকা রয়েছে। সেই তালিকায় অনেক ব্যবসায়ীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই তালিকা অনুযায়ী রাজধানী থেকে দেশব্যাপী মাদকব্যবসায়ী ও গডফাদারদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মনোরোগ বিজ্ঞান ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ব্যবহার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। পাশাপাশি সামাজিক অপরাধও আসক্তদের মধ্যে চরম নিষ্ঠুরতা বেড়ে চলছে। মাদকের টাকার জন্য কিংবা এর থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে ছেলের হাতে পিতা-মাতা ও আপনজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। প্রায়ই পত্রিকায় এই ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। মাদক সীমান্ত ছাড়াও নানা পথে প্রবেশ করছে। সীমান্ত থেকে সড়ক পথে কিংবা নৌ পথে রাজধানীসহ মাদকব্যবসায়ীরা পৌঁছে দেয়। এ ব্যবসা করে অল্প সময়ে কোটিপতি ও গাড়ি-বাড়ির মালিক হওয়া যায়। এ কারণে এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণির সদস্যও জড়িত। রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত প্রকাশ্যে বেচাকেনা এবং সহজলভ্য হওয়ার অন্যতম কারণ বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বনাশা মাদকের ব্যাপক বিস্তার যেভাবে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে সন্তানরা নিরাপদ নয়।

রাজধানী মোহাম্মদপুর ‘জেনেভা ক্যাম্প’ মাদকের অন্যতম স্পট। বছিলা, কামরাঙ্গীর চর, রায়ের বাজার মাদকের বেচাকেনা প্রকাশ্যে কিশোরদের বেচাকেনা করতে দেখা যায়। ঐসব এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা বড় ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে এ মাদক ব্যবসা চলে আসছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ-কমিশনার মো. ইবনে মিজান বলেন, জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশের তত্পরতা থাকে। এছাড়া, মোহাম্মদপুর এলাকায় যেসব স্থানে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ছিল প্রতিদিনই অভিযান অব্যাহতভাবে চলছে। গড়ে অর্ধশতাধিক মাদক বিক্রেতা, ব্যবসায়ী ও ক্রয়কারী, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে। বর্তমানে ঐসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এলাকাবাসী পুলিশের এই অভিযানে শান্ত বলে তিনি জানান।

এছাড়া, রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, সবুজবাগ, মুগদা, খিলগাঁও, বাসাবো, যাত্রাবাড়ী, ডেমরাসহ পুরাতন ঢাকার অলিগলি প্রকাশ্যে দিনরাত চলে মাদকের ব্যবসা। এসব কারণে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে কয়েক ব্যবসায়ী জানান। তারা বলেন, একশ্রেণির নেতাকর্মী নিয়মিত চাঁদা নিয়ে এই ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে।

মহানগর গোয়েন্দা প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও পেশাদার অপরাধীদের তালিকা তাদের কাছে রয়েছে। জড়িতরা প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হচ্ছে বলে তিনি জানান।

র‌্যাবের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, রাজধানীসহ দেশব্যাপী মাদক বিক্রিসহ যে কোনো ধরনের অপরাধ করে কারো পার পাওয়ার সুযোগ নেই। কিশোর গ্যাংসহ অন্যান্য অপরাধীদের তালিকা তাদের কাছে রয়েছে। প্রতিটি এলাকায় র‌্যাব নিয়মিত মনিটরিং করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

দেশের অন্যতম মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, মাদকাসক্তদের মধ্যে ইয়াবা আসক্তদের সংখ্যা সর্বাধিক। এদের সংখ্যা শতকরা ৮০ ভাগের ওপরে। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থীরাও কম নয়। প্রতিদিন যত মাদকাসক্ত চিকিৎসার জন্য আসে এর মধ্যে সিংহভাগই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, একটি পরিবারে এক জন মাদকাসক্ত সন্তান থাকলে পুরো পরিবারই ধ্বংসের মুখে পড়ে। আসক্ত তরুণরা তাদের পিতামাতাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নির্মম আচরণ করে। তবে দীর্ঘসময় চিকিৎসাসেবা দিলে সুস্থ হয়ে যায়; যদিও তাদের বেশির ভাগই জীবনভর সুস্থ থাকতে পারে না। হাতের নাগালে মাদক থাকায় আবারও আসক্ত হয়ে পড়ে কিংবা মাদকাসক্ত বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে দ্বিতীয় বার একই ভুল করে।

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষ সচেতন হলে এই চক্রকে দমন করা সম্ভব। মাদকের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সবাকেই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে যাতে এটি দেশে প্রবেশ কিংবা কোনো এলাকায় কেউই বিক্রি করতে না পারে। পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

মিয়ানমারের নাগরিক পরিচয়ে পালাচ্ছিলেন সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 9 August, 2026, 9:00 am
মিয়ানমারের নাগরিক পরিচয়ে পালাচ্ছিলেন সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী

শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী গোলাম সারোয়ার খানকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ফ্লাইটের বহির্গমন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিশ্বস্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি আভিযানিক দল বিমানবন্দরে অভিযান চালায়। এ সময় গোলাম সারোয়ার খানকে আটক করা হয়।

তিনি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা কাগজপত্র ব্যবহার করে নিজেকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। ওই পরিচয় ব্যবহার করে ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে দেশ ছেড়ে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন গোলাম সারোয়ার। বিমানবন্দরের বহির্গমন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, গোলাম সারোয়ার খান বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী। বড় সাজ্জাদের অধীনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে।

বড় সাজ্জাদ চট্টগ্রামের অপরাধজগতের আলোচিত নাম। তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে দেশে থাকা সহযোগীদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী ও রাউজান এলাকায় বড় সাজ্জাদের সহযোগীদের তৎপরতা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ফোন করে হুমকি, চাঁদাবাজি, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলি ছোড়া এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন : ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2026, 11:44 pm
দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করুন : ইউএনওদের প্রধানমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্য মানুষের সেবা করার সুযোগটি বড় একটি আমানত ও আল্লাহর নিয়ামত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না। আসুন আমরা সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি। যেখানে সবাই একটু ভালো থাকবে।’

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনরত উপজেলা হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়; কিন্তু সেটি বাংলাদেশেরই একটি অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষও নিজের এলাকার মানুষের মতোই আপন। তাই দেশের প্রতিটি মানুষকে নিজের মানুষ মনে করে কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, ‘আপনি যে উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি হয়তো আপনার নিজের উপজেলা নয়। কিন্তু সেই উপজেলা তো আপনার দেশেরই একটা অংশ। সেখানে যে মানুষগুলোকে দেখছেন, তারা হয়তো আপনার এলাকার মানুষ নন; কিন্তু আপনার সেই আপনজনদের মতোই মানুষ। ছোট একটা দেশ। এই দেশটাকে যদি ঠিকঠাক করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে মিলেই চেষ্টা করতে হবে।’

শুধু আইন করে সমাজের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন দূষণের দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, “উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে অনেক মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গাছ রোপণ করতে চান। আপনাদের মতো সরকারি কর্মকর্তারা তাদের উৎসাহ দিলে একজন যেখানে ১০টি গাছ লাগাতেন, সেখানে ৫০টি গাছ লাগাতে পারেন। এভাবে আপনারা পরিবেশ রক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখতে পারেন।”

একইভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনকে উৎসাহিত করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খেলাধুলার আয়োজনের জন্য শুধু বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। স্থানীয়ভাবে ভালো যেকোন বিষয় নিয়ে এমনকী স্থানীয় কোনো মানুষের জন্মদিন উপলক্ষ্যেও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে দয়া-মায়া কমে যাচ্ছে এবং মানুষ দিন দিন নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপ এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে, এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে সমাজের শান্তি নষ্ট হবে, সমাজ ধ্বংস হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় মানুষের প্রতি মানুষের দরদ ও সহমর্মিতা বাড়াতে আপনাদের উদ্যোগ নিতে হবে।

‘সৃষ্টির সেরা জীব যদি আমরা হয়ে থাকি, তাহলে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও ভাবতে হবে’- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু মানুষের প্রতি নয়, আশপাশের পশুপাখি ও প্রকৃতির প্রতিও যত্নবান হতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিশুদের এসব বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার থেকে প্রাথমিক স্তর থেকেই শিশুদের মধ্যে মানবিকতা এবং পশুপাখির প্রতি মায়া-মমতার বিষয়গুলো তাদের পাঠ্য হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একসময় পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং পশুপাখির প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া হতো। বর্তমানে এসব মূল্যবোধ অনেকটাই অনুপস্থিত। এগুলো ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বিভিন্ন উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ায় ইউএনওদের প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকার এবং জনগণের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাতে আমার বিশ্বাস, আপনারা জনগণের জন্য অনেক ভালো কিছুই করতে পারবেন বলেন, আপনারা নিজেদের যোগ্যতায় এ পর্যায়ে এসেছেন। আল্লাহ আপনাদের মানুষের জন্য এবং রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগের গুরুত্ব উপলব্ধি করে মানুষের কল্যাণে তা কাজে লাগাতে হবে।

সভায় ইউএনওরা নিজ নিজ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, খাল খননের আগে যেসব এলাকায় বছরে দুই ফসল হতো, সেখানে এখন তিন ফসল উৎপাদন হচ্ছে। খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন, সেচব্যবস্থা ও কৃষিকাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন তারা। উপকারভোগীদের কৃতজ্ঞতার বার্তা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এর মাধ্যমে নদীমাতৃক বাংলাদেশের চিত্র ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, ‘দিন দিন আমাদের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয় কিন্তু এক। লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও এক।’ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি তাদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বন্য প্রাণী ও পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুর না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ জায়গা।’

সভায় খাল খনন প্রকল্পের উদ্বৃত্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া ৮৩ টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, ড. নাসিমুল গণি , প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।