খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরব আমিরাতের বিপক্ষে বাংলাদেশের কষ্টের জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
আরব আমিরাতের বিপক্ষে বাংলাদেশের কষ্টের জয়

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে খেলছে বাংলাদেশ। কিন্তু অপেক্ষাকৃত দূর্বল দলটির সামনেও ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই হতাশা দেখালো বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন হয়নি। আফিফ হোসেনের লড়াকু ইনিংসে ভর করে আরব আমিরাতের বিপক্ষে কষ্টের জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের দল।

আজ রোববার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আরব আমিরাতকে সাত রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

এদিনও বরাবরের মতো হতাশা দেখিয়েছেন টপ অর্ডার ব্যাটাররা। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংও ছিল নড়বড়ে। দেদারসে রান বিলিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ছন্দে পাওয়া যায়নি মুস্তাফিজ-নাসুমকেও। ফলে আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয় পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ ওভার পর্যন্ত।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আরব আমিরাতের বিপক্ষে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ১৫৮ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে শেষ ওভারে গিয়ে ১৫১ রানে থামে আরব আমিরাত।

এদিন টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে খেলা শেষ ম্যাচের দুই ওপেনার সাব্বির রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর ভরসা রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু দুজনেই ব্যর্থ হন। রানের খাতাও খুলতে পারেননি সাব্বির আর মিরাজ ফেরেন ১৪ বলে ১২ রান করে।

এরপর একে একে লিটন দাস, ইয়াসির আলি রাব্বি ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সতীর্থদের আশা যাওয়ার মিছিলে উইকেটে থিতু ছিলেন আফিফ হোসেন। ৩৮ বলে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।

আফিফের ব্যাটে চড়েই কোনো মতে এই পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে ৫৫ বলে অপরাজিত ৭৭ রান করেন আফিফ। তার ইনিংসে ছিল ৭টি বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কা। শেষ দিকে নেমে নুরুল হাসান সোহান সমান দুই ছক্কা ও চারে করেন ২৫ বলে ৩৫ রান।

আসন্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই ম্যাচের একটি সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মূলত বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা একাদশ বাছাইয়ের জন্য এই ম্যাচগুলো ড্রেস রিহার্সাল।

এই সিরিজে নেই বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তাঁর বদলে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নুরুল হাসান সোহান।

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৭ অক্টোবর। ম্যাচ দুটির ভেন্যু দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এরপর ২৮ তারিখ বাংলাদেশ দল ফিরে আসবে ঢাকায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৫৮/৫ (মিরাজ ১২, সাব্বির ০, লিটন ১৩, আফিফ ৭৭*, ইয়াসির ৪, সৈকত ৩, সোহান ৩৫*; জুনায়েদ ৪-০-৩৩-০, সাবির ৩-০-১৬-১, আয়ান ৩-০-১৬-১, ফরিদ ৪-০-৩৮-১, মিয়াপ্পান ৪-০-৩৩-২, হামিদ ২-০-১৬-০)।

সংযুক্ত আরব আমিরাত : ১৯.৪ ওভারে ১৫১ (ওয়াসিম ১৫, সুরি ৩৯, লাকরা ১৯, অরবিন্দ ১৬, রিজওয়ান ৫, হামিদ ২, আয়ান ২৫, ফরিদ ২, মিয়াপ্পন ১২, জুনাইদ ১১, সাবির ০*; সাইফ ৪-০-৪০-০, মুস্তাফিজ ৪-০-৩১-২‌, নাসুম ৪-০-৩১-০, শরিফুল ৩.৪-০-২১-৩, মিরাজ ৩-০-১৭-৩, সৈকত ১-০-৯-০)।

ফল : বাংলাদেশ ৭ রানে জয়ী।

এন-কে

Feb2

চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চট্টগ্রামবাসী গর্বিত, সর্ববিষয়ে বিশারদ একজন সর্বমন্ত্রী পেয়েছেন। সত্যি আপনারা ভাগ্যবান যে এক মন্ত্রী সব মন্ত্রণালয় চালায়। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কথাও তাকে বলতে হয়।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সমাবেশে নেতাকর্মীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের সন্তানকে ভুয়া বলতে নেই। নিজের সন্তান কানা হলেও তো পদ্মলোচন।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমার কষ্ট হয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আশেপাশে কাদেরকে বসিয়েছেন? ওনি কুমিল্লায় এসে ইপিজেড দেন। ফরিদপুরে গিয়ে সয়াবিন তেল দেন। তিনি দিনাজপুরে গিয়ে আম উপহার দেন। সিলেটে গিয়ে সাড়ে নয় ঘণ্টা উপহার দেন। জাতীয় সংসদে গিয়ে প্রাথমিক বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেন। আর কক্সবাজারে এসে তিনি বলেন বিরোধী দল বাজেটে মাদক ও ধূমপান জাতীয় দ্রব্যমূল্যের টেক্স বাড়ানো হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে—এগুলো মিথ্যা, আর ভুয়া।

জামায়াত আমির বলেন, ‘বিরোধী দলের কেউ এটা করেনি। আমার করুনা লাগে। প্রধানমন্ত্রীর পদটা রাষ্ট্রীয় পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। তার দিকে তাকিয়ে বিশ্বের লোকজন বাংলাদেশকে হিসাব করবে। তার মুখ দিয়ে যদি অনবরত এসমস্ত ভুলভাল কথা বের হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ লজ্জিত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ওদেরকে চিহ্নিত করুন যারা আপনাকে ভুল বুঝাচ্ছে। তারা আপনার সম্মান আর বাংলাদেশের সম্মান ধ্বংস করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। নইলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু আপনি হবেন না, গোটা জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন।

বাজেটে বিরোধী দল প্রতিক্রিয়া জানাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কি আছে? অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে? তবে হা জনগণ যখন দেখবেন, জনআকাঙ্খা বাস্তবায়নে আপনি এবং আপনার সরকার আন্তরিক, তখন আপনাদের প্রশংসা করবে। কিন্তু যখন জনগণ দেখবে আপনারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অপমান অগ্রাহ্য করছেন, তখন জনগণ বসে বসে আঙুল চষবে না।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হকসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা।

বিবেককে জাগ্রত না করলে মানবিক বাংলাদেশ অসম্ভব: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
বিবেককে জাগ্রত না করলে মানবিক বাংলাদেশ অসম্ভব: ডিসি জাহিদ

নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের বিবেক, মানবিকতা ও মূল্যবোধের জাগরণ। কেবল শিক্ষক, কর্মকর্তা বা অভিভাবক হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও প্রত্যেকের দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই যুগে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার মানবতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধেই নিহিত।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা শনিবার চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত “নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্কাউটিংয়ের ভূমিকা” শীর্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন জেলার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সমাজে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতার মধ্যে ছুটছে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতার দৌড়ে আমরা নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হারিয়ে ফেলছি। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার পদ-পদবি নয়, তার মানবিক সত্তা।

তিনি বলেন, “সূর্যের যদি তাপ না থাকে, চাঁদের যদি আলো না থাকে, সমুদ্রের যদি গর্জন না থাকে, তাহলে যেমন তাদের মূল্য থাকে না, তেমনি মানুষের যদি মানবিকতা না থাকে, তাহলে মানুষ হিসেবে তারও কোনো মূল্য থাকে না।”

রবার্ট ব্যাডেন-পাওয়েলের স্কাউট আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে দায়িত্বশীল ও বিবেকবান মানুষ তৈরির লক্ষ্য থেকেই স্কাউটিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজও সেই দর্শন সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আইনস্টাইনের একটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবী খারাপ মানুষের কারণে নয়, বরং ভালো মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা শিক্ষক, কর্মকর্তা, অভিভাবক বা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু আমরা কি কখনো ভাবি, মানুষ হিসেবেও আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে? মানুষের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”

তিনি বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য শুধু সনদ বা ডিগ্রি অর্জন নয়; বরং বড়দের সম্মান করা, ছোটদের ভালোবাসা, দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরা শুধু বই থেকে শিক্ষা নেয় না; তারা তাদের শিক্ষকদের জীবনাচরণও অনুসরণ করে। আমরা কি আমাদের সন্তানদের সামনে এমন একজন মানুষকে দাঁড় করাতে পারি, যাকে দেখে বলতে পারব—তুমি তাঁর মতো হও?”

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ দেশের মানুষ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমাদের কোনো বড় খনিজ সম্পদ নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ এই দেশের মানুষ। ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতই বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি।” এই মানবসম্পদকে দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিকভাবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মেধা পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বহু মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে সেখানেই স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে তরুণরা নিজেদের মেধা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে উৎসাহিত হবে।

প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে প্রযুক্তি একসময় মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তির তথ্য মানুষের সাক্ষ্যের চেয়েও বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় মানুষের বিবেক, সততা ও নৈতিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, “প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে না চাইলে আমাদের বিবেককে জাগ্রত করতে হবে। প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার মানবতায়, তার মূল্যবোধে এবং তার দায়িত্ববোধে।”

মাদক ও সামাজিক অপরাধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, কেবল আইন প্রয়োগ করে সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সামাজিক প্রতিরোধ, জনসচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ছাড়া মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি প্রত্যেকে নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে সৎভাবে কাজ করি, মানবিকতা ও বিবেককে জাগ্রত করি, তাহলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমদ।

বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন জেলার সম্পাদক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। সংগঠনের সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরীফ উদ্দিন।

অনুষ্ঠান শেষে স্কাউটিংয়ে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি স্কাউট গ্রুপ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা এবং আলহাজ্ব এয়াকুব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

রাউজানের দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা মাসুদ নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
রাউজানের দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা মাসুদ নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধ

নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের বানিজ্যিক এলাকা চৌমুহনী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মৃত খালেদ চৌধুরীর পুত্র।

স্থানীয়দের ধারণা, কর্ণফুলি নদীর বালুর ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। এছাড়া তিনি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নিজ ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন। খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম। এ সময় রাউজান থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, এই ঘটনায় যেই বা যারা জড়িত থাকুক তদন্তপূর্বক জড়িততের আইনের আওতায় নিয়ে এসে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে। অপরাধীরা বিন্দুমাত্রও ছাড় পাবেনা। তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্য বলেন, পুলিশী তদন্ত চলছে। একটু সময় দিতে হবে। আপনারা সহযোগিতা করলে খুব দ্রুত অপরাধীদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অবরোধের কারণে কাপ্তাই সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।