অভিন্ন জাতীয় গ্রিড নির্মাণে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত
একটি অভিন্ন জাতীয় গ্রিড নির্মাণের মাধ্যমে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি সংকট নিরসন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে শুরু হয়েছে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। এতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন রুখতে একটি অভিন্ন কৌশল নিয়ে এগোনোর পক্ষেও মত দেন অধিকাংশ ইউরোপীয় নেতা। একই সঙ্গে, চলমান এ যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয় খুব বেশি দূরে নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দায় বিপর্যস্ত গোটা ইউরোপ। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে জরুরি সম্মেলনে যোগ দেন ইউরোপীয় নেতারা। এতে তেল, গ্যাস, কয়লাসহ খাদ্যশস্যের সংকট নিরসন ও বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে একটি আন্তঃমহাদেশীয় জাতীয় গ্রিড তৈরি ও ইউরোপজুড়ে সামরিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ ৪৪টি দেশের রাষ্ট্রনেতা।
সম্মেলন শেষে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ সাংবাদিকদের বলেন, ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হলেও ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি অভিন্ন কৌশল নিয়ে এগোনোর বিষয়ে সম্মেলনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইউরোপের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘গোটা ইউরোপে আজ অশান্তির ছায়া। আমি জানি, ইইউতে অবকাঠামোগত আরও উন্নয়ন জরুরি। সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের জন্য একটি আন্তঃমহাদেশীয় জাতীয় গ্রিড নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।’
যদিও সম্মেলনে জার্মানির বক্তব্য ও রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা করে প্রতিবেশী পোল্যান্ড। জার্মানি কেবল নিজেদের জ্বালানি সমস্যার সমাধান নিয়েই বেশি আগ্রহী বলেও অভিযোগ করে দেশটি।
তবে সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ইউক্রেনের পরাজয় এড়াতে রুশ বাহিনী পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন ইউরোপীয় নেতারা। যদিও চলমান এ যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন