মিরসরাইয়ে মসজিদ নিয়ে ধন্ধ, রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশঙ্কা
মিরসরাই প্রতিনিধিঃ মিরসরাইয়ে খাস জমিতে নির্মিত শত বছরের পুরনো একটি মসজিদকে ওয়াক্ফ এস্টেট দেখিয়ে গোপনে মতোয়াল্লি নিয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে। কথিত মতোয়াল্লি সমজিদের সম্পত্তি বিক্রয় করে ১০লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসল্লি ও কথিত মতোয়াল্লির লোকজনের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
বিবাদ কে কেন্দ্র করে সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত শ খানেক মুসল্লিকে সন্ত্রাসী বলে আক্ষায়িত করলে কথিত মতোয়াল্লির লোকজন ও মুসল্লিদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টবোর) দুপুর ১২টায় মিরসরাই উপজেলার ৯ নং সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড, কিছমত জাফরাবাদ উজির আলীকামলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে এই ঘটনা ঘটে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিছমত জাফরাবাদ উজির আলীকামলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে শ খানেক মানুষের জটলা। সবাই হাতাহাতি আর ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে মারমুখি অবস্থানে। যে কোনসময় রক্তারক্তির ঘটনা ঘটতে পারে।
এমন অবস্থা দেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেছেন সমঝোতা বৈঠকের প্রধান চট্টগ্রাম ওয়াক্ফ এস্টেট ১নং রিজিওনের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম। জহুররের নামাজ শেষে প্রায় উপস্তিত ৭০জন মুসল্লি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে অভিযোগ করে বলেন, উজির আলীকামলা জামে মসজিদের বয়স শত বছরের উপরে। এই জমির আরএস, বিএস, পিএস, সিএস সকল দলিলে এটি খাস জমি। খাস জমির উপর নির্মিত মসজিদের উন্নয়নের লক্ষে এলাকার একাদিক ভুমির মালিকরা বিভিন্ন জমি দান করেছেন। কেউ মুখিক ভাবে করেছেন কেউ দালিলিক ভাবে করেছেন। কিন্তু ২০১৭ সালের দিকে এলাকার আজিজুল হক (৫৪) পিতা; মৃত আমিনুল হক জাকির হোসেন (৫০) পিতা রবিউল হোসেনও নুর সোবহান (৪২) পিতা মৃত নরুল হক সহ কিছু লোক একত্রিত হয়ে সমজিদের কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ওয়াক্ফ এস্টেট অফিসে ভুয়া কাগজ পত্রের মাধ্যমে ওয়াক্ফ করে আজিজুল হককে গোপনে মতোয়াল্লি নিয়োগ করে। আজিজুল হক মতোয়াল্লি সেজে সমজিদের দান কৃত ৪শতাংশ জমি বিসিক শিল্পনগরীর জন্য সরকার কর্তৃক একোয়ার করা হলে ৩লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া মৃত ছিদ্দিক হাজী কর্তৃক মৌখিক ভাবে মসজিদ কে দান কৃত ৪শতক জমি ৬লক্ষ ৩০হাজার টাকায় বিক্রি করে আত্মসাৎ করেন।
এসময় সমজিদের মুসল্লি আমিরুল ইসলাম, নুরউদ্দিন, ইফতেখারইরুল আলম, কামরুল আহসান, গিয়াস উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, রবিউল হোসেন, নাবীউল হক, রেজাউল করিম, শামছুল হক, আবদ্দুল মোমেন, আফচার, ইসলাম, একরামুল হক, জিউল হক, মোশাররফ সহ প্রায় পঞ্চাশ উদ্ধ বয়সের ৭০ থেকে ৮০জন মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
তারা আরও জানান, মসজিদের আশপাশের প্রায় শ খানেক পরিবারের কাছ থেকে মাসিক ধার্য করে তিনি টাকা আদায় করতেন। সমজিদের প্রায় ১ একর ৬শতাংশ জমি রয়েছে। সেগুলি বর্গা দিয়ে প্রতিবছর যে খাজনা পান আদায়কৃত টাকা সমজিদের উন্নয়নের জন্য ব্যয় না করে আত্মসাৎ করায় মুসল্লিরা হিসাব চাইলে তিনি মসজিদে তালা মেরে দেয়ার হুমকি দেন।
অভিযুক্ত কথিত মতোয়াল্লি আজিজুল হক ও তার ভাতিজা জাকির হোসেন জানান, ওয়াক্ফ করা হয়েছে নিয়ম মেনে। নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে আজিজুল হক মতোয়াল্লি। কিন্তু স্থানিয় শ খানেক লোক একত্রিত হয়ে তাকে তার কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করছে। এই ব্যাপারে তিনি ওয়াক্ফ এস্টেট মেনেজমেন্ট চট্টগ্রাম বরাবরে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু খাস জমি কিভাবে তিনি ওয়াক্ফ করেছেন তার নথি পত্র চাইলে উপস্তিত কোন নথি দেখাতে ব্যার্থ হন।
স্থানিয় ইউপি সদস্য জানান, সমজিদটি নিয়ে বহুবার বৈঠক হয়েছে। কথিত মতোয়াল্লি আজিজুল হক বৈঠকের সিদ্যান্ত মানেন না। পরবর্তীতে মিরসরাই থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারে সরনাপন্ন হয়েছেন। আজিজুল হক নিজে বাদি হয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকেন না। তিনি কিভাবে সরকারি জমি ওয়াক্ফ করেছেন আমাদের জানা নেই। সমজিদ টি আমার এলাকায় অন্যান্য সমজিদের চেয়ে অনুন্নত । আমরা চাই সমজিদের সমস্যা সমাধান করে সমজিদটি উন্নয়ন করার জন্য।
চট্টগ্রাম ওয়াক্ফ এস্টেট ১নং রিজিওনের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, খাস জমি ওয়াক্ফ করার সুযোগ নেই। ওয়াক্ফ করতে হলে নাল জমি লাগবে। আমি চট্টগ্রামে দায়িত্বে এসেছি ৩ বছর হয়েছে। এটি ২০১৭ সালে ওয়াক্ফ হয়েছে। তখন কিভাবে হয়েছে আমার জানা নেই।


আপনার মতামত লিখুন