খুঁজুন
, ,

কর্ণফুলী নদী পরিদর্শনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 8 November, 2022, 7:04 pm
কর্ণফুলী নদী পরিদর্শনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের বদলপুরা এলাকায় কর্ণফুলী নদীর প্রায় ২১ একর জায়গা দখল করে ড্রাইডক নির্মাণের পর এবার কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করছে কর্ণফুলী ড্রাইডক। এজন্য দুই হাজার গাছও কেটে নেয় তারা। কোন নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করে এ ভাবে গাছ কাটা ও নদী দখল করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় কর্ণফুলী ড্রাইডক এলাকা ও কর্ণফুলী নদী দখল মুক্ত করতে এসে এ ক্ষোভ জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আবদুল্লাহ্ আল মুমিন, মেরিন একাডেমীর কমান্ড্যান্ট ড. সাজিদ হোসেন, এএইচ এন্টারপ্রাইজের

চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন কন্ট্রাক্টরসহ কর্ণফুলী ড্রাইডক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। এসময় নদী রক্ষা কমিশনের নেতৃবৃন্দরা নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠা কর্ণফুলী ড্রাইডক পরির্দশন করেন।

পরিদর্শন শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন নদী রক্ষা কমিশন হচ্ছে নদীর অভিভাবক। নদী তার নিজস্ব গতিতে চলবে, কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। নদী দখল করে যদি কেউ স্থাপনা, টার্মিনাল তৈরী করে বা নদী প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করে নদী রক্ষা কমিশন তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ সবধরণের আইনি ব্যবস্থা নিবে। এ অপশক্তি যত বড় হউক কমিশনা তাদরে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নদীর তীরে গড়ে উঠা গাছ কেউ কাটতে পারবে না। যদি কাটতে হয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। কর্ণফুলী নদীসহ অন্যান্য খাল—বিল, জলাশয়—জলধারের দখল, দূষণ ও নব্যতা সরেজমিনে পরিদর্শন ও কাগজপত্র যাচাই বাছাই করবেন বলেও জানান তিনি।

কর্ণফুলী ড্রাইডকের দখল বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও এ.এইচ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন কর্ণফুলী ড্রাইডক অবৈধ ভাবে ২১ একার জায়গা দখলে নিয়ে পায়ে দুই হাজার গাছ কেটে পেলে। এটা পরিবেশ ও নদীর জন্য মারাত্বক হুমকি। একই সাথে নদীর ভাঙনে স্থানীয়রাও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

তবে কর্ণফুলী ড্রাইডকের ম্যানাজার সোলাইমান নিয়াজী বলেন আমরা সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ড্রাইডক করেছি।

গত শনিবার সকাল থেকে কর্ণফুলী নদীর তীরে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করার জন্য নদীর প্রায় ২১ একর চরে অর্ধকোটি টাকার ২ হাজার গাছ ম্যানগ্রোভ বন কেটে উজাড় করে কর্ণফুলী ড্রাইডক। ম্যানগ্রোভ বন কাটার ফলে একদিকে

হুমকির মুখে পড়ছে কর্ণফুলী নদী অন্যদিকে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। তবে বন বিভাগ থেকে গাছ কাটার অনুমতি নিয়েছেন বলে জানালেও ড্রাইডক কর্তৃপক্ষ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

কর্ণফুলী নদীর তীরে ১৯৭৫ সালের থেকে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা কেওড়া, ছৈলা ও বাইন গাছের ম্যানগ্রোভ বন তৈরী করে। কয়েক বছর আগে কোরিয়ান ইপিজেড ম্যানগ্রোভ বনের প্রায় ৫০ একর জায়গার কয়েক হাজার গাছ কেটে নিজস্ব জেডি তৈরী করে। মেরিন একাডেমীর জেডির পাশে বেজার প্রায় ২১ একর জমিতে গড়ে উঠা অর্ধকোটি টাকার ২ হাজার গাছ গুলো নির্বিচারে কেটে পেলে কর্ণফুলী ড্রাইডক জেডি নির্মাণের জন্য।

এরআগে প্রভাব কাটিয়ে নদীর জায়গা দখল করে উত্তরপাশে গড়ে তুলে কর্ণফুলী ড্রাইডক। এসব নানা অভিযোগের ভিত্তিতে নদী রক্ষা কমিশনার আখতারুজ্জামান তালুদার পরিদর্শনে আসেন।

সূত্রে জানা যায়, সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী করতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বদলপুরা এলাকার ২১ একর জায়গা নেয়। কিন্তু এই জায়গা তাদের কাছে ছোট হওয়ায় তারা জায়গাটাতে জেডি নির্মাণ থেকে বিরত থাকে। এরপর কর্ণফুলী ড্রাইডক বেজার কাছ থেকে নিয়ে গত শনিবার সকাল থেকে অর্ধকোটি টাকার গাছ কেটে কন্টেইনার টার্মিনাল তৈরীর কাজ শুরু করে।

২৪ঘণ্টা/জেআর

Feb2
Feb2

২৩ জুলাই সৈয়দুল আজম আল্লামা হাফেজ শাহ বজলুর রহমানের (রাঃ)এর ১১৬তম ওরশ শরীফ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 15 July, 2026, 11:18 pm
২৩ জুলাই সৈয়দুল আজম আল্লামা হাফেজ শাহ বজলুর রহমানের (রাঃ)এর ১১৬তম ওরশ শরীফ

উপমহাদেশের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের বীর পুরোধা ব্যাক্তিত্ব আধ্যাত্নিক সাধনার প্রাণ পুরুষ রাঙ্গুনিয়া দরবার এ বেতাগী আস্তানা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দুল আজম হযরত আল্লামা হাফেজ হাকিম শাহ মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহঃ) ও তাহার পিতা হয়রত শাহ রাহাত আলী (রহঃ) এর পবিত্র মহান ৮ ছফর এর ১১৬তম ওরশ শরীফ ২৩ জুলাই,২০২৬ বৃহস্পতিবার দরবার এ বেতাগী আস্তানা শরীফে বেতাগী আনজুমানে রহমানিয়ার ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে।

ওরশ উপলক্ষে ২০ জুলাই ২০২৬ সোমবার বাদ এ আছর ৫ ছফর হতে ৮ ছফর পর্যন্ত ৩ দিন ব্যাপী এতেকাফ শুরু হবে। ওরশ শরীফের অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে – পবিত্র খতমে কোরআন শরীফ, খতমে খাজেগান শরীফ, খতমে গাউছিয়া শরীফ, খতমে হিজবুল বাহার শরীফ, খতমে দালায়েলুল খায়রাত শরীফ, খতমে সুরা ইখলাছ শরীফ, খতমে সুরা মোজাম্মেল শরীফ, খতমে তাহলীল শরীফ, খতমে ইউনুছ শরীফ, জিকির শরীফ, মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনা সভা শেষে ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বাদে মাগরিব আখেরী মোনাজাত ও তবারুক বিতরণ।

দরবার এ বেতাগী আস্তানা শরীফের সাজ্জাদানশীন পীরে তরিকত মাওলানা মোহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ শাহ (মাঃজিঃআলী) হুজুর কেবলার আত্মীয় স্বজন, ভক্ত মুরীদান ও সর্বস্তরের সুন্নী মুসলমান দেশবাসীকে ওরশ শরীফে উপস্থিত হয়ে হুজুর কেবলার নেগাহে করম হাছিল করার জন্য এবং আর যারা তিনদিন ব্যাপী এতেকাফে অংশগ্রহন করতে চান তাদেরকে ২০ জুলাই ২০২৬ সোমবার আছর নামাজের পূর্বে দরবার এ বেতাগী আস্তানা শরীফে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 15 July, 2026, 7:27 pm
সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন বা ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের কৃষিখাত, প্রান্তিক কৃষকদের অধিকার ও যন্ত্রণার কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন। নিজেই একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ দেশের অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। সে কারণেই বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের আপামর কৃষকদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিশ্রুতিটি ছিল, যদি দলটি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা সব কৃষকের কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, সরকার গঠন করার পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম ও প্রধান সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক, যাদের ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, তাদের সুদসহ সম্পূর্ণ বকেয়া ঋণ সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বরং ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে এর সুফল কৃষকরা ভোগ করতে শুরু করেছেন। সরকার পরিচালনার মূল লক্ষ্যই যে দেশের সাধারণ মানুষ, এই পদক্ষেপ তারই চাক্ষুষ প্রমাণ।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব এবং এই প্রক্রিয়ায় দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি সংসদকে জানান, গতকাল যখন একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে তার নিজ এলাকায় কবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে তা জানতে চান, তখন তিনি অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী সামাজিক পলিসিকে সমর্থন জানানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু যখন দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা আসে, তখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশি তাবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা।

দেশের ঋণ নির্ভর অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এই বিপুল অর্থ পাচার ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই দেশের সার্বিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও জনজীবনের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে বদ্ধপরিকর।

‘২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। যেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। সরকার কেবল যুবসমাজকে ঘরে বসিয়ে না রেখে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোটুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদানুযায়ী গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশাল সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দেশকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবেই শক্তিশালী করা আমাদের লক্ষ্য নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ভূমিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে স্বেচ্ছাশ্রম এবং সরকারি উদ্যোগে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক সুবিশাল মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যার সফল বাস্তবায়নে প্রতি বছর গড়ে ৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই প্রকল্পের সফলতার জন্য দেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যার মাধ্যমে নতুন করে আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আজ সকালেই তিনি প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের একটি অনুষ্ঠানে সশরীরে এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একযোগে প্রায় ২ লাখ গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি পরম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, তিন বছর আগে দেশের প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপ ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে যে ৩১ দফা রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা আজ দেশের মানুষের মুক্তির সনদে পরিণত হয়েছে। বিগত নির্বাচনে দেশের মানুষ এই ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, যার কারণে এই ৩১ দফা এখন আর কেবল বিএনপির নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়, এটি এখন সমগ্র বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি।

একই সঙ্গে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচনের পূর্বে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার অক্ষরে অক্ষরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এই সংসদের সব সদস্য এবং দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শহীদদের রক্তঋণ শোধ করে বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চট্টগ্রাম বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত করে আধুনিকায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 15 July, 2026, 6:47 pm
চট্টগ্রাম বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত করে আধুনিকায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় সম্পদ চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, অতীতে বা বর্তমানে এই বন্দরে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়ে থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৫তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের আধুনিকায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বে-টার্মিনাল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক মন্দা এবং কোভিড-১৯ মহামারির মতো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর চব্বিশ ঘণ্টা সচল ছিল। বিগত দেড় দশকে বন্দরের কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১০ সালের সাড়ে চার কোটি টন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের বিপরীতে ২০২৫ সালে তা ১৩ কোটি ৮১ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংও ১৩ লাখ টিইইউএস থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪ লাখ টিইইউএস ছাড়িয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল সচল করা, লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ এবং নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য রক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।

বন্দরকে হয়রানিমুক্ত ও আধুনিক করতে ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে অনলাইনে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, ই-ডেলিভারি অর্ডার, ই-পেমেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এছাড়া যানবাহন প্রবেশ সহজ করতে ই-গেট পাস এবং সম্পূর্ণ কাগজবিহীন বন্দর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষায়িত ডিজিটাল উইন্ডো চালু করা হয়েছে। বন্দরের সরঞ্জাম সংকট কাটাতে আগামী অর্থবছর নাগাদ নতুন কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট এবং ভারী ফর্কলিফট সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই টার্মিনালটি চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে নাব্যতা সংকটের কারণে বড় মাদার ভেসেলগুলো সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারে না। বে-টার্মিনাল চালু হলে বড় জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে আসতে পারবে, যার ফলে ট্রান্সশিপমেন্ট খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যাপক গতি সঞ্চার হবে।

অধিবেশনে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন বিগত সরকারের আমলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের স্ক্যানার মেশিন কেনাকাটায় কয়েকশ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দর জনগণের সম্পদ। এখানে অতীতে যারা অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সুনির্দিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করে পর্যায়ক্রমে একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।