কর্ণফুলী নদী পরিদর্শনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের বদলপুরা এলাকায় কর্ণফুলী নদীর প্রায় ২১ একর জায়গা দখল করে ড্রাইডক নির্মাণের পর এবার কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করছে কর্ণফুলী ড্রাইডক। এজন্য দুই হাজার গাছও কেটে নেয় তারা। কোন নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করে এ ভাবে গাছ কাটা ও নদী দখল করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় কর্ণফুলী ড্রাইডক এলাকা ও কর্ণফুলী নদী দখল মুক্ত করতে এসে এ ক্ষোভ জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আবদুল্লাহ্ আল মুমিন, মেরিন একাডেমীর কমান্ড্যান্ট ড. সাজিদ হোসেন, এএইচ এন্টারপ্রাইজের
চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন কন্ট্রাক্টরসহ কর্ণফুলী ড্রাইডক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। এসময় নদী রক্ষা কমিশনের নেতৃবৃন্দরা নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠা কর্ণফুলী ড্রাইডক পরির্দশন করেন।
পরিদর্শন শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন নদী রক্ষা কমিশন হচ্ছে নদীর অভিভাবক। নদী তার নিজস্ব গতিতে চলবে, কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। নদী দখল করে যদি কেউ স্থাপনা, টার্মিনাল তৈরী করে বা নদী প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করে নদী রক্ষা কমিশন তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ সবধরণের আইনি ব্যবস্থা নিবে। এ অপশক্তি যত বড় হউক কমিশনা তাদরে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নদীর তীরে গড়ে উঠা গাছ কেউ কাটতে পারবে না। যদি কাটতে হয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। কর্ণফুলী নদীসহ অন্যান্য খাল—বিল, জলাশয়—জলধারের দখল, দূষণ ও নব্যতা সরেজমিনে পরিদর্শন ও কাগজপত্র যাচাই বাছাই করবেন বলেও জানান তিনি।
কর্ণফুলী ড্রাইডকের দখল বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও এ.এইচ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন কর্ণফুলী ড্রাইডক অবৈধ ভাবে ২১ একার জায়গা দখলে নিয়ে পায়ে দুই হাজার গাছ কেটে পেলে। এটা পরিবেশ ও নদীর জন্য মারাত্বক হুমকি। একই সাথে নদীর ভাঙনে স্থানীয়রাও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
তবে কর্ণফুলী ড্রাইডকের ম্যানাজার সোলাইমান নিয়াজী বলেন আমরা সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ড্রাইডক করেছি।
গত শনিবার সকাল থেকে কর্ণফুলী নদীর তীরে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করার জন্য নদীর প্রায় ২১ একর চরে অর্ধকোটি টাকার ২ হাজার গাছ ম্যানগ্রোভ বন কেটে উজাড় করে কর্ণফুলী ড্রাইডক। ম্যানগ্রোভ বন কাটার ফলে একদিকে
হুমকির মুখে পড়ছে কর্ণফুলী নদী অন্যদিকে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। তবে বন বিভাগ থেকে গাছ কাটার অনুমতি নিয়েছেন বলে জানালেও ড্রাইডক কর্তৃপক্ষ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
কর্ণফুলী নদীর তীরে ১৯৭৫ সালের থেকে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা কেওড়া, ছৈলা ও বাইন গাছের ম্যানগ্রোভ বন তৈরী করে। কয়েক বছর আগে কোরিয়ান ইপিজেড ম্যানগ্রোভ বনের প্রায় ৫০ একর জায়গার কয়েক হাজার গাছ কেটে নিজস্ব জেডি তৈরী করে। মেরিন একাডেমীর জেডির পাশে বেজার প্রায় ২১ একর জমিতে গড়ে উঠা অর্ধকোটি টাকার ২ হাজার গাছ গুলো নির্বিচারে কেটে পেলে কর্ণফুলী ড্রাইডক জেডি নির্মাণের জন্য।
এরআগে প্রভাব কাটিয়ে নদীর জায়গা দখল করে উত্তরপাশে গড়ে তুলে কর্ণফুলী ড্রাইডক। এসব নানা অভিযোগের ভিত্তিতে নদী রক্ষা কমিশনার আখতারুজ্জামান তালুদার পরিদর্শনে আসেন।
সূত্রে জানা যায়, সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী করতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বদলপুরা এলাকার ২১ একর জায়গা নেয়। কিন্তু এই জায়গা তাদের কাছে ছোট হওয়ায় তারা জায়গাটাতে জেডি নির্মাণ থেকে বিরত থাকে। এরপর কর্ণফুলী ড্রাইডক বেজার কাছ থেকে নিয়ে গত শনিবার সকাল থেকে অর্ধকোটি টাকার গাছ কেটে কন্টেইনার টার্মিনাল তৈরীর কাজ শুরু করে।
২৪ঘণ্টা/জেআর


আপনার মতামত লিখুন