খুঁজুন
, ,

মুড়ি বিক্রেতা থেকে স্বর্ণ চোরাকারবারী আবু আহাম্মদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 December, 2022, 11:27 am
মুড়ি বিক্রেতা থেকে স্বর্ণ চোরাকারবারী আবু আহাম্মদ

মুড়ি বিক্রেতা থেকে স্বর্ণ চোরাকারবারী করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন আবু আহাম্মদ ওরফে সোনা আবু। হুন্ডি ব্যবসায়ী ও স্বর্ণ চোরাকারবারী আবু আহাম্মদের সম্পদ অনুসন্ধান করে অবৈধভাবে প্রচুর সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ বিষয়ে সম্প্রতি আদালতে একটি চার্জশিট দিয়েছিল সিআইডি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আবু আহাম্মদ ফটিকছড়ির জাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা ফয়েজের ছেলে। এক সময় তার পিতার সিগারেটের দোকান ছিল। এরপর তিনি গ্রামে মুড়ি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একপর্যায়ে দুবাইয়ে চলে যান তিনি। এরপর স্বর্ণ চোরাচালান ও অবৈধ হুন্ডি ব্যবসায়ে জড়িয়ে পরেন।

নাম প্রকাশ না করে মামলার তদন্ত তদারকী সংস্থার পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এতে অবৈধভাবে অর্জিত ৭২১ কোটি ১৭ লাখ ৩৯ হাজার টাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে মোট ২১ জনেকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি চট্রগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের বাহার মার্কেটে অভিযান চালিয়ে তিনটি সিন্দুক থেকে ২৫০টি স্বর্ণবার ও ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় আবু আহাম্মদ ও এনামুল হককে আসামি করে স্বর্ণ চোরাচালান মামলা দায়ের করে পুলিশ। সে বছর ২৮ জুন স্বর্ণ চোরাচালানের এ মামলায় আবু আহম্মদসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় ডিবি পুলিশ।

এরপর তাদের অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। পরে ২০২০ সালের মার্চে ২০ জনকে অভিযুক্ত করে অর্থপাচার আইনে মামলা দায়ের করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অভিযুক্তরা হলেন- আবু আহাম্মদ, ইকবাল মোহাম্মদ, আবু রাশেদ, এসএম আসিফুর রহমান, মো. ওবায়েদুল আকবর, মো. রফিক, মোহাম্মদ জিয়া বাবলু, ইমরানুল হক মো. কপিল চৌধুরী, এমতিয়াজ হোসেন, মোহাম্মদ আলী, ফরিদুল আলম, মোহাম্মদ এরশাদল আলম, মো. হাসান, রুবেল চক্রবর্তী, মো. মিনহাজ উদ্দিন, সাগর মহাজন, দিনবন্ধু সরকার, মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মো. শাহজাহান, টিটু ধর। পরে তদন্তে খোরশেদ আলম নামের আরও একজনের সংশ্লিষ্টতা পায় সিআইডি।

জানা গেছে, আবু আহাম্মদ হুন্ডি ব্যবসার জন্য নিজের নামে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২১ টি ব্যাংক হিসাব খোলেন। এরমধ্যে রয়েছে- ফরহাদ ট্রেডিং, রিয়াল ট্রেডিং, নাইস টেলিকম সেন্টার, রুপা টেলিকমিউনিকেশন, রিয়েল ট্রেডিং, এমএস ওয়ার্ল্ড সেন্টার, ফরহাদ ট্রেডিং এবং এবি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তরা ছাড়াও বিভিন্ন পেশার মানুষ বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করেছেন।

অভিযুক্ত খোরশেদ আলম সৌদি আরব থেকে দেশে টাকা পাঠাতে চায় এমন প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন। তার ছোট ভাই ফরিদুল আলম, আবু আহাম্মদের কাছ থেকে চেক নিয়ে টাকা উত্তোলণ করে খোরশেদ আলমের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে থাকা প্রবাসীদের আত্মীয়দের কাছে পৌছে দিতেন। আবু আহাম্মদ এভাবে খোরশেদ আলমের মতো অজ্ঞাতানামা একাধিক ব্যক্তিকে তার এই হুন্ডি ব্যবসায় যুক্ত করেছিলেন।

এভাবে প্রবাসীদের টাকা রেমিটেন্স হিসেবে দেশে না পাঠিয়ে বিদেশে রেখে সেই টাকা অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালানের কাজে ব্যবহার করেছে। অর্থপাচার আইনে করা মামলার তদন্ত করেছেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেক আলী।

অভিযুক্ত আবু আহাম্মদ দেশি বিদেশি মুদ্রা পাচার, স্বর্ণ চোরাচালান ও অন্যন্য চোরাই দ্রব্যের ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তিনি চট্রগ্রাম শহর ও ফটিকছড়িতে একাধিক ভবন ও মূল্যবান জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় ৩৩ নম্বর প্লটে প্রায় ১৬ কাঠা জমির ওপর বাড়ি, পাঁচলাইশ হিলভিউ আবাসিক এলাকায় ছয়তলা ভবন, ফতেহনগর রাউজানে পল্লী কাকন ও পল্লী শোভা ম্যানশন নামে বাড়ি আছে তার। অবৈধ টাকায় দুবাইয়ে ৩ টি দোকান রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এছাড়া আবু আহাম্মদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিমানবন্দর থানায় স্বর্ণ চোরাচালানের মামলা রয়েছে। এ মামলায় ১০৫.৪০ কেজি ওজনের ৯০৪টি স্বর্ণের বার ও ৪৭ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার টাকার উদ্ধারের তথ্য রয়েছে। ডিএমপির পল্টন থানায় স্বর্ণ চোরাচালানের অন্য একটি মামলায় ৬১.৫৩৮ কেজি ওজনের ৫২৮ টি স্বর্ণ বার ও ৩ কোটি ৫৮ হাজার সৌদি রিয়েল, ৫ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধারের তথ্য রয়েছে।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও নগদ অর্থ জব্দের পর সে মামলায় আবু আহাম্মদকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তিনি তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে একই বছরের আগস্টে কারাগার থেকে বের হন। তারপর হাইকোর্টের দুই বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে স্বর্ণ চোরাচালান মামলার কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়ে একটি পিটিশন তৈরি করেন। সেটি ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি শাখায় প্রেরণ করা হয়। পরে তা বিচারিক আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। জালিয়াতির এ ঘটনাটি ধরা পড়ার পর হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ২০১৬ সালের নভেম্বরে আবু আহাম্মদসহ জড়িত আরও দুইজনের নাম উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানান সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা।

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।