খুঁজুন
, ,

মেসি-জাদু নাকি মদরিচ-মায়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 13 December, 2022, 1:43 pm
মেসি-জাদু নাকি মদরিচ-মায়া

বিশ্বকাপ ফুটবল। কাঁদায়। হাসায়। হৃদয় রক্তাক্ত করে। একরাশ শূন্যতার জন্ম দেয়। আবার মুহূর্তের নাটকীয়তায় আবেগ আর উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দিয়ে যায়। কাতারে মরুর বুকে ফুটবলের মহামেলায় তার ব্যতিক্রম কিছু কি দেখছে ফুটবল বিশ্ব।

গারিঞ্চাকে মনে করিয়ে দেওয়া কি অসাধারণ ড্রিবলে নেইমারের গোল! তারপরই ব্রাজিলের স্বপ্ন শেষ করে দিল লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়া। চোখের জলে বিদায় নেইমারের। মরক্কো আরব্য রজনীর গল্প লিখল আর কাঁদতে কাঁদতে টানেল দিয়ে হারিয়ে গেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। হয়তো বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে চিরদিনের জন্য তার চলে যাওয়া। কাতারে আপনি আর দেখবেন না, পাখির মতো শূন্যে উঠে রোনালদোর হেড। দেখবেন না গারিঞ্চাকে মনে করানো নেইমারের ড্রিবল! ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের বলয়ে পড়ে রইল কী! লিওনেল মেসির বাঁ পায়ের জাদু। আর এমবাপ্পের চিতার মতো দৌড়।

মেসির জাদু শেষ হয়ে যেতে পারে আজ রাতে লুকা মদরিচ-মায়ায় ক্রোয়েশিয়ার কাছে। আর ফুটবল বিশ্বে আরব বসন্তের বার্তা দেওয়া মরক্কো থামিয়ে দিতে পারে কাল এমবাপ্পের দৌড়! তেমন কিছু হলে আর্জেন্টিনার পারস্য অভিযান শেষ, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেই। আজ যদি ফুটবল মদরিচ-মায়ায় মুগ্ধ হয়ে পড়ে তাহলে এবারের বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার কাছে মরুভূমিতে মরীচিকাই মনে হবে। আর্জেন্টিনাকে ঘিরে এখন ল্যাটিন ফুটবল সৌন্দর্যের যে আবেগের বলয়, সেখানে থাকবে শুধু নীরব নিস্তব্ধতা। শোকের ছায়া। নেইমার, রোনালদোর বিদায়ের পর মেসি আজ বিদায় নিলে, বারবার বলা হবে, ভাঙাগড়ার বিশ্বকাপ। হাসিকান্নার বিশ্বকাপ। স্বপ্নভঙ্গের বিশ্বকাপ! হয়তো বলা হবে, চমকের বিশ্বকাপ!

মেসি বিদায় নিলে কাতার বিশ্বকাপে নায়ক কে হবেন, বলা যাচ্ছে না। তবে নেইমার, রোনালদোর পর মেসির নামও যদি যুক্ত হয় ট্র্যাজিক হিরোদের তালিকায়, তাহলে কাকে নিয়ে লেখা হবে ফুটবলের নতুন আরব্য রজনী? তখন লেখা হবে সেই পুরোনো কথাটা আবার নতুন করে। ফুটবল বিশ্বকাপ রাজাকে ফকির বানায়। ফকিরকে রাজা! কাতার বিশ্বকাপ নতুন কোনো চমক দেখাতে যাচ্ছে কি না, তার খানিকটা আভাস মিলতে পারে আজ। চিরতরে টানেলে হারিয়ে যাওয়ার আগে বাজিমাত করে বাজিগর হওয়ার সুযোগ আছে এখনো লিওনেল মেসির।

লিওনেল মেসি—এলএম টেন।এই গ্রহে আবেগ বলুন, আর ফুটবল লড়াই বলুন, মেসির শ্রেষ্ঠত্বকে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে ফলেছেন যিনি, সেই রোনালদো বিশ্বকাপ মঞ্চে নেই। আজ সেমিফাইনালে এলএম টেনকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন আরেক এলএম টেন! হ্যাঁ, ঠিকই লেখা হয়েছে। এবং আপনি ঠিকই পড়ছেন। আজ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম ক্রোয়েশিয়া লড়াইয়ের মাঝে আরেক লড়াই। সেটা এলএম টেন বনাম এলএম টেন! লিওনেল মেসির সঙ্গে লড়াইটা লুকা মদরিচের। দু‍‍জনেই ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। দুজনই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। দু‍‍জন নিজের দেশকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন। কিন্তু দু‍‍জনের কারোরই বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখা হয়নি! তবে লিওকে ঘিরে আবেগের অন্য রকম আভা। এখানে খানিকটা পিছিয়ে লুকা।
তারপর মধ্য ত্রিশ পেরিয়ে যাওয়া এই দুই তারকাকে আটকানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় দুই দলের কোচ। যদিও তারা জানেন লিও বা লুকাদের আটকানোর ফর্মুলা বের করা কঠিন। ক্রোয়েট কোচ তো বলেই ফেলেছেন, ‍‍“মেসি নয়। আমার পরিকল্পনা আর্জেন্টিনাকে নিয়ে।‍‍” আর আর্জেন্টাইন কোচের মন্তব্য অনেক বেশি টেকনিক্যালি ইতিবাচক। ক্রোয়েশিয়ার যা খেলার ধরন, তারা প্রতি-আক্রমণনির্ভর ফুটবল খেলে তারা ম্যাচটা নিয়ে যেতে চাইবে টাইব্রেকার পর্যন্ত। সে কারণেই আর্জেন্টাইন কোচ বলেছেন, ‍“আমরা ৯০ মিনিটেই খেলা শেষ করতে চাই। এবং সেটা ১২০ গজে।‍‍”

যার দলে একজন মেসি আছেন, যার একটা ম্যাজিক্যাল পাস বা টাচ ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে, তার কোচ কেন ভাববেন টাইব্রেকারের কথা! তার পোস্টে যতই মার্টিনেজ নামক একজন গোলকিপার থাকুন। তিনি পেনাল্টি শুট-আউটে যতই ডাচদের প্রথম দুটো শট আটকে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তুলে আনুন না কেন। ম্যাচের আগে আবেগের সীমান্তে লিওনেল মেসি আর লুকা মদরিচ একই সমান্তরালে দাঁড়িয়ে নেই। ফুটবলের মহোৎসবে মেসি আর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আবেগটা একটু বেশি। মেসির সঙ্গে মদরিচের তুলনা হচ্ছে তার কারণ খেলাটা ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে। কিন্তু লিওনেল মেসিকে বিশ্বকাপ এলেই লড়াই করতে হয় আরেকজনের ছায়ার সঙ্গে। তিনিও ১০ নম্বর জার্সি পরতেন। এবং ওই আকাশি-সাদা জার্সি। তার নামেরও প্রথম অক্ষর ‍‍‘ম‍‍’! অসামান্য প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলেন। অসাধারণ ফুটবল খেলে ছিয়াশিতে প্রায় একার সৃষ্টিশীল দক্ষতায় আর্জেন্টিনাকে কাপ জিতিয়েছিলেন। ম্যারাডোনা পারলে আপনি কেন কাপ এনে দিতে পারবেন না মেসি! তাহলে আপনি কিসের সেরা! এই প্রশ্ন শুনতে শুনতে ক্যারিয়ারের প্রান্তে লিওনেল মেসি। আর মাত্র দুটো ম্যাচ জিতলেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কাপ হাতে প্রান্তিক স্টেশনে নামতে পারবেন তিনি। এই পঁয়ত্রিশেও তার মধ্যে স্বপ্ন নিয়ে ছুটে চলার ফুয়েল আছে। ডাচদের বিপক্ষে ‍‍‘ব্যাটেল অব লুসাইলে‍‍’ কাপ জয়ে মরিয়া আগ্রাসী এবং স্পর্ধা দেখানো অন্য রকম এক মেসিকেই দেখল ফুটবল বিশ্ব। স্নায়ুচাপে ভুগতে থাকা আর্জেন্টাইন সমর্থকরা এই মেসিকেই দেখতে চান।

অন্যদিকে ব্রাজিলকে বিদায় করে সেমিফাইনালে আসা মদরিচকে লড়াই করতে হয় নিজের সঙ্গে। সাঁইত্রিশে পৌঁছে যে লড়াইটা তিনি করছেন, সেটা অবিশ্বাস্য। অসাধারণ। এখন দরকার অবিস্মরণীয় দুটো জয়। তাহলে পেলে-ম্যারাডোনার পাশে না রাখলেও পাওলো রসি, জিনেদিন জিদানদের সঙ্গে মদরিচের নামটা ফুটবল বিশ্বকে উচ্চারণ করতেই হবে।

মেসি-জাদু, নাকি মদরিচ-মায়ায় আচ্ছন্ন হবে ফুটবল বিশ্ব! উত্তরের জন্য অপেক্ষা তো আর কিছু সময়ের।

লেখক:অঘোর মণ্ডল, ক্রীড়া সাংবাদিক

Feb2
Feb2

সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 11:05 am
সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ (​শুক্রবার) সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

​সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 9:45 pm
জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নের এক বিশেষ সভা অদ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় চট্টগ্রামস্থ একটি রেস্টুরেন্ট’র হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস এর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তানভীর মল্লিকের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেকেএ এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ সেলিম।

সভায় জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নাল কমিটি গঠনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতীয় কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রামের বিশেষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ শাহেদ-কে চট্টগ্রাম রিজিয়নের নতুন চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়।

বরণ অনুষ্ঠানে জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ-কে জেকেএ-এর টাই পরিয়ে দেন এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস ব্যাজ পরিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান হাসান মুকুল, পিআরইউর সদস্য সচিব ইমরান এমি, অরুপ বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, সেলিম উদ্দিন রাসেল, জাফর আহমেদ খোকন, জিল্লুর রহমান জুয়েল, আতিকুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, রাশেদুল কলিম, শাবাব ইয়াজদানী, মঞ্জুর আলম মঞ্জুসহ কারাতের খেলোয়াড় বৃন্দ।

সভায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।

জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 7:47 pm
জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার আদলে প্রায় ৩০০ একর জায়গাজুড়ে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা’ এবং ‘চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজশাহীর সারদার আদলে প্রায় ৩০০ একর জায়গায় পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি জমিতে নিয়মতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায়, বিশেষ করে রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রোধে রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অপরাধ দমনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪০০ উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এতে অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদারের বিধান বহাল রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে।