খুঁজুন
, ,

খাতুনগঞ্জে এক ঘন্টায় পেঁয়াজের দাম কমলো ২০ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 1 October, 2019, 2:28 pm
খাতুনগঞ্জে এক ঘন্টায় পেঁয়াজের দাম কমলো ২০ টাকা

.jpg

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার কারণে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেন ভারত। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গুদামে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ থাকা স্বর্ত্তেও পেয়াঁজের দাম বাড়িয়ে দেন পাইকাররা। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় উৎসবে মেতেছে খুচরা ব্যাবসায়িরাও।

পেয়াঁজের দর অস্বাভিক বৃদ্ধিতে বাজার মনিটরিংয়ে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। আজ মঙ্গলবার সকালে দেশের বৃহত্তম পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জ ও অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁচা বাজার রেয়াজুদ্দিন বাজারে চলে এ মনিটরিং।

এসব অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদুল ইসলাম।

অভিযানের এক ঘন্টা আগে একাধিক আড়তে পেঁয়াজের মূল্য তালিকা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা টাঙ্গানো হলেও অভিযানের খবর পেয়ে এক ঘন্টার মধ্যেই মূল্য তালিকায় দাম লেখা হয় কেজিতে ৬০ টাকা।

অভিযানের সময় বাজারের বৃহৎ পাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন নথিপত্র বিশ্লেষন করে দেখা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর যে পেঁয়াজের দর মাত্র ৪২ টাকা ছিলো একই পেঁয়াজের গতকাল পর্যন্ত পাইকারী দর উঠেছে ৯০ টাকা।

গত ২০ দিনে দফায় দফায় বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। ভ্রাম্যমান আদালতের পর্যালোচনায় নথিপত্রে উল্লেখ থাকা মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পেঁয়াজ যে দামে তারা পেঁয়াজ ক্রয় করেছে তার দ্বিগুন দামে বিক্রি করা হয়েছে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারী পেঁয়াজের আড়ৎ মেসার্স অছিউদ্দিন ট্রেডার্স, মেসার্স আবদুল আউয়াল ট্রেডার্স, শাহজালাল ট্রেডার্স, বাগদাদী করপোরেশন, এসএন ট্রেডার্স ও খাজা ট্রেডার্সসহ অধিকাংশ আড়তেই একই অবস্থা।

তবে অভিযানের প্রথমদিনে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সত্যতা মিললেও কাউকে জরিমানা করেনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয়। ক্রয়মূল্যের সাথে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে স্বাভাবিক দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার জন্য আড়তদারদের কাছ থেকে মুচলেখা নিয়ে প্রত্যেককে সতর্ক করে দেয়া হয়। তাছাড়া একটি আড়তে মূল্য তালিকা না টাঙ্গানোর অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ম্যাজিস্ট্রেট।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, পেঁয়াজের দাম অস্বাভিকভাবে বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে খাতুনগঞ্জ ও রেয়াজউদ্দিন বাজারের পেঁয়াজের বৃহৎ আড়তগুলোর মনিটরিং করা হয়।

তিনি বলেন, অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, এক ঘন্টা আগে যেসব আড়তে পেঁয়াজের দর টাঙ্গানো ছিলো ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। অভিযানের খবরে এক ঘন্টার মধ্যে তা বদলে লেখা হয় ৬০ টাকায়। একই ঘটনা বিভিন্ন আড়তে। পরে এসব আড়তের নথিপত্র দেখে কমদামে পেঁয়াজ আমদানি করেও বেশি দামে বিক্রি করার সত্যতাও মেলে।

তবে প্রথমদিনের অভিযান হিসেবে বাজারের আড়তদার সমিতির নেতৃবৃন্দদের উপস্থিতিতে গত ২৯ তারিখের আগে থেকে পেঁয়াজের যে বাজার মূল্য ছিলো সে অবস্থায় বাজার দর ফিরিয়ে আনার জন্য এবং পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখার ‘অঙ্গীকার’ নেওয়া হয় আড়তদারদের কাছ থেকে।

তিনি বলেন এম এন ট্রেডার্স নামে একটি আড়তাকে মূল্য তালিকা না টাঙ্গানোর অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির জন্য আমদানিকারকদেরকেই দুষছেন। তিনি বলেন, প্রায় ২ শতাধিক পাইকারী পেঁয়াজের আড়ৎ রয়েছে খাতুনগঞ্জ বাজারে। তবে আমদানিকারক আছে মাত্র ১০ জন।

যারা মিয়ানমার ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে পেঁয়াজ আমদানি করে তা কমিশন ভিত্তিতে খাতুনগঞ্জ আড়তদারদের কাছে বিক্রি করে। এখান থেকে খোলা বাজারে বিক্রির উদ্দ্যেশে পেঁয়াজ ক্রয় করে খুচরা বাজারে বিক্রি করে ব্যবসায়িরা।

হাত বদল হতে হতে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুন হয়ে যায় বলে মত প্রকাশ করে তিনি আমদানিকারকদের সাথে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আলোচনায় বসার অনুরোধ জানান।

চট্টগ্রাম বন্দর ও অন্যান্য পথে আসা পেঁয়াজের চালনগুলো আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে খালাস হলে পেঁয়াজের দাম কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আমদানিকারকরা।

Feb2
Feb2

যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন’র পরিবারের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 3:21 pm
যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন’র পরিবারের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন এর পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তর পতেঙ্গা সি ইউনিট বিএনপি নেতা হাজী ইলিয়াছ হোসেন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিবৃষ্টির কারণে পানি বন্দি পরিবার এর মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।

ইকবাল হোসেন পানিবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং মাইজপাড় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উত্তর মাইজপাড়া ৪১ নং এবং ৪০ নং ওর্য়াড় মাইজপাড়া এলাকার ২০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।

এ সময় নেতৃবৃন্দরাসহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 2:34 pm
জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে সকালে ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছান। তার আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে ঢামেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 12:35 pm
বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

আগের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয় সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন।

এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।