খুঁজুন
, ,

সরকার সকলের জন্য খেলাধুলা নিশ্চিত করতে কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 29 December, 2022, 8:50 pm
সরকার সকলের জন্য খেলাধুলা নিশ্চিত করতে কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার সকলের জন্য খেলাধুলা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি ফুটবল খেলোয়াড়দের এমনভাবে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ খেলতে পারে।

‘কয়েকদিন আগে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে, তবে, বাংলাদেশ কোয়াালিফাই করতে পারেনি। আমি আশা করি বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে এবং তোমাদের (ফুটবলারদের) নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক অনূর্ধ্ব-১৭-২০২২ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালিকা অনূর্ধ্ব-১৭-২০২২এর রানার্সআপ ও চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে ট্রফি এবং পুরস্কার বিতরণকালে আজ প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ফুটবল টুর্নামেন্টে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫২ জন ছেলে ও মেয়ের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটি একটি বিস্ময়কর ঘটনা। আমি মনে করি, বিশ্বে এমন আর কোনো দেশ নেই যেখানে এত বিপুল সংখ্যক ফুটবলার এই ধরনের টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার সরকার খেলাধুলায় মানুষকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দায়ি়ত্ব গ্রহণের পর থেকে আমাদের প্রচেষ্টা ছিল আমাদের সন্তানদের ফুটবল, ক্রিকেট এবং অন্যান্য খেলাধুলাকে আরও উৎসাহিত করা। আমাদের শিশুরা যত বেশি খেলাধুলায় নিজেকে নিয়োজিত করবে আমরা তত বেশি সুবিধা পাব।’

খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়নে তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য খেলাধুলা নিশ্চিত করা।

শেখ হাসিনা বলেন, ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৪০ জন ছেলে এবং ৪০ জন মেয়েকে তাদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) তিন মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, তার সরকারের প্রথম মেয়াদে ক্রিকেটে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা অর্জন করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ফুটবলের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছে এবং একই সঙ্গে নারীদেও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করছে।

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৃণমূলের মেধাবীদের বের করে আনার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।

তিনি বলেন, তারা এমনকি বিশেষভাবে চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করেছে এবং তারা অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে এনেছে।

দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম এবং প্রতিটি জেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি একাডেমি নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ৫৬টি জেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করবেন, যার লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি খেলার ক্রীড়াবিদদের যথাযথ প্রশিক্ষণের সুবিধা প্রদান করা, কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের বিশ্বমানের ক্রীড়া মঞ্চে প্রতিদ্ব›িদ্ধতা করার সক্ষমতা রয়েছে।

এছাড়া তৃণমূলে খেলাধুলা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সারা দেশে সুইমিং পুল, শুটিং রেঞ্জ, কাবাডি ও ভলিবল স্টেডিয়াম এবং স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করছেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন ব্যবস্থা করছি যাতে প্রতিটি জায়গায় সবাই খেলাধুলায় অংশ নিতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের পর তারা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদও গড়ে তুলেছেন।

শেখ হাসিনা ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারের সদস্য হিসেবে নিজেকে বর্ণনা করেন, কারণ তাঁর দাদা শেখ লুৎফুর রহমান, পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং দুই ভাই-শেখ জামাল ও শেখ কামাল ছিলেন ফুটবলার।

ক্রীড়া উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে বিভিন্ন জেলায় ১৮টি ক্রীড়া ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা ও ক্রীড়া পরিষদ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী রংপুর বিভাগ ও খুলনা বিভাগের মধ্যকার নারীদের ফাইনাল ফুটবল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা প্রত্যক্ষ করেন ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ন্যাশনাল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুর্ধ-১৭ বালক ফাইনাল ম্যাচে প্যানাল্টি শর্টে গোল করে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে খেলায় সমতা ফিরিয়ে এনে ১-১ গোলে ড্র করে সিলেট বিভাগ।
বালক পর্যায়ে সিলেট বিভাগের মো. সাইফুর রহমান ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট এবং একই বিভাগের মো. রাজু মিয়া ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। বরিশাল বিভাগের শাহাদৎ গাজী সেরা গোলদাতা এবং একই বিভাগের মো. রিয়াজ সেরা গোল কিপার হয়েছেন।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ন্যাশনাল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট বালিকা অনুর্ধ-১৭ তে ২-১ গোলে খুলনা বিভাগকে পরাজিত করে রংপুর বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
গার্লস ফুটবল টুর্ণামেন্টে রংপুর বিভাগের কাকলি ওমেন অব দ্য টুর্নামেন্ট এবং ফাইনাল ম্যাচে একই বিভাগের শান্তি মর্জি সেরা খেলোয়ার, নাসরিন সেরা গোলদাতা এবং শাম্মি আক্তার সেরা গোলকিপার নির্বচিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেসবাহ উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

Feb2
Feb2

সব ধর্মাবলম্বীর উৎসব নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে কাজ করছে বিএনপি: শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 24 July, 2026, 7:50 pm
সব ধর্মাবলম্বীর উৎসব নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে কাজ করছে বিএনপি: শামীম

রথযাত্রা বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবের রহমান শামীম।

তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিএনপি কাজ করছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে নগরের ডিসি হিল থেকে শুরু হওয়া শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও নন্দনকানন ইসকন রাধামাধব মন্দিরের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, হাজারো ভক্তের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চেতনায় বিশ্বাসী। ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমে যাতে সমাজে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য জেলা ও উপজেলায় বিএনপির পক্ষ থেকে সমন্বয় টিম গঠন করা হয়েছে। রথযাত্রা সফল করতেও দলের নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সব ধর্মাবলম্বীর উৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

উল্টো রথযাত্রা উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন নন্দনকানন মন্দিরের অধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক শ্রীপাদ পন্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসকন প্রবর্তক মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী। স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ আশির্বাদক হিসেবে ছিলেন ইসকনের আন্তর্জাতিক প্রধান কেন্দ্র শ্রীধাম মায়াপুরের সিনিয়র ভক্ত শ্রীপাদ কমলাপতি দাস ব্রহ্মচারী ও মায়াপুর একাডেমির সহ পরিচালক শ্রীপাদ তারক কৃষ্ণনাম দাস ব্রহ্মচারী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদেও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। বিশেষ অতিথি ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি শ্রীযুত দীপক কুমার পালিত, ইসকন কমিউনিকেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হৃষীকেশ গৌরাঙ্গ দাস, সাবেক কাউন্সিলর এম এ মালেক,মুকুন্দ ভক্তি দাস ও সুমন চৌধুরী প্রমুখ।

পরে অতিথিরা আরতি নিবেদন ও বেলুন উড়িয়ে উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন করেন। বিকেলে নগরের ডিসি হিল থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। আয়োজকদের দাবি, শোভাযাত্রায় অর্ধলক্ষাধিক ভক্ত অংশ নেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।

স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 24 July, 2026, 7:33 pm
স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল

শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে তিনি পদত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী, দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছি। যদি প্রয়োজন হয়।’

একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও শপথের সময় স্পিকারের শপথ নিয়ে রাখেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস তালুকদারসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 24 July, 2026, 6:12 pm
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। যা জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরপরই সংবিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

এর আগে মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-এর নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেন।

স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।

তিনি আরও লিখেন, এ অবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।

আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী রোববার তাঁর ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।