খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের ভরসাস্থলে পরিণত হচ্ছে কর্ণফুলীর তিন পুলিশ ফাঁড়ি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
জনগণের ভরসাস্থলে পরিণত হচ্ছে কর্ণফুলীর তিন পুলিশ ফাঁড়ি

বিশেষ প্রতিনিধি : সঙ্কটে ‘জনগণের বন্ধু’ পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় কর্ণফুলী থানাধীন তেইশ স্পটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে মানুষের সেবায় অবদান রাখছেন তিন পুলিশ ফাঁড়ি-শাহমীরপুর, শিকলবাহা ও বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি। থানা থেকে ২৩ কিলোমিটার দুরে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি, ১২ কিলোমিটার দুরে শাহমীরপুর ও অদূরে ইন্ডাস্ট্রিল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা শিকলবাহায় সীমিত লোকবল নিয়ে চলছে তিন পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম।

যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ফাঁড়ি পুলিশকেও পালন করতে হয় চেকপোষ্টসহ আরো গুরু দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব ও সেবার বিবেচনায় ফাঁড়ি পুলিশের সুযোগ-সুবিধা যথেষ্ট নয়। রয়েছে আবাসন সংকট, প্রশিক্ষণের অভাব, পরিবহন সমস্যাসহ নানা সমস্যায় ভুগলেও সেবা প্রদানে পিছিয়ে নেই কর্ণফুলী থানার তিন পুলিশ ফাঁড়ি।

সাধারণত থানার আকার, জনবসতি ও অপরাধ প্রবণতার উপর ভিত্তি করে পুলিশি কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার জন্য ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। ফাঁড়ি মূলত, মূল পুলিশ স্টেশন থেকে আইন-শৃংখলা রক্ষা করা অসুবিধা হয় বলে, স্থানীয়ভাবে আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য ফাঁড়ি গঠন করা হয়।

ফাঁড়ি থানার অন্তভুর্ক্ত এবং থানার অফিসার ইনচার্জের অধীনে থাকে। যেখানে থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে পুলিশি কার্যক্রম চালাতে হয়। পুলিশ ফাঁড়িতে কোন মামলা রুজু করা যায় না, তবে জিডি করে থানায় প্রেরণ করা হয়। পুলিশ ফাঁড়ির সার্বিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন একজন এস.আই অথবা সার্জেন্ট।

সম্প্রতি, কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা, শাহমীরপুর ও বন্দর তিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ যথাক্রমে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আলমগীর হোসেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ নাছির উদ্দিন ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আব্দু রহিম মিয়া ফাঁড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন কওে চলেছেন। বৃদ্ধি করেছেন পুলিশের সুনামও ভাবমূর্তি।

কর্ণফুলী থানা পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ দমনে ফাঁড়িগুলো প্রতি মাসে মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি আয়োজন করেছেন মাদক বিরোধী সমাবেশ। তৃণমূল মানুষের সাথে জনসংযোগ বাড়াতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন বিট পুলিশিং কার্যক্রমে। সাধারণ মানুষকে অপরাধীদের তথ্য প্রদানে উৎসাহিত ও থানামুখী করতে সামাজিক অনুষ্ঠানেও বাড়িয়েছেন অফিসারদের অংশগ্রহণ।

এছাড়াও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার, ক্রাইম ও মাদক স্পটে অভিযান চালিয়ে অপরাধী আটক, নদীপথে অবৈধ তেলচোর দমন, মাদক পাচার রোধে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে শিকলবাহা, শাহমীরপুর ও বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সদ্যসরা। এমনকি ফাঁড়ি এলাকার চিহ্নিত অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত ও সন্ত্রাস দমনের মতো একের পর এক দৃষ্টান্তমূলক কর্মকান্ড দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছেন। পাহাড় জঙ্গল আর নদীঘেষা উপজেলা হলেও যথা-সম্ভব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্ণফুলী থানা পুলিশ সক্ষমতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি শহরের দক্ষিণপাড় হলেও বাদ যায়নি সেবার পরিধিও।

সিএমপি কমিশনার এর নির্দেশে সাধারণ মানুষ ও শীতার্তদের মাঝে ফাঁড়িতে শীতবস্ত্র বিতরণ, করোনাকালে খাদ্য উপহার, মাস্ক, স্যানিটাইজার ও করোনা রোগীর জন্য ঔষধ ও ফলমূল বিতরণ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর সিএমপি’র কর্ণফুলী থানা পুলিশের পরিধি বাড়ে। নতুন করে পটিয়ার অধীনে থাকা শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬টি ওর্য়াড, বড়উঠান ইউনিয়নের ৫টি ওর্য়াড মিলে মোট ১১টি ওর্য়াড যুক্ত হয় কর্ণফুলী থানায়। আনুষ্ঠানিকভাবে যা কার্যকরও শুরু হয়।

ফলে শিকলবাহার পুলিশ ফাঁড়ির অধিক্ষেত্র দাঁড়ায় দ্বীপ কালার মোড়ল, বাংলা পাড়া, মাষ্টারহাট, সেভেন রিংস সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, সিডিএর টেক, ওয়াহেদিয়া পাড়া ও তালতলা টাওয়ারের গোরা। শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির অধীন ফকিরনিরহাট, কাঁচাবাজার, খাদ্য ফ্যাক্টরী, শাহমিরপুর মাজার, শাহমীরপুর বড় বাড়ি, কেইপিজেড গেইট ও দৌলতপুর ডাক পাড়া। এছাড়াও বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির নজর রাখতে হয় কেইপিজেডের বিভিন্ন অংশসহ জাগিরপাড়া, উত্তর বন্দর, ডিএসি ও ইসিএল এলাকা।

এরমধ্যে শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির দৃষ্টিনন্দন একটি কাজ সাধারণ মানুষের নজর কাড়েন। বহু বছর আগের ঘেরাবেড়াহীন ফাঁড়ির সেমিপাকা ঘরটি ছিলো এক সময় জরাজীর্ণ। এখন চতুর্পাশে সুউচ্চ বাউন্ডারি দেয়াল তুলে সুরক্ষিত করে পুলিশী সেবাঘর হিসেবে তৈরি করেছেন। সংস্কার করেছেন ভেতরের অংশও। যদিও এর আগে বহু পুলিশ অফিসার ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু কেউ সাহস করে কাজটি করতে আগাতে পারেননি আর্থিক বিবেচনায়। অথচ বর্তমান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সেটি করে দেখিয়েছেন।

এমনকি শিকলবাহায় মাদকের আস্তানায় হানা, ইছানগর এলাকায় জুয়ার আসর গুড়িয়ে দেয়া, একই গ্রামে জাগির হাজীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় বোয়ালখালি থেকে ডাকাত গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসেন শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ আলমগীর হোসেন। জানা যায়, এই পুলিশ কর্মকর্তা অতীতে তিন সিএমপি কমিশনারের সময়কালে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখায় শ্রেষ্ঠ উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে এসআই মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ভাল কাজের স্বীকৃতি সব সময় আনন্দের। এ কৃতিত্ব আমার একার নয়। থানার অফিসার ইনচার্জ ও দায়িত্বরত সকল পুলিশ ফোর্সদের’। তবে ফাঁড়ির বাউন্ডারি কাজটির সৌন্দর্য বাড়াতে প্রথমে সাহস যুগিয়েছিলেন সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) এস এম মোস্তাক আহমেদ খাঁন স্যার। মূলত স্যারের সহযোগিতায় কাজে নেমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কিছু মানুষের সার্বিক সহযোগীতায় আজকের এ প্রাপ্তি বলে আমি মনে করি।’

এরপরেও কিছু বহিরাগত লোক এসে এলাকায় নানা ঘটনা ঘটিয়ে যায়। যে সব ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশকেও হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু তিন পুলিশ ফাঁড়ির কিছু কাজ সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়ে তুলেছে পুলিশের প্রতি।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা তুলে ধরছি-গত ১৫ ডিসেম্বর কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ফরিদা বেগম (২৮) নামক এক নারীকে গলাটিপে হত্যা করে স্বামী নুরুল ইসলাম (৩২) পালিয়ে যায়। পরে সহকারি পুলিশ কমিশনার মোঃ ইয়াসির আরাফাত এর সুকৌশলে ঘটনা সংগঠিত হওয়ার মাত্র দু’ঘন্টার মাথায় শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ি টিম পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

এরআগে গত আগষ্ট মাসে বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর এলাকার নুরুল আনোয়ারের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে চোরেরা লুটপাট চালিয়ে ২০ভরি স্বর্ণ অলংকার, টাকা পয়সা ও এলইডি টিভি নিয়ে যায়। পরে নাসরিন আক্তার বুলু বাদি হয়ে (অজ্ঞাতনামা আসামি করে) কর্ণফুলী থানায় জিআর ৪/২৭৭ মামলা দায়ের করেন। ক্লুলেজ এই মামলার দায়িত্ব দেয়া হয় শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোঃ নাছির উদ্দিন কে। পরে তিনি তথ্য উপাত্ত যাচাই করে পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ শাহাজাহান (৩৪), মোঃ জাবেদ হোসেন প্রকাশ কালু (২৪) ও রতন সেন (৪২) গ্রেপ্তার করেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে চুরি হওয়া মালামাল ও স্বর্ণ উদ্ধার পুর্বক আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেন।

একই রকম আরেকটি ঘটনা ঘটে গত ডিসেম্বর মাসে বন্দর ফাঁড়িধীন সাহাব উদ্দিনের দোকান চুরি হয়। চোর চক্র দোকানে থাকা মোবাইল ও সিএনজি নিয়ে যায়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষনিক সকির আহমেদ নামে এক ড্রাইভারসহ (চট্টমেট্টো-ধ-১১-০০-২৩) সিএনজি আটক করেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে চুরির ঘটনায় জড়িত শুক্কুর ও রিয়াদ নামে দুজনকে আটক করা হয়। দুজনের দেওয়া তথ্যমতে আবার নগরীর বাকোলিয়া থেকে শওকত নামে আরো ১ জনকে আটক করেন। তথ্য দেন এ ঘটনায় আনোয়ারার গহিরা এলাকার মুনছুর আলম জড়িত। পরে পুলিশ তাকেও নিয়ন্ত্রণে নেন। ক্লুলেজ চুরির ঘটনা থেকে পুলিশ একে একে পাঁচ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং মালামাল উদ্ধার করেন।

পুলিশী সেবার বিষয়ে কথা হলে শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির উক্ত ইনচার্জ মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশ নিজের জীবন বিপন্ন করে জনগণের সেবায় মাঠে ছিল। পুলিশের এ মানবিকতা শুধুমাত্র দেশের মানুষের জন্য। আমরা জানি দেশের মানুষকে নির্মোহভাবে ভালোবাসতে হবে। সব উপায়ে সর্বোতভাবে পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সিনিয়র স্যারদের নির্দেশে সেটাই করতে চেষ্টা করছি মাত্র।’

কর্ণফুলী জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার মোঃ ইয়াসির আরাফাত বলেন, সিএমপির কর্ণফুলী থানার অবস্থানটা মূলত একটু প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার ভেতরে। প্রশাসনের অবস্থান জনবহুল ও লোকচক্ষুর সামনে রাখা হলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে সেটা হয়তো সত্য। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও নাগরিক ভোগান্তি কমাতেই তিন পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ভালো কাজ করছেন। থানার পরিধি বাড়ায় ভবিষ্যতে আরো পুলিশ স্টেশন হবে। আশা করি জনগণ তাদের কাঙ্খিত সেবা পাবে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে বন্দর, পটিয়া ও আনোয়ারা থানা ভেঙে গঠিত হয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) আরেকটি স্টেশন কর্ণফুলী থানা। যেটি ২০০০ সালের ২৭ মে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদ এর পুরাতন ভবনে কার্যক্রম শুরু করেন।

২৪ ঘণ্টা/জে জাহেদ

 

Feb2

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।