খুঁজুন
, ,

জনগণের ভরসাস্থলে পরিণত হচ্ছে কর্ণফুলীর তিন পুলিশ ফাঁড়ি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 18 January, 2021, 11:38 am
জনগণের ভরসাস্থলে পরিণত হচ্ছে কর্ণফুলীর তিন পুলিশ ফাঁড়ি

বিশেষ প্রতিনিধি : সঙ্কটে ‘জনগণের বন্ধু’ পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় কর্ণফুলী থানাধীন তেইশ স্পটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে মানুষের সেবায় অবদান রাখছেন তিন পুলিশ ফাঁড়ি-শাহমীরপুর, শিকলবাহা ও বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি। থানা থেকে ২৩ কিলোমিটার দুরে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ি, ১২ কিলোমিটার দুরে শাহমীরপুর ও অদূরে ইন্ডাস্ট্রিল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা শিকলবাহায় সীমিত লোকবল নিয়ে চলছে তিন পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম।

যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ফাঁড়ি পুলিশকেও পালন করতে হয় চেকপোষ্টসহ আরো গুরু দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব ও সেবার বিবেচনায় ফাঁড়ি পুলিশের সুযোগ-সুবিধা যথেষ্ট নয়। রয়েছে আবাসন সংকট, প্রশিক্ষণের অভাব, পরিবহন সমস্যাসহ নানা সমস্যায় ভুগলেও সেবা প্রদানে পিছিয়ে নেই কর্ণফুলী থানার তিন পুলিশ ফাঁড়ি।

সাধারণত থানার আকার, জনবসতি ও অপরাধ প্রবণতার উপর ভিত্তি করে পুলিশি কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার জন্য ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। ফাঁড়ি মূলত, মূল পুলিশ স্টেশন থেকে আইন-শৃংখলা রক্ষা করা অসুবিধা হয় বলে, স্থানীয়ভাবে আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য ফাঁড়ি গঠন করা হয়।

ফাঁড়ি থানার অন্তভুর্ক্ত এবং থানার অফিসার ইনচার্জের অধীনে থাকে। যেখানে থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে পুলিশি কার্যক্রম চালাতে হয়। পুলিশ ফাঁড়িতে কোন মামলা রুজু করা যায় না, তবে জিডি করে থানায় প্রেরণ করা হয়। পুলিশ ফাঁড়ির সার্বিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন একজন এস.আই অথবা সার্জেন্ট।

সম্প্রতি, কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা, শাহমীরপুর ও বন্দর তিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ যথাক্রমে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আলমগীর হোসেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ নাছির উদ্দিন ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আব্দু রহিম মিয়া ফাঁড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন কওে চলেছেন। বৃদ্ধি করেছেন পুলিশের সুনামও ভাবমূর্তি।

কর্ণফুলী থানা পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ দমনে ফাঁড়িগুলো প্রতি মাসে মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি আয়োজন করেছেন মাদক বিরোধী সমাবেশ। তৃণমূল মানুষের সাথে জনসংযোগ বাড়াতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন বিট পুলিশিং কার্যক্রমে। সাধারণ মানুষকে অপরাধীদের তথ্য প্রদানে উৎসাহিত ও থানামুখী করতে সামাজিক অনুষ্ঠানেও বাড়িয়েছেন অফিসারদের অংশগ্রহণ।

এছাড়াও বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার, ক্রাইম ও মাদক স্পটে অভিযান চালিয়ে অপরাধী আটক, নদীপথে অবৈধ তেলচোর দমন, মাদক পাচার রোধে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে শিকলবাহা, শাহমীরপুর ও বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সদ্যসরা। এমনকি ফাঁড়ি এলাকার চিহ্নিত অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত ও সন্ত্রাস দমনের মতো একের পর এক দৃষ্টান্তমূলক কর্মকান্ড দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছেন। পাহাড় জঙ্গল আর নদীঘেষা উপজেলা হলেও যথা-সম্ভব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্ণফুলী থানা পুলিশ সক্ষমতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি শহরের দক্ষিণপাড় হলেও বাদ যায়নি সেবার পরিধিও।

সিএমপি কমিশনার এর নির্দেশে সাধারণ মানুষ ও শীতার্তদের মাঝে ফাঁড়িতে শীতবস্ত্র বিতরণ, করোনাকালে খাদ্য উপহার, মাস্ক, স্যানিটাইজার ও করোনা রোগীর জন্য ঔষধ ও ফলমূল বিতরণ করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর সিএমপি’র কর্ণফুলী থানা পুলিশের পরিধি বাড়ে। নতুন করে পটিয়ার অধীনে থাকা শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬টি ওর্য়াড, বড়উঠান ইউনিয়নের ৫টি ওর্য়াড মিলে মোট ১১টি ওর্য়াড যুক্ত হয় কর্ণফুলী থানায়। আনুষ্ঠানিকভাবে যা কার্যকরও শুরু হয়।

ফলে শিকলবাহার পুলিশ ফাঁড়ির অধিক্ষেত্র দাঁড়ায় দ্বীপ কালার মোড়ল, বাংলা পাড়া, মাষ্টারহাট, সেভেন রিংস সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, সিডিএর টেক, ওয়াহেদিয়া পাড়া ও তালতলা টাওয়ারের গোরা। শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির অধীন ফকিরনিরহাট, কাঁচাবাজার, খাদ্য ফ্যাক্টরী, শাহমিরপুর মাজার, শাহমীরপুর বড় বাড়ি, কেইপিজেড গেইট ও দৌলতপুর ডাক পাড়া। এছাড়াও বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির নজর রাখতে হয় কেইপিজেডের বিভিন্ন অংশসহ জাগিরপাড়া, উত্তর বন্দর, ডিএসি ও ইসিএল এলাকা।

এরমধ্যে শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির দৃষ্টিনন্দন একটি কাজ সাধারণ মানুষের নজর কাড়েন। বহু বছর আগের ঘেরাবেড়াহীন ফাঁড়ির সেমিপাকা ঘরটি ছিলো এক সময় জরাজীর্ণ। এখন চতুর্পাশে সুউচ্চ বাউন্ডারি দেয়াল তুলে সুরক্ষিত করে পুলিশী সেবাঘর হিসেবে তৈরি করেছেন। সংস্কার করেছেন ভেতরের অংশও। যদিও এর আগে বহু পুলিশ অফিসার ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু কেউ সাহস করে কাজটি করতে আগাতে পারেননি আর্থিক বিবেচনায়। অথচ বর্তমান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সেটি করে দেখিয়েছেন।

এমনকি শিকলবাহায় মাদকের আস্তানায় হানা, ইছানগর এলাকায় জুয়ার আসর গুড়িয়ে দেয়া, একই গ্রামে জাগির হাজীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় বোয়ালখালি থেকে ডাকাত গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসেন শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ আলমগীর হোসেন। জানা যায়, এই পুলিশ কর্মকর্তা অতীতে তিন সিএমপি কমিশনারের সময়কালে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখায় শ্রেষ্ঠ উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে এসআই মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ভাল কাজের স্বীকৃতি সব সময় আনন্দের। এ কৃতিত্ব আমার একার নয়। থানার অফিসার ইনচার্জ ও দায়িত্বরত সকল পুলিশ ফোর্সদের’। তবে ফাঁড়ির বাউন্ডারি কাজটির সৌন্দর্য বাড়াতে প্রথমে সাহস যুগিয়েছিলেন সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) এস এম মোস্তাক আহমেদ খাঁন স্যার। মূলত স্যারের সহযোগিতায় কাজে নেমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কিছু মানুষের সার্বিক সহযোগীতায় আজকের এ প্রাপ্তি বলে আমি মনে করি।’

এরপরেও কিছু বহিরাগত লোক এসে এলাকায় নানা ঘটনা ঘটিয়ে যায়। যে সব ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশকেও হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু তিন পুলিশ ফাঁড়ির কিছু কাজ সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়িয়ে তুলেছে পুলিশের প্রতি।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা তুলে ধরছি-গত ১৫ ডিসেম্বর কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে ফরিদা বেগম (২৮) নামক এক নারীকে গলাটিপে হত্যা করে স্বামী নুরুল ইসলাম (৩২) পালিয়ে যায়। পরে সহকারি পুলিশ কমিশনার মোঃ ইয়াসির আরাফাত এর সুকৌশলে ঘটনা সংগঠিত হওয়ার মাত্র দু’ঘন্টার মাথায় শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ি টিম পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

এরআগে গত আগষ্ট মাসে বড়উঠান ইউনিয়নের শাহমীরপুর এলাকার নুরুল আনোয়ারের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে চোরেরা লুটপাট চালিয়ে ২০ভরি স্বর্ণ অলংকার, টাকা পয়সা ও এলইডি টিভি নিয়ে যায়। পরে নাসরিন আক্তার বুলু বাদি হয়ে (অজ্ঞাতনামা আসামি করে) কর্ণফুলী থানায় জিআর ৪/২৭৭ মামলা দায়ের করেন। ক্লুলেজ এই মামলার দায়িত্ব দেয়া হয় শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোঃ নাছির উদ্দিন কে। পরে তিনি তথ্য উপাত্ত যাচাই করে পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ শাহাজাহান (৩৪), মোঃ জাবেদ হোসেন প্রকাশ কালু (২৪) ও রতন সেন (৪২) গ্রেপ্তার করেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে চুরি হওয়া মালামাল ও স্বর্ণ উদ্ধার পুর্বক আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেন।

একই রকম আরেকটি ঘটনা ঘটে গত ডিসেম্বর মাসে বন্দর ফাঁড়িধীন সাহাব উদ্দিনের দোকান চুরি হয়। চোর চক্র দোকানে থাকা মোবাইল ও সিএনজি নিয়ে যায়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষনিক সকির আহমেদ নামে এক ড্রাইভারসহ (চট্টমেট্টো-ধ-১১-০০-২৩) সিএনজি আটক করেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে চুরির ঘটনায় জড়িত শুক্কুর ও রিয়াদ নামে দুজনকে আটক করা হয়। দুজনের দেওয়া তথ্যমতে আবার নগরীর বাকোলিয়া থেকে শওকত নামে আরো ১ জনকে আটক করেন। তথ্য দেন এ ঘটনায় আনোয়ারার গহিরা এলাকার মুনছুর আলম জড়িত। পরে পুলিশ তাকেও নিয়ন্ত্রণে নেন। ক্লুলেজ চুরির ঘটনা থেকে পুলিশ একে একে পাঁচ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং মালামাল উদ্ধার করেন।

পুলিশী সেবার বিষয়ে কথা হলে শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির উক্ত ইনচার্জ মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশ নিজের জীবন বিপন্ন করে জনগণের সেবায় মাঠে ছিল। পুলিশের এ মানবিকতা শুধুমাত্র দেশের মানুষের জন্য। আমরা জানি দেশের মানুষকে নির্মোহভাবে ভালোবাসতে হবে। সব উপায়ে সর্বোতভাবে পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সিনিয়র স্যারদের নির্দেশে সেটাই করতে চেষ্টা করছি মাত্র।’

কর্ণফুলী জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার মোঃ ইয়াসির আরাফাত বলেন, সিএমপির কর্ণফুলী থানার অবস্থানটা মূলত একটু প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার ভেতরে। প্রশাসনের অবস্থান জনবহুল ও লোকচক্ষুর সামনে রাখা হলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে সেটা হয়তো সত্য। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও নাগরিক ভোগান্তি কমাতেই তিন পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্প ভালো কাজ করছেন। থানার পরিধি বাড়ায় ভবিষ্যতে আরো পুলিশ স্টেশন হবে। আশা করি জনগণ তাদের কাঙ্খিত সেবা পাবে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৭৮ সালের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে বন্দর, পটিয়া ও আনোয়ারা থানা ভেঙে গঠিত হয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) আরেকটি স্টেশন কর্ণফুলী থানা। যেটি ২০০০ সালের ২৭ মে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদ এর পুরাতন ভবনে কার্যক্রম শুরু করেন।

২৪ ঘণ্টা/জে জাহেদ

 

Feb2
Feb2

সাইকেল চালানো সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 2:50 pm
সাইকেল চালানো সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাইকেল চালানো শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়। বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। সাইক্লিং পরিবেশবান্ধব এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাইকেল চালানোর জন্য নিরাপদ ও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়িত্বের অংশ।

তিনি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কে (ভিআইপি রোড) বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্মিত এই সাইকেল ট্র্যাক নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অনুষ্ঠানে নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

এসময় আমীর খসরু বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে সাইকেল চালানো ও হাঁটার সুযোগ বাড়াতে মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিমানবন্দর সড়কের এই সাইকেল ট্র্যাক কেবল শুরু। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ শরীরচর্চা, বিনোদন ও দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নাগরিকদের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদার অংশ। মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই নগরীর খালের দুই পাড়সহ উপযুক্ত জায়গাগুলোতে হাঁটার পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ চট্টগ্রাম নগরীর জন্য একটি গর্বের অর্জন। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার পথ নির্মাণ এবং দুই পাশের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়ককে আরও নান্দনিক করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাগরিকদের জন্য সাইক্লিং ও হাঁটার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর পরামর্শ ও উৎসাহ এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মন্ত্রীর সংসদীয় এলাকা থেকে এই কার্যক্রম শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে বড় সড়কের পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক উন্নয়নেও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। খালের দুই পাড়ে প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর সুবিধা ও সবুজায়ন করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসীর শরীরচর্চার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

নগরীর উন্নয়ন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেগুলো রক্ষা করার দায়িত্বও সবার। সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে যেন অবৈধ দখল, স্থাপনা কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে না পড়ে, সে জন্য চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি গাছপালার পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

মেয়র আরও জানান, বিমানবন্দর সড়ক থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে আরসিসি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের ভারী যানবাহনের চাপ সামলানো এবং সড়কের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাইক্লিস্ট ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 11:05 am
সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ (​শুক্রবার) সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

​সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 9:45 pm
জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নের এক বিশেষ সভা অদ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় চট্টগ্রামস্থ একটি রেস্টুরেন্ট’র হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস এর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তানভীর মল্লিকের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেকেএ এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ সেলিম।

সভায় জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নাল কমিটি গঠনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতীয় কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রামের বিশেষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ শাহেদ-কে চট্টগ্রাম রিজিয়নের নতুন চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়।

বরণ অনুষ্ঠানে জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ-কে জেকেএ-এর টাই পরিয়ে দেন এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস ব্যাজ পরিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান হাসান মুকুল, পিআরইউর সদস্য সচিব ইমরান এমি, অরুপ বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, সেলিম উদ্দিন রাসেল, জাফর আহমেদ খোকন, জিল্লুর রহমান জুয়েল, আতিকুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, রাশেদুল কলিম, শাবাব ইয়াজদানী, মঞ্জুর আলম মঞ্জুসহ কারাতের খেলোয়াড় বৃন্দ।

সভায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।