খুঁজুন
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় নারীর মামলায় কারাগারে চট্টগ্রামের যুবক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ মে, ২০২৩, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
ভারতীয় নারীর মামলায় কারাগারে চট্টগ্রামের যুবক

ভারতীয় এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশে এনে ধর্ষণ, তার নগদ ২১ লাখ টাকা ও সাড়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া এবং ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ভারতীয় নারী ফটিকছড়ি থানায় অভিযুক্ত মো. নাছির উদ্দিন (৩৪), তার ভাই নাজিম উদ্দিন (৩০) এবং মা রওশন আরা বেগমের (৫৮) বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। স্থানীয় মো. নেজাম উদ্দিন (২৪) নামে এক দোভাষীর সহায়তায় তিনি মামলাটির এজাহার দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী ভারতীর নারীর নাম রহিমা (৪৯)। তার বাবার নাম মো. ইউনুস শেখ এবং বাড়ি ভারতের মুম্বাইয়ের শাসরিনগর বিহান্দি এলাকায়। অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগর ইউনিয়নের জাহানপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডে।

আসামিদের মধ্যে মো. নাছির উদ্দিন (৩৪) ও তার মা রওশন আরা বেগম (৫৮) গত ২৬ এপ্রিল থেকে কারাগারে রয়েছেন। আরেক আসামি নাজিম উদ্দিন (৩০) পলাতক রয়েছেন। তিনি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নাছির উদ্দিন ভারতে ভুক্তভোগী রহিমাদের এলাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। রহিমার স্বামীর সঙ্গে সেখানে নাছিরের ভালো সম্পর্ক ছিল। এ সুবাদে রহিমার সঙ্গে তার কথা হতো। আনুমানিক তিন বছর আগে রহিমার স্বামী মারা যান। এরপর রহিমার সঙ্গে নাছির আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তিনি রহিমাকে বিয়ের ও সম্পত্তি বিক্রি করে বাংলাদেশে চলে আসার প্রস্তাব দেন। রহিমাও নাছিরের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। গত ৬ জানুয়ারি রহিমা নগদ ২১ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে নাছিরের সঙ্গে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। দেশে আনার পর রহিমাকে নাছির তার বাড়িতে নিয়ে যান।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ফটিকছড়ি উপজেলায় নাছিরের বাড়িতে থাকাকালে রহিমাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে নানা সময় নির্যাতন করতেন অভিযুক্তরা। নাছির তার সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করতেন। একইসঙ্গে অভিযুক্তরা রহিমার কাছে থাকা ২১ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। একপর্যায়ে তারা রহিমার কাছে পুনরায় ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে রহিমা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশের একটি টিম ২৫ এপ্রিল অভিযুক্ত নাছিরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রহিমাকে উদ্ধার করে। ওই সময় নগদ আড়াই লাখ টাকা এবং সাড়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার এবং ৩০ ভরি ওজনের এক জোড়া রূপার নুপুর উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফটিকছড়ি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক শনিবার (২০ মে) বলেন, ৯৯৯-এ কলের সূত্র ধরে ২৫ এপ্রিল রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ভারতীয় নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আদালতের নির্দেশে নিরাপদ আবাসে রাখা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাকে আদালতের আদেশে ভারতে পাঠানো হবে। অভিযানের দিনই অভিযুক্ত নাছির ও তার মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলা দায়ের করে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে ভারত থেকে দেশে আনা হয়েছে। এখানে আসার পর তারা একসঙ্গে ছিলেন। তবে তাদের বিয়ে হয়নি। যখনই ভুক্তভোগী নারী বুঝতে পারেন তার সঙ্গে প্রতারণা হচ্ছে, তিনি মোবাইলে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করেন। কাস্টমার কেয়ার ৯৯৯-এ বিষয়টি জানায়। এরপর ভুক্তভোগী নারীও ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেন। পরে তাকে উদ্ধারের পাশাপাশি নগদ টাকা ও বিভিন্ন স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে এসআই নাজমুল হক বলেন, ওই নারীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা নাছির তার ভাইয়ের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেশে আনে। এরপর টাকাগুলো মায়ের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। মা থেকে আবার নাছির এবং সবশেষে পুনরায় মায়ের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। এ কারণে মা ও ভাই আসামি হয়েছেন। অ্যাকাউন্টগুলো জব্দের জন্য প্রক্রিয়া চলছে।

জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) সুদীপ্ত সরকার বলেন, ভারতীয় নারী ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। দুজন কারাগারে রয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।

Feb2

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’

অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ ও খুলশী থানা এলাকায় জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম, র‍্যাব-০৭, সিএমপি এবং বিভাগীয় কার্যালয়, বিএসটিআই এর সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) উক্ত যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শাকিব শাহরিয়ার।

উক্ত অভিযানে আমানত প্যাকেজিং এন্ড মার্কেটিং, গুলবাগ আবাসিক এলাকা, বায়েজীদ, চট্টগ্রাম নামক একটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিএসটিআই হতে সিএম সনদ গ্রহণ ব্যতিরেকে ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল পণ্য বোতলজাতকরণ এবং পণ্যের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহারপূর্বক বাজারজাতকরণের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিতে মজুদ প্রায় ১০৪২ লিটার ভোজ্যতেল, আনুমানিক ১০,০০০ পিস পণ্যের মোড়ক এবং বেশ কিছু খালি বোতল জব্দ করে সংশ্লিষ্ট থানার জিম্মায় দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে খুলশী থানা, চট্টগ্রাম এলাকায় ২টি প্রতিষ্ঠানে খাদ্যপণ্য মজুতের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ব্যতিরেকে প্রায় ৫০ ড্রাম (প্রতি ড্রাম ২০০ লিটার) ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুত এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ড্রামজাত ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুতের অভিযোগে ২টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মোট ৬০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সার্বিক নির্দেশনায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ২৬৯টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬,৭৭,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে প্রায় ৭৫,৮২৪ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।

নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে পাস হয়েছে।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কর্তৃক উত্থাপিত সন্ত্রাসবিরোধী বিল ২০২৬ সংসদে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়যুক্ত হয়েছে।

এর মাধ্যমে বিদ্যমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে আরও সংশোধন ও কঠোর করা হচ্ছে। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।

সংসদে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে থেকেই দেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জনমতের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়, যার আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়।