খুঁজুন
শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে ছিনতাই করেন ২ এসআই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে ছিনতাই করেন ২ এসআই

রাজধানীর শাহ আলী থানায় কর্মরত ছিলেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন কাজী ও মশিউর রহমান তাপস। সাধারণের বন্ধু বলে পুলিশ বিবেচিত হলেও এ দুজন ছিলেন উল্টো।তারা ছিনতাই করতেন। এমনই এক অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুহিন-তাপস ছিনতাই করতেন ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে।

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেরে বাংলা থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

মো. শাহাদাৎ সরদার নামে এক ভুক্তভোগীর মামলায় এসআই তুহিন ও তাপস গ্রেপ্তার হন।

শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাদ আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুজন পুলিশ সদস্য যারা আসামি, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি আর কিছুই বলতে পারব না। ডিসি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি সব বলতে পারবেন। এ বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী মো. শাহাদাৎ সরদার উল্লেখ করেন- গত শনিবার (৯ ডিসেম্বর) তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক ছোটভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। ছোটভাইকে না পেয়ে একটি রিকশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পান্থপথ রওনা করেন। আনুমানিক বিকেল সোয়া তিনটার দিকে শেরেবাংলা নগর থানার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মাণাধীন ভবনের কাছে পৌঁছলে একটি নীল রংয়ের প্রাইভেটকার তাকে বহনকারী রিকশাটির গতি রোধ করে।

ওই গাড়ি থেকে তিনজন লোক নেমে ডিবি পরিচয় দিয়ে তাকে সেটিতে তুলে নেন। প্রাইভেটকারে তুলে তাকে হাতকড়া পরিয়ে কালো কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ বেধে ফেলে।

শাহদাৎ বলেন, তারা আমার প্যান্টের পকেট থেকে মানিব্যাগ, ভিভো ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। ফোনটিতে থাকা দুটি সিম খুলে আমাকে দিয়ে দেয়। আমার পকেটে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিল, সেগুলোও নিয়ে নেন ওই তিন ব্যক্তি। এরপর তারা আমাকে একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আমার মানিব্যাগ থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড নেয়; পরে সেটির পিন দাবি করে। আমি পিন কোড দিকে অস্বীকার করলে তারা আমাকে এলাপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। আমি আমার জীবন রক্ষার্থে তাদের এটিএম কার্ডের পিন কোড বলে দিই।

তিনি আরও বলেন, আসামিরা এটিএম বুথে গিয়ে কার্ডে থাকা টাকার পরিমাণ জেনে নেয়। পরে আমার ফোনে তারা নেক্সাস পে অ্যাপ ইন্সটল করে এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের সব টাকা ট্রান্সফার করে নেয়। বিবাদীরা সিটি ব্যাংকের (১৫০২৪৯৯৫৪৩০০১) একটি অ্যাকাউন্টে পর্যায়ক্রমে ৩ লাখ ১০; ৩ লাখ ১০; ১ লাখ ৩৩ হাজার ১০ টাকা করে মোট ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩০ টাকা স্থানান্তর করে নেয়। তারা নগদ ও ব্যাংক মিলিয়ে মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৯ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।

শাহদাৎ জানান, আসামিরা একটি সাদা কাগজে তার কাছ থেকে সই রাখেন। তারপর আবার তাকে হাতকড়া পরিয়ে, চোখ-মুখ কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে গাড়িতে তুলে নেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মিরপুর-১ নম্বরের পাশের কোনো এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তিনি তার বাড়ি ফিরে যান।

শাহদাৎ পুলিশ সদস্যদের দ্বারা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন- এটি কীভাবে বুঝতে পারলেন সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু তার বা পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়নি। পুলিশই বা কীভাবে মামলার পর তুহিন ও তাপসকেই সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করলো এ ব্যাপারেও কিছু পরিষ্কার নয়। শেরে বাংলা নগর থানার ওসি আহাদ আলীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। ’

সমস্ত বিষয়ে জানতে ওসি আহাদের কথা মতো তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আজিমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) অসংখ্যবার তাকে কল করা হয়, তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি সেটির পাল্টা জবাব দেননি।

যদিও মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে তিনি বলেছিলেন, নির্দিষ্ট মামলায় শাহ আলী থানার এসআই তুহিন ও তাপসকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণ পাওয়া তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। তিনি বলেন, আইজিপি থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত আমাদের প্রায় ২ লাখ দশ হাজার জনের পুলিশ বাহিনী। ২-৪ জন দুষ্টু লোকজন যে নেই কখনো অস্বীকার করি না। আমাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতার মানসিকতার লোক থাকতে পারে। তারা যখন অপরাধ করে সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা ডিটেক্ট করতে পারি। মানুষ যখন অভিযোগ করে, সেটা যখন প্রমাণিত হয় তখন আমরা আমাদের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে বিন্দুমাত্র বিচলিত হই না। আমাদের সৌন্দর্য হচ্ছে, আমাদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিচলিত হয় না।

তিনি আরও বলেন, বাহিনীর সদস্য হওয়ার পরেও যদি কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, অথবা ফৌজদারি কোনো অপরাধের সাথে যুক্ত হয়- তখন সে পুলিশ না সাধারণ মানুষ এটি বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নাই। আমরা তখন তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করি। যদি আমাদের বাহিনী সদস্যও হয় অবশ্যই সে একজন অপরাধী। অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও ডিপার্টমেন্টাল সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফৌজদারি ব্যবস্থায় মামলা হবে, আসামি গ্রেপ্তার হবে ও বিচারের জন্য সোপর্দ হবে। সেই ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করেছি এবং সেই ব্যবস্থা চলমান থাকবে।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।