খুঁজুন
, ,

গণঅভ্যুত্থানের ১ মাস

জয় শ্রাবণ বিপ্লবের, জয় বাংলাদেশপন্থার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 5 September, 2024, 7:44 am
জয় শ্রাবণ বিপ্লবের, জয় বাংলাদেশপন্থার

শহীদ আবু সাঈদ থেকে যে রক্ত গড়াতে শুরু করেছে, তা আর পেছনে ফিরবে না। শহীদ মুগ্ধের দরদের পানি মিশে গেছে তারই বুকের তাজা রক্তে। এই এক আরম্ভ, যা শেষ হয় না। এখনও মৃত্যু হচ্ছে ফ্যাসিস্টের গুলিতে আহতদের।

এমনকি আনসারদের প্রহারে আহত ছেলেটিও মারা গেছে। রুদ্ধশ্বাসে সহযোদ্ধার জানাজা পড়তে দাঁড়াচ্ছে বন্ধুরা। গাল ভিজছে অশ্রুতে, ঘাস ভিজছে, রাস্তা ভিজছে। অশ্রুর সেই নহর সারা বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের ভেতর বয়ে যাচ্ছে। হাজারো আহত কিশোর-তরুণ হাসপাতালের বিছানায়। গণকবর আবিষ্কৃত হচ্ছে, লাশের স্তূপ জ্বালিয়ে দেওয়ার ভিডিও সহ্য করা যাচ্ছে না। এই শহীদদের আমরা ভুলতে পারি না, ভুলতে দেব না। যে বিপুল বিদ্রোহে বাংলাদেশ জেগেছে, তেমন বিপুল ভালোবাসায় আগলে রাখতে হবে সব শহীদের স্মৃতি। তাদের জন্য বুকের মধ্যে যেন কবরের মতো পবিত্র একটা জায়গা ধরে রাখি। বাংলাদেশ যা ঘটায়, তা ঘটে দক্ষিণ এশীয় স্তরে। ১৯৭১ সালেও তা সত্য, ২০২৪-এও তা সত্য।

এশিয়ার ঊরুসন্ধির এই দেশের ভেতরের ঘটনা একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ঘটনাও। বাংলাদেশ সেই দেশ, যেখানে দশক চলে যায় কিছুই ঘটে না। আবার এটা সেই দেশ, যেখানে কয়েক সপ্তাহে আস্ত দশকই ফুরিয়ে যায়। দেড় দশকের দুঃশাসন শেষ হয়েছে জুলাই-আগস্টের শেষ তিন সপ্তাহে। কিন্তু এই রাজনৈতিক ভূমিকম্পের ধাক্কা অনুভূত হবে আগামী দশকেও।

এটা সেই দেশ, যেখানে কখন কোথায় জনবিস্ফোরণ ঘটবে, তা জানতে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক যন্ত্রপাতিগুলোর এখনও বাকি আছে।

অনেকে হয়তো এখনও বুঝতেই পারছেন না যে, ১৯৫২ সালের মতো একটা বিরাট জাগরণ শুরু হয়ে গেছে। রাষ্ট্র বা রাজনীতি তা ধারণ না করতে পারলেও জাতীয় মানসে এই পরিবর্তন বহুদিন কাজ করে যাবে। হয়তো পাঁচ কিংবা সাত বছরে এর পূর্ণ চেহারাটা আমরা বুঝতে পারব। সে সময়ের পাকিস্তান সরকার ভাষা আন্দোলনকে কমিউনিস্টদের ষড়যন্ত্র ভেবেছিল। এই সময়ের জনবিচ্ছিন্ন শক্তিগুলো ভাবছে, বাংলাদেশের শ্রাবণ বিপ্লব বোধ হয় ইসলামপন্থি আর আমেরিকার ষড়যন্ত্র। পৃথিবীর কোনো পরাশক্তির ক্ষমতা নাই, রাজনীতি থেকে সবচেয়ে দূরের সবচেয়ে মাসুমের সবচেয়ে তাজা প্রাণকে এ রকম অলৌকিক অবিশ্বাস্য আত্মদানে উজ্জীবিত করতে পারে। সমাজের ভেতর দানবীয় শক্তির ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যালীলার বিরুদ্ধে তিলে তিলে যে ঘৃণা ও সাহস সঞ্চিত হয়েছে, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়া লাগে না; মানুষ হওয়া লাগে।

ভয়াবহ রকমের রক্তাক্ত ও দীর্ঘ সেই জুলাই, সেই শ্রাবণ এখনও শেষ হয় নাই। ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যে এক দফা দিয়েছিল, মাত্র এক দিন পরেই তা পূরণ হয়। শেখ হাসিনার পলায়ন, বাকিরা আদাড়ে-বাদাড়ে। এই পর্বটি বরং সহজ। কঠিন ও জটিল পথটি এখন সামনে। ঐক্যের নিশান ধরে রেখে রাষ্ট্র ও রাজনীতি সংস্কারের কঠিন পুলসিরাত পার হতে হবে বাংলাদেশকে। এক দফার জায়গায় সারাদেশে এখন শত শত দফা। সবকিছু বদলাতে হবে ঠিক; কিন্তু কোথায় শুরু করে কোথায় গিয়ে থিতু হবো– সেই প্রশ্নের মীমাংসা জরুরি। একসঙ্গে সব চাইলেও হবে না, একসঙ্গে সব জায়গায় হাতও দেওয়া যাবে না।

একটা দেশ শুধু রাষ্ট্রের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। তা দাঁড়িয়ে থাকে তার সেরা কর্মনায়ক, ভাবুক ও দেশদরদিদেরও ওপর। রাষ্ট্রের উচিত নিজের স্বার্থেই এদের চিনে নেওয়া। এদের কাজের মঞ্চ এগিয়ে দেওয়া। খারাপ সময়ে খারাপ মানুষরা ভেসে ওঠে; ভালো সময় সেটাই যখন নাকি ভালো মানুষরা সামনে চলে আসে। এই মুহূর্তে জরুরি হলো মানুষকে ধৈর্য ধরতে বলা। সংস্কারের রোডম্যাপ, অর্থনীতি পুনর্গঠনের নকশা, সংবিধান পুনর্লিখন অথবা সংস্কারের টাইমলাইন যখন মানুষের জানা থাকবে, তখন অনিশ্চয়তাও কমে যাবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত স্বার্থের কোনো দোহাই নাই, জাতীয় স্বার্থেই তাঁকে আমাদের দরকার হয়েছিল। তেমনি দীর্ঘদিন ধরে যারা নির্যাতিত হয়েও গণতন্ত্রের লড়াই জারি রেখেছিলেন, ফ্যাসিবাদকে অস্বস্তিতে রেখেছিলেন, তিলে তিলে কায়েমি শক্তিগুলোকে দুর্বল করছিলেন, তাদেরও দরকার হবে প্রধান উপদেষ্টার। এটা তো সেই দেশ, যেখানে সংকটকালে ১০ জন মিলে একজনকে রাজা নির্বাচিত করেছিল। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা না হয় সেই রাজা গোপালের ভূমিকাই পালন করলেন, দেশকে সত্যিকার জনপ্রতিনিধিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যস্থতা করলেন!

গণঅভ্যুত্থান সব মানুষকে একাকার করে ফেলেছিল। অধিকাংশ ‘আমরা’র থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল মুষ্টিমেয় ‘তোমরা’রা। কিন্তু এখন আবার যাতে সেই ঐক্য খণ্ড খণ্ড না হয়। হুঁশিয়ার, কারণ চক্রান্ত জারি আছে। বিদ্রোহের সংহতিকে এখন আমাদের সংস্কারের সংহতিতে পরিণত করতে হবে।

বিপ্লব বলুন বা সংস্কার– কাজটা তো দক্ষতার সঙ্গেই করতে হবে। প্রথম কাজ হলো, প্রতিবিপ্লবের পাওয়ার হাউসগুলো ভেঙে দেওয়া। তা করতে গিয়ে উৎপাদনশীল ব্যবসা, কারখানা, প্রতিষ্ঠানকে নড়বড়ে করে দেওয়া ভুল হবে। তার খেসারত দেবে দেশ। আবার মামলা-তদন্ত-বিচারে যেন কোনো বেইনসাফি না হয়। তারপরও আমরা মানুষ, ফেরেশতা নই। ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ তাই দরকার।

ক্ষমতার পালাবদল যত দ্রুতই ঘটুক, প্রতিষ্ঠান বদলায় ধীরে। মানুষের চরিত্র বদলাতে কয়েক প্রজন্ম লেগে যেতে পারে। তা ছাড়া পুরোনোরা রয়ে গেছে ডালে ডালে, লতায়-পাতায়। তাই সামনে এগিয়ে দিতে হবে তরুণদেরই। কেননা, তারাই পরীক্ষিত শক্তি। তারা স্বৈরাচার ঠেকিয়েছে, নৈরাজ্য-ডাকাত ঠেকিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা করেছে। তারাই কপাট খুলেছে বলে দেড় দশকের অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পেয়েছে সমাজ। এই সজাগ জনতার সমাজ সহজে কাউকে ছাড় দেবে না। দেশের দরকারে আবার জমায়েত হতে দ্বিধাও থাকবে না তাদের।

এখন আস্থা ফেরানোর সময়। সরকারের ওপর আস্থা ফেরানোর কাজ সরকারকেই করতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভরসা জাগিয়ে রাখতে হবে। গত দেড় দশকের বিরাজনীতিকীকরণের দোষ কাটাতে নতুন রাজনৈতিক ভঙ্গি আর পরিষ্কার ইমেজ নিয়ে দাঁড়াতে হবে দলগুলোকে।

সবার আগে রাজনীতিবিদদেরই মতবাদ আর বৈদেশিক আনুগত্যের পন্থা থেকে বের হতে হবে। আমরা দেখেছি ভারতপন্থি ব্লক, আগে দেখেছি পাকিস্তানপন্থি ব্লক। মার্কিনপন্থি ও চীনপন্থি রাজনীতিও বাংলাদেশে অচেনা না। আরও কত কিসিমের মতবাদ ও পন্থায় জর্জরিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি। কিন্তু কোথায় বাংলাদেশপন্থা?

এই ছাত্র-তরুণরা সেই পন্থা হাজির করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী আত্মবিশ্বাস তাদের পুঁজি। কিন্তু তাদের মুক্তিযুদ্ধ অতীতচারী না, ব্যক্তিপূজারি না। তারা আধুনিক, গণতান্ত্রিক, উৎপাদনশীল ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ চায়। আর নিজের দেশের সকল মানুষকে সমান না ভেবে, বাংলাদেশের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী ও মান্দি-সাঁওতাল-জনজাতি সবাইকে মুক্ত না করে দেশ কীভাবে মুক্ত হবে? এক জাতি এক সম্প্রদায়ের রাজনীতি করে কোনো দেশ কি সুখে আছে, দেখান? বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান ঠিকঠাক কাজে লাগালে শক্তিশালী গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসতে এক দশকও লাগবে না। মোটামুটি একটা দশক যদি আমরা শান্তিতে কাটাতে পারি, কেউ আর আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। কারও বিরুদ্ধে না গিয়ে নিজের স্বার্থ বুঝে নেওয়ার এই বাংলাদেশপন্থাই আমাদের সহায়। এই সরল সত্যে পৌঁছানোর জন্য যেন আমাদের আর রক্তক্ষয়, দিনক্ষয়, লোকক্ষয় করতে না হয়।

Feb2

তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের ঐকমত্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 1:13 pm
তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের ঐকমত্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং। বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়) বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দেশে চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন। জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়ে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীন সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং এ খাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১ লাখ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 10:32 am
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ১ লাখ

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আঘাত হেনেছে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প। এই জোড়া ভূকম্পনের ফলে রাজধানী শহরের একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে এবং আতঙ্কে হাজার হাজার বাসিন্দা রাস্তায় নেমে এসেছেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস জানিয়েছে যে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্পটির ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরেই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি তীব্র ভূকম্পন আঘাত হানে।

মার্কিন ভূবিজ্ঞানী বা ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে এই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগে ভেনিজুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই দুর্যোগে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ।

এ ছাড়া ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিধস এবং সমতলে মাটির তারল্য বা লিকুইফেকশন হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। ঘটনার পরপরই ভেনিজুয়েলা উপকূল এবং নিকটবর্তী আরুবা ও বোনাইর দ্বীপপুঞ্জের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেয়ো দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভি-তে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের কারণে রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু বহুতল ভবন ভেঙে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে শহরের অসংখ্য বাড়িঘরে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে এবং কিছু ভবন সম্পূর্ণ ধসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মন্ত্রী জানান যে কারাকাস ছাড়াও দেশের ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবো, আরাগূয়া, মিরান্দা এবং লা গুয়াইরা রাজ্য এই ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কারাকাসের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লস পালোস গ্রান্দেস এবং আলতামিরা নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। উল্লেখ্য যে ১৯৬৭ সালে ভেনিজুয়েলার রাজধানীতে আঘাত হানা সর্বশেষ বড় ভূমিকম্পেও এই দুটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হয়েছিল এবং সে সময় প্রায় ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-র একজন সাংবাদিকের পাঠানো ছবিতে কারাকাস শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শত শত কিলোমিটার দূরে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে এবং সতর্কতাস্বরূপ সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেল ৬টা ৪ মিনিটে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি ইয়ারাকুই রাজ্যে উৎপন্ন হয় যার গভীরতা ছিল মাটির নিচে ২১ দশমিক ৯ কিলোমিটার। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আঘাত হানা ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ইউমারে শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ভূগর্ভের মাত্র ১০ কিলোমিটার।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিবিসি সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার জানান যে এটি তার জীবনের অনুভূত সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন ছিল এবং সাত তলার ফ্ল্যাটে থাকার সময় তীব্র ঝাঁকুনিতে তার মনে হয়েছিল পুরো ভবনটি বুঝি তার গায়ের ওপর ভেঙে পড়বে।

ভূমিকম্পের এই ঘটনাটি ভেনিজুয়েলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির দিনে ঘটেছে। দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা সিমন বলিভার কর্তৃক স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ১৮২১ সালের কারাবোবো যুদ্ধের বিজয়ের স্মরণে গতকাল দেশটিতে সাধারণ ছুটি ছিল। ফলে অন্য যেকোনো কর্মদিবসের তুলনায় সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সপরিবারে নিজেদের ঘরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

এই চরম সংকটের মুহূর্তে ভেনিজুয়েলার নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন যে এই চরম উদ্বেগের সময়ে তার অন্তর এবং প্রার্থনা ভেনিজুয়েলার প্রতিটি ব্যথিত পরিবারের সঙ্গে রয়েছে।

 

গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর তিনে তিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 10:02 am
গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর তিনে তিন

চেক রিপাবলিককে উড়িয়ে দিলো মেক্সিকো। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশটি গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে। তিন গোলের সবগুলো দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েছে তারা। মেক্সিকো সিটিতে ৩-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা।

মাতেও শাভেজ, জুলিয়ান কুইনোনেস ও আলভারো ফিদালগোর গোলে মেক্সিকো তিন ম্যাচে তৃতীয় জয় পেয়েছে। তাতে এ গ্রুপ থেকে বিদায় নিতে হলো চেকদের।

চেকদের হয়ে একটি প্রচেষ্টা গোলবারের পাশ দিয়ে মারেন ডেনিস ভিসিনস্কি। তবে মেক্সিকো সিটিতে প্রথমার্ধে এমন সুযোগ খুব কমই এসেছে। আগেই গ্রুপের এক নম্বর জায়গা নিশ্চিত করা মেক্সিকো বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। প্রথম শট নিতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩৬ মিনিট। বক্সের প্রান্ত থেকে ইসরায়েল রেয়েসের ওভারহেড কিক গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।

ডেভিড দোদেরা ও কুইনোনেস দূর পাল্লার শট বারের ওপর দিয়ে যায়। হোর্হে সানচেজের শটে প্রথম সেভ করেন চেক গোলকিপার মাতেজ কোভার।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় মেক্সিকো। এক ঘণ্টার আগেই ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে তারা। দল ভালো অবস্থানে থাকার পর মেক্সিকো ৪০ বছর বয়সী কিপার গুইলেরমো ওচোয়াকে চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেন। স্টপেজ টাইমে মেক্সিকো আরেকটি গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় তাদের। এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা আগামী ১ জুলাই শেষ ৩২ এর ম্যাচ খেলবে তৃতীয় সেরা একটি দলের সঙ্গে।