খুঁজুন
শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণঅভ্যুত্থানের ১ মাস

জয় শ্রাবণ বিপ্লবের, জয় বাংলাদেশপন্থার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
জয় শ্রাবণ বিপ্লবের, জয় বাংলাদেশপন্থার

শহীদ আবু সাঈদ থেকে যে রক্ত গড়াতে শুরু করেছে, তা আর পেছনে ফিরবে না। শহীদ মুগ্ধের দরদের পানি মিশে গেছে তারই বুকের তাজা রক্তে। এই এক আরম্ভ, যা শেষ হয় না। এখনও মৃত্যু হচ্ছে ফ্যাসিস্টের গুলিতে আহতদের।

এমনকি আনসারদের প্রহারে আহত ছেলেটিও মারা গেছে। রুদ্ধশ্বাসে সহযোদ্ধার জানাজা পড়তে দাঁড়াচ্ছে বন্ধুরা। গাল ভিজছে অশ্রুতে, ঘাস ভিজছে, রাস্তা ভিজছে। অশ্রুর সেই নহর সারা বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের ভেতর বয়ে যাচ্ছে। হাজারো আহত কিশোর-তরুণ হাসপাতালের বিছানায়। গণকবর আবিষ্কৃত হচ্ছে, লাশের স্তূপ জ্বালিয়ে দেওয়ার ভিডিও সহ্য করা যাচ্ছে না। এই শহীদদের আমরা ভুলতে পারি না, ভুলতে দেব না। যে বিপুল বিদ্রোহে বাংলাদেশ জেগেছে, তেমন বিপুল ভালোবাসায় আগলে রাখতে হবে সব শহীদের স্মৃতি। তাদের জন্য বুকের মধ্যে যেন কবরের মতো পবিত্র একটা জায়গা ধরে রাখি। বাংলাদেশ যা ঘটায়, তা ঘটে দক্ষিণ এশীয় স্তরে। ১৯৭১ সালেও তা সত্য, ২০২৪-এও তা সত্য।

এশিয়ার ঊরুসন্ধির এই দেশের ভেতরের ঘটনা একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ঘটনাও। বাংলাদেশ সেই দেশ, যেখানে দশক চলে যায় কিছুই ঘটে না। আবার এটা সেই দেশ, যেখানে কয়েক সপ্তাহে আস্ত দশকই ফুরিয়ে যায়। দেড় দশকের দুঃশাসন শেষ হয়েছে জুলাই-আগস্টের শেষ তিন সপ্তাহে। কিন্তু এই রাজনৈতিক ভূমিকম্পের ধাক্কা অনুভূত হবে আগামী দশকেও।

এটা সেই দেশ, যেখানে কখন কোথায় জনবিস্ফোরণ ঘটবে, তা জানতে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক যন্ত্রপাতিগুলোর এখনও বাকি আছে।

অনেকে হয়তো এখনও বুঝতেই পারছেন না যে, ১৯৫২ সালের মতো একটা বিরাট জাগরণ শুরু হয়ে গেছে। রাষ্ট্র বা রাজনীতি তা ধারণ না করতে পারলেও জাতীয় মানসে এই পরিবর্তন বহুদিন কাজ করে যাবে। হয়তো পাঁচ কিংবা সাত বছরে এর পূর্ণ চেহারাটা আমরা বুঝতে পারব। সে সময়ের পাকিস্তান সরকার ভাষা আন্দোলনকে কমিউনিস্টদের ষড়যন্ত্র ভেবেছিল। এই সময়ের জনবিচ্ছিন্ন শক্তিগুলো ভাবছে, বাংলাদেশের শ্রাবণ বিপ্লব বোধ হয় ইসলামপন্থি আর আমেরিকার ষড়যন্ত্র। পৃথিবীর কোনো পরাশক্তির ক্ষমতা নাই, রাজনীতি থেকে সবচেয়ে দূরের সবচেয়ে মাসুমের সবচেয়ে তাজা প্রাণকে এ রকম অলৌকিক অবিশ্বাস্য আত্মদানে উজ্জীবিত করতে পারে। সমাজের ভেতর দানবীয় শক্তির ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যালীলার বিরুদ্ধে তিলে তিলে যে ঘৃণা ও সাহস সঞ্চিত হয়েছে, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়া লাগে না; মানুষ হওয়া লাগে।

ভয়াবহ রকমের রক্তাক্ত ও দীর্ঘ সেই জুলাই, সেই শ্রাবণ এখনও শেষ হয় নাই। ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যে এক দফা দিয়েছিল, মাত্র এক দিন পরেই তা পূরণ হয়। শেখ হাসিনার পলায়ন, বাকিরা আদাড়ে-বাদাড়ে। এই পর্বটি বরং সহজ। কঠিন ও জটিল পথটি এখন সামনে। ঐক্যের নিশান ধরে রেখে রাষ্ট্র ও রাজনীতি সংস্কারের কঠিন পুলসিরাত পার হতে হবে বাংলাদেশকে। এক দফার জায়গায় সারাদেশে এখন শত শত দফা। সবকিছু বদলাতে হবে ঠিক; কিন্তু কোথায় শুরু করে কোথায় গিয়ে থিতু হবো– সেই প্রশ্নের মীমাংসা জরুরি। একসঙ্গে সব চাইলেও হবে না, একসঙ্গে সব জায়গায় হাতও দেওয়া যাবে না।

একটা দেশ শুধু রাষ্ট্রের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। তা দাঁড়িয়ে থাকে তার সেরা কর্মনায়ক, ভাবুক ও দেশদরদিদেরও ওপর। রাষ্ট্রের উচিত নিজের স্বার্থেই এদের চিনে নেওয়া। এদের কাজের মঞ্চ এগিয়ে দেওয়া। খারাপ সময়ে খারাপ মানুষরা ভেসে ওঠে; ভালো সময় সেটাই যখন নাকি ভালো মানুষরা সামনে চলে আসে। এই মুহূর্তে জরুরি হলো মানুষকে ধৈর্য ধরতে বলা। সংস্কারের রোডম্যাপ, অর্থনীতি পুনর্গঠনের নকশা, সংবিধান পুনর্লিখন অথবা সংস্কারের টাইমলাইন যখন মানুষের জানা থাকবে, তখন অনিশ্চয়তাও কমে যাবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত স্বার্থের কোনো দোহাই নাই, জাতীয় স্বার্থেই তাঁকে আমাদের দরকার হয়েছিল। তেমনি দীর্ঘদিন ধরে যারা নির্যাতিত হয়েও গণতন্ত্রের লড়াই জারি রেখেছিলেন, ফ্যাসিবাদকে অস্বস্তিতে রেখেছিলেন, তিলে তিলে কায়েমি শক্তিগুলোকে দুর্বল করছিলেন, তাদেরও দরকার হবে প্রধান উপদেষ্টার। এটা তো সেই দেশ, যেখানে সংকটকালে ১০ জন মিলে একজনকে রাজা নির্বাচিত করেছিল। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা না হয় সেই রাজা গোপালের ভূমিকাই পালন করলেন, দেশকে সত্যিকার জনপ্রতিনিধিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যস্থতা করলেন!

গণঅভ্যুত্থান সব মানুষকে একাকার করে ফেলেছিল। অধিকাংশ ‘আমরা’র থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল মুষ্টিমেয় ‘তোমরা’রা। কিন্তু এখন আবার যাতে সেই ঐক্য খণ্ড খণ্ড না হয়। হুঁশিয়ার, কারণ চক্রান্ত জারি আছে। বিদ্রোহের সংহতিকে এখন আমাদের সংস্কারের সংহতিতে পরিণত করতে হবে।

বিপ্লব বলুন বা সংস্কার– কাজটা তো দক্ষতার সঙ্গেই করতে হবে। প্রথম কাজ হলো, প্রতিবিপ্লবের পাওয়ার হাউসগুলো ভেঙে দেওয়া। তা করতে গিয়ে উৎপাদনশীল ব্যবসা, কারখানা, প্রতিষ্ঠানকে নড়বড়ে করে দেওয়া ভুল হবে। তার খেসারত দেবে দেশ। আবার মামলা-তদন্ত-বিচারে যেন কোনো বেইনসাফি না হয়। তারপরও আমরা মানুষ, ফেরেশতা নই। ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ তাই দরকার।

ক্ষমতার পালাবদল যত দ্রুতই ঘটুক, প্রতিষ্ঠান বদলায় ধীরে। মানুষের চরিত্র বদলাতে কয়েক প্রজন্ম লেগে যেতে পারে। তা ছাড়া পুরোনোরা রয়ে গেছে ডালে ডালে, লতায়-পাতায়। তাই সামনে এগিয়ে দিতে হবে তরুণদেরই। কেননা, তারাই পরীক্ষিত শক্তি। তারা স্বৈরাচার ঠেকিয়েছে, নৈরাজ্য-ডাকাত ঠেকিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা করেছে। তারাই কপাট খুলেছে বলে দেড় দশকের অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পেয়েছে সমাজ। এই সজাগ জনতার সমাজ সহজে কাউকে ছাড় দেবে না। দেশের দরকারে আবার জমায়েত হতে দ্বিধাও থাকবে না তাদের।

এখন আস্থা ফেরানোর সময়। সরকারের ওপর আস্থা ফেরানোর কাজ সরকারকেই করতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভরসা জাগিয়ে রাখতে হবে। গত দেড় দশকের বিরাজনীতিকীকরণের দোষ কাটাতে নতুন রাজনৈতিক ভঙ্গি আর পরিষ্কার ইমেজ নিয়ে দাঁড়াতে হবে দলগুলোকে।

সবার আগে রাজনীতিবিদদেরই মতবাদ আর বৈদেশিক আনুগত্যের পন্থা থেকে বের হতে হবে। আমরা দেখেছি ভারতপন্থি ব্লক, আগে দেখেছি পাকিস্তানপন্থি ব্লক। মার্কিনপন্থি ও চীনপন্থি রাজনীতিও বাংলাদেশে অচেনা না। আরও কত কিসিমের মতবাদ ও পন্থায় জর্জরিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি। কিন্তু কোথায় বাংলাদেশপন্থা?

এই ছাত্র-তরুণরা সেই পন্থা হাজির করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী আত্মবিশ্বাস তাদের পুঁজি। কিন্তু তাদের মুক্তিযুদ্ধ অতীতচারী না, ব্যক্তিপূজারি না। তারা আধুনিক, গণতান্ত্রিক, উৎপাদনশীল ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ চায়। আর নিজের দেশের সকল মানুষকে সমান না ভেবে, বাংলাদেশের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী ও মান্দি-সাঁওতাল-জনজাতি সবাইকে মুক্ত না করে দেশ কীভাবে মুক্ত হবে? এক জাতি এক সম্প্রদায়ের রাজনীতি করে কোনো দেশ কি সুখে আছে, দেখান? বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান ঠিকঠাক কাজে লাগালে শক্তিশালী গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসতে এক দশকও লাগবে না। মোটামুটি একটা দশক যদি আমরা শান্তিতে কাটাতে পারি, কেউ আর আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। কারও বিরুদ্ধে না গিয়ে নিজের স্বার্থ বুঝে নেওয়ার এই বাংলাদেশপন্থাই আমাদের সহায়। এই সরল সত্যে পৌঁছানোর জন্য যেন আমাদের আর রক্তক্ষয়, দিনক্ষয়, লোকক্ষয় করতে না হয়।

Feb2

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে গড়ে উঠবে ‘নতুন বাংলাদেশ’: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে গড়ে উঠবে ‘নতুন বাংলাদেশ’: ডিসি জাহিদ

তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্যে সরকার যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ তারই একটি দূরদর্শী উদ্যোগ।

শুক্রবার (৮ মে) “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” এর চট্টগ্রাম জেলা পর্বের সপ্তম দিনের বিভিন্ন ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে উজ্জ্বল মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস”-এর এই যাত্রার মাধ্যমে। আমরা এই আয়োজনের মাধ্যমে একটি দক্ষ, প্রত্যয়শীল ও দেশপ্রেমিক জাতি গঠন করতে চাই—যে জাতি নিজে সুস্থ থাকবে এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলবে।

খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, এটি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই স্পোর্টস কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি আরো বলেন, খেলাধুলা আমাদের শেখায় কীভাবে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হয়, কীভাবে পরাজয় মেনে নিতে হয় এবং কীভাবে সেই পরাজয় থেকে আবার জয়ের পথে ফিরে আসতে হয়। আমরা বিশ্বাস করি, একজন মানুষ সবসময় জয়ী হতে পারে না; কিন্তু জয়ী হতে হলে তাকে প্রতিযোগিতার মনোভাব ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন,আমরা মনে করি না যে সবাইকে শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা অফিসারই হতে হবে। পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলেছেন। আমরা ব্রায়ান লারাকে চিনি, শচীন টেন্ডুলকারকে চিনি, মেসি, রোনালদো ও ম্যারাডোনাকে চিনি—কারণ তাঁরা তাঁদের দেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন।
আমরা চাই, আমাদের আগামী প্রজন্মের প্রতিটি সন্তানও একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করুক। আর সে জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়। কঠোর পরিশ্রম এবং অবিচল প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের পরিবর্তন সম্ভব নয়,যোগ করেন জেলা প্রশাসক।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান থাকবে—আপনারা সন্তানদের তাদের স্বপ্ন অনুযায়ী বেড়ে উঠতে সহায়তা করুন। তারা কোন বিষয়ে আগ্রহী, কোন পথে এগোতে চায়, সেটি গুরুত্ব দিয়ে তাদের উৎসাহ দিন।

জেলা প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নের অনেকগুলো দিক রয়েছে। আমরা সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে বিকশিত করতে চাই এবং মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিতে চাই। আজকের এই উদ্যোগ সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন একটি সুচিন্তিত, প্রত্যয়শীল ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য। আমরা বিশ্বাস করি, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস”-এর মাধ্যমে গড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম একদিন বাংলাদেশের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে এবং দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম
বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি যুবসমাজকে ইতিবাচক ও সৃজনশীল ধারায় সম্পৃক্ত রাখতে সহায়তা করে।

এদিন সকালে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিক্স, সিজেকেএস মিলনায়তনে দাবা, সিজেকেএস জিমনেসিয়ামে মার্শাল আর্ট এবং সিজেকেএস সুইমিং পুলে সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা স্টেডিয়ামে চারটি ইভেন্টের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব হাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আবদুল বারী।

অ্যাথলেটিক্সের ১০০ মিটার দৌড়ে বালক বিভাগে বায়েজিদ থানার মোহাম্মদ জাওয়াদ কাদের এবং বালিকা বিভাগে ফটিকছড়ি উপজেলার প্রেমা চৌধুরী প্রথম হয়ে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” এর দ্রুততম বালক ও বালিকার গৌরব অর্জন করেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মধ্যে মেডেল ও সনদ বিতরণ করেন।

এদিকে, প্রতিযোগিতার ফুটবল ও ক্রিকেটের বালক-বালিকা বিভাগের ফাইনাল শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে ফুটবলের ফাইনাল এবং সাগরিকা মহিলা কমপ্লেক্স ও সাগরিকা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম সংলগ্ন মাঠে ক্রিকেটের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফাইনাল শেষে জেলা স্টেডিয়ামে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন সুন্দরকে ভালোবাসতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে: জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন সুন্দরকে ভালোবাসতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে: জেলা প্রশাসক

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। “শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কবিগুরুর সাহিত্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।

বুধবার (৮ মে) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) চট্টগ্রাম মোঃ শরীফ উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো গুণী কবিকে নিয়ে কথা বলার মতো সাহিত্যজ্ঞান তাঁর নেই। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম শুধু বাণিজ্যের নগরী নয়; চট্টগ্রামের মানুষ রবীন্দ্রসংগীত গায়, বিশ্বকবির কবিতা আবৃত্তি করে। এই সাংস্কৃতিক চর্চাই আমাদের আত্মিক শক্তির জায়গা।” তিনি কবিগুরুর জন্মবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “কবিগুরু, বিশ্বকবি, গুরুদেব—যে নামেই আমরা তাঁকে ডাকি না কেন, তা যেন কম হয়ে যায়।” তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের গান মানুষকে অনুভূতির এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন সুন্দরকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, কাব্যে কীভাবে ছন্দ আনতে হয় এবং গদ্যে কীভাবে বৈশ্বিক নান্দনিকতা তুলে ধরতে হয়।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, একজন কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ব্রিটিশদের দেওয়া নাইটহুড উপাধি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর সেই সাহস, মানবিকতা ও ন্যায়বোধ আমাদের ধারণ করতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে

তিনি কবিগুরুর উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবিকতা। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, বিশ্বকবির মানবিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সবাই একটি সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।

আলোচনা সভা শেষে নাচ, গান ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। পরবর্তীতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশিত হলে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও দর্শকরা তা উপভোগ করেন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

শাক বিক্রেতার গুলিবিদ্ধ মেয়ে রেশমাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটলেন মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
শাক বিক্রেতার গুলিবিদ্ধ মেয়ে রেশমাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটলেন মানবিক ডিসি জাহিদ

আইসিইউর দরজার সামনে তখন নীরব আতঙ্ক। ভেতরে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ১২ বছরের এক শিশু। চোখের নিচ দিয়ে ঢুকে যাওয়া গুলি তার মস্তিষ্কের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশে কান্নায় ভেঙে পড়া পরিবার। হাসপাতালের করিডোরজুড়ে উৎকণ্ঠা আর অসহায় অপেক্ষা।

ঠিক এমন সময় সেখানে উপস্থিত হন সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, কোনো প্রটোকল নয়—একজন প্রশাসক নয়, যেন একজন অভিভাবক হিসেবেই তিনি ছুটে যান গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমা আক্তারের শয্যার পাশে।

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানাধীন রৌফাবাদ শহীদ মিনার গলি এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার
রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে ৫ থেকে ৬ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী যুবক হাসান ওরফে রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে হাসান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আর সেই গোলাগুলির শিকার হয় পথচারী নিরীহ শিশু রেশমা আক্তার। পরিবারের জন্য পান আনতে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে আজ শুক্রবার (৮ মে) হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক। আইসিইউতে থাকা শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি। চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। নিজে হাতে রেশমার সিটি স্ক্যান রিপোর্টও দেখেন।

চিকিৎসকেরা তাকে জানান, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। গুলিটি চোখের ভেতর দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি করেছে। কথাগুলো শুনে দৃশ্যত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জেলা প্রশাসক।

হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রেশমার মায়ের কান্না শুনে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন জেলা প্রশাসক। পরে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং তাদের আর্থিক সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

তবে সেখানে গিয়ে শুধু সহানুভূতি প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি তিনি। চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুটির চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের অবহেলা না হয়। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, “একজন নিরীহ শিশুর এভাবে সন্ত্রাসের শিকার হওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই ঘটনা মানবিকভাবে আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমি নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। এটি অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।”

চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও অস্ত্রধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন,“যেভাবে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের বিতাড়িত করে একসময়কার অপরাধের অভয়ারণ্যকে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, ঠিক একইভাবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রেশমার পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিশুটির বাবা মোঃ রিয়াজ আহমেদ একজন প্রতিবন্ধী ও অত্যন্ত অসহায় মানুষ। পান বিক্রি করে তিনি পাঁচ সন্তানের সংসার চালান। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

কিন্তু রেশমার জন্য জেলা প্রশাসকের ব্যস্ততা সেখানেই শেষ হয়নি। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানামাত্র জেলা প্রশাসক নিজেই ফোন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীনকে।

তিনি অনুরোধ জানান, শিশুটিকে দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করে জরুরি অপারেশনের ব্যবস্থা করতে।

একই সঙ্গে রেশমার ভাই মো. এজাজ হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন তিনি। অ্যাম্বুলেন্সে থাকায় ফোন রিসিভ করতে না পারলেও পরে জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার তাকে ফোন করে জানান, ডিসি ইতিমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং রেশমার চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, “জেলা প্রশাসক নিজেও হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য। তিনি বিভিন্ন সময় দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য ফোন করে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসার অনুরোধ করেন। আজও রেশমার সুচিকিৎসার জন্য ফোন করেছেন। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিশুটির চিকিৎসা করব।”

রেশমার ভাই মো. এজাজ হোসেন বলেন, “একজন জেলা প্রশাসক ছুটির দিনেও আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরাসরি হাসপাতালে এসেছেন। শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি, পরে আবার ফোন করে চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন। তিনি সত্যিই একজন মানবিক জেলা প্রশাসক।”

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় জেলা প্রশাসকের পদ সাধারণত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রতীক হিসেবেই বেশি পরিচিত। তবে চট্টগ্রামের এই ঘটনায় উঠে এসেছে ভিন্ন এক চিত্র—একজন প্রশাসক, যিনি আহত এক শিশুর শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে শুধু দায়িত্বই পালন করেননি, মানবিকতারও পরিচয় দিয়েছেন।

রক্তাক্ত রেশমার হাসপাতালের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো তিনি একটি শিশুর জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। কিন্তু অন্তত এই বার্তাটি তিনি দিয়েছেন—রাষ্ট্রের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।