খুঁজুন
, ,

জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন প্রধান উপদেষ্টা, শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 5 August, 2025, 6:40 pm
জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন প্রধান উপদেষ্টা, শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন। এই ঘোষণাপত্রে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ঐতিহাসিক এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

ড. ইউনূস বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।

২৮ দফার ঘোষণাপত্রের ২৪ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

২৮ দফা ঘোষণাপত্রে যা আছে—

১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল; এবং

২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে; এবং

৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রনয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ করেছিল; এবং

৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়, এবং

৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এবং

৬। যেহেতু দেশী-বিদেশী চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১ -এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়; এবং

৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোল বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়; এবং

৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে; এবং

৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে; এবং

১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে; এবং

১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোল বছর যাবত নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়; এবং

১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশী রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে; এবং

১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে; এবং

১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারী চাকুরীতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকুরী প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়; এবং

১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়; এবং

১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়; এবং

১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগনিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে; এবং

১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণী, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়; এবং

১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবেলায় গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত; এবং

২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রীম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠন করা হয়; এবং

২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়; এবং

২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে; এবং

২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোল বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে; এবং

২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গনঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। এবং

২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসঙ্গত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। এবং

২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে। এবং

২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে। এবং

২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রনয়ণ করা হলো।

Feb2
Feb2

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 10:17 pm
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নাশকতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে কেউ যাতে ষড়যন্ত্র বা অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নসিমন ভবনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার’ বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এরশাদ উল্লাহ বলেন, “গণরোষে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট অপশক্তি দিল্লি থেকে দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।” তাঁর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে এবং মানুষকে উসকে দিয়ে কৃত্রিম অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে কোনো অপকর্ম বা নাশকতা করতে না পারে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সুযোগসন্ধানী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি কোনো অপতৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা হবে এবং এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা আবু সুফিয়ান বলেন, “নাশকতার চেষ্টা হলে মাঠেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।” দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য কেউ নাশকতা, সহিংসতা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে কোনো অপশক্তির কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া কোনো অপশক্তি কিংবা তাদের সহযোগীরা যেন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। গুজব, অপপ্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি ছড়িয়ে যারা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালালে তার দায় দল নেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবু সুফিয়ান আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও স্থিতিশীলতার পথে কোনো ষড়যন্ত্র যাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা জোরদার এবং নাশকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ,এড. আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন ও শিহাব উদ্দিন মুবিন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সদস্য ইকবাল চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন জিয়া, এস এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাশেম, ইস্কান্দার মির্জা, মুজিবুল হক, মোহাম্মদ মহসিন, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মোশারফ হোসেন ডিপটি, জাফর আহমেদ, মাহাবুব রানা, আবু মুসা, হানিফ সওদাগর, মোহাম্মদ আজম ও মোহাম্মদ ইউসুফ ।

এ ছাড়া মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, তরুণ দলের সেলিম হাফেজ ও মনিরুজ্জামান মুরাদসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পলাতক ফ্যাসিস্টের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ: দীপ্তি-শাহেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 8:38 pm
পলাতক ফ্যাসিস্টের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ: দীপ্তি-শাহেদ

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বা সহিংসতার নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরী।

তিনি আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চলমান রাজনীতির বিরুদ্ধে করণীয় শীর্ষক প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপ্তি বলেন, জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে বেকাঁদায় ফেলতে পলাতক ফ্যাসিস্ট পুরানো জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি বেচে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের এ জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি এ দেশে আর চলবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সফর বানচাল করতে পলাতক আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, সন্ত্রাসের জবাব আরেক সন্ত্রাস নয়-আইনের শাসন। প্রতিহিংসার জবাব প্রতি হিংসা নয়-ন্যায় বিচার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ হৃদয়ে ধারণ করে সরকার কর্তৃক জনগণের কল্যাণে গৃহিত কর্মসূচি ঘরে ঘরে পৌছে দিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তাই হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি এসময় রাজনৈতিক সহিংসতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আওতাধীন ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড যুবদল নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলে প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমন, জাহাঙ্গীর আলম, গফুর বাবুল, সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, জসিমুল ইসলাম কিশোর, মুজিবুর রহমান, অরুপ বড়ুয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, সেলিম উদ্দিন রাসেল, সহ সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি সিকদার, মুজিবুর রহমান রাসেল, আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাঁচা, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, তানভীর মল্লিক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মহিউদ্দিন মুকুল, আসাদুজ্জামান রুবেল, এস এম বখতিয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, সহ- সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মানিক, কামরুল ইসলাম, কমল জৌতি বড়ুয়া, শাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, হাফেজ কামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, মোহাম্মদ ইউসুফ, মিজানুর রহমান দুলাল, মো: হাসানুজ্জামান, ইয়াছিন আজাদ, আবুল কালাম, ফারুক হোসেন স্বপন, সদস্য কলিম শিকদার, গোলাম ইয়াজদানী সাবাব, প্রফেসর সাইদুল হক শিকদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আজম, মোশাররফ আমীন ,বজল আহমেদ, খোরশেদ আলম, সদস্য সচিব শওকত খান রাজু, মোহাম্মদ মুসা, মো: ইলিয়াস, মনজুর আলম মনজু, মোরশেদ কামাল, আশিক মল্লিক, মোস্তাকিম মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম রুবেল, মো: ইয়াছিন, সাজ্জাদ হোসেন সাদ্দাম, মোহাম্মদ সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক এস এম আলী, মোহাম্মদ হাসান, আবু বক্কর বাবু, বাদশাহ আলমগীর, সাইফুল ইসলাম, মাসুদ আলমসহ থানা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 6:54 pm
দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের যে কষ্ট হবে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে অব্যাহতভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট প্রতিদিন নতুন মাত্রায় আমাদের সামনে আবির্ভূত হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে বিমার প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া বাড়ছে। এ অবস্থায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের পক্ষে এ মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। জনগণের জীবনমানের কষ্ট লাঘবের অভিপ্রায়ে রাজনীতিতে এসেছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের যে কষ্ট হবে, এটি আমি উপলব্ধি করি।

তিনি বলেন, সরকার নিরুপায় না হলে এমন অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে চাইত না। তবে চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানি তেলের দাম আবার সমন্বয় করে আগের পর্যায়ে বা তার চেয়েও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।