খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেল’র প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পাহাড়তলীতে রেলকর্মচারীদের কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
পে-স্কেল’র প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে পাহাড়তলীতে রেলকর্মচারীদের কর্মবিরতি

১১-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে যমুনা অভিমুখী সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর পুলিশের রাবার বুলেট, জলকামান, টিয়ারশেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে শাটডাউন, বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ রেলওেয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারী কর্মচারী ফোরাম এর সদস্য রেলওয়ে সিসিএস পাহাড়তলী দপ্তরের জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের সিসিএস পাহাড়তলী শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন এর সঞ্চালনায় নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল এর বিভিন্ন শাখা শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী ফোরাম, শাটডাউন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও কর্ম-বিরতি পালন করেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সকল সরকারি কর্মচারী ফোরামের সাথে শাটডাউন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন রেলওয়ে সরঞ্জাম বিভাগের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম।

এতে বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম যমুনা অভিমুখী শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য। কিন্তু ইন্টিরিম সরকারের রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী কর্তৃক ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ভুন্ডল করতে জলকামান, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আমাদের সহকর্মী ভাই ও বোনদের রক্তাক্ত করে। আমাদের সহকর্মী ভাই ও বোনেরা আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ আন্দোলনতো সরকার বিরোধী আন্দোলন নয়, এ আন্দোলন বৈষম্যমূলক একটি জাতীয় নবম পে স্কেল কমিশন এর গেজেট জারির করনের আন্দোলন। কারণ সরকার বলেছিল চাকরিজীবীদের স্বার্থে ৯ম জাতীয় পে কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমান ইন্টেরিম সরকার প্রধান প্রফেসর ডঃ ইউনুস পে কমিশনের রুপ রেখা ও গেজেট জারি করে যাবেন। পরবর্তী সরকার এসে তা বাস্তবায়ন করবেন।

প্রিয় মিডিয়া ভাই ও বোনেরা আপনারাও ঢালাওভাবে প্রচার করেছিলেন বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের অনেক উপদেষ্টা বলেছেন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই বাজেটের রাখা হয়েছে। তাহলে এই ধরনের মিথ্যা বানোয়াট প্রতারণামূলক পে কমিশনের কমিটি গঠন করে রাষ্ট্র ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদেরকে আপনারা মুলা ঝুলিয়ে দিবেন মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিবেন তাহলে রাষ্ট্র কিভাবে মজবুত হবে?

কামাল হোসেন আরো বলেন, আপনারা নবম জাতীয় পে স্কেল দিবেন না, তাহলে কেন রং তামাশা কমিটি করেছিলেন? যে কমিটি দ্বারা জাতীয় পে কমিশন বাস্তবায়ন হবে না এই কমিটি দ্বারা রাষ্ট্রের সময় সময় মিটিং এর নামে যত টাকা খরচ হয়েছে সব টাকা রাষ্ট্রের কষাগারে জমা দিতে হবে। কারণ এ রাষ্ট্রের সকল টাকা এদেশের সাধারণ নিরীহ কৃষক শ্রমিক ও জনগণের।

কামাল বলেন আপনারা যদি পে কমিশন বাস্তবায়ন না করতে পারেন, আপনার যদি পে কমিশন দিতে না পারেন তাহলে পে কমিশনের নামে ধাপ্পাবাজি করে কেন বাজারের সকল ধরনের নিত্য দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দিলেন? আপনারা বাজার কন্ট্রোল করেন বাজারে মনিটরিং সেল তৈরি করেন। আমাদের পে কমিশন লাগবে না, আর যে পে কমিশনের রূপরেখা দিয়েছেন তা আকাশ সমান বৈষম্য। যে বৈষম্যের জন্য দীর্ঘ সময় এদেশের কৃষক শ্রমিক জনতা ও টগবগে তরুণ মেধাবী ছাত্ররা আন্দোলন করেছিলেন বৈষম্যকে হটিয়ে একটি সোনালী স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন করার জন্য। কিন্তু সরকারের উচ্চ মহল সেই বৈষম্যের পথে হাঁটছে অবিলম্বে একটি সুন্দর ও মার্জনীয় সহনীয় জাতীয় নবম পে স্কেল ঘোষণা করুন। অবিলম্বে জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করুন। আমরা ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম এই রাষ্ট্রের চাকা সচল রাখি, আমরা আমাদের ছেলে মেয়ে, পরিবারকে সময় না দিয়ে এই দেশের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে থাকি। সুতরাং আমাদেরকে না ঠকিয়ে আমাদের উপর শাসন শোষণের মাত্রা বৈষম্যের মাত্রা না বাড়িয়ে রাষ্ট্রের মূল শিকড় মজবুত করনের লক্ষে যত দ্রুত সম্ভব একটি ন্যায়নিষ্ঠ বৈষম্যহীন পে স্কেলের গেজেট জারি করুন।
অন্যথায় আগামীতে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে পুরো বাংলাদেশের ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম এর উদ্যোগে রাজপথ, সড়ক পথ, রেলপথ, বিমানপথ, নৌপথসহ সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হবে। মনে রাখতে হবে পেটের ক্ষুধা যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন কাউকে ছাড় নয়।

সবিশেষ কামাল হোসেন বলেন, কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ যাতে তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যারা ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরাম দায়িত্ব পেয়েছি এই দায়িত্ব শৃঙ্খলার সাথে পালন করবেন।

শাটডাউন বিক্ষোভ ও কর্মবতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরামের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আরো উপস্থিত ছিলেন রেল শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আতিকুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রানা, সৈয়দ আল রাব্বি, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোরশেদুল আলম বাদল। মহিলা নেতৃবৃন্দদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিগার সুলতানা, নিপু রানী, রওশন সুলতানা, নুরজাহান আক্তার, নাসরিন আক্তার, মোমেনা বেগম, সারজিনা আক্তার, কামরুন্নাহার, মনিরা বেগম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, আমজাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, গোলাম রাব্বানী, মঞ্জুর মোরশেদ, জুয়েল, আনিসুর রহমান, লোকমান হাকিম, অলিউল হাসান, ফেরদাউস রহমান, ফরহাদুল ইসলাম মনির, মাজহারুল ইসলাম, পলাশ, মিহির কুমার, আব্দুল মালেক, আব্দুল মোতালেব, নাছির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, প্রকাশ নন্দী, রুবেল, রবিউল হোসেন, মোজাহিদ হাওলাদার, কামরুল ইসলাম, সালাম মিয়া, পদ্ম মোহন সিংহ, নুর আলম, মোহাম্মদ আলী, জাহিদুল ইসলাম, তারেকুল ইসলাম, সামছু মিয়া, আব্দুল মান্নান, মাসুম মিয়া, সুমন চন্দ্র, তানভীর, নেজাম, সৈয়দ দিপু, আবুল কালাম, সোহেল মোল্লা, শাহ আলম মিয়া, নজরুল, শাহীন, মনির, কাদের, রশিদ, শহীদ, মুহিদুল, নিয়াজ, ফাহাদসহ আরো অন্যান্য ১১ থেকে ২০ তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরাম শ্রমিক ও কর্মচারী দাবি আদায় পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

সকলের দাবি একটাই অবিলম্বে একটি সুন্দর বৈষম্যহীন জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করা। কারণ, কর্মচারীরা দীর্ঘ ১০ থেকে ১১ বছর পর্যন্ত জাতীয় পে কমিশন থেকে বঞ্চিত। যেটা ৫ বছর পর পর ঘোষণা হওয়ার নিয়ম।

Feb2

চারুকলার বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রায়’ নতুন বছরকে বরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
চারুকলার বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রায়’ নতুন বছরকে বরণ

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আজ। বাংলা সন ১৪৩৩ বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ আয়োজন করেছে বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয়। পরে শাহবাগ থানার সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদের সামনে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ৯টা ৩ মিনিটে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং এর ঠিক তিন মিনিট পরেই বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রাটি বের হয়।

শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়াও অংশ নিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

শোভাযাত্রা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো এলাকা এক আনন্দঘন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের উত্তর গেট থেকে বের হয়ে শাহবাগ থানার সামনে দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে।

এরপর বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে ঘুরে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে এটি শেষ হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এবারের উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাস্ক বা মুখোশ পরা নিষিদ্ধ থাকায় অংশগ্রহণকারীরা চারুকলার তৈরি মুখোশগুলো হাতে নিয়ে প্রদর্শন করেন।

এবারের শোভাযাত্রায় বাংলার লোক-ঐতিহ্য ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মেলবন্ধনে পাঁচটি প্রধান মোটিফ বা প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ‘মোরগ’ মোটিফটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রাকে স্বাগত জানাতে মোরগকে নতুন ভোর ও জাগরণের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম শেখ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, একটি দীর্ঘ দুঃশাসনের পর গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে যে নতুন সূর্যের উদয় হয়েছে, মোরগের ডাকে সেই শুভক্ষণকেই উদযাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাও ফুটে উঠেছে এই প্রতীকে।

সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে শোভাযাত্রায় রাখা হয়েছে আরও চারটি মোটিফ। বাউল শিল্পীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা ও লোকজ সংগীতের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে এবং সাংস্কৃতিক শিকড়কে তুলে ধরতে আনা হয়েছে বিশালাকৃতির ‘দোতারা’।

শান্তি ও সহাবস্থানের বৈশ্বিক ডাক দিতে রাখা হয়েছে ‘পায়রা’। এ ছাড়া লোকশিল্পের আভিজাত্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে নির্মিত হয়েছে ‘কাঠের হাতি’ এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত ‘টেপা ঘোড়া’ শোভাযাত্রাকে করেছে আরও আকর্ষণীয়।

এবারের পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় মুখোশ পড়া নিষিদ্ধ থাকায় চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করতে দেখা যায় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের। শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে ছিল পুলিশের সুসজ্জিত ১২টি ঘোড়ার বহর।

এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের বাজানো ‘এসো হে বৈশাখ’ ও দেশাত্মবোধক গানের সুরে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা।

শোভাযাত্রা শেষে টিএসসি প্রাঙ্গণে লোকজ সংস্কৃতির গান ও নৃত্যের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘটে। চারুকলার এই বর্ণিল আয়োজন কেবল আনন্দ উৎসব নয়, বরং অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে ফেরার এক বলিষ্ঠ সংকল্পে রূপ নেয় এবারের পহেলা বৈশাখে।

চট্টগ্রামে বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে বর্ষবরণ শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে বর্ষবরণ শুরু

নতুন বছরের প্রথম সূর্য উঠতেই উৎসবের রঙে রাঙা হয়ে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সকাল বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ। বৈশাখের সকাল ঘিরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে। আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর বর্ণিল আয়োজনে চলছে বর্ষবরণের বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। শোভাযাত্রায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে নগরের ডিসি হিল, সিআরবি শিরিষতলা, শহীদ মিনারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বৈশাখকে বরণ করতে লাল-সাদা পোশাকে সেজে পরিবার-পরিজন নিয়ে বের হন নগরবাসী।

শোভাযাত্রা শেষে ডিসি হিল ও আশপাশ এলাকায় শুরু হবে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একই সময়ে সিআরবি শিরিষতলায়ও চলবে গান, নৃত্য ও লোকজ আয়োজন।

এদিকে, কাজীর দেউড়ি থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে আঁকা বৈশাখী আলপনা নগরবাসীর নজর কেড়েছে। রঙিন এ সজ্জা উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবার নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সংস্কৃতিকর্মী সাদিকুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারি ও রমজানের জন্য কয়েকবছর পয়লা বৈশাখে বিভিন্ন আয়োজনে ভাটা ছিল। তাই এই বছর বর্ষবরণ নিয়ে সবার আগ্রহ বেশি। পরিবার নিয়ে শোভাযাত্রায় এসে ভালো লাগছে।

বর্ষবরণের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে নগরবাসী যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে আনন্দ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

১৪৩৩ বঙ্গাব্দ: বর্ষবরণের প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
১৪৩৩ বঙ্গাব্দ: বর্ষবরণের প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ আজ

পয়লা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এদিন নানা আয়োজনে বর্ষবরণ করা হয় দেশে। ভোরের নতুন সূর্য ওঠার মধ্য দিয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম প্রভাতে শুরু হবে বর্ষবরণ। পয়লা বৈশাখ মানেই একসময়- হালখাতার মৌসুম। ডিজিটাল বাংলাদেশে সেই পরিবেশ এখন তেমন নেই। তবে আনন্দের আবহে নানান আয়োজনে বর্ষবরণের ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।

নতুন বছরের আগমনী সুর যেন ইতোমধ্যেই ভেসে উঠেছে বাতাসে। পুরনো বছরের জীর্ণতা, গ্লানি ও শোককে বিদায় জানিয়ে আজ শুরু হচ্ছে নতুন প্রাণের উৎসব-পয়লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ঋতুচক্রের নবায়নের মতোই এ উৎসব বয়ে আনে আশা, পুনর্জাগরণ ও ঐক্যের বার্তা।

পয়লা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মেতে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ। প্রতি বছর দিনটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচিও নেওয়া হয়। তার ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। শুভ নববর্ষ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ‘বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত-এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে পয়লা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে ওঠে এক আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পয়লা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

‘পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পয়লা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পয়লা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।’

শহরের পাশাপাশি গ্রামবাংলাও প্রস্তুত বর্ষবরণের উচ্ছ্বাসে। নানা বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুরা বর্ণিল পোশাকে উদযাপন করবে দিনটি। বসবে বৈশাখী মেলা; আয়োজন থাকবে বলিখেলা, লাঠিখেলা ও হা-ডু-ডু’র মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলিখেলা, যা শতবর্ষের ঐতিহ্য বহন করে আসছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরের মতোই আয়োজিত হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে ধারণ করে বৃহৎ পরিসরে সর্বজনীন অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শোভাযাত্রার থিম ও মোটিফে ফুটে উঠবে আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে নির্মিত বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রাকে দেবে এক অনন্য মাত্রা। এই শোভাযাত্রার মূল বার্তা- অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর পথে যাত্রা।

এবারের শোভাযাত্রায় ‘মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া’- এই পাঁচটি মোটিফ বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। লোকজ প্রতীকের ধারায় এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে। প্রতিটি মোটিফেই প্রতিফলিত হবে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীর অনুষঙ্গ। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ এবং দেশাত্মবোধক গান শোভাযাত্রার আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। এতে অংশ নেবে ২০০ জন শিক্ষার্থী, যারা বহন করবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করবেন বর্ষবরণের গান, যা দীর্ঘদিন ধরেই এ দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। অন্যদিকে, উদীচী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোপখানা রোডে আড্ডা, গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে বর্ষবরণ করবে। বিকেল ৪টায় তাদের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য-‘বৈশাখের রুদ্র-রোষে ধ্বংস হোক সামাজিক ফ্যাসিবাদ।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘বাংলার হারিয়ে যাওয়া আনন্দ মিলে যাক বৈশাখে’-এই প্রতিপাদ্যে আর্ট পিক্স ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত পুতুলনাট্য উপস্থাপন করবে। রাজধানীর বিজয় স্মরণীর বাংলাদেশ মিলিটারি মিউজিয়াম (গেট নং-২) প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাব বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন সারাদেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করবে। এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

নববর্ষের এই প্রভাতে, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আবারও উচ্চারিত হবে বাঙালির চিরন্তন আহ্বান- নতুনের জয়, মানবতার জয়।