খুঁজুন
, ,

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে চট্টগ্রাম অবহেলিত-সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 16 January, 2020, 6:33 pm
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে চট্টগ্রাম অবহেলিত-সুজন

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক : চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরপুর চট্টগ্রাম শিল্প বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেশ বিদেশের সবার কাছেই দারুণ আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এই চট্টগ্রামেই। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি রপ্তানি ও ৬৫ শতাংশ রাজস্ব আহরিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউসের মাধ্যমে। জ্বালানি তেলের বিশাল তেলাধারসহ চট্টগ্রাম বন্দরের পাশেই দেশের অন্যতম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন সিইপিজেড, কেইপিজেড অবস্থিত।

কালুরঘাট ও মোহরা ভারী শিল্পাঞ্চল, গ্যাসফিল্ড, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজসহ সম্ভাবনাময় নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান যা চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্বকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। এত কিছু সত্বেও চট্টগ্রাম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে অবহেলিত। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান, গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার স্থাপন এবং নিয়মিত গ্যাসের সঞ্চালন লাইন রক্ষণাবেক্ষণের দাবীতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল মানব বন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদানই হোক চট্টগ্রামবাসীর জন্য মুজিববর্ষের উপহার বলে অভিমত প্রকাশ করে জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদানের জন্য কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট অনুরোধ জানান। নতুবা চট্টগ্রামের গ্যাসের গ্রাহকদের সাথে নিয়ে ঘেরাও কর্মসূচী প্রদান করা হবে।

সুজন বলেন, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ২৫০০ আবাসিক এবং ১০০ বানিজ্যিক গ্রাহকের টাকা নিয়ে কাঙ্খিত গ্যাস সংযোগ প্রদান করছে না যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশে এল.এন.জি আমদানি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের উপর দিয়ে যাওয়া এল.এন.জি’র লাইনের মাধ্যমে ৫০০ মিলিয়নের অধিক গ্যাস সারা দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন গ্যাস চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হলে চট্টগ্রামবাসী গ্যাসের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থেই বানিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করার নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর নানামূখী উদ্যোগের সুফল ইতিমধ্যে জনগন ভোগ করতে শুরু করেছে। তারপরও চট্টগ্রাম বিদ্বেষী কিছু সংখ্যক অসাধু কর্মকর্তা চট্টগ্রামের প্রতি আক্রোষমূলক আচরনের মাধ্যমে নতুন সংযোগ প্রদান না করে সরকারের বিরুদ্ধে জনগনকে ক্ষেপিয়ে তোলার অসৎ উদ্দেশ্যে লিপ্ত রয়েছে। চট্টগ্রামের গুরুত্বকে আড়াল করার এহেন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুজন বলেন চট্টগ্রামবাসীর প্রতি বিমাতাসুলভ আচরন কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরো বলেন গ্যাসের গ্রাহকগণ প্রি-পেইড মিটার নিয়ে আশান্বিত। তারপরও নগরীতে গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। প্রি-পেইড মিটারের কারণে গ্রাহকগণ ভোগান্তিতে রয়েছে। তিনি অতিসত্বর প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু করার জন্য কেজিডিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এছাড়া নগর জুড়ে স্থাপিত গ্যাসের সঞ্চালন লাইন সমূহ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও আহবান জানান।আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ হোক মুজিববর্ষে চট্টগ্রামবাসীর উপহার

তিনি নগরীর ৩৮নং ওয়ার্ডের গ্যাসের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ডিআরএস মেশিন স্থাপনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য কেজিডিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অনুরোধ করেন।

মানব বন্ধন শেষে সুজনের নেতৃত্বে নাগরিক উদ্যোগের দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আনুষ্টানিকভাবে কেজিডিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট উল্লেখিত দাবী সমূহ উপস্থাপন করেন।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক খায়েজ আহম্মদ মজুমদার গুরুত্বের সাথে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনেন।

তিনি বলেন দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দ গ্যাসের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এ উদ্যোগকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

চট্টগ্রামের আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদানের বিষয়টি তাই নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন বক্তব্য মারফত আমি আগে থেকেই অবগত আছি। আমি নিজেও হৃদয় দিয়ে গ্রাহকদের এ অসুবিধা অনুধাবন করতে পেরে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পেশ করেছি। সরকারও চট্টগ্রামের নতুন গ্যাস সংযোগের বিষয়ে খুবই আন্তরিক। মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে আবাসিক এবং বানিজ্যিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান করবে বলে আমি আশাবাদী।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে যখনই যেখানে যা প্রয়োজন তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আশা করি প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ইকনোমিক জোনের গুরুত্ব বিবেচনা করে দিকনির্দেশনামূলক সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন। সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে আমরাও তখন গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় গ্যাস সংযোগ প্রদান করতে পারবো। এছাড়া গ্রাহক ভোগান্তি দূর করতে আমরা ইতিপূর্বে প্রি-প্রেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি এবং আমাদের বরাদ্ধকৃত প্রি-পেইড মিটার আমরা স্থাপনও করেছি।

খুব দ্রুততার সাথে যাতে অবশিষ্ট প্রি-পেইড মিটার নগরীতে সরবরাহ করা যায় সেজন্য নীতিমালা অনুমোদন হয়ে গিয়েছে। নীতিমালা অনুমোদন হয়ে গেলে কেজিডিসিএল এর পাশাপাশি গ্রাহকগণ নিজেরাও প্রি-পেইড মিটার লাগাতে পারবে বলে নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাছাড়া গ্যাসের সঞ্চালন লাইন রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান যে ইতিমধ্যে নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের বাসার গ্যাস লাইনের রাইজার পরীক্ষা করণ শুরু হয়েছে এবং আমাদের এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

৩৮নং ওয়ার্ডের গ্যাসের চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিআরএস মেশিন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ইতিমধ্যে অনুমোদন হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে রাস্তা কাটার অনুমতি পেলেই ডিআরএস মেশিন স্থাপন কাজ শুরু হবে বলে নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন ইতিমধ্যে ৩৮নং ওয়ার্ডে ওয়াসার সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ঠিক একইভাবে সিটি কর্পোরেশন যদি দ্রুততার সাথে কেজিডিসিএলকে রাস্তা কাটার অনুমতি প্রদান করে তাহলে ৩৮নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসী গ্যাসের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে। তিনি দ্রুততার সাথে রাস্তা কাটার অনুমতি দানের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া গ্রাহকদের যে কোন অসুবিধায় তার দপ্তরে যোগাযোগ করার আহবান জানান।

মানব বন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ন্যাপ কেন্দ্রীয কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিটুল দাশ গুপ্ত, রাজনীতিবিদ হাজী মোঃ ইলিয়াছ, আব্দুর রহমান মিয়া, সাইদুর রহমান, নিজাম উদ্দিন, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, কেজিডিসিএল সিবিএ সভাপতি মাকসুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম, কেজিডিসিএল ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ ইকরাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন, শেখ মামুনুর রশীদ, সাহেদ বশর, জাহাঙ্গীর আলম, অনির্বাণ দাশ বাবু, হাসান মোঃ মুরাদ, রকিবুল আলম সাজ্জী, মহানগর নগর ছাত্রলীগ সভাপতি এম ইমরান আহমেদ ইমু, মোঃ ওয়াসিম, আব্দুল জাহেদ মনি প্রমূখ।

Feb2
Feb2

৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:47 am
৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:37 am
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন মেনে চলার স্বার্থে শুক্রবার (১০ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে এ আহ্বান জানানো হয়।

তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার কিংবা অডিও-ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তাই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের ভাষণ, বিবৃতি বা বক্তব্য (সরাসরি কিংবা ধারণকৃত) টেলিভিশন, বেতার, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

সরকার প্রত্যাশা করে, দেশের সব গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং নাগরিকবৃন্দ প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং তা প্রতিপালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:28 am
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রায় সারাদিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।