খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদেশগামীদের করোনা নমুনা পরীক্ষায় বিলম্ব এবং ভুল রিপোর্টের দায় সিভিল সার্জন অফিসকেই বহন করতে হবে : সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২০, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
বিদেশগামীদের করোনা নমুনা পরীক্ষায় বিলম্ব এবং ভুল রিপোর্টের দায় সিভিল সার্জন অফিসকেই বহন করতে হবে : সুজন

রেমিটেন্স যোদ্ধা খ্যাত বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগীদের তীব্র অসন্তোষ, ভুল রিপোর্ট এবং নমুনা পরীক্ষার সনদ বিলম্বের কারণে ফ্লাইট মিসসহ বিভিন্ন অসুবিধার অভিযোগ পেয়ে আজ বুধবার (২৯শে জুলাই ২০২০ইং) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি’র সাথে তাঁর আন্দরকিল্লাস্থ কার্যালয়ে স্বাক্ষাত করতে যান।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, রেমিটেন্স যোদ্ধারাই বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বিদেশে কর্মরত হাজার হাজার প্রবাসী ছুটি বা বিভিন্ন উপলক্ষ্যে দেশে এসে বৈশ্বিক মরনঘাতি করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট যোগাযোগ অচলাবস্থার শিকার হয়ে দেশে আটকা পড়েন।

অচল অর্থনীতিকে সচল করার জন্য মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ কিছু দেশে সীমিত আকারে আকাশ যোগাযোগ চালু করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে আটকাপড়া প্রবাসীদের বিদেশ যাত্রার ব্যবস্থা করেন। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে বিমান চলাচল করতে গিয়ে ভাড়া প্রায় দেড়গুন বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোর ইকোনমি ক্লাসের টিকেট মূল্যও অফেরতযোগ্য। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে করোনা নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক।

সরকার সবকিছু বিবেচনা করে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ দেশে কয়েকটি বিশেষ নমুনা পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করে। এতে প্রতিজন যাত্রী ৩৫০০ টাকার বিনিময়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট লাভ করার নির্দেশনা দেন।

কিন্তু দুঃজনকভাবে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কেন্দ্রটিতে চরম অব্যবস্থাপনার সাথে বিলম্ব রিপোর্ট প্রদানের কারণে অনেকে ফ্লাইট মিসের ফাঁদে পড়ে বিদেশ যাত্রা মিসের শিকারে পরিণত হন। এতে করে রেমিটেন্সযোদ্ধারা আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগের শিকার হন। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ভোগান্তির কারণ এবং এর দায় কে নেবেন তাও জানতে চান তিনি।

সুজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক করোনার নমুনা পরীক্ষায় অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি বেসরকারি প্যাথলজি উচ্চহারের ফিস নিয়ে ভুল রিপোর্ট প্রদানের ব্যাপারে সিভিল সার্জনের দৃষ্টি আকর্ষন করে ঐ বেসরকারি প্যাথলজি নমুনা পরীক্ষায় নিম্নমানের কীট কিংবা আনাড়ি টেকনিশিয়ান ব্যবহার করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান।

তিনি আরো বলেন, বিশেষ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ফি দিয়ে যদি কোন প্রবাসী যাত্রী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার রিপোর্ট না পান সেক্ষেত্রে তার ফ্লাইট টিকেটের অফেরতযোগ্য মূল্য ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষতির দায় সিভিল সার্জন অফিসকেই নিতে হবে।

তিনি রিপোর্ট প্রদানে আগতদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিভিল সার্জনকে অনুরোধ জানান। প্রয়োজনে আইন শৃংখলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার আহবান জানান।

এর আগে জনাব সুজন সিভিল কার্যালয়ে প্রবেশের সময় দেখতে পান ফিস জমাদান, নমুনা প্রদান ও রিপোর্ট গ্রহনের কাউন্টারসমূহে প্রায় শতাধিক লোক একজনের কাঁধের সাথে অন্যজনের কাঁধ ঘেষে জটলা করে আছে। নেই কোন সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন অফিসের কোন কর্মকর্তা কর্মচারীর তৎপরতাও লক্ষ্য করা যায়নাই।

তিনি উপস্থিত সেবা গ্রহনেচ্ছুদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানালে প্রায় সকলেই তার অনুরোধ সাড়া দেন।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন বিদেশগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরে করোনা নেগেটিভ সনদ দেখানো বাধ্যতামূলক। তবে দুর্ভাগ্যবশত বেশ কয়েকজন প্রবাসী যাত্রীর করোনা নমুনা পরীক্ষার সনদ বিলম্বে পাওয়া গিয়েছে যে কারণে প্রথমেই দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সার্ভার সমস্যার কারণে বিআইটিআইডি মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের রিপোর্ট অনলাইনে আপলোড করতে পারেনি। ডাটা এন্ট্রি করতে বিলম্বের কারণে এ সমস্যা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে বেশ কয়েকজন যাত্রী বিমান ধরতে পারেনি। বর্তমানে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি প্রতিদিন ২৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করছে এবং এর অতিরিক্ত হলে সে সকল নমুনা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নমুনা পরীক্ষায় ঢাকা থেকে ৪ জন টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিচ্ছে জেনারেল হাসপাতাল যাতে করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই করোনা নমুনা পরীক্ষার সনদ পাওয়া যায়।

তাছাড়া নমুনা পরীক্ষার সনদ প্রাপ্তিতে যে সমস্যা ছিল তা কেটে গিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন এখন সনদ প্রাপ্তিতে আর কোন সমস্যা নেই।

তিনি নমুনা পরীক্ষায় জটলা, সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সুজনের উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলো নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহমান মিয়া, সংগঠনের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, মোরশেদ আলম, মোঃ শাহজাহান, সমীর মহাজন লিটন, মনিরুল হক মুন্না, উৎপল দত্ত প্রমূখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ভারত থেকে ২০০ ব্রডগেজ কোচের ক্যারেজ রেলের বহরে যুক্ত হবে : রেলমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
ভারত থেকে ২০০ ব্রডগেজ কোচের ক্যারেজ রেলের বহরে যুক্ত হবে : রেলমন্ত্রী

২০২৬ সাল থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১২তম দিন টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।

ফরিদপুর-১ সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা লিখিত প্রশ্ন রেখে বলেন, ঢাকা-কমলাপুর থেকে ফরিদপুর-রাজবাড়ী হয়ে মধুখালি, বোয়ালমারী দিয়ে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত কোনো রেলগাড়ি পরিচালনা করার পরিকল্পনা আছে কিনা?

জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে এই বছরে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ভারত থেকে ২০০ ব্রডগেজ কোচের সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ২০০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ বাংলাদেশ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হবে মর্মে আশা করা যায়। ক্যারেজগুলো সরবরাহ পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে রুট নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করছে। তাছাড়া আন্তঃনগর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাটল-২-এর মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী এসে আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াত করার সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে ইঞ্জিন, কোচ ও ক্রুর অভাবে ১৯টি মেইল/কমিউটার ও ২১টি লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে এবং প্রতিদিন ৭/৮টি মালবাহী ট্রেন পুশব্যাক হচ্ছে।

পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলসহ দেশের ১০টি জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলসহ বাংলাদেশের ১০টি জেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থেকে কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করবেন।

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।