খুঁজুন
, ,

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 12 May, 2026, 3:11 pm
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান

শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কিনা? এমন একটি প্রশ্ন অনেকের আলোচনা ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছুতে পারেনি।’

মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ : রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, র‍্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায়? এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদরা নিশ্চই আরও চিন্তা-ভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এইসব উন্নততর প্রযুক্তি একদিকে আমাদের আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। অপরদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজারে বেকারত্ব বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থান।’

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্থ বিদ্যা এবং সার্টিফিকেটে নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্ত বিদ্যা এবং সার্টিফিকেটে নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়। বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সঙ্গে বায়োলজি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।’

শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চ শিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত, একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিত মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মনে করে, প্রাথমিক সিলেবাসে থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।

বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর জন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে তাকে আর বেকার থাকতে হবে না।

‘কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে একজন শিক্ষার্থী চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আরও কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনষ্টিটিউট’, ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ এ ধরনের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শুধু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ লেখক টম উইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আজকের এই কর্মশালার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্রিটিশ লেখক টম উইন, যিনি বিশেষ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট অ্যান্ড এনালিস্ট হিসেবে স্বনামধন্য, তার একটি বিখ্যাত মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে। তিনি বলছেন, ‘বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই। বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না। বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইনে বিজনেস প্ল্যাটফর্ম আলিবাবার কোনো মজুদ পণ্য নেই। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রোভাইডার এয়ার বিএনবির নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই।’

অর্থাৎ ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা যার যার ক্ষেত্রে বিশ্ব শাসন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত : এক একটি ‘স্মার্ট ইন্টারফেস’। তারা সেবা দিচ্ছে না, বরং যারা সেবা দিতে চায় এবং যারা সেবা নিতে চায়, তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসছে। এটিই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান।

‘শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গবেষণা এবং উদ্ভাবন’ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন, “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে বিদেশে জ্ঞানে বিজ্ঞানে অর্থ-বিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেইসব অ্যালামনাইদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।

মেধাভিত্তিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামর্থ্য সীমাহীন না হলেও সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই।

ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর হাজারও প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়।

তিনি বলেন, জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকেও আলোকিত করবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকতাকে আমরা অবশ্যই আলিঙ্গন করবো।

‘তবে আমরা যেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি, আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী তথা সব শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এই কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

Feb2
Feb2

জলাবদ্ধতা নিরসনে সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 7:24 pm
জলাবদ্ধতা নিরসনে সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর সমন্বিত বাস্তবায়ন, খালের দুই পাড়ে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সামষ্টিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম শামস, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত কাজগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হলেও সামগ্রিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য এলাকায় নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীর বড় খালগুলোর উন্নয়নের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে মানুষের হাঁটাচলার উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের বিষয়টিও চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটাচলা, সাইকেল চালানো, শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। খালকেন্দ্রিক উন্নয়নকে শুধু পানি নিষ্কাশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

নগরীর পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণ নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বায়ুদূষণ কমাতে সহায়ক হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, সবুজায়ন, হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক, সবকিছুকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রামকে আরও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসা, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের অপচয় কমবে, কাজের গতি বাড়বে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর নালা খাল পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। বর্ষার আগে নালা ও খালের উন্নয়ন ও পরিষ্কার কার্যক্রমের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেসব খালের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট ১৩০টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি খালের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৪১টি খাল উন্নয়নের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অবশিষ্ট খালগুলোর উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে খালগুলোর উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়র জানান, বিমানবন্দর এলাকায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে, যা দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে খালকেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের চলাচলের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা ও পানি নিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল এবং পানি সংরক্ষণের স্থানগুলোকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সভায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই চলমান প্রকল্পগুলোর সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত ও সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি। চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৩০টি খালের মধ্যে ৩৭টি সংস্কার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে অবশিষ্ট খালগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কারকাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীতে স্থাপিত স্লুইসগেট ও রেগুলেটরগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

আউটার রিং রোড প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, কালুরঘাট পর্যন্ত প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীর তীরবর্তী এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামছুল আলম শামস বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্প প্রায় শেষের পথে। প্রকল্পটি শেষ হলে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তবে, প্রকল্পের বাহিরে থাকা খালগুলোও খনন করতে হবে এবং সংস্কারের পর রক্ষণাবেক্ষণে জোর দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্প ও স্লুইসগেট স্থাপন করলেই হবে না, এগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে মানুষ ও যানবাহনের আশ্রয়ের উপযোগী উঁচু জায়গার সংকট দেখা গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত এক কিলোমিটার রাস্তা তুলনামূলক উঁচু করে নির্মাণের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অবকাঠামো বন্যার সময় মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হেলিকপ্টার অবতরণ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুযোগও রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে স্লুইসগেট ও রেগুলেটর পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর দুপাশে অন্তত দুটি সংযোগকারী ‘ক্রস খাল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মহেশখাল সম্প্রসারণসহ এ ধরনের খাল নির্মাণ ও সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি নৌচলাচলের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া রোধে ভবিষ্যতে সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে আর্চ ব্রিজের নকশা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, হালিশহরে সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ আগামী বছর শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গৃহস্থালি বর্জ্যপানি সরাসরি ড্রেনে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নগরীর পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘমেয়াদি পানি সরবরাহ পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আগামী ১০০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পানি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক এলাকার জন্য সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে দৈনিক ১০০ কোটি লিটার পানি শোধনের একটি প্রকল্প গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, অতি: বিভাগীয় কমিশনার মনোয়ারা বেগম, জলাবদ্ধতার মেগা প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মহসিন, সিএমপির অতি: কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ হাইড্রোগ্রাপার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বিভাগের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল তারিকুল আলম, চসিকের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার খালেদ, সিটি রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকি মাসুদ সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।

দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসব, সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে চাই: আমীর খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 7:14 pm
দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসব, সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে চাই: আমীর খসরু

দুর্গাপূজা এখন আর শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব মানুষের সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরের জেএমসেন হলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি বাংলাদেশের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পূজার আনন্দ ও উৎসবে অংশ নিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে একটি দেশ গড়তে চাই। সেই দেশে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নয়, সবাই সমান সুযোগ পাবে। সবার অংশগ্রহণে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।

সামাজিক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি সমাজেই কিছু দুষ্ট লোক থাকে। তারা যেন মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ঐক্য নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এবার দুর্গাপূজার বেশ আগেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বস্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির পরিবেশ থাকলে এমন আনন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চায়। ছোটখাটো অসুবিধা থাকতে পারে। তবে সেগুলোকে বড় করে না দেখে দেশের সামনে থাকা সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সভাপতি বক্তব্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক
মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রামে যখন বন্যা হয়েছিল, তখন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে থাকা যেমন আমাদের দায়িত্ব, তেমনি বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেও মানুষের পাশে থাকা আমাদের অঙ্গীকার। আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবের আয়োজনেও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ আপনাদের পাশে রয়েছে। আমরা চাই, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে এবং আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা সম্প্রীতি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা.শাহাদাত হোসেন। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী রওশন ইসলাম, চট্টগ্রাম ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন শ্রী হরিশ কুমার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, আশীর্বাদক শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ তপনানন্দ গিরি মহারাজ, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, বেসরকারি কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস,হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী রাজীব ধর তমাল ও চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রমুখ।

সাইকেল চালানো সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 2:50 pm
সাইকেল চালানো সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাইকেল চালানো শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়। বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। সাইক্লিং পরিবেশবান্ধব এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাইকেল চালানোর জন্য নিরাপদ ও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়িত্বের অংশ।

তিনি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কে (ভিআইপি রোড) বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্মিত এই সাইকেল ট্র্যাক নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অনুষ্ঠানে নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

এসময় আমীর খসরু বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে সাইকেল চালানো ও হাঁটার সুযোগ বাড়াতে মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিমানবন্দর সড়কের এই সাইকেল ট্র্যাক কেবল শুরু। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ শরীরচর্চা, বিনোদন ও দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নাগরিকদের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদার অংশ। মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই নগরীর খালের দুই পাড়সহ উপযুক্ত জায়গাগুলোতে হাঁটার পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ চট্টগ্রাম নগরীর জন্য একটি গর্বের অর্জন। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার পথ নির্মাণ এবং দুই পাশের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়ককে আরও নান্দনিক করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাগরিকদের জন্য সাইক্লিং ও হাঁটার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর পরামর্শ ও উৎসাহ এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মন্ত্রীর সংসদীয় এলাকা থেকে এই কার্যক্রম শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে বড় সড়কের পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক উন্নয়নেও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। খালের দুই পাড়ে প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর সুবিধা ও সবুজায়ন করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসীর শরীরচর্চার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

নগরীর উন্নয়ন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেগুলো রক্ষা করার দায়িত্বও সবার। সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে যেন অবৈধ দখল, স্থাপনা কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে না পড়ে, সে জন্য চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি গাছপালার পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

মেয়র আরও জানান, বিমানবন্দর সড়ক থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে আরসিসি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের ভারী যানবাহনের চাপ সামলানো এবং সড়কের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাইক্লিস্ট ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।