খুঁজুন
বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলায় আসামি মো. আবীরকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় দেন।

এ সময় আদালতে আসামি আবির উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, আসামি আবীর আলী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হ‌ওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১ লাখ অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর নৃশংস, নির্মম ও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ক্রাইম পেট্রোল থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।’

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় এই দিয়েছেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে উঠে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির। ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার খণ্ডিত মরদেহ সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মো. আবির ও তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। তিনি কিশোর হওয়ায় আলাদাভাবে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

Feb2

মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় মৌলভীবাজারের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, নাসির উদ্দিন আহমেদসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মৌলভীবাজারে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ১৫৫ জন উপকারভোগীকে পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের সঙ্গেসঙ্গেই উপকারভোগী এই টাকা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ভাতার অর্থ পৌঁছে যায়।

পরে অনুষ্ঠান মঞ্চে ১৫৫ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া, বিশেষ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্যান্সার, কিডনি, লিভার, সিরোসিস, স্টোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক অনুদান, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় দক্ষতা প্রশিক্ষণ অনুদান, ক্ষুদ্র জাতিস্বত্বা ও নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে এককালীন আর্থিক অনুদান, নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান, চা শ্রমিকদের জন্য টেকসই আবাসনের বরাদ্দপত্র অনুদানের চেক উপকারভোগীর মধ্যে বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী গিতা রাণী কর জানান, ফ্যামিলি কার্ডের টাকা দিয়ে বাচ্চার লেখাপড়ার খরচ চালাবেন। একইসঙ্গে হাঁস-মুরগি কিনে লালন-পালন করে স্বাবলম্বী হবেন। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

১৮ ঘণ্টা পানি সরবরাহ বন্ধ থাকবে চট্টগ্রামের যেসব এলাকায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
১৮ ঘণ্টা পানি সরবরাহ বন্ধ থাকবে চট্টগ্রামের যেসব এলাকায়

চট্টগ্রাম নগরের হিজড়া খালের কাপাসগোলা ব্রিজের নির্মাণকাজের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার ৪৫০ মিলিমিটার ব্যাসের এমএস পাইপলাইনের অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের কাজ করা হবে। এ কারণে আগামী রোববার (২১ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১৮ ঘণ্টা কালুরঘাট বুস্টার পাম্প স্টেশন শাটডাউন (বন্ধ) রাখা হবে।

বুধবার (১৭ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালের কাপাসগোলা ব্রিজের কাজের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় আরাকান রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকা, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, নবাব সিরাজদ্দৌলা রোড ও আশপাশের এলাকা, চকবাজার, চন্দনপুরা, বাকলিয়া, আন্দরকিল্লা, খাজা রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকা, শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক ও আশপাশের এলাকা, কেবি আমান আলী রোড, রাহাত্তারপুল, মিয়া খান নগর রোড, কালামিয়া বাজার, করলক আবাসিক, তুলাতলী ও রাজাখালী এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হবে।

সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আগাম প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি সংরক্ষণ করে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কারসাজি সন্দেহে তিন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন তদন্তের নির্দেশ বিএসইসির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ
কারসাজি সন্দেহে তিন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন তদন্তের নির্দেশ বিএসইসির

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের মাধ্যমে সম্ভাব্য কারসাজির অভিযোগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিগুলো হলো রাষ্ট্রায়ত্ত শ্যামপুর সুগার মিলস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিএনআইসিএল) এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইলস লিমিটেড।

বিএসইসির সার্ভেইলেন্স বিভাগ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) পৃথক তিনটি চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে কমিশন।

গত মাস থেকে এসব কোম্পানির শেয়ারের দর অস্বাভাবিকভাবে বড়ছিল। বিএসইসির পর্যবেক্ষণেও কোম্পানিগুলোর শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্য পরিবর্তন ও লেনদেনের আচরণ ধরা পড়েছে। এ কারণে ডিএসইকে বিস্তারিত তদন্ত করে সম্ভাব্য কারসাজি, সমন্বিত বা কৃত্রিম লেনদেন এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

তদন্তের আওতায় সমন্বিত বা অপ্রকৃত লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং সংঘটিত হয়েছে কি না, মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত বিধি ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের (এআর) ভূমিকা এবং অন্য কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

শ্যামপুর সুগার মিলসের ক্ষেত্রে তদন্তে বিশেষভাবে বারাকা সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও স্মার্ট শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ভূমিকা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে কি না বা কোনোভাবে সহায়তা করেছে কি না, তাও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং অনুমোদিত প্রতিনিধিদের সন্দেহজনক লেনদেন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির নির্দেশও দিয়েছে বিএসইসি।

কমিশনের মতে, এ ধরনের লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০ এর বিধান লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

লোকসানী সোনারগাঁও টেক্সটাইল একমাসে দ্বিগুণ দামে

এদিকে ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, লোকসানী সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারদর এক মাসে দ্বিগুণ হয়েছে। গত ১৭ মে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৪০ টাকা ১০ পয়সা। এক মাসেরও কম সময় পর আজ মঙ্গলবার তা বেড়ে ৮৪ টাকায় পৌঁছেছে। কোম্পানিটির শেয়ারদরের কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল ডিএসই। তবে গত ২ জুন কোম্পানিটি জানায়, সাম্প্রতিক দর বৃদ্ধি ও লেনদেনের পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।

কোম্পানিটির আর্থিক চিত্রও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটি ৫০ লাখ টাকা লোকসান করেছে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৯ পয়সা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা লোকসান করে। ফলে ওই বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাত্র ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর আগে ২০১৯ সালে মাত্র ৩ শতাংশ এবং ২০২২ সালেও ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

২৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা। ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত বি ক্যাটাগরির সোনারগাঁও টেক্সটাইলের উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানায় ৪৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অধীনে ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫১ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

বন্ধ শ্যামপুর সুগার মিলেও অস্বাভাবিক উত্থান

দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ ও জেড ক্যাটাগরির রাষ্ট্রায়ত্ত শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারদর গত ১৭ মে ১৩৯ টাকা ২০ পয়সা ছিল। কয়েকদিনের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়ে গত ১১ জুন ২৩৮ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠে যায়। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এদিন শেয়ারটির লেনদেনও স্থগিত করেছিল ডিএসই। যদিও আজ মঙ্গলবার লেনদেন শেষে এটি ১৯৬ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে এসেছে।

এর আগে দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে গত ৮ জুন চিঠি দেয় ডিএসই। ১০ জুন চিঠির জবাবে কোম্পানিটি জানায়, দর বৃদ্ধি ও লেনদেনের পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।

দীর্ঘ বছর লোকসানে থাকা কোম্পানিটির সর্বশেষ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১২ টাকা ৪৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই লোকসান ছিলো ১৪ টাকা ৯৬ পয়সা। ব্যাংক ঋণের সুদ ও পরিচালন ব্যয় কমে আসায় লোকসানও কিছুটা কমেছে।

ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সে মুনাফা বাড়লেও দরবৃদ্ধি অস্বাভাবিক

আরেক কোম্পানি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত ১৭ মে শেয়ারটির দর ছিল ৮২ টাকা ৭০ পয়সা, যা বেড়ে ৯ জুন ১১৬ টাকা ১০ পয়সায় ওঠে। পরে কিছুটা কমে গতকালের লেনদেন শেষে দাঁড়ায় ১০৮ টাকা ৩০ পয়সায়।

২০১৬ সালে তালিকাভুক্ত এ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বেড়ে ১ টাকা ৬১ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৬ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ২ টাকা ৫৯ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৭৮ পয়সা। এছাড়া ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ৮৭ পয়সা।

তবে আর্থিক সূচকে উন্নতি থাকলেও বর্তমান দরবৃদ্ধি স্বাভাবিক নয় বলে মনে করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাই অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি ও লেনদেনের কারণ অনুসন্ধানে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সম্প্রতি তিন কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে। বিষয়গুলো আমরা তদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। স্টক এক্সচেঞ্জ এ বিষয়ে তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেবে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।