খুঁজুন
, ,

শুভ জন্মদিন মাশরাফি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 October, 2019, 10:08 am
শুভ জন্মদিন মাশরাফি

.jpg

মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। তারই হাত ধরে নতুনভাবে পথ চলতে শুরু করেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। দেশের ক্রিকেটকে যিনি নিয়ে গেছেন সম্মানজনক এক উচ্চতায়। সেই লড়াকু সৈনিক বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক,বর্তমান সাংসদ নড়াইল এক্সপ্রেসখ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজার শুভ জন্মদিন আজ।

১৯৮৩ সালের আজকের এই দিনে নড়াইলের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা। তবে শুধু মাশরাফিরই নয়, মজার বিষয় হলো ছেলে সাহেলের জন্মও একই দিনে। ২০১৪ সালের এই দিনে ঢাকায় জন্ম হয় তার ছেলে সাহেলের। একই দিন পিতা-পুত্রের জন্মদিন।

ব্যাট আর বল হাতে টিম টাইগারদের নেতৃত্বদানকারী এ ক্যাপ্টেন ইতোমধ্যে পার করে ফেলেছেন ৩৬টি বসন্ত। আজ শনিবার তার ৩৭তম বসন্তে দিলেন।

মাশরাফি ও ছেলে সোহেলর আজ একই দিন জন্মদিন

মাশরাফি প্রতিটি পদক্ষেপ হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় সবার, তার একটুখানি থেমে যাওয়ায় থেমে যায় পুরো দেশ। বল হাতে তিনি দৌড়ালে আনন্দে উদ্ভাসিত হয় প্রতিটি মানুষ। সাধারণ মানুষকে কেউ পছন্দ করে, কেউবা অপছন্দ করে। এটাই স্বাভাবিক। তবে এই মানুষটিকে অপছন্দ করে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তিনি কোটি বাঙালির ভালোবাসার মানুষ।

ডানহাতি ব্যাটসম্যান, বোলিংয়ের ধরন ডানহাতি মিডিয়াম পেশ বোলার মাশরাফি। এ দেশের ক্রিকেটকে অন্যতম এক স্তম্ভে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্বের দাবিদার যে মানুষগুলো তাদের মধ্যে অন্যতম একজন মাশরাফি। ডাক নাম কৌশিক হলেও ম্যাশ, সুপারম্যাশ, নড়াইল এক্সপ্রেস, পাগলা, গুরু… এমন হরেক নামেই ভক্তকুলের কাছে পরিচিত তিনি।

নানাবাড়িতেই মাশরাফির বড় হওয়া। নিজের বাসা থেকে নানাবাড়ি ৫ মিনিট দূরত্বের হওয়ায় বিশেষ কোনো অসুবিধাও হয়নি থাকতে। খেলার প্রতি মাশরাফির আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকে। বাড়ির পাশের স্কুল মাঠে বড়দের ক্রিকেট খেলতে দেখে ক্রিকেটের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় তার। দাঁড়িয়ে থাকতেন উইকেট কিপারের পাশে। ছোট মানুষ আহত হবে ভেবে বড়রা তাকে সরিয়ে দিত। হয়ত তখন থেকেই শিশু মাশরাফি ভবিষ্যতের চিত্রপটে সাজাতেন বাংলাদেশ ক্রিকেট জগতকে!

ফুটবল আর ব্যাডমিন্টন বেশ পছন্দ করতেন মাশরাফি। পছন্দের কাজের তালিকায় ছিল চিত্রা নদীর বুকে দাপিয়ে বেড়ানো আর সাঁতার কাটা। বাইক চালাতে ভালো লাগে মাশরাফির। আর তাইতো প্রায়ই নড়াইলের স্থানীয় ব্রিজের এপার ওপার বাইকে চক্কর দেন। নিজের শহর, শহরের মানুষগুলোকে ভীষণ ভালোবাসেন মাশরাফি। প্রতিদানে নিজেও পেয়েছেন নিখাদ ভালোবাসা। তাইতো নড়াইলে খ্যাতি মিলেছে ‘প্রিন্স অব হার্টস’ উপাধির।

যার বোলিং নৈপুণ্যে বার বার হতবাক হই আমরা সেই মাশরাফি কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে পছন্দ করতেন ব্যাটিং। যদিও বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম সারির উইকেট শিকারি বোলার তিনি এবং সমর্থকদের কাছে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত।

২০০১ সালে টেস্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে মাশরাফির। ২০০৯ পর্যন্ত এই ফরম্যাটে খেলেছেন মোট ৩৬টি ম্যাচ। আদায় করেছেন ৭৮টি উইকেট। অবসরের ঘোষণা না দিলেও টেস্টে হয়তো আর ফিরবেন না তিনি।

একই বছর ওয়ানডেতে অভিষেক ঘটে এই গতি তারকার। সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল পর্যন্ত ২১৭টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে তুলে নিয়েছেন ২৬৬টি উইকেট। ২০১৭ সালে টি-টোয়েন্টিতে অবসর নেওয়া মাশরাফির সংগ্রহ ৫৪ ম্যাচে ৪২টি উইকেট।

শরীরের জোর থেকে যার মনের জোর বেশি তিনি মাশরাফি। নিজের প্রচণ্ড কঠিন মানসিক শক্তির বলে বার বার থেমে গিয়েও আবার সামনে এগিয়েছেন। ইনজুরি নামক ক্যারিয়ারঘাতী বিপদকে অভিষেক থেকে সঙ্গী করে চলছেন এই পেশার। বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন ইনজুরিকে। হাসপাতালের ভয়ানক ছুরি-কাঁচি আর সার্জারিকে তোয়াক্কা না করে বারবার নামছেন সবুজ গালিচার মাঠে। দৌড়ে যাচ্ছেন নিজের দলের জন্য, নিজের দেশের জন্য।

কোনো দলের বিপক্ষে যত বার মাঠে নেমেছেন তার চেয়ে বেশি বোধহয় দাঁড়িয়েছেন ইনজুরির বিপক্ষে। কতশত বার যে মাশরাফি ইনজুরিতে কাতরাতে কাতরাতে মাঠ ছেড়েছেন তার হিসেব করলে ভুল করবেন যে কেউ। তবু বারবার ফিরে এসেছেন তিনি, নতুন শক্তিতে, নতুন উদ্যমে। অবশ্য যে মানুষটির প্রতিটি হৃৎস্পন্দন জুড়ে দেশ আর দেশের মানুষ, এমন দুঃসাহস তো তাকেই মানায়!

বার বার বাদ পড়ে দলে ফেরত আসার জন্য ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকে ‘কামব্যাক কিং’ নামে ডাকা হর। বার বার ইনজুরিতে পড়েও বীরদর্পে প্রত্যাবর্তন করা মাশরাফিকে তবে কী বলে ডাকা উচিত?

মাশরাফির চিকিৎসক অস্ট্রেলিয়ান শল্যবিদ ডেভিড ইয়াং। ২০০৩ সাল থেকে মাশরাফির দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। প্রতিবার মাঠে খেলতে নামেন মাশরাফি আর চমকে ওঠেন ডেভিড। অবিশ্বাস্য চোখে বলে ওঠেন, এও কী সম্ভব! এমন ইনজুরি থেকে সদ্য সেরে ওঠা একজন মানুষ কিনা ফাস্ট বোলিং করছে! রান বাঁচাতে হুট-হাট লাফঝাঁপ দিচ্ছে! তিনি হতবাক হয়ে যান আর পরের বার মাশরাফি ফের ইনজুরিতে পড়লে হয়ত মনে মনে হেসে বলেন, আমাকে আরেক বার হতবাক কর, পাগলা। বার বার অবাক করে দাও।

আসলে ইনজুরিতে পড়ে বারবার ফিরে আসার মন্ত্র জানেন মাশরাফি। সেই অদৃশ্য মন্ত্রের জোরে জয় করেন সব বাঁধা। দেশের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে জিতেছেন, দলকে জিতিয়েছেন। আর তাইতো মাশরাফি কেবল ক্রিকেটার পরিচয়ে আটকে থাকেন না। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে যান সুপারম্যানের মতো সুপারম্যাশ। হয়ে ওঠেন অনুপ্রেরণা আর সাহসের উৎস।

কী মন্ত্রের জোরে ইনজুরিতে পায়ের নিচে পিষে খেলেন মাশরাফি? তিনি নিজেই জবাব দেন, ‘বার বার ইনজুরি থেকে ফিরে আসার প্রেরণা পাই, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে। এমনও ম্যাচ গেছে আমি হয়তো চোটের কারণে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলাম না। দুই তিনটা বল করেই বুঝতে পারছিলাম সমস্যা হচ্ছে। তখন তাদের স্মরণ করেছি। নিজেকে বলেছি, হাতে-পায়ে গুলি লাগার পরও তারা যুদ্ধ করেছিলেন কীভাবে? তোর তো একটা মাত্র লিগামেন্ট নেই! দৌড়া…’

এই পাগলা আসলেই দৌড়ে যাচ্ছে। কাঁধে তার দেশের মানুষের ভালোবাসার বেশ বড় বোঝা নিয়েই দৌড়ে চলছে অবিরত। মাঠে সঙ্গীদের পরামর্শ দিচ্ছেন, এক সঙ্গে আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ছেন, প্রয়োজনে একটু শাসনও করে নিচ্ছেন বড় ভাই বা অভিভাবক হিসেবে। ড্রেসিং রুমের বারান্দা থেকেও মাঠে থাকা সতীর্থদের নানা অঙ্গভঙ্গিতে সাহস দিচ্ছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন। তা লুফেও নিচ্ছেন সবাই। গুরুর চোখের ভাষা, হাতের ভাষা সবকিছু যে মুখস্থ সবার!

২০১৪ সালের এই দিনে মাশরাফি বিন মর্তুজা-স্ত্রী সুমনা হক সুমির কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে আসে ছেলে সাহেল।

বাবা ও ছেলের জন্য ‘২৪ ঘন্টা নিউজ’ পরিবার থেকে রইলো জন্মদিনের অকৃত্রিম শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। শুভ জন্মদিন মাশরাফি, শুভ জন্মদিন সাহেল। খেলে যাক মাশরাফি, জিতে যাক তার পাহাড়সম মানসিক মনোবল। আমাদের ক্রিকেট ট্রফি হিসেবে মাশরাফি বিন মুর্তজা আলোকিত করে রাখুন ক্রিকেটাঙ্গনের সাজানো শোকেস।

 

 

Feb2
Feb2

তামিম বললেন ‘তানজিদ বগুড়ার’, প্রধানমন্ত্রীর জবাব ‘ও বাংলাদেশের ছেলে’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 August, 2026, 1:49 pm
তামিম বললেন ‘তানজিদ বগুড়ার’, প্রধানমন্ত্রীর জবাব ‘ও বাংলাদেশের ছেলে’

বাংলাদেশ দল যখন অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কলে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন তামিম ইকবাল। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটি কথোপকথন বেশ আলোচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ ও তানজিদ হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের কর্মব্যস্ততার ফাঁকেই তৎক্ষণাৎ ক্রিকেটারদের সাথে ভিডিও কলে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ক্রিকেটারদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

তারেক রহমানের বাড়ি বগুড়ায়, তানজিদেরও বাড়ি একই জেলায়। সেই কথাই প্রধানমন্ত্রীকে উল্লেখ করেন তামিম। তানজিদের সঙ্গে তারেক রহমান কথা বলার সময় বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হস্তক্ষেপ করে বলেন, ‘ও তানজিদ হাসান, বগুড়ার ছেলে, সেঞ্চুরি করেছে।’ সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিসিবি সভাপতিকে সংশোধন করে দিয়ে বলেন, ‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে। সে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে, বগুড়াকে না।’

এ সময় ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অপেক্ষা করছি আপনাদের স্বাগত জানানোর জন্য। সবার শরীর ভালো আছে তো? একটু (ক্লান্তি) হবে স্বাভাবিক। গরম কেমন ওখানে? ভালো গরম? দেশের মতো? আসেন আপনারা সুস্থভাবে। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

সরকার প্রধান বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল তারা।

বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 August, 2026, 1:36 pm
বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি বলেন, আজকে এখানে যে মাছ অবমুক্ত করা হলো, এই মাছগুলো যখন বড় হবে, ডিম পাড়বে, বিভিন্ন খালে-বিলে ঢুকবে, তখন উপকার কাদের হবে? লন্ডনের মানুষের উপকার হবে নাকি জাপানের মানুষের উপকার হবে? উপকার হবে বাংলাদেশের মানুষের।

রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষ ও গ্রামের মানুষের কল্যাণ। জনগণ বিগত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপিকে বিজয়ী করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিটাই হচ্ছে এমন একটি রাজনীতি, যেই রাজনীতি বাস্তবায়ন করলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে, গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। এই রাজনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে তারা খাল খননের কর্মসূচি শুরুর কথা বলেছিলেন। সরকার গঠনের পর আল্লাহর রহমতে সারা দেশে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। পাশাপাশি খালের আশপাশের এলাকার মানুষও পানির সুবিধা পাচ্ছেন।

তারেক রহমান বলেন, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, খালের পানি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। কৃষিতে সেচ সুবিধার পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়াতেও এসব জলাশয় কাজে লাগাতে হবে।

তিনি জানান, আজ ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন নদী ও বড় বড় খালে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে মাছ আহরণের মাধ্যমে দেশের মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণে সহায়তা হবে।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে পিছিয়ে রেখে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার সময় নারীদের শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার অংশীদার করতে হবে। নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক মানুষ করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। মাছের পোনা অবমুক্তকরণকে ঘিরে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো.শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি মো. ফজলুর রহমান প্রমুখ।

অনুকূল পরিবেশ না হ‌লে ভারত যাবেন না প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 16 August, 2026, 1:19 pm
অনুকূল পরিবেশ না হ‌লে ভারত যাবেন না প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমা‌নের ভারত সফ‌রের আগে অনুকূল পরিবেশ তৈ‌রির তা‌গিদ দি‌য়ে‌ছে বাংলা‌দেশ। ঢাকার চাওয়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত প্রত্যর্পণ চু‌ক্তির মাধ্যমে ফেরত এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির স‌ন্দেহভাজন হত্যাকারী‌দের প্রত্যর্পণ কর‌বে দেশ‌টি।

রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে এক সং‌ক্ষিপ্ত ব্রিফিং‌য়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের মুখাপত্র এ কে এম শহীদুল করিম প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নি‌য়ে সরকা‌রের এ অবস্থান তু‌লে ধ‌রেন।

মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশ এবং ভারতের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারতে একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের সম্ভাবনা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ত‌বে সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের ফলে এই প্রক্রিয়াটি বিঘ্নিত হয়েছে, যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

শহীদুল করিম ব‌লেন, আমরা এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি যে, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণে যেন আমাদের অনুরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।

তি‌নি ব‌লেন, আমাদের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শহীদ ওসমান হাদির অভিযুক্ত খুনিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।

মুখপাত্র ব‌লেন, আমরা পুনরায় বলছি যে, আমরা সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আমাদের প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাব।

আগামী সেপ্টম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ নি‌তে আমন্ত্রণ জা‌নি‌য়ে‌ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রী‌কে দ্বিপক্ষীয় সফ‌রের জন্যও আমন্ত্রণ জা‌নি‌য়ে‌ছে ভারত।

সম্প্রতি শেখ হা‌সিনা‌কে দি‌ল্লি‌তে বক্তব্য দেওয়ার সু‌যোগ ক‌রে দেওয়া‌কে কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস স‌ম্মেল‌নে অংশগ্রহণ নি‌য়ে অ‌নিশ্চয়তা তৈ‌রি হয়। প‌রে অবশ্য ঢাকা-‌দি‌ল্লির কূট‌নৈ‌তিক তৎফরতায় প্রধানমন্ত্রী‌র দ্বিপক্ষীয় সফর নি‌য়ে আলোচনা শুরু হয়।