খুঁজুন
, ,

জব্দ করা ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে মানচিত্র, বিতর্কে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 6 February, 2020, 1:35 am
জব্দ করা ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে মানচিত্র, বিতর্কে বিজিবি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কুষ্টিয়ায় জব্দ করা ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র বানিয়েছে। এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা ও বিতর্ক।

মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়ার মিরপুরে ‘৪৭ বিজিবি’ জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংসের অনুষ্ঠানে এ কাণ্ড ঘটায়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জব্দকৃত ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্রের আদলে একটি প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। প্রতিকৃতির ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।

বিজিবি’র পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করা হলেও বিশিষ্টজনরা সমালোচনা করে বলছেন, অজ্ঞতা ও দেশপ্রেমের বোধ যাদের নেই তারাই এমনটা করতে পারে। জাতীয় মর্যাদাকে যারা লাঞ্ছিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইন তৈরি করে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা দরকার।

৪ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন সময়ে ৪৭ বিজিবি’র আটক করা ১ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। ওই দিন দুপুরে জেলার মিরপুরে ৪৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) অভ্যন্তরে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করে। এর আগে আটক মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিলের বোতল) দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করা হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আটক করা বিপুল পরিমাণ মদ ও ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কুষ্টিয়া সেক্টর। মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এমনটা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

তবে মঙ্গলবারের এমন ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে বিজিবি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্ম কতোটা যুক্তিসংগত, এমন প্রশ্নও তোলা হয় সেখানে। এমন কাজের জন্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে বলেও লেখেন তারা।

জীবন রহমান মোহন নামের এক ব্যক্তি নিজের পোস্টে লিখেছেন: ‘অবৈধ ফেনসিডিল দিয়ে দেশের মানচিত্র, সেটা কোন যুক্তিতে করলো বিজিবি আমার মাথায় আসে না। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের বাংলাদেশের মানচিত্র। কুষ্টিয়ার মিরপুর মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃক মাদকদ্রব্য ধ্বংসের পূর্বে ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র বানানোর যৌক্তিকতা কি দেখাবেন কুষ্টিয়া মিরপুর বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ? এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড দেশের মানচিত্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে কিনা? একটা মানচিত্র মানে একটা দেশ, একটা সার্বভৌমত্ব, সেই দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে এমন তামাশা বাংলাদেশের মানচিত্রের অবমাননার শামিল।’

মো. আকবর হুসেন লিখেছেন: ‘স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করলো ফেন্সিডিলের বোতল দিয়ে!’

আ. রহমান চৌধুরী তুহিন লিখেছেন, ‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে…মানচিত্রে এক বিন্দু জায়গাও খালি নাই, প্রতিটি কোনায় কোনায় মাদক দখল করে ফেলেছে!!! ফেনসিডিল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র…!!!’

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মতো বিশিষ্টজনরাও বিজিবি’র এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন: বিজিবি অবশ্যই নিন্দনীয় কাজ করেছে। এটা করার বুদ্ধি তাদের কে দিয়েছে? আমাদের মনে রাখতে হবে, এ মানচিত্র আমরা অর্জন করেছি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের মূল্যে। পৃথিবীর কোনো জাতি স্বাধীনতার জন্য এতো মূল্য দেয়নি যা আমরা দিয়েছি।

তিনি বলেন: আমরা মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশের মানচিত্র নিয়ে এমন তামাশা বরদাশত করা উচিত না।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘৭৫-এর প্রতিরোধী যোদ্ধা বীরপ্রতীক সরদার নাজিমুদ্দিন আহমেদ গেরিলা বলেন: এমন কর্মকাণ্ড কাণ্ডজ্ঞানহীন, অজ্ঞতা ও অবজ্ঞার ব্যাপার। যাদের দেশপ্রেমের বোধটুকু নেই তারাই এ ধরনের কাজ করতে পারে।

‘দেশের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, মমত্ববোধ থাকতে হয়’ জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন: দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে ঠিকই। কিন্তু উন্নয়নকে ধরে রাখার জন্য যে মজবুত কাঠামো দরকার সেটা আমাদের তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন: দেশকে অসম্মান করে, দেশের প্রতি ভালোবাসাকে বহি:প্রকাশের জন্য আমরা বিকৃত কর্মকাণ্ড করি তাহলে আমাদের ষোলোআনাই মিছে হয়ে দাঁড়াবে।

ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র নির্মাণ করায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত জানিয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন: দেশের মানচিত্রকে, দেশের জাতীয় পতাকাকে, দেশের জাতীয় সঙ্গীতকে যারা অশ্রদ্ধা করে তাদের শাস্তির জন্য বিশেষ আইন তৈরি করা দরকার।

জাতীয় মর্যাদাকে অবমাননা করা হয় এমন বিষয়ে বিশেষ আইন করার প্রস্তাব ২০১৬ সালে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি করেছে। সংস্থাটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন: মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃত ইতিহাস ও অস্বীকার আইন প্রণয়নের জন্য প্রস্তাবটা আমরা আইন কমিশনকে লিখিতভাবে দিয়েছি। পরে তারা খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

তিনি বলেন: এই আইনে আমাদের জাতীয় মর্যাদাকে কেউ যদি অবমাননা, লাঞ্ছিত ও অবমূল্যায়ন করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

২০১৫ সালেও ফেনসিডিল ও মদ দিয়ে বিজিবি বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করেছিল

এ ধরনের কাজ যারা করেছে তারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শামিল অপরাধ করেছে জানিয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন: আমরা বারবার আইন মন্ত্রণালয়কে বলছি আইনটি দ্রুত পাশ করার জন্য। আইনটি বাস্তবায়ন হলে অপরাধীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়ে যাবে।

ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে মানচিত্র তৈরির বিষয়ে বিজিবি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার ফরিদ হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে বিজিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন: বিষয়টি ভুলে করা হয়েছে। এমন ভুলের জন্য বিজিবি দুঃখপ্রকাশ করছে।

 

Feb2
Feb2

ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 pm
ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ছুটির দিনে হাতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছে শিক্ষার্থীরা। ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ নিতে শুক্রবার অনেক শিক্ষার্থী পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে আসে।

পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ কর্মসূচি চালু করেছে।

শুক্রবার চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেটসহ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে আসছে। নির্ধারিত স্থানে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিয়ে তারা বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ নিচ্ছে। অনেকের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকেরাও।

চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ ইসলাম ও তার সহপাঠী সারোয়ার হোসেনও পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করে আরিফ বলে, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াবে।

আরিফ বলে, ‘এখন থেকে রাস্তায় কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য দেখলে সেটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার চেষ্টা করব। বন্ধুদেরও একই কাজ করতে উৎসাহিত করব।’

দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে শিশুদের বিনোদন ও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ যুক্ত করে জেলা প্রশাসন ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হোসেনও দুই সন্তানকে নিয়ে ছুটির দিনে চিড়িয়াখানায় আসেন। উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সব নাগরিককেই সচেতন হতে হবে।

ইকবাল বলেন, নগরের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখা হলে নাগরিকদের অভ্যাসেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে। এতে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। উদ্বোধনী দিনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়।

উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মোবাইল ফোন, অনলাইন ভিডিও ও ভার্চুয়াল জগতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্লাস্টিক কৃষিজমি, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে জেলা প্রশাসনের। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লাভ বা মুনাফা মুখ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, দেশ ও জাতির জন্য একটি বিনিয়োগ।’

৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:26 am
৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

‎‎রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গত সাত বছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত জমিতে নির্মাণের পর থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের আনুমানিক বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে কাপ্তাইয়ের এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর ওই জমির ১৯ একর এলাকায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস বা কয়লার প্রয়োজন হয় না। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত সাত বছরে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হয়েছি, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে কম জনবল প্রয়োজন হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গ্রামীণ পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

‎এদিকে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

‎তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।‎

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাত বছরের উৎপাদন ও সাফল্য দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে সরকারি সহায়তা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।

রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 am
রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে করিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত করিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে দলের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় অন্তত ২১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ করিমের হত্যাকাণ্ডের পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ জনে।