খুঁজুন
, ,

দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় নবীন সৈনিকেরা প্রয়োজনে জীবন দেবে : বিজিবি ডিজি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 10 July, 2025, 5:47 pm
দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় নবীন সৈনিকেরা প্রয়োজনে জীবন দেবে : বিজিবি ডিজি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেছেন, দেশ মাতৃকার অখণ্ডতা রক্ষায় নবীন সৈনিকেরা প্রয়োজনে তাদের জীবন দেবে, তবু দেশের এক ইঞ্চি মাটি হাতছাড়া হতে দেবে না।

তিনি বলেছেন, নবীন সৈনিকেরা কখনো দেশবাসীকে হতাশ ও নিরাশ করবে না। তাদের দেওয়া নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই দেশের মানুষের নির্বিঘ্ন ঘুম নিশ্চিত করবে।

বিজিবির ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ আজ (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন সৈনিকদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ শেষে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বিজিটিসিএন্ডসির কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গাজী নাহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাড়ে ৯টায় বিজিবি মহাপরিচালককে সশস্ত্র সালাম প্রদানের মধ্য দিয়ে ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

অভিবাদন গ্রহণ শেষে বিজিবি ডিজি নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

বক্তব্যের শুরুতে বিজিবি মহাপরিচালক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী তৎকালীন ইপিআরের ৮১৭ জন অকুতোভয় বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একইসাথে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ সকল ছাত্র-জনতাকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন।

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ খ্যাত এই বাহিনী বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সুদীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষাসহ সীমান্ত ভূমি ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, মাদক ও অস্ত্রসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী ও শিশু পাচার রোধসহ যেকোনো ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। শুধু তাই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রেও বিজিবি অত্যন্ত বিশ্বস্ততা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছে।

বিজিবি মহাপরিচালক ‘মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা’ বিজিবির এই চারটি মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে নবীন সৈনিকদের অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব সুশৃঙ্খল ও সুচারুরূপে পালনের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না, সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি। নবীন সৈনিক হিসেবে এই সকল পেশাগত ও চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে। তাহলেই কেবল পূর্বসূরীদের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োগ করতে পারবে।

নবীন নারী সৈনিকদের উদ্দেশে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মহিয়সী নারীদের অংশগ্রহণ, অবদান ও আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়। আজ নারীরা বিভিন্ন অঙ্গনে যথাযথ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। আজ নবীন নারী সৈনিকরা দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃপ্ত শপথ নিয়ে সৈনিক জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। নবীন নারী সৈনিকরা বিজিবির সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় আরও গতিশীল ভূমিকা রাখাসহ বাহিনীর সুনাম-সুখ্যাতি বৃদ্ধিতে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে নিরলসভাবে কাজ করবে।

বিজিবি মহাপরিচালক নবীন সৈনিকদের কুচকাওয়াজের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, বৃহত্তর কর্মজীবনে কাজের ব্যাপ্তি ও পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। নবীন সৈনিকরা যখন সীমান্তে নিয়োজিত থাকবে তখন তাদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে এ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও গৌরব।

সবশেষে তিনি নবীন সৈনিকদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল এবং বিজিবির উত্তরোত্তর সাফল্য ও অব্যাহত অগ্রযাত্রা কামনা করেন। বক্তব্য প্রদান শেষে বিজিবি মহাপরিচালক ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের সেরা চৌকস রিক্রুট হিসেবে ১ম স্থান অধিকারী বক্ষ নম্বর-৫৭৪ সাইফ মিয়া এবং অন্যান্য বিষয়ে সেরা সৈনিকদের হাতে তাদের সফলতার জন্য ক্রেস্ট তুলে দেন।

এরপর নবীন সৈনিকদের চৌকসদল কর্তৃক বিজিবি মহাপরিচালককে সশস্ত্র সালাম প্রদানের মাধ্যমে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরিশেষে বিজিবির প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় ট্রিক ড্রিল এবং বিজিবির সুসজ্জিত বাদকদল কর্তৃক মনোজ্ঞ ব্যান্ড ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়।

উল্লেখ্য, ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ গত ২৬ জানুয়ারি শুরু হয়। দীর্ঘ ২৪ সপ্তাহের কঠোর ও কষ্টসাধ্য প্রশিক্ষণ সফলতার সাথে সম্পন্ন করে ৬৫৮ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারী সর্বমোট ৬৯৪ জন রিক্রুট আজ সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে সৈনিক জীবনে পদার্পন করলো ।

প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 pm
ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ছুটির দিনে হাতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছে শিক্ষার্থীরা। ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ নিতে শুক্রবার অনেক শিক্ষার্থী পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে আসে।

পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ কর্মসূচি চালু করেছে।

শুক্রবার চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেটসহ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে আসছে। নির্ধারিত স্থানে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিয়ে তারা বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ নিচ্ছে। অনেকের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকেরাও।

চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ ইসলাম ও তার সহপাঠী সারোয়ার হোসেনও পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করে আরিফ বলে, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াবে।

আরিফ বলে, ‘এখন থেকে রাস্তায় কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য দেখলে সেটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার চেষ্টা করব। বন্ধুদেরও একই কাজ করতে উৎসাহিত করব।’

দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে শিশুদের বিনোদন ও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ যুক্ত করে জেলা প্রশাসন ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হোসেনও দুই সন্তানকে নিয়ে ছুটির দিনে চিড়িয়াখানায় আসেন। উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সব নাগরিককেই সচেতন হতে হবে।

ইকবাল বলেন, নগরের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখা হলে নাগরিকদের অভ্যাসেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে। এতে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। উদ্বোধনী দিনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়।

উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মোবাইল ফোন, অনলাইন ভিডিও ও ভার্চুয়াল জগতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্লাস্টিক কৃষিজমি, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে জেলা প্রশাসনের। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লাভ বা মুনাফা মুখ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, দেশ ও জাতির জন্য একটি বিনিয়োগ।’

৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:26 am
৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

‎‎রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গত সাত বছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত জমিতে নির্মাণের পর থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের আনুমানিক বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে কাপ্তাইয়ের এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর ওই জমির ১৯ একর এলাকায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস বা কয়লার প্রয়োজন হয় না। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত সাত বছরে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হয়েছি, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে কম জনবল প্রয়োজন হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গ্রামীণ পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

‎এদিকে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

‎তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।‎

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাত বছরের উৎপাদন ও সাফল্য দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে সরকারি সহায়তা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।

রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 am
রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে করিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত করিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে দলের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় অন্তত ২১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ করিমের হত্যাকাণ্ডের পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ জনে।