খুঁজুন
, ,

জব্দ করা ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে মানচিত্র, বিতর্কে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 6 February, 2020, 1:35 am
জব্দ করা ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে মানচিত্র, বিতর্কে বিজিবি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কুষ্টিয়ায় জব্দ করা ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র বানিয়েছে। এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা ও বিতর্ক।

মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়ার মিরপুরে ‘৪৭ বিজিবি’ জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংসের অনুষ্ঠানে এ কাণ্ড ঘটায়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জব্দকৃত ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্রের আদলে একটি প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। প্রতিকৃতির ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।

বিজিবি’র পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করা হলেও বিশিষ্টজনরা সমালোচনা করে বলছেন, অজ্ঞতা ও দেশপ্রেমের বোধ যাদের নেই তারাই এমনটা করতে পারে। জাতীয় মর্যাদাকে যারা লাঞ্ছিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইন তৈরি করে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা দরকার।

৪ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন সময়ে ৪৭ বিজিবি’র আটক করা ১ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। ওই দিন দুপুরে জেলার মিরপুরে ৪৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) অভ্যন্তরে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করে। এর আগে আটক মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিলের বোতল) দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করা হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আটক করা বিপুল পরিমাণ মদ ও ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কুষ্টিয়া সেক্টর। মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এমনটা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

তবে মঙ্গলবারের এমন ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে বিজিবি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্ম কতোটা যুক্তিসংগত, এমন প্রশ্নও তোলা হয় সেখানে। এমন কাজের জন্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে বলেও লেখেন তারা।

জীবন রহমান মোহন নামের এক ব্যক্তি নিজের পোস্টে লিখেছেন: ‘অবৈধ ফেনসিডিল দিয়ে দেশের মানচিত্র, সেটা কোন যুক্তিতে করলো বিজিবি আমার মাথায় আসে না। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের বাংলাদেশের মানচিত্র। কুষ্টিয়ার মিরপুর মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃক মাদকদ্রব্য ধ্বংসের পূর্বে ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র বানানোর যৌক্তিকতা কি দেখাবেন কুষ্টিয়া মিরপুর বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ? এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড দেশের মানচিত্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে কিনা? একটা মানচিত্র মানে একটা দেশ, একটা সার্বভৌমত্ব, সেই দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে এমন তামাশা বাংলাদেশের মানচিত্রের অবমাননার শামিল।’

মো. আকবর হুসেন লিখেছেন: ‘স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করলো ফেন্সিডিলের বোতল দিয়ে!’

আ. রহমান চৌধুরী তুহিন লিখেছেন, ‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে…মানচিত্রে এক বিন্দু জায়গাও খালি নাই, প্রতিটি কোনায় কোনায় মাদক দখল করে ফেলেছে!!! ফেনসিডিল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র…!!!’

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মতো বিশিষ্টজনরাও বিজিবি’র এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন: বিজিবি অবশ্যই নিন্দনীয় কাজ করেছে। এটা করার বুদ্ধি তাদের কে দিয়েছে? আমাদের মনে রাখতে হবে, এ মানচিত্র আমরা অর্জন করেছি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের মূল্যে। পৃথিবীর কোনো জাতি স্বাধীনতার জন্য এতো মূল্য দেয়নি যা আমরা দিয়েছি।

তিনি বলেন: আমরা মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশের মানচিত্র নিয়ে এমন তামাশা বরদাশত করা উচিত না।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা এবং ‘৭৫-এর প্রতিরোধী যোদ্ধা বীরপ্রতীক সরদার নাজিমুদ্দিন আহমেদ গেরিলা বলেন: এমন কর্মকাণ্ড কাণ্ডজ্ঞানহীন, অজ্ঞতা ও অবজ্ঞার ব্যাপার। যাদের দেশপ্রেমের বোধটুকু নেই তারাই এ ধরনের কাজ করতে পারে।

‘দেশের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, মমত্ববোধ থাকতে হয়’ জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন: দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে ঠিকই। কিন্তু উন্নয়নকে ধরে রাখার জন্য যে মজবুত কাঠামো দরকার সেটা আমাদের তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন: দেশকে অসম্মান করে, দেশের প্রতি ভালোবাসাকে বহি:প্রকাশের জন্য আমরা বিকৃত কর্মকাণ্ড করি তাহলে আমাদের ষোলোআনাই মিছে হয়ে দাঁড়াবে।

ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র নির্মাণ করায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত জানিয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন: দেশের মানচিত্রকে, দেশের জাতীয় পতাকাকে, দেশের জাতীয় সঙ্গীতকে যারা অশ্রদ্ধা করে তাদের শাস্তির জন্য বিশেষ আইন তৈরি করা দরকার।

জাতীয় মর্যাদাকে অবমাননা করা হয় এমন বিষয়ে বিশেষ আইন করার প্রস্তাব ২০১৬ সালে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি করেছে। সংস্থাটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন: মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃত ইতিহাস ও অস্বীকার আইন প্রণয়নের জন্য প্রস্তাবটা আমরা আইন কমিশনকে লিখিতভাবে দিয়েছি। পরে তারা খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

তিনি বলেন: এই আইনে আমাদের জাতীয় মর্যাদাকে কেউ যদি অবমাননা, লাঞ্ছিত ও অবমূল্যায়ন করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

২০১৫ সালেও ফেনসিডিল ও মদ দিয়ে বিজিবি বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করেছিল

এ ধরনের কাজ যারা করেছে তারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শামিল অপরাধ করেছে জানিয়ে শাহরিয়ার কবির বলেন: আমরা বারবার আইন মন্ত্রণালয়কে বলছি আইনটি দ্রুত পাশ করার জন্য। আইনটি বাস্তবায়ন হলে অপরাধীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়ে যাবে।

ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে মানচিত্র তৈরির বিষয়ে বিজিবি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার ফরিদ হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে বিজিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন: বিষয়টি ভুলে করা হয়েছে। এমন ভুলের জন্য বিজিবি দুঃখপ্রকাশ করছে।

 

Feb2
Feb2

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত অত্যন্ত জরুরী: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:13 pm
নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত অত্যন্ত জরুরী: মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলোতে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। দপ্তরের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা যথাযথভাবে অপসারণ, পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আজ ২১ জুলাই মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম এই প্রতিপাদ্যে জেলার সরকারি দপ্তরগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তুুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন মেয়র।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

সভায় সিটি মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে মশার বংশবিস্তার এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে সরকারি দপ্তর, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলসহ সর্বত্র নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে জনসচেতনতা প্রয়োজন।

এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে মাত্র ২ থেকে ৩ মিলিলিটার স্বচ্ছ পানিই যথেষ্ট। তাই বাসার ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র বা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জীবনাচরণ। আমরা যদি পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারি, তাহলে একটি ডেঙ্গুমুক্ত, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে উপজেলাগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তাই এখনই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক নগর ও গ্রামে পরিণত করা সম্ভব।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করতে চাইলে পরিবর্তনটা আগে নিজের ভেতর থেকেই শুরু করতে হবে। আমরা যদি প্রতি শনিবার অন্তত এক ঘণ্টা সময় দিয়ে নিজেদের বাসা, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখি, তাহলে একটি পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব। পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শিশুদের ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের স্কুলগুলোতে ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেয়র জানান, নগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। বাকি প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য বিভিন্নভাবে খাল, নালা ও উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং কর্ণফুলী ও হালদা নদীর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকদের মধ্যে সিভিক সেন্স বা নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে গণপরিবহন পর্যন্ত যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বন্ধ না হলে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ ও গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের লক্ষ্যে কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে হালিশহর ও আরেফিন নগর ল্যান্ডফিলকে পরিবেশবান্ধব রূপ দিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জার্মানির এইচকেজি-থ্রি রাইফেল নিয়ে কৌতূহল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 6:40 pm
জার্মানির এইচকেজি-থ্রি রাইফেল নিয়ে কৌতূহল

চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া জার্মানির তৈরি সামরিক গ্রেডের একটি এইচকেজি-থ্রি সিরিজের রাইফেল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি বেশ পুরনো। তেমন সক্রিয়ও নয়। তবুও এ ধরনের ভারী সামরিক অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ডে আরও থাকার সম্ভাবনা ভাবিয়ে তুলেছে গোয়েন্দাদের।

মিয়ানমারের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সাবেক হেড অব মিশন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামের ধারণা, আগ্নেয়াস্ত্রটি মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছ থেকে সীমান্তপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে। র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানেরও ধারণা অস্ত্রটি বেশ কয়েকবছর আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে এসেছে।

দেশীয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে কাজ করা একজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) তথ্য, ২০১১ সালে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বিধান বড়ুয়ার কাছ থেকে জার্মানির তৈরি এইচকেজি-থ্রি রাইফেল উদ্ধার হয়েছিল। গত ১৫ বছরে এ ধরনের অস্ত্র আর দেখা যায়নি। উদ্ধারের তথ্যও নেই।

পুলিশের এ কর্মকর্তার ধারণা, সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া রাইফেলটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ অথবা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হতে পারে। তাদের কাছ থেকে সেটি অপরাধ জগতের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের হাতে পৌঁছতে পারে।

গত ২৪ জুন সকালে র‌্যাব চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার হাজীরপুল ফেদা পুকুর পাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রটি উদ্ধার করে। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক এএসপি এ আর এম মোজাফফর হোসেন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, বাট ও ম্যাগাজিনবিহীন অবস্থায় অস্ত্রটি জলিল নামে এক ব্যক্তির সীমানা প্রাচীর দেওয়া খালি জায়গায় পড়ে ছিল। গোপন তথ্যে সেটি উদ্ধারের পর চান্দগাঁও থানায় জমা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে করা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাব নিয়েছে বলে জানালেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

জার্মানির হেকলার অ্যান্ড কক কোম্পানি যুদ্ধকালীন রাইফেল হিসেবে ১৯৫০ এর দশকে আগ্নেয়াস্ত্রটি তৈরি করে। অতি মাত্রায় ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ও নিখুঁত নিশানার জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। শক্তিশালী অস্ত্রটি প্রতি মিনিটে ৫০০ থেকে ৬০০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে সক্ষম। প্রায় এক কিলোমিটার দূরের নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম রাইফেলটি স্নাইপার বা মেশিনগানের মতোও কাজ করতে পারে। ইফেক্টিভ রেঞ্জের জন্য এটি প্রায় ৭০টি দেশের সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে বলে তথ্য মিলেছে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ায় রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী এই অস্ত্র ব্যবহার করে না বলে জানালেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এমদাদুল ইসলাম। বললেন, ‘ভারত, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, পাকিস্তান কোথাও এই অস্ত্রের সচরাচর ব্যবহার নেই। চীনের তৈরি সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের যেসব অস্ত্র আমাদের দেশের বিভিন্ন বাহিনী ব্যবহার করে সেগুলোর চেয়ে জি-থ্রি রাইফেল বেশি মারাত্মক নয়। স্নাইপার হিসেবে ব্যবহার হয়। তবে স্নাইপার এখন আরও বিভিন্ন সোর্সে ব্যবহার হয়।’

‘তাহলে এটা নিয়ে এত কৌতূহল কেন? যে অস্ত্রের ব্যবহার উপমহাদেশে নেই, এই অঞ্চলে নেই হঠাৎ করে সেটা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারের কারণে কৌতূহলটা তৈরি হয়েছে। এটা কোত্থেকে আসল, কীভাবে আসল, কারা এখানে সরবরাহ করল, কৌতূহল থাকাটা খুব স্বাভাবিক।’- বলেন এমদাদুল ইসলাম।

র‌্যাব কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বললেন, ‘আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোয় জি-থ্রি রাইফেল তৈরিও হয় না। ব্যবহারও হয় না। বাংলাদেশের সমরাস্ত্র কারখানায় একসময় জি-থ্রি রাইফেল তৈরি হতো। পরে এর ব্যবহার কমানো হয়েছে। আমরা যে রাইফেলটি পেয়েছি সেটি এর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমরা কেউই এই ক্যালিবারের অস্ত্র ব্যবহার করি না। সরকারিভাবেও আমদানি হয় না।’ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তপথ প্রায় ২৭০ কিলোমিটারের। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপসহ ৮০ শতাংশ এলাকা দেড় বছর ধরে দেশটির বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে।

মায়ানমারের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সাবেক হেড অব মিশন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামের বিশ্লেষণ, ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর জান্তা বাহিনী রাখাইনে পণ্য আসার অভ্যন্তরীণ তিনটি পথ ব্লক করে দিয়েছে। এর ফলে আরাকান আর্মি শুধু অর্থ ও নিত্যপণ্যের মারাত্মক সংকটে ভুগছে। মিয়ানমারের কায়িন স্টেট থেকে চিন স্টেট হয়ে আরাকান আর্মির কাছে এ ধরনের অস্ত্র পৌঁছে। টাকার জন্য তারা এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। এজন্য সীমান্ত পার করে অস্ত্রগুলো এ দেশের কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে বিক্রি করেছে বলে ধারণা করছি।’

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, আগ্নেয়াস্ত্রটি কীভাবে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এল এবং এর পেছনে কোনো দেশীয় সংঘবদ্ধ চক্র বা আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কী না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্ত্রটির উৎস, ব্যাচ নম্বর এবং এর মালিকানা চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা হাফিজুরের ভাষ্য, ‘পৃথিবীর সব দেশের সীমান্ত দিয়ে স্মাগলিং হয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের সীমান্ত পুরোপুরি চোরাচালানমুক্ত নয়। সীমান্তপথ দিয়ে কোনোভাবে অস্ত্রটি এখানে এসেছে।’

সিএমপি ও জেলা পুলিশে কাজ করা অবসরপ্রাপ্ত এক এএসপি বললেন, ‘রেঞ্জ বেশি। হেভি আর্মস। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গ্রুপগুলো এই অস্ত্র খুব বেশি ব্যবহার করতো। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কাছেও এমন অস্ত্র ছিল। আর দেশের ভেতরে আন্ডারওয়ার্ল্ডেও এর ব্যবহার ছিল। সীমান্তপথ দিয়েই এটা এসেছে। এটা মোটামুটি নিশ্চিত বলা যায়।’