খুঁজুন
, ,

আকাশ ইকবালের নতুন বই ‘বহুমাত্রিক কিংবদন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 February, 2020, 4:36 pm
আকাশ ইকবালের নতুন বই ‘বহুমাত্রিক কিংবদন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’

ফারজানা ফাইজা : পাঠক যদি প্রশ্ন করেন কেন বইটি পড়ব বা সংগ্রহ করব? এর মধ্যে কি আছে কিংবা কে এই মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী? সমাজে কি ছিল তাঁর ভূমিকা? প্রথমেই বলি ‘বহুমাত্রিক কিংবন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’’ তরুণ লেখক আকাশ ইকবালের প্রথম জীবনী ও গবেষণামূলক মৌলিক গ্রন্থ।

তরুণ লেখক আকাশ ইকবাল দীর্ঘ তিন বছর পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন এই কিংবদন্তীর উপর। লেখক শুধু মাত্র একজন ব্যক্তির জীবন ও কর্ম লিখে শেষ করেননি, তুলে এনেছেন সেই সময়ের সমাজ ও রাষ্ট্রের নানান চিত্র। মূলত কিশোরদের পড়ার উপযোগী করে লিখার প্রতি গুরুত্ব দিলেও আমি মনে করি বড়-ছোট সবাই সংগ্রহে রাখার মতো বই। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যান নেত-কর্মী বা বিপ্লবীর জীবনী পাঠ করা যেমন জরুরি ঠিক একই ভাবে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবনীও পাঠ করা জরুরি। মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীরও কর্ম অনুপ্রেরণীয়। প্রশ্ন জাগতে পারে লেখক মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর নামের আগে বহুমাত্রিক শব্দটি কেন জুড়িয়েছেন? তার কারণ, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী হলেও তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজ সংস্কারক, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন সে সময়ের একজন অসাধারণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। বেঁচে ছিলেন ৭৫ বছর। এই ৭৫ বছরের বেশির ভাগ সময়ই তিনি নিজেকে বহু কাজে জড়িয়ে রেখেছিলেন।

স্বদেশ প্রেম ও স্বদেশের মানুষ অধিকার বঞ্চিত, অত্যাচারিত হওয়া থেকেই জন্ম নেয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ভাবনা। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকেই তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বহুবার গ্রেফতার হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, এবং হয়রানির শিকারও হয়েছেন। একসময় বুঝতে পারেন স্বাধীনতা সংগ্রাম তাঁর একার পক্ষে সম্ভব নয়, প্রয়োজন অনেক মানুষের ও একটি শক্ত সংগঠনের। এরপর-ই স্বাভাবিক ভাবেই তিনি রাজনীতিতে নাম লিখান। তাঁর রাজনীতি ছিল সমন্বয়ের, সংঘাতের না। মৌলানার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯০৭ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে।
আদর্শিকভাবে তিনি ইসলামী পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী ছিলেন। এই বিশ্বাস তাঁর রচিত গ্রন্থ ও প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া তিনি একাধিক সংগঠন গড়ে তোলার সাথে সাথে বহু সংগঠনের সঙ্গে যুক্তও হয়েছিলেন।

মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়েও মৌলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন মুসলিম লীগের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কংগ্রেসের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আন্দোলন না করা এবং ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত থাকার জন্য মুসলমান সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল মুসলিম লীগ। মৌলানা সুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মুসলিম লীগের সুবিধাবাদী নীতি ও জনস্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপের বিবরণ মানুষের কাছে তুলে ধরেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মুসলিম সমাজের ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সাধারণ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, সমাজ সেবা-সংস্করণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে একাধিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন।

ব্রিটিশ সরকারের উনেক বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯০৩ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তিনি পত্রিকা সম্পাদনা ও সাংবাদিকতা চালিয়ে যান।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে ‘দৈনিক ছোলতান’ ছাড়া বাকি সব রাজনৈতিক ও সংগঠনের মুখপত্র ছিল। ‘দৈনিক ছোলতান’ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ক ছিল। সে সময়ে দৈনিক সুলতানে ব্রিটিশদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিভিন্ন চিত্র ও কলাম-প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো। যার ফলে বেশ কয়েকবার এই পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল ব্রিটিশ প্রশাসন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বুঝতে পারেন, মুসলিম সমাজকে জাগাতে হলে সংবাদপত্রে লেখালেখি ও প্রচার প্রচারণা বাড়াতে হবে। এ জন্যে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা বক্তৃতায়, ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চায় এবং ইসলামের বাণী ও গৌরবময় ঐতিহ্যের সৌরভ ছড়িয়ে দিতেই সাহিত্য ও সংবাদপত্রের আশ্রয় নেন।

তিনি ইসলামী পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী হলেও ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়ে যাওয়ার পূর্ব থেকেই উর্দু নয়, বাংলা ভাষার প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। বাংলা ভাষাকে উপযুক্ত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার জন্য জোর প্রয়াস চালিয়েছেন। বাংলার পাশাপাশি উর্দুতে সমান পাদর্শি হলেও তিনি কখনও উর্দুতে বক্তব্য দেননি। প্রাদেশিক সংসদে তিনিই প্রথম বাংলায় বক্তৃতা ছাড়াও কার্যবিবরণীতে তাঁর বক্তব্য বাংলায় লিখতেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মাদ্রাসায় পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও তিনি তখনকার শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন না। কারণ, তখনকার সময় মাদ্রাসাগুলোতে মাতৃভাষা বাংলা কিংবা ইংরেজি ভাষায় কিছু পড়ানো হতো না। শুধু মাত্র ধর্র্মীয় ও আরবি-ফারসি ভাষায় শিক্ষা প্রদান করা হতো।

তিনি মনে করতেন শুধু মাত্র ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে একজন ছাত্রের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব না। তিনি চেষ্টা করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে মাতৃভাষা বাংলা এবং ইংরেজিকে অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। এর সাথে গণিত, বিজ্ঞান, ভূগোল, ইতিহাস পাঠ্যসূচীতে যোগ করা।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সাহিত্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকলেও একথা সত্যি যে তাঁর খাঁটি সাহিত্য বিষয়ক রচনা ছিল না। খাঁটি সাহিত্য রচনায় তিনি অবদান ও তটা না রাখলেও সাহিত্য সংগঠন গড়ে তোলা নিয়ে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী প্রশংসনীয় অবদান রেখেছিলেন।

সমাজ সংস্কার বলতে তিনি শুধু কুপ্রথা উচ্ছেদ নয়, সামগ্রিকভাবে সমাজকে গতিময় ও যুগোপযোগী করাই প্রকৃত সমাজ সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করতেন। তিনি তৎকালীন মুসলিম সমাজে প্রচলিত শ্রেণি-বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা ও বিরোধীতা করেন। সমাজ সংস্কার নিয়ে বেশ কয়েকটি বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন এবং লিখেছেন।

সাংগঠনিক ভাবে আঞ্জমানে ওলেমার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, ঘুষ, দুর্নীতি ও সূদের ব্যবসা সমাজ থেকে দূর করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সমাজকে সুন্দর ও শক্তিশালী করতে প্রথমে প্রয়োজন কুপ্রথা সমূহকে নির্মূল করা।

পুরুষ শাষিত সমাজে পুরুষরা কারণে-অকারণে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে। সমাজে প্রতিনিয়ত নারীরা শারীরিক, মানসিক, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়। মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের বন্ধের দাবিতে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি শুধু মাত্র রচিত প্রবন্ধ কিংবা সভা সমাজে বক্তব্য দিয়ে সমাজ সংস্কারের কাজ থেমে রাখেননি। সাংগঠনিক ভাবে আনজুমানে ওলেমার মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন নিজেকে সমাজের সেবায় নিয়োজিত রেখেছিলেন। ছোটবেলায় তাঁর বাবা-মা মারা যায়। তিনি বুঝতে পারতেন একজন এতিমের কষ্ট।

সেজন্য তিনি ১৯৩০ সালে একটি এতিম খানা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া মাদ্রাসা, ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি।

তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর অনুসারী ও একটি গোপন বিপ্লবী দলের নেতা ছিলেন। যোগদান করেছিলেন ফরোয়ার্ড ব্লকে। তিনি আইন অমান্য আন্দোলনে যোগদান করেন। নেতাজী সুভাষ বসুর সাথে সাক্ষাৎ ও বিপ্লবী তৎপরতার অভিযোগে ১৯৪৪ সালে তিনি গ্রেফতার হন ও ১১ মাস কারাভোগ করেন।

তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী নেতা। রাজনৈতিক কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন এবং হয়রানি-নির্যাতনের শিকার হন। রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, গণমুখি চেতনায় বিশ্বাসী ও জাতীয়তাবাদী।

খেলাফত আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, স্বরাজ এবং ইসলাম মিশনের কাজ তিনি একসঙ্গে চালিয়ে গেছেন। ১৯১৯ সাথে দিল্লিতে কনফারেন্স অধিবেশনের মাধ্যমে খিলাপৎ পার্টি নামের একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা হয়। সেই অধিবেশনে মহাত্মা গান্ধীর সাথে মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীও উপস্থিত ছিলেন।

খিলাফৎ আন্দোলনকারীরা যুদ্ধাকালীন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য ব্রিটিশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক বিশ্বাস ঘাতক আখ্যায়িত করেছিলেন। সেই অধিবেশনেই মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সহযোগিতায় প্রথম বিলাতি বস্ত্র বর্জনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা খিলাফৎ পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল শেখ ই চাটগাম কাজেম আলী।

১৯৩০ সালের দিকে চট্টগ্রামে ‘কৃষক প্রজা সমিতি’র শাখা প্রতিষ্ঠিত হলে মৌলানা ইসলামাবাদী কৃষকদের নেতা হয়। ১৯৩৭ সালের শেষের দিকে মৌলানা ইসলামাবাদী দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের ১৫ ই জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়ায় ‘কৃষক প্রজা সমিতি’ আয়োজিত একটি জনসভায় তিনি বলেন- ‘কৃষকরাই দেশের মেরুদণ্ড, তাহারা বাঁচিয়া থাকিলে সকলেই বাঁচবে, তাহারা সুখী হলে সকলেই সুখী হবে।’

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীদের সহযোগিতায় দিল্লীতে খেলাফৎ পার্টির অধিবেশনে বিলাতী বস্ত্র বর্জনের দাবি তুলেছিল।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীকে নিয়ে এই পর্যন্ত অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বইগুলোতেও এই বইয়ে থাকা তথ্যগুলো আছে। তবে এক সাথে অন্য কোনো একটি বইতে নেই।

লেখক আকাশ ইকবাল চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদীর জীবন ও কর্মের সকল বিষয় একটি মলাটে নিয়ে আসতে। এছাড়া আকাশ ইকবাল আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ যুক্ত করেছেন তার কর্ম ও জীবনের সঙ্গে।

যেমন, সূর্যসেন ও ইসলামাবাদীর কোন যোগসূত্র ছিল কিনা সেই বিষয়ে একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এবং নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজে মৌলানার ভূমিকা ও অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে চট্টগ্রামে একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার। সে জন্য তিনি আনোয়ারা উপজেলার তৎকালীন জমিদার আলী খান থেকে ৫০০ বিঘা এবং সরকার থেকে ৬০০ বিঘা জমি নিয়ে ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছিলেন।

লেখক আকাশ ইকবাল এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তার এই বইতে। এছাড়া মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর পারিবারিক বংশ তালিকারও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ লিখেছেন।

বইটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে গেলে পাতার পর পাতা শেষ হবে। কিন্তু সম্ভব নয়। আমি যা আলোচনা করেছি তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে। যা পড়ে আপনি ইসলামাবাদী সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা লাভ করতে না পারলেও বুঝতে নিশ্চয় পেরেছেন সমাজে তার ভূমিকা কি ছিল? সুতরাং, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী অবশ্যই বহুমাত্রিক কিংবদন্তী। ওনার কর্ম আমাদের অনুপ্রেরণীয়।

বইটি প্রকাশ করেছে তৃতীয় চোখ প্রকাশনী আর প্রচ্ছদ করেছেন সুহৃদ রহমান। পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা চট্টগ্রামে ২২ নম্বর স্টলে এবং অনলাইন পরিবেশক রকমারি ডট কমে। বইটির গায়ের মূল্য ১৮০ টাকা, আর ছাড় মূল্য ১৩৫ টাকা।

লেখক: ফারজানা ফাইজা
গল্পকার ও প্রাবন্ধিক।

Feb2
Feb2

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

হত্যার দায় স্বীকার অভিযুক্ত দুই খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 12:59 pm
হত্যার দায় স্বীকার অভিযুক্ত দুই খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে দুই অভিযুক্ত খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এদিন বিকেল ৫টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। পরে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়।

গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে এ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তারা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

নিহতদের মুখ ঝলসানো

এদিকে ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার চারজনের মুখই ঝলসানো ছিল। তাদের মুখমণ্ডল থেকে দাহ্য (তরল) পদার্থ পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো রাসায়নিক কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার আগে বা পরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে তাদের মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছিল।

সুমিত চৌধুরী বলেন, নিহতদের মুখ প্রাথমিক অবস্থায় বীভৎস বা ঝলসানো ছিল। মুখের কাছে কিছু তরল পড়ে ছিল। তাতে আমরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছিলাম, কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না। যে চিকিৎসক ফরেনসিক করবেন, তাকে আমরা এ ব্যাপারে বলেছি। তাদের শরীরে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না, ফরেনসিক প্রতিবেদন পেলে এটা নিশ্চিত হতে পারব।

রোববার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাতে মরদেহগুলো দখিগঞ্জ শ্মশানে দাহ করা হয়। এ সময় স্বজনেরা চারজনের মুখমণ্ডল ঝলসানো দেখতে পান।

প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, সন্ধ্যায় মরদেহগুলো হস্তান্তরের পর আমরা দেখতে পাই, তাদের মুখগুলো ঝলসানো। এর আগে পুলিশ আমাদের মরদেহের কাছে যেতে দেয়নি।

তবে মরদেহের ময়নাতদন্তকারী রংপুর মেডিকেলের ফরেনসিক মেডিসিনের ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, মরদেহগুলো পঁচে যাবার কারণে দেখতে এমন মনে হচ্ছে, কোনো এসিডে ঝলসানোর ঘটনা নেই।

মামলার এজাহারে যা আছে

এদিকে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় রোববার কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড়ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।

এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতার মোবাইল ফোন থেকে তার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে পূজা আবারও বড় বোন প্রীতিলতাকে ফোন করেন। তখন পরিবারের চারজনের মোবাইল ফোনই বন্ধ পান তিনি। সন্দেহ হওয়ায় রাতে স্বামী বিপুল আচার্যকে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান পূজা।

বাড়িটি তখন অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। ভেতর থেকেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে ওঠেন পূজা। জানালার তালা ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভেতর তাকিয়ে তিনি দেখেন, জিনিসপত্র এলোমেলো। একই সঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আলমারি, শোকেস, আসবাব, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এতে হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

এক মাস আগে প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী

রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রায় এক মাস আগে গণপতি চক্রবর্তী তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। বাড়ির অসম্পূর্ণ কাজ শুরু করবেন বলে তিনি এই টাকা তুলেছিলেন। তবে সেই তিনি টাকা ব্যাংকে রেখেছিলেন নাকি বাড়িতে, তা বলতে পারব না।

গণপতির বড় ভাই ও মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, গণপতি নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়িটির দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ হয়েছে। বাড়ির অসম্পূর্ণ কাজ শুরু করার কথা ছিল তার।

প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না দাবি করে বলেন, ব্যাংকে খোঁজ নিলে এ টাকার তথ্য পাওয়া যাবে। আমরা এখনো খোঁজ নিতে পারিনি।

বাসার ছাদে ইয়াবা সেবন, বাধা দেয়ায় হত্যাকাণ্ড

এদিকে, একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় ওই শিক্ষকের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার পর তারা হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। সম্পর্কে তারা আত্মীয় এবং দুজনেরই বাড়ি মাছুয়াপাড়া এলাকায়। রোববার ভোরে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন আর সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলারির দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই খুনি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের বিল্ডিংয়ের ওপর দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে আসে। তারা ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তার চিৎকার শুনে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মায়ের চিৎকারে এগিয়ে আসা মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা ও রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। খুনিরা জানিয়েছে- গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে ধরার পরও প্রার্থী চক্রবর্তীর মৃত্যু হচ্ছিল না, প্রায় চার-পাঁচ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময় তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। সর্বশেষে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাসার একটি বাথরুমে গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে। এরপর জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে তারা কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং সেগুলো নিকটবর্তী একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে। অভিযুক্তদের দেখানো মতে সেসব আলামত জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে, যাতে পুলিশ এটিকে ডাকাতি বলে মনে করে। এছাড়া আঙুলের ছাপ যাতে না থাকে সেজন্য বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় বলেও জানান তিনি।

কিছু বিষয় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কাকতালীয়ভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের চারজন, অভিযুক্ত দুই আসামি, আসামি গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেয়া পুলিশ কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবাই একই ধর্মাবলম্বী হওয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। এমনকি এক আসামির পরনের শার্ট এবং গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে থাকা শার্ট একই রকম হওয়ায়, অনেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন।