খুঁজুন
, ,

আকাশ ইকবালের নতুন বই ‘বহুমাত্রিক কিংবদন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 February, 2020, 4:36 pm
আকাশ ইকবালের নতুন বই ‘বহুমাত্রিক কিংবদন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’

ফারজানা ফাইজা : পাঠক যদি প্রশ্ন করেন কেন বইটি পড়ব বা সংগ্রহ করব? এর মধ্যে কি আছে কিংবা কে এই মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী? সমাজে কি ছিল তাঁর ভূমিকা? প্রথমেই বলি ‘বহুমাত্রিক কিংবন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’’ তরুণ লেখক আকাশ ইকবালের প্রথম জীবনী ও গবেষণামূলক মৌলিক গ্রন্থ।

তরুণ লেখক আকাশ ইকবাল দীর্ঘ তিন বছর পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন এই কিংবদন্তীর উপর। লেখক শুধু মাত্র একজন ব্যক্তির জীবন ও কর্ম লিখে শেষ করেননি, তুলে এনেছেন সেই সময়ের সমাজ ও রাষ্ট্রের নানান চিত্র। মূলত কিশোরদের পড়ার উপযোগী করে লিখার প্রতি গুরুত্ব দিলেও আমি মনে করি বড়-ছোট সবাই সংগ্রহে রাখার মতো বই। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যান নেত-কর্মী বা বিপ্লবীর জীবনী পাঠ করা যেমন জরুরি ঠিক একই ভাবে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবনীও পাঠ করা জরুরি। মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীরও কর্ম অনুপ্রেরণীয়। প্রশ্ন জাগতে পারে লেখক মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর নামের আগে বহুমাত্রিক শব্দটি কেন জুড়িয়েছেন? তার কারণ, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী হলেও তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজ সংস্কারক, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন সে সময়ের একজন অসাধারণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। বেঁচে ছিলেন ৭৫ বছর। এই ৭৫ বছরের বেশির ভাগ সময়ই তিনি নিজেকে বহু কাজে জড়িয়ে রেখেছিলেন।

স্বদেশ প্রেম ও স্বদেশের মানুষ অধিকার বঞ্চিত, অত্যাচারিত হওয়া থেকেই জন্ম নেয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ভাবনা। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকেই তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বহুবার গ্রেফতার হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, এবং হয়রানির শিকারও হয়েছেন। একসময় বুঝতে পারেন স্বাধীনতা সংগ্রাম তাঁর একার পক্ষে সম্ভব নয়, প্রয়োজন অনেক মানুষের ও একটি শক্ত সংগঠনের। এরপর-ই স্বাভাবিক ভাবেই তিনি রাজনীতিতে নাম লিখান। তাঁর রাজনীতি ছিল সমন্বয়ের, সংঘাতের না। মৌলানার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯০৭ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে।
আদর্শিকভাবে তিনি ইসলামী পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী ছিলেন। এই বিশ্বাস তাঁর রচিত গ্রন্থ ও প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া তিনি একাধিক সংগঠন গড়ে তোলার সাথে সাথে বহু সংগঠনের সঙ্গে যুক্তও হয়েছিলেন।

মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়েও মৌলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন মুসলিম লীগের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কংগ্রেসের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আন্দোলন না করা এবং ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত থাকার জন্য মুসলমান সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল মুসলিম লীগ। মৌলানা সুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মুসলিম লীগের সুবিধাবাদী নীতি ও জনস্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপের বিবরণ মানুষের কাছে তুলে ধরেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মুসলিম সমাজের ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সাধারণ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, সমাজ সেবা-সংস্করণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে একাধিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন।

ব্রিটিশ সরকারের উনেক বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯০৩ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তিনি পত্রিকা সম্পাদনা ও সাংবাদিকতা চালিয়ে যান।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে ‘দৈনিক ছোলতান’ ছাড়া বাকি সব রাজনৈতিক ও সংগঠনের মুখপত্র ছিল। ‘দৈনিক ছোলতান’ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ক ছিল। সে সময়ে দৈনিক সুলতানে ব্রিটিশদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিভিন্ন চিত্র ও কলাম-প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো। যার ফলে বেশ কয়েকবার এই পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল ব্রিটিশ প্রশাসন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বুঝতে পারেন, মুসলিম সমাজকে জাগাতে হলে সংবাদপত্রে লেখালেখি ও প্রচার প্রচারণা বাড়াতে হবে। এ জন্যে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা বক্তৃতায়, ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চায় এবং ইসলামের বাণী ও গৌরবময় ঐতিহ্যের সৌরভ ছড়িয়ে দিতেই সাহিত্য ও সংবাদপত্রের আশ্রয় নেন।

তিনি ইসলামী পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী হলেও ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়ে যাওয়ার পূর্ব থেকেই উর্দু নয়, বাংলা ভাষার প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। বাংলা ভাষাকে উপযুক্ত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার জন্য জোর প্রয়াস চালিয়েছেন। বাংলার পাশাপাশি উর্দুতে সমান পাদর্শি হলেও তিনি কখনও উর্দুতে বক্তব্য দেননি। প্রাদেশিক সংসদে তিনিই প্রথম বাংলায় বক্তৃতা ছাড়াও কার্যবিবরণীতে তাঁর বক্তব্য বাংলায় লিখতেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মাদ্রাসায় পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও তিনি তখনকার শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন না। কারণ, তখনকার সময় মাদ্রাসাগুলোতে মাতৃভাষা বাংলা কিংবা ইংরেজি ভাষায় কিছু পড়ানো হতো না। শুধু মাত্র ধর্র্মীয় ও আরবি-ফারসি ভাষায় শিক্ষা প্রদান করা হতো।

তিনি মনে করতেন শুধু মাত্র ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে একজন ছাত্রের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব না। তিনি চেষ্টা করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে মাতৃভাষা বাংলা এবং ইংরেজিকে অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। এর সাথে গণিত, বিজ্ঞান, ভূগোল, ইতিহাস পাঠ্যসূচীতে যোগ করা।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সাহিত্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকলেও একথা সত্যি যে তাঁর খাঁটি সাহিত্য বিষয়ক রচনা ছিল না। খাঁটি সাহিত্য রচনায় তিনি অবদান ও তটা না রাখলেও সাহিত্য সংগঠন গড়ে তোলা নিয়ে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী প্রশংসনীয় অবদান রেখেছিলেন।

সমাজ সংস্কার বলতে তিনি শুধু কুপ্রথা উচ্ছেদ নয়, সামগ্রিকভাবে সমাজকে গতিময় ও যুগোপযোগী করাই প্রকৃত সমাজ সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করতেন। তিনি তৎকালীন মুসলিম সমাজে প্রচলিত শ্রেণি-বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা ও বিরোধীতা করেন। সমাজ সংস্কার নিয়ে বেশ কয়েকটি বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন এবং লিখেছেন।

সাংগঠনিক ভাবে আঞ্জমানে ওলেমার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, ঘুষ, দুর্নীতি ও সূদের ব্যবসা সমাজ থেকে দূর করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সমাজকে সুন্দর ও শক্তিশালী করতে প্রথমে প্রয়োজন কুপ্রথা সমূহকে নির্মূল করা।

পুরুষ শাষিত সমাজে পুরুষরা কারণে-অকারণে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে। সমাজে প্রতিনিয়ত নারীরা শারীরিক, মানসিক, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়। মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের বন্ধের দাবিতে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি শুধু মাত্র রচিত প্রবন্ধ কিংবা সভা সমাজে বক্তব্য দিয়ে সমাজ সংস্কারের কাজ থেমে রাখেননি। সাংগঠনিক ভাবে আনজুমানে ওলেমার মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন নিজেকে সমাজের সেবায় নিয়োজিত রেখেছিলেন। ছোটবেলায় তাঁর বাবা-মা মারা যায়। তিনি বুঝতে পারতেন একজন এতিমের কষ্ট।

সেজন্য তিনি ১৯৩০ সালে একটি এতিম খানা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া মাদ্রাসা, ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি।

তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর অনুসারী ও একটি গোপন বিপ্লবী দলের নেতা ছিলেন। যোগদান করেছিলেন ফরোয়ার্ড ব্লকে। তিনি আইন অমান্য আন্দোলনে যোগদান করেন। নেতাজী সুভাষ বসুর সাথে সাক্ষাৎ ও বিপ্লবী তৎপরতার অভিযোগে ১৯৪৪ সালে তিনি গ্রেফতার হন ও ১১ মাস কারাভোগ করেন।

তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী নেতা। রাজনৈতিক কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন এবং হয়রানি-নির্যাতনের শিকার হন। রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, গণমুখি চেতনায় বিশ্বাসী ও জাতীয়তাবাদী।

খেলাফত আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, স্বরাজ এবং ইসলাম মিশনের কাজ তিনি একসঙ্গে চালিয়ে গেছেন। ১৯১৯ সাথে দিল্লিতে কনফারেন্স অধিবেশনের মাধ্যমে খিলাপৎ পার্টি নামের একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা হয়। সেই অধিবেশনে মহাত্মা গান্ধীর সাথে মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীও উপস্থিত ছিলেন।

খিলাফৎ আন্দোলনকারীরা যুদ্ধাকালীন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য ব্রিটিশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক বিশ্বাস ঘাতক আখ্যায়িত করেছিলেন। সেই অধিবেশনেই মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সহযোগিতায় প্রথম বিলাতি বস্ত্র বর্জনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা খিলাফৎ পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল শেখ ই চাটগাম কাজেম আলী।

১৯৩০ সালের দিকে চট্টগ্রামে ‘কৃষক প্রজা সমিতি’র শাখা প্রতিষ্ঠিত হলে মৌলানা ইসলামাবাদী কৃষকদের নেতা হয়। ১৯৩৭ সালের শেষের দিকে মৌলানা ইসলামাবাদী দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের ১৫ ই জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়ায় ‘কৃষক প্রজা সমিতি’ আয়োজিত একটি জনসভায় তিনি বলেন- ‘কৃষকরাই দেশের মেরুদণ্ড, তাহারা বাঁচিয়া থাকিলে সকলেই বাঁচবে, তাহারা সুখী হলে সকলেই সুখী হবে।’

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীদের সহযোগিতায় দিল্লীতে খেলাফৎ পার্টির অধিবেশনে বিলাতী বস্ত্র বর্জনের দাবি তুলেছিল।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীকে নিয়ে এই পর্যন্ত অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বইগুলোতেও এই বইয়ে থাকা তথ্যগুলো আছে। তবে এক সাথে অন্য কোনো একটি বইতে নেই।

লেখক আকাশ ইকবাল চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদীর জীবন ও কর্মের সকল বিষয় একটি মলাটে নিয়ে আসতে। এছাড়া আকাশ ইকবাল আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ যুক্ত করেছেন তার কর্ম ও জীবনের সঙ্গে।

যেমন, সূর্যসেন ও ইসলামাবাদীর কোন যোগসূত্র ছিল কিনা সেই বিষয়ে একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এবং নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজে মৌলানার ভূমিকা ও অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে চট্টগ্রামে একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার। সে জন্য তিনি আনোয়ারা উপজেলার তৎকালীন জমিদার আলী খান থেকে ৫০০ বিঘা এবং সরকার থেকে ৬০০ বিঘা জমি নিয়ে ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছিলেন।

লেখক আকাশ ইকবাল এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তার এই বইতে। এছাড়া মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর পারিবারিক বংশ তালিকারও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ লিখেছেন।

বইটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে গেলে পাতার পর পাতা শেষ হবে। কিন্তু সম্ভব নয়। আমি যা আলোচনা করেছি তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে। যা পড়ে আপনি ইসলামাবাদী সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা লাভ করতে না পারলেও বুঝতে নিশ্চয় পেরেছেন সমাজে তার ভূমিকা কি ছিল? সুতরাং, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী অবশ্যই বহুমাত্রিক কিংবদন্তী। ওনার কর্ম আমাদের অনুপ্রেরণীয়।

বইটি প্রকাশ করেছে তৃতীয় চোখ প্রকাশনী আর প্রচ্ছদ করেছেন সুহৃদ রহমান। পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা চট্টগ্রামে ২২ নম্বর স্টলে এবং অনলাইন পরিবেশক রকমারি ডট কমে। বইটির গায়ের মূল্য ১৮০ টাকা, আর ছাড় মূল্য ১৩৫ টাকা।

লেখক: ফারজানা ফাইজা
গল্পকার ও প্রাবন্ধিক।

Feb2
Feb2

জলাবদ্ধতা নিরসনে সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 7:24 pm
জলাবদ্ধতা নিরসনে সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর সমন্বিত বাস্তবায়ন, খালের দুই পাড়ে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সামষ্টিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম শামস, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত কাজগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হলেও সামগ্রিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য এলাকায় নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীর বড় খালগুলোর উন্নয়নের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে মানুষের হাঁটাচলার উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের বিষয়টিও চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটাচলা, সাইকেল চালানো, শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। খালকেন্দ্রিক উন্নয়নকে শুধু পানি নিষ্কাশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

নগরীর পরিবেশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে গাছ লাগাতে হবে। বৃক্ষরোপণ নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বায়ুদূষণ কমাতে সহায়ক হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন, সবুজায়ন, হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক, সবকিছুকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রামকে আরও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসা, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের অপচয় কমবে, কাজের গতি বাড়বে এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর নালা খাল পরিষ্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। বর্ষার আগে নালা ও খালের উন্নয়ন ও পরিষ্কার কার্যক্রমের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেসব খালের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট ১৩০টি খাল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি খালের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৪১টি খাল উন্নয়নের জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অবশিষ্ট খালগুলোর উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে। জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে খালগুলোর উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়র জানান, বিমানবন্দর এলাকায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে, যা দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে খালকেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের চলাচলের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকার পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা ও পানি নিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল এবং পানি সংরক্ষণের স্থানগুলোকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সভায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই চলমান প্রকল্পগুলোর সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত ও সামষ্টিক সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি। চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৩০টি খালের মধ্যে ৩৭টি সংস্কার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে অবশিষ্ট খালগুলোতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কারকাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীতে স্থাপিত স্লুইসগেট ও রেগুলেটরগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

আউটার রিং রোড প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, কালুরঘাট পর্যন্ত প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীর তীরবর্তী এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামছুল আলম শামস বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্প প্রায় শেষের পথে। প্রকল্পটি শেষ হলে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তবে, প্রকল্পের বাহিরে থাকা খালগুলোও খনন করতে হবে এবং সংস্কারের পর রক্ষণাবেক্ষণে জোর দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পাম্প ও স্লুইসগেট স্থাপন করলেই হবে না, এগুলোর কার্যকর পরিচালনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে মানুষ ও যানবাহনের আশ্রয়ের উপযোগী উঁচু জায়গার সংকট দেখা গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত এক কিলোমিটার রাস্তা তুলনামূলক উঁচু করে নির্মাণের প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অবকাঠামো বন্যার সময় মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হেলিকপ্টার অবতরণ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সুযোগও রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে স্লুইসগেট ও রেগুলেটর পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর দুপাশে অন্তত দুটি সংযোগকারী ‘ক্রস খাল’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মহেশখাল সম্প্রসারণসহ এ ধরনের খাল নির্মাণ ও সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি নৌচলাচলের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া রোধে ভবিষ্যতে সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে আর্চ ব্রিজের নকশা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, হালিশহরে সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ আগামী বছর শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গৃহস্থালি বর্জ্যপানি সরাসরি ড্রেনে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং নগরীর পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘমেয়াদি পানি সরবরাহ পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আগামী ১০০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পানি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক এলাকার জন্য সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে দৈনিক ১০০ কোটি লিটার পানি শোধনের একটি প্রকল্প গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, অতি: বিভাগীয় কমিশনার মনোয়ারা বেগম, জলাবদ্ধতার মেগা প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মহসিন, সিএমপির অতি: কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ হাইড্রোগ্রাপার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বিভাগের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল তারিকুল আলম, চসিকের খাল ও জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ শাহরিয়ার খালেদ, সিটি রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকি মাসুদ সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।

দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসব, সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে চাই: আমীর খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 7:14 pm
দুর্গাপূজা সার্বজনীন উৎসব, সবাই মিলে বাংলাদেশ গড়তে চাই: আমীর খসরু

দুর্গাপূজা এখন আর শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব মানুষের সমান অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরের জেএমসেন হলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি বাংলাদেশের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি পূজার আনন্দ ও উৎসবে অংশ নিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে একটি দেশ গড়তে চাই। সেই দেশে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী নয়, সবাই সমান সুযোগ পাবে। সবার অংশগ্রহণে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।

সামাজিক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি সমাজেই কিছু দুষ্ট লোক থাকে। তারা যেন মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ঐক্য নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এবার দুর্গাপূজার বেশ আগেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বস্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির পরিবেশ থাকলে এমন আনন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চায়। ছোটখাটো অসুবিধা থাকতে পারে। তবে সেগুলোকে বড় করে না দেখে দেশের সামনে থাকা সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সভাপতি বক্তব্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক
মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রামে যখন বন্যা হয়েছিল, তখন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে থাকা যেমন আমাদের দায়িত্ব, তেমনি বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবেও মানুষের পাশে থাকা আমাদের অঙ্গীকার। আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবের আয়োজনেও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ আপনাদের পাশে রয়েছে। আমরা চাই, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে এবং আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা সম্প্রীতি ও আনন্দের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা.শাহাদাত হোসেন। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী রওশন ইসলাম, চট্টগ্রাম ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন শ্রী হরিশ কুমার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, আশীর্বাদক শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ তপনানন্দ গিরি মহারাজ, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, বেসরকারি কারা পরিদর্শক উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস,হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি শ্রী রাজীব ধর তমাল ও চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রমুখ।

সাইকেল চালানো সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 2:50 pm
সাইকেল চালানো সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাইকেল চালানো শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়। বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। সাইক্লিং পরিবেশবান্ধব এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাইকেল চালানোর জন্য নিরাপদ ও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়িত্বের অংশ।

তিনি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কে (ভিআইপি রোড) বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্মিত এই সাইকেল ট্র্যাক নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অনুষ্ঠানে নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

এসময় আমীর খসরু বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে সাইকেল চালানো ও হাঁটার সুযোগ বাড়াতে মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিমানবন্দর সড়কের এই সাইকেল ট্র্যাক কেবল শুরু। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ শরীরচর্চা, বিনোদন ও দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নাগরিকদের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদার অংশ। মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই নগরীর খালের দুই পাড়সহ উপযুক্ত জায়গাগুলোতে হাঁটার পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ চট্টগ্রাম নগরীর জন্য একটি গর্বের অর্জন। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার পথ নির্মাণ এবং দুই পাশের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়ককে আরও নান্দনিক করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাগরিকদের জন্য সাইক্লিং ও হাঁটার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর পরামর্শ ও উৎসাহ এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মন্ত্রীর সংসদীয় এলাকা থেকে এই কার্যক্রম শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে বড় সড়কের পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক উন্নয়নেও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। খালের দুই পাড়ে প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর সুবিধা ও সবুজায়ন করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসীর শরীরচর্চার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

নগরীর উন্নয়ন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেগুলো রক্ষা করার দায়িত্বও সবার। সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে যেন অবৈধ দখল, স্থাপনা কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে না পড়ে, সে জন্য চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি গাছপালার পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

মেয়র আরও জানান, বিমানবন্দর সড়ক থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে আরসিসি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের ভারী যানবাহনের চাপ সামলানো এবং সড়কের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাইক্লিস্ট ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।