খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আকাশ ইকবালের নতুন বই ‘বহুমাত্রিক কিংবদন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
আকাশ ইকবালের নতুন বই ‘বহুমাত্রিক কিংবদন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’

ফারজানা ফাইজা : পাঠক যদি প্রশ্ন করেন কেন বইটি পড়ব বা সংগ্রহ করব? এর মধ্যে কি আছে কিংবা কে এই মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী? সমাজে কি ছিল তাঁর ভূমিকা? প্রথমেই বলি ‘বহুমাত্রিক কিংবন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’’ তরুণ লেখক আকাশ ইকবালের প্রথম জীবনী ও গবেষণামূলক মৌলিক গ্রন্থ।

তরুণ লেখক আকাশ ইকবাল দীর্ঘ তিন বছর পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন এই কিংবদন্তীর উপর। লেখক শুধু মাত্র একজন ব্যক্তির জীবন ও কর্ম লিখে শেষ করেননি, তুলে এনেছেন সেই সময়ের সমাজ ও রাষ্ট্রের নানান চিত্র। মূলত কিশোরদের পড়ার উপযোগী করে লিখার প্রতি গুরুত্ব দিলেও আমি মনে করি বড়-ছোট সবাই সংগ্রহে রাখার মতো বই। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যান নেত-কর্মী বা বিপ্লবীর জীবনী পাঠ করা যেমন জরুরি ঠিক একই ভাবে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবনীও পাঠ করা জরুরি। মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীরও কর্ম অনুপ্রেরণীয়। প্রশ্ন জাগতে পারে লেখক মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর নামের আগে বহুমাত্রিক শব্দটি কেন জুড়িয়েছেন? তার কারণ, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী হলেও তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজ সংস্কারক, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন সে সময়ের একজন অসাধারণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। বেঁচে ছিলেন ৭৫ বছর। এই ৭৫ বছরের বেশির ভাগ সময়ই তিনি নিজেকে বহু কাজে জড়িয়ে রেখেছিলেন।

স্বদেশ প্রেম ও স্বদেশের মানুষ অধিকার বঞ্চিত, অত্যাচারিত হওয়া থেকেই জন্ম নেয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ভাবনা। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকেই তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বহুবার গ্রেফতার হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, এবং হয়রানির শিকারও হয়েছেন। একসময় বুঝতে পারেন স্বাধীনতা সংগ্রাম তাঁর একার পক্ষে সম্ভব নয়, প্রয়োজন অনেক মানুষের ও একটি শক্ত সংগঠনের। এরপর-ই স্বাভাবিক ভাবেই তিনি রাজনীতিতে নাম লিখান। তাঁর রাজনীতি ছিল সমন্বয়ের, সংঘাতের না। মৌলানার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯০৭ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে।
আদর্শিকভাবে তিনি ইসলামী পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী ছিলেন। এই বিশ্বাস তাঁর রচিত গ্রন্থ ও প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া তিনি একাধিক সংগঠন গড়ে তোলার সাথে সাথে বহু সংগঠনের সঙ্গে যুক্তও হয়েছিলেন।

মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়েও মৌলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন মুসলিম লীগের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কংগ্রেসের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আন্দোলন না করা এবং ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত থাকার জন্য মুসলমান সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল মুসলিম লীগ। মৌলানা সুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মুসলিম লীগের সুবিধাবাদী নীতি ও জনস্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপের বিবরণ মানুষের কাছে তুলে ধরেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মুসলিম সমাজের ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সাধারণ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, সমাজ সেবা-সংস্করণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে একাধিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন।

ব্রিটিশ সরকারের উনেক বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯০৩ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তিনি পত্রিকা সম্পাদনা ও সাংবাদিকতা চালিয়ে যান।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে ‘দৈনিক ছোলতান’ ছাড়া বাকি সব রাজনৈতিক ও সংগঠনের মুখপত্র ছিল। ‘দৈনিক ছোলতান’ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ক ছিল। সে সময়ে দৈনিক সুলতানে ব্রিটিশদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিভিন্ন চিত্র ও কলাম-প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো। যার ফলে বেশ কয়েকবার এই পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল ব্রিটিশ প্রশাসন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বুঝতে পারেন, মুসলিম সমাজকে জাগাতে হলে সংবাদপত্রে লেখালেখি ও প্রচার প্রচারণা বাড়াতে হবে। এ জন্যে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা বক্তৃতায়, ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চায় এবং ইসলামের বাণী ও গৌরবময় ঐতিহ্যের সৌরভ ছড়িয়ে দিতেই সাহিত্য ও সংবাদপত্রের আশ্রয় নেন।

তিনি ইসলামী পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী হলেও ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়ে যাওয়ার পূর্ব থেকেই উর্দু নয়, বাংলা ভাষার প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। বাংলা ভাষাকে উপযুক্ত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার জন্য জোর প্রয়াস চালিয়েছেন। বাংলার পাশাপাশি উর্দুতে সমান পাদর্শি হলেও তিনি কখনও উর্দুতে বক্তব্য দেননি। প্রাদেশিক সংসদে তিনিই প্রথম বাংলায় বক্তৃতা ছাড়াও কার্যবিবরণীতে তাঁর বক্তব্য বাংলায় লিখতেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মাদ্রাসায় পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও তিনি তখনকার শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন না। কারণ, তখনকার সময় মাদ্রাসাগুলোতে মাতৃভাষা বাংলা কিংবা ইংরেজি ভাষায় কিছু পড়ানো হতো না। শুধু মাত্র ধর্র্মীয় ও আরবি-ফারসি ভাষায় শিক্ষা প্রদান করা হতো।

তিনি মনে করতেন শুধু মাত্র ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে একজন ছাত্রের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব না। তিনি চেষ্টা করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে মাতৃভাষা বাংলা এবং ইংরেজিকে অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। এর সাথে গণিত, বিজ্ঞান, ভূগোল, ইতিহাস পাঠ্যসূচীতে যোগ করা।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সাহিত্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকলেও একথা সত্যি যে তাঁর খাঁটি সাহিত্য বিষয়ক রচনা ছিল না। খাঁটি সাহিত্য রচনায় তিনি অবদান ও তটা না রাখলেও সাহিত্য সংগঠন গড়ে তোলা নিয়ে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী প্রশংসনীয় অবদান রেখেছিলেন।

সমাজ সংস্কার বলতে তিনি শুধু কুপ্রথা উচ্ছেদ নয়, সামগ্রিকভাবে সমাজকে গতিময় ও যুগোপযোগী করাই প্রকৃত সমাজ সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করতেন। তিনি তৎকালীন মুসলিম সমাজে প্রচলিত শ্রেণি-বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা ও বিরোধীতা করেন। সমাজ সংস্কার নিয়ে বেশ কয়েকটি বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন এবং লিখেছেন।

সাংগঠনিক ভাবে আঞ্জমানে ওলেমার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, ঘুষ, দুর্নীতি ও সূদের ব্যবসা সমাজ থেকে দূর করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সমাজকে সুন্দর ও শক্তিশালী করতে প্রথমে প্রয়োজন কুপ্রথা সমূহকে নির্মূল করা।

পুরুষ শাষিত সমাজে পুরুষরা কারণে-অকারণে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে। সমাজে প্রতিনিয়ত নারীরা শারীরিক, মানসিক, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়। মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের বন্ধের দাবিতে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি শুধু মাত্র রচিত প্রবন্ধ কিংবা সভা সমাজে বক্তব্য দিয়ে সমাজ সংস্কারের কাজ থেমে রাখেননি। সাংগঠনিক ভাবে আনজুমানে ওলেমার মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন নিজেকে সমাজের সেবায় নিয়োজিত রেখেছিলেন। ছোটবেলায় তাঁর বাবা-মা মারা যায়। তিনি বুঝতে পারতেন একজন এতিমের কষ্ট।

সেজন্য তিনি ১৯৩০ সালে একটি এতিম খানা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া মাদ্রাসা, ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি।

তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর অনুসারী ও একটি গোপন বিপ্লবী দলের নেতা ছিলেন। যোগদান করেছিলেন ফরোয়ার্ড ব্লকে। তিনি আইন অমান্য আন্দোলনে যোগদান করেন। নেতাজী সুভাষ বসুর সাথে সাক্ষাৎ ও বিপ্লবী তৎপরতার অভিযোগে ১৯৪৪ সালে তিনি গ্রেফতার হন ও ১১ মাস কারাভোগ করেন।

তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী নেতা। রাজনৈতিক কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন এবং হয়রানি-নির্যাতনের শিকার হন। রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, গণমুখি চেতনায় বিশ্বাসী ও জাতীয়তাবাদী।

খেলাফত আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, স্বরাজ এবং ইসলাম মিশনের কাজ তিনি একসঙ্গে চালিয়ে গেছেন। ১৯১৯ সাথে দিল্লিতে কনফারেন্স অধিবেশনের মাধ্যমে খিলাপৎ পার্টি নামের একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা হয়। সেই অধিবেশনে মহাত্মা গান্ধীর সাথে মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীও উপস্থিত ছিলেন।

খিলাফৎ আন্দোলনকারীরা যুদ্ধাকালীন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য ব্রিটিশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক বিশ্বাস ঘাতক আখ্যায়িত করেছিলেন। সেই অধিবেশনেই মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সহযোগিতায় প্রথম বিলাতি বস্ত্র বর্জনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা খিলাফৎ পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল শেখ ই চাটগাম কাজেম আলী।

১৯৩০ সালের দিকে চট্টগ্রামে ‘কৃষক প্রজা সমিতি’র শাখা প্রতিষ্ঠিত হলে মৌলানা ইসলামাবাদী কৃষকদের নেতা হয়। ১৯৩৭ সালের শেষের দিকে মৌলানা ইসলামাবাদী দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের ১৫ ই জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়ায় ‘কৃষক প্রজা সমিতি’ আয়োজিত একটি জনসভায় তিনি বলেন- ‘কৃষকরাই দেশের মেরুদণ্ড, তাহারা বাঁচিয়া থাকিলে সকলেই বাঁচবে, তাহারা সুখী হলে সকলেই সুখী হবে।’

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীদের সহযোগিতায় দিল্লীতে খেলাফৎ পার্টির অধিবেশনে বিলাতী বস্ত্র বর্জনের দাবি তুলেছিল।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীকে নিয়ে এই পর্যন্ত অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বইগুলোতেও এই বইয়ে থাকা তথ্যগুলো আছে। তবে এক সাথে অন্য কোনো একটি বইতে নেই।

লেখক আকাশ ইকবাল চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদীর জীবন ও কর্মের সকল বিষয় একটি মলাটে নিয়ে আসতে। এছাড়া আকাশ ইকবাল আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ যুক্ত করেছেন তার কর্ম ও জীবনের সঙ্গে।

যেমন, সূর্যসেন ও ইসলামাবাদীর কোন যোগসূত্র ছিল কিনা সেই বিষয়ে একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এবং নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজে মৌলানার ভূমিকা ও অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে চট্টগ্রামে একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার। সে জন্য তিনি আনোয়ারা উপজেলার তৎকালীন জমিদার আলী খান থেকে ৫০০ বিঘা এবং সরকার থেকে ৬০০ বিঘা জমি নিয়ে ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছিলেন।

লেখক আকাশ ইকবাল এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তার এই বইতে। এছাড়া মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর পারিবারিক বংশ তালিকারও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ লিখেছেন।

বইটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে গেলে পাতার পর পাতা শেষ হবে। কিন্তু সম্ভব নয়। আমি যা আলোচনা করেছি তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে। যা পড়ে আপনি ইসলামাবাদী সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা লাভ করতে না পারলেও বুঝতে নিশ্চয় পেরেছেন সমাজে তার ভূমিকা কি ছিল? সুতরাং, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী অবশ্যই বহুমাত্রিক কিংবদন্তী। ওনার কর্ম আমাদের অনুপ্রেরণীয়।

বইটি প্রকাশ করেছে তৃতীয় চোখ প্রকাশনী আর প্রচ্ছদ করেছেন সুহৃদ রহমান। পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা চট্টগ্রামে ২২ নম্বর স্টলে এবং অনলাইন পরিবেশক রকমারি ডট কমে। বইটির গায়ের মূল্য ১৮০ টাকা, আর ছাড় মূল্য ১৩৫ টাকা।

লেখক: ফারজানা ফাইজা
গল্পকার ও প্রাবন্ধিক।

Feb2

অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস নেয়া হবে। আর রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ঢাকা মহানগরীতে চালু হচ্ছে এই পদ্ধতি। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

এছাড়াও মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো।

জানা যায়, আগামী সপ্তাহে তা শুরু হবে । ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা।

দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা পরে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এ সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বলেন, আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিস্তারিত আসছে…