খুঁজুন
বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আকাশ ইকবালের নতুন বই ‘বহুমাত্রিক কিংবদন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
আকাশ ইকবালের নতুন বই ‘বহুমাত্রিক কিংবদন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’

ফারজানা ফাইজা : পাঠক যদি প্রশ্ন করেন কেন বইটি পড়ব বা সংগ্রহ করব? এর মধ্যে কি আছে কিংবা কে এই মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী? সমাজে কি ছিল তাঁর ভূমিকা? প্রথমেই বলি ‘বহুমাত্রিক কিংবন্তী মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী’’ তরুণ লেখক আকাশ ইকবালের প্রথম জীবনী ও গবেষণামূলক মৌলিক গ্রন্থ।

তরুণ লেখক আকাশ ইকবাল দীর্ঘ তিন বছর পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন এই কিংবদন্তীর উপর। লেখক শুধু মাত্র একজন ব্যক্তির জীবন ও কর্ম লিখে শেষ করেননি, তুলে এনেছেন সেই সময়ের সমাজ ও রাষ্ট্রের নানান চিত্র। মূলত কিশোরদের পড়ার উপযোগী করে লিখার প্রতি গুরুত্ব দিলেও আমি মনে করি বড়-ছোট সবাই সংগ্রহে রাখার মতো বই। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যান নেত-কর্মী বা বিপ্লবীর জীবনী পাঠ করা যেমন জরুরি ঠিক একই ভাবে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবনীও পাঠ করা জরুরি। মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীরও কর্ম অনুপ্রেরণীয়। প্রশ্ন জাগতে পারে লেখক মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর নামের আগে বহুমাত্রিক শব্দটি কেন জুড়িয়েছেন? তার কারণ, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী হলেও তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজ সংস্কারক, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন সে সময়ের একজন অসাধারণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। বেঁচে ছিলেন ৭৫ বছর। এই ৭৫ বছরের বেশির ভাগ সময়ই তিনি নিজেকে বহু কাজে জড়িয়ে রেখেছিলেন।

স্বদেশ প্রেম ও স্বদেশের মানুষ অধিকার বঞ্চিত, অত্যাচারিত হওয়া থেকেই জন্ম নেয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ভাবনা। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকেই তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বহুবার গ্রেফতার হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, এবং হয়রানির শিকারও হয়েছেন। একসময় বুঝতে পারেন স্বাধীনতা সংগ্রাম তাঁর একার পক্ষে সম্ভব নয়, প্রয়োজন অনেক মানুষের ও একটি শক্ত সংগঠনের। এরপর-ই স্বাভাবিক ভাবেই তিনি রাজনীতিতে নাম লিখান। তাঁর রাজনীতি ছিল সমন্বয়ের, সংঘাতের না। মৌলানার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯০৭ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে।
আদর্শিকভাবে তিনি ইসলামী পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী ছিলেন। এই বিশ্বাস তাঁর রচিত গ্রন্থ ও প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া তিনি একাধিক সংগঠন গড়ে তোলার সাথে সাথে বহু সংগঠনের সঙ্গে যুক্তও হয়েছিলেন।

মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়েও মৌলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন। তৎকালীন মুসলিম লীগের লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কংগ্রেসের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আন্দোলন না করা এবং ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত থাকার জন্য মুসলমান সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল মুসলিম লীগ। মৌলানা সুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মুসলিম লীগের সুবিধাবাদী নীতি ও জনস্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপের বিবরণ মানুষের কাছে তুলে ধরেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মুসলিম সমাজের ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সাধারণ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, সমাজ সেবা-সংস্করণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে একাধিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন।

ব্রিটিশ সরকারের উনেক বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯০৩ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তিনি পত্রিকা সম্পাদনা ও সাংবাদিকতা চালিয়ে যান।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে ‘দৈনিক ছোলতান’ ছাড়া বাকি সব রাজনৈতিক ও সংগঠনের মুখপত্র ছিল। ‘দৈনিক ছোলতান’ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ক ছিল। সে সময়ে দৈনিক সুলতানে ব্রিটিশদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিভিন্ন চিত্র ও কলাম-প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো। যার ফলে বেশ কয়েকবার এই পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল ব্রিটিশ প্রশাসন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী বুঝতে পারেন, মুসলিম সমাজকে জাগাতে হলে সংবাদপত্রে লেখালেখি ও প্রচার প্রচারণা বাড়াতে হবে। এ জন্যে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা বক্তৃতায়, ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চায় এবং ইসলামের বাণী ও গৌরবময় ঐতিহ্যের সৌরভ ছড়িয়ে দিতেই সাহিত্য ও সংবাদপত্রের আশ্রয় নেন।

তিনি ইসলামী পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী হলেও ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়ে যাওয়ার পূর্ব থেকেই উর্দু নয়, বাংলা ভাষার প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। বাংলা ভাষাকে উপযুক্ত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার জন্য জোর প্রয়াস চালিয়েছেন। বাংলার পাশাপাশি উর্দুতে সমান পাদর্শি হলেও তিনি কখনও উর্দুতে বক্তব্য দেননি। প্রাদেশিক সংসদে তিনিই প্রথম বাংলায় বক্তৃতা ছাড়াও কার্যবিবরণীতে তাঁর বক্তব্য বাংলায় লিখতেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী মাদ্রাসায় পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও তিনি তখনকার শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন না। কারণ, তখনকার সময় মাদ্রাসাগুলোতে মাতৃভাষা বাংলা কিংবা ইংরেজি ভাষায় কিছু পড়ানো হতো না। শুধু মাত্র ধর্র্মীয় ও আরবি-ফারসি ভাষায় শিক্ষা প্রদান করা হতো।

তিনি মনে করতেন শুধু মাত্র ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে একজন ছাত্রের সঠিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব না। তিনি চেষ্টা করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে মাতৃভাষা বাংলা এবং ইংরেজিকে অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন। এর সাথে গণিত, বিজ্ঞান, ভূগোল, ইতিহাস পাঠ্যসূচীতে যোগ করা।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সাহিত্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকলেও একথা সত্যি যে তাঁর খাঁটি সাহিত্য বিষয়ক রচনা ছিল না। খাঁটি সাহিত্য রচনায় তিনি অবদান ও তটা না রাখলেও সাহিত্য সংগঠন গড়ে তোলা নিয়ে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী প্রশংসনীয় অবদান রেখেছিলেন।

সমাজ সংস্কার বলতে তিনি শুধু কুপ্রথা উচ্ছেদ নয়, সামগ্রিকভাবে সমাজকে গতিময় ও যুগোপযোগী করাই প্রকৃত সমাজ সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করতেন। তিনি তৎকালীন মুসলিম সমাজে প্রচলিত শ্রেণি-বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা ও বিরোধীতা করেন। সমাজ সংস্কার নিয়ে বেশ কয়েকটি বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন এবং লিখেছেন।

সাংগঠনিক ভাবে আঞ্জমানে ওলেমার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, ঘুষ, দুর্নীতি ও সূদের ব্যবসা সমাজ থেকে দূর করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সমাজকে সুন্দর ও শক্তিশালী করতে প্রথমে প্রয়োজন কুপ্রথা সমূহকে নির্মূল করা।

পুরুষ শাষিত সমাজে পুরুষরা কারণে-অকারণে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে। সমাজে প্রতিনিয়ত নারীরা শারীরিক, মানসিক, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়। মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী নারী নির্যাতন ও নিপীড়নের বন্ধের দাবিতে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি শুধু মাত্র রচিত প্রবন্ধ কিংবা সভা সমাজে বক্তব্য দিয়ে সমাজ সংস্কারের কাজ থেমে রাখেননি। সাংগঠনিক ভাবে আনজুমানে ওলেমার মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী আজীবন নিজেকে সমাজের সেবায় নিয়োজিত রেখেছিলেন। ছোটবেলায় তাঁর বাবা-মা মারা যায়। তিনি বুঝতে পারতেন একজন এতিমের কষ্ট।

সেজন্য তিনি ১৯৩০ সালে একটি এতিম খানা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া মাদ্রাসা, ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন বেশ কয়েকটি।

তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর অনুসারী ও একটি গোপন বিপ্লবী দলের নেতা ছিলেন। যোগদান করেছিলেন ফরোয়ার্ড ব্লকে। তিনি আইন অমান্য আন্দোলনে যোগদান করেন। নেতাজী সুভাষ বসুর সাথে সাক্ষাৎ ও বিপ্লবী তৎপরতার অভিযোগে ১৯৪৪ সালে তিনি গ্রেফতার হন ও ১১ মাস কারাভোগ করেন।

তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী নেতা। রাজনৈতিক কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন এবং হয়রানি-নির্যাতনের শিকার হন। রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, গণমুখি চেতনায় বিশ্বাসী ও জাতীয়তাবাদী।

খেলাফত আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, স্বরাজ এবং ইসলাম মিশনের কাজ তিনি একসঙ্গে চালিয়ে গেছেন। ১৯১৯ সাথে দিল্লিতে কনফারেন্স অধিবেশনের মাধ্যমে খিলাপৎ পার্টি নামের একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা হয়। সেই অধিবেশনে মহাত্মা গান্ধীর সাথে মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীও উপস্থিত ছিলেন।

খিলাফৎ আন্দোলনকারীরা যুদ্ধাকালীন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য ব্রিটিশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক বিশ্বাস ঘাতক আখ্যায়িত করেছিলেন। সেই অধিবেশনেই মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সহযোগিতায় প্রথম বিলাতি বস্ত্র বর্জনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম জেলা খিলাফৎ পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল শেখ ই চাটগাম কাজেম আলী।

১৯৩০ সালের দিকে চট্টগ্রামে ‘কৃষক প্রজা সমিতি’র শাখা প্রতিষ্ঠিত হলে মৌলানা ইসলামাবাদী কৃষকদের নেতা হয়। ১৯৩৭ সালের শেষের দিকে মৌলানা ইসলামাবাদী দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছরের ১৫ ই জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়ায় ‘কৃষক প্রজা সমিতি’ আয়োজিত একটি জনসভায় তিনি বলেন- ‘কৃষকরাই দেশের মেরুদণ্ড, তাহারা বাঁচিয়া থাকিলে সকলেই বাঁচবে, তাহারা সুখী হলে সকলেই সুখী হবে।’

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীদের সহযোগিতায় দিল্লীতে খেলাফৎ পার্টির অধিবেশনে বিলাতী বস্ত্র বর্জনের দাবি তুলেছিল।

মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীকে নিয়ে এই পর্যন্ত অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বইগুলোতেও এই বইয়ে থাকা তথ্যগুলো আছে। তবে এক সাথে অন্য কোনো একটি বইতে নেই।

লেখক আকাশ ইকবাল চেষ্টা করেছে ইসলামাবাদীর জীবন ও কর্মের সকল বিষয় একটি মলাটে নিয়ে আসতে। এছাড়া আকাশ ইকবাল আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ যুক্ত করেছেন তার কর্ম ও জীবনের সঙ্গে।

যেমন, সূর্যসেন ও ইসলামাবাদীর কোন যোগসূত্র ছিল কিনা সেই বিষয়ে একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এবং নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজে মৌলানার ভূমিকা ও অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে চট্টগ্রামে একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার। সে জন্য তিনি আনোয়ারা উপজেলার তৎকালীন জমিদার আলী খান থেকে ৫০০ বিঘা এবং সরকার থেকে ৬০০ বিঘা জমি নিয়ে ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছিলেন।

লেখক আকাশ ইকবাল এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তার এই বইতে। এছাড়া মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর পারিবারিক বংশ তালিকারও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ লিখেছেন।

বইটি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে গেলে পাতার পর পাতা শেষ হবে। কিন্তু সম্ভব নয়। আমি যা আলোচনা করেছি তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে। যা পড়ে আপনি ইসলামাবাদী সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা লাভ করতে না পারলেও বুঝতে নিশ্চয় পেরেছেন সমাজে তার ভূমিকা কি ছিল? সুতরাং, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী অবশ্যই বহুমাত্রিক কিংবদন্তী। ওনার কর্ম আমাদের অনুপ্রেরণীয়।

বইটি প্রকাশ করেছে তৃতীয় চোখ প্রকাশনী আর প্রচ্ছদ করেছেন সুহৃদ রহমান। পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা চট্টগ্রামে ২২ নম্বর স্টলে এবং অনলাইন পরিবেশক রকমারি ডট কমে। বইটির গায়ের মূল্য ১৮০ টাকা, আর ছাড় মূল্য ১৩৫ টাকা।

লেখক: ফারজানা ফাইজা
গল্পকার ও প্রাবন্ধিক।

Feb2

মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সিআইডি। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন-সংক্রান্ত চিঠিতে, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনযায়ী, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে কলকাতার ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি রোডে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অভিযান চালায় সিআইডির একটি দল।

একইদিন দলের সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়েও চলে অভিযান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা সব্যসাচী দত্ত।

এ সময় তৃণমূল কর্মীরা গোয়েন্দাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে মমতার বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালায় সিআইডির সদস্যরা। একইদিন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের কার্যালয়েও অভিযান হয়েছে।

এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ও অন্যান্য বৈঠকের জন্য তারা দিল্লিতে আছেন। সেটা জানার পরও আজকের দিনে তাদের অনুপস্থিতিতে কেন সিআইডি তাদের বাসায় অভিযান চালাল সেটাই বিস্ময়কর।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকারকে ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করেন কয়েকজন বিধায়ক।

জালিয়াতির অভিযোগ তুলে মামলা করেন বিধানসভার প্রধান সচিব। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি ও সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে অভিযান চালায় সিআইডি।

এদিকে মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হওয়া প্রশাসনিক বৈঠকে অভিনেতা ও তৃণমূল সাংসদ দেবসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন।

গত কয়েক দিনে যেভাবে একের পর এক নেতা মমতার হাত ছাড়ছেন, তাতে দেবও একই পথে হাঁটছেন কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমার ভালোবাসা সারাজীবন থাকবে। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে আছেন ততদিন তার সঙ্গেই আছি।

দলের এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছেন তৃণমূলের আরেক দাপুটে নেতা ও বিধাননগর পুরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। সোমবার গভীর রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলার সময় ক্ষুব্ধ জনতা তার দিকে ডিম, টমেটো ও গোবর ছুড়ে মারে।

 

লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে যেয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে যেয়ে রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত

ময়মনসিংহে আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিতে গিয়ে রেলওয়ের একটি রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর কলেজ রোড এলাকার একটি রেলক্রসিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনটি কলেজ রোড রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে এর একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পরপরই ঢাকা-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের সময় ময়মনসিংহ স্টেশনের আউটার এলাকায় একটি রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হয়।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনচ্যুত বগিগুলো দ্রুত উদ্ধার করে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। তবে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যেসব কর্মকর্তার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয় কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিনের সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কোন কর্মকর্তার কারণে এই প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে, তাকে চিহ্নিত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় তিনি সব ধরনের প্রকল্পের খরচ কমানোর এবং রেট সিডিউল একীভূত করার নির্দেশ দেন। এলজিইডি ও পিডাব্লিউডিসহ বিভিন্ন বিভাগের রেট সিডিউল আলাদা হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বিভাগের রেট সিডিউল একই কাঠামোতে নিয়ে আসতে হবে।

উন্নয়নের নামে গাছ কাটার বিষয়েও নিজের দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একনেক সভায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনেক গাছ ছিল যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত, কিন্তু এখন ঢাকা-বগুড়া সড়কেও তেমন গাছ নেই। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তিনি সব এলাকাকে শহর বানানোর পক্ষে নন, বরং গ্রামীণ পরিবেশ বজায় রাখাই তার পছন্দ। সড়কের পাশে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস বা ইপিল-ইপিল গাছ না লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, বিনা কারণে গাছ কেটে ফেলা মানুষ হিসেবে তাকে ব্যথিত করে।

এদিনের সভায় অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়), সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ এবং আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। এছাড়া বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁওয়ে লিফট সংযোজন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ, ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়), মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট, দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড) প্রকল্পটির জট অবশেষে খুলতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসের ২৩ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত চার দিনের চীন সফরের আগেই এই অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প একনেকের এজেন্ডায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ‘ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার’ এবং ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা’ করার প্রতিশ্রুতিরই অংশ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বঙ্গবন্ধু টানেল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

বিশেষ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনা ঋণ এবং বাকি অংশ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। চীনের ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ (সিআরবিসি) জিটুজি ভিত্তিতে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করবে। এই প্রকল্পের আওতায় সেতুসহ সংযোগ সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস পাইপলাইন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ স্টেশন, ২০ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং ১২ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সরকারের অনীহা, ডিপিপি অনুমোদন ও অর্থায়ন জটিলতায় প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এই প্রক্রিয়া গতি পায় এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে নিয়ে আসে। এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বছরভিত্তিক ব্যয়ের খাতও চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নিজস্ব তহবিল ও ঋণের অর্থ খরচ করা হবে।