খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসহায়দের বেতনের টাকা দিয়ে খাদ্য সামগ্রী কিনে দিল মানবিক পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
অসহায়দের বেতনের টাকা দিয়ে খাদ্য সামগ্রী কিনে দিল মানবিক পুলিশ

প্রাণসংহারী নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রভাবে সারাদেশ এখন স্থবির। শহুরে কোলাহল আর যান্ত্রিকতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া নগরবাসীর কাছে ঢাকাও এখন অচেনা। রাস্তাঘাট ফাঁকা। হোটেল-মার্কেট বন্ধ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। তাই খেটে খাওয়া মানুষেরা হয়ে পড়েছে কর্মহীন। এসব কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কিছু ‘মানবিক পুলিশ’সদস্য। অসহায়, দুস্থ ও কর্মহীন মানুষকে খুঁজে বের করে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের ধানমণ্ডি জোনের কিছু পুলিশ সদস্যের মানবিকতায় ‘অভুক্ত’নেই রাজধানীর দিন এনে দিন খাওয়া কিছু মানুষ।

উপপরিদর্শক (এসআই) থেকে শুরু করে অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার কিছু পুলিশ কর্মকর্তা তাদের বেতনের টাকা একত্রিত করে পাশে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের। পুলিশ মানেই অমানবিক বলে অনেকে যে ধারণা করেন সেই কথাটা মিথ্যা প্রমাণ করে অসহায় মানুষের পাশে দাাঁড়ালেন ডিএমপির ধানমন্ডি জোনের কিছু পুলিশ কর্মকর্তা। গত ছয়দিন রাজধানীর নিম্নআয়ের মানুষের কাছে গেছেন তারা। শৃঙ্খলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দেওয়া হয় চাল, ডাল, তেল, লবন ও সাবান।

মানবিক পুলিশ সদস্যদের বেতনের টাকা দিয়ে ক্রয় করা খাদ্য সামগ্রী অসহায়দের দেয়া হচ্ছে

এই কাজের প্রধান উদ্যোক্তা ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল্লাহ হিল কাফি। মঙ্গলবার রাতে তিনি বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাবে খেটে খাওয়া মানুষের কাজ বন্ধ। এমনি তাদের উপার্জন নেই, সঙ্গে কাজ বন্ধ। এতে এসব পরিবারে খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। আমরা টানা ছয়দিন ধরে এসব মানুষকে সাহায্য করছি। ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, রাসেল স্কয়ার, সেগুনবাগিচা, মগবাজার, কাকরাইল ও বাড্ডা, ভাষাণটেক এলাকার বেদেপল্লী ও বস্তিগুলোতে খাবার পৌঁছে দিয়েছি। প্রতিদিন একশ থেকে দেড়শ মানুষকে আমরা খাবার দিয়েছি।’

এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে- তিন কেজি করে চাল, আধা কেজি ডাল, আধা লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি আলু, আধা কেজি পেঁয়াজ, এক প্যাকেট বিস্কুট এবং একটি সাবান।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ধানমন্ডি জোনের সাব-ইন্সপেক্টর, ওসি, এসি ও এডিসিদের বেতনের টাকা একত্রিত করা হয়েছে। সেই টাকায় খাবার কিনেই মূলত মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আমার কাছের কিছু বন্ধুও সাহায্য করেছে।’এখন যে খাবার আছে তা দিয়ে আরও কয়েকদিন মানুষকে বিতরণ করা সম্ভব হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এই উদ্যোগ কেন জানতে চাইলে এডিসি আবদুল্লাহ হিল কাফি বলেন, ‘বাইরে থাকা নিরাপদ না, এই কথা যখন প্রথম মানুষকে বলি তখন অনেকেই আমাদের বলেছে- আমরা বাসায় গেলে খাবো কী? আমাদের বাড়িতে তো অনেক সদস্য। এই বিষয়টি খুবই মানবিক ছিল। সেখান থেকেই শুরু করেছিলাম। এখন বুঝতে পারছি পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।’

ঢাকা শহরের নিম্নআয়ের মানুষ কিছুটা পাচ্ছে কিন্তু মফস্বল এলাকায় সেটা তো অনেক কম। সেজন্য এসব অসহায় গরিব মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এর আগে রাজধানীর ৫০টি থানায় প্রতিদিন দুই হাজার পাঁচশ ছিন্নমূল মানুষকে এক বেলা করে খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম। রবিবার থেকে প্রতিটি থানায় ৫০ জন করে ছিন্নমূলদের মধ্যে প্যাকেটে করে এই খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই দিন রাতে একবেলা খাবার বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএমপির রমনা বিভাগ। প্রতিদিন রাতে ছয় থানায় ছয়শ খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

Feb2

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের ১০০ দিন-জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে।

বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এ চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়। এই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

সুপার সাব মোসাম্মাৎ সাগরিকার গোলে নেপালকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছে নেপালকে।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার পর টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দু’বার এই নেপালকে হারিয়েই হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এবার চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক করার মিশন বাংলাদেশের সামনে।

দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি খেলোয়াড় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার চমৎকার বোঝাপড়ায় লিড নেয় বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে ঢুকে শামসুন্নাহার বল ফেলেন গোলমুখে। কোনো ভুল করেননি সাগরিকা। নেপালের এক ডিফেন্ডার তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও পারেনি। বল ঠেলে দেন জালে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। বাকি কয়েক মিনিট ওই লিড ধরে রেখে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা উঠে যায় ফাইনালে। এই নিয়ে বাংলাদেশ টানা তিনবার উঠলো সাফের ফাইনালে।

২৩ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তারপর সমতায় ফেরে ইনজুরি সময়ে প্রথম মিনিটে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে করা গোলে স্বস্তি ফিরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েদের ডাগআউটে। ডানপ্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার নেওয়া অসাধারণ কর্নার কিকটি হাতে লাগিয়েছিলেন নেপালের গোলরক্ষক। তবে থামাতে পারেননি। গোলরক্ষকের হাত হয়ে বল চলে যায় জালে।

দিপা শাহীর কর্নার হাতে লাগিয়েও ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি মিলি আক্তার। বল চয়ে যায় একটু ফাঁকায় দাড়ানো গিতা রানার কাছে। তিনি সুযোগ বুঝে বলটি পাঠিয়ে দেন জালে। ম্যাচের প্রথম লিড নিয়েছিল নেপাল।

৩৬ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে প্রীতি রানীর নেওয়া শট গোলরক্ষক মিলি আক্তারের হাতে লেগে ক্রসবার হয়ে ফিরে আসলে বাংলাদেশ বেঁচে যায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম অর্ধ।

কোচ পিটার বাটলার ৪০ মিনিটে দুটি পরিবর্তন করেন। সুরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। শেষ দিকে আনিকাকে উঠিয়ে কোচ মাঠে নামান সাগরিকা। সেই সাগরিকাই বাংলাদেশকে ভাসান ফাইনালে ওঠার আনন্দে।

নেপালকে ফাইনালে হারিয়ে গত দুটি সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের লড়াইও জিতলো বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নও টিকে থাকলো।

৪৭ মিনিটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের ভুলে শট নিয়েছিলেন রেখা পাউদেল। তবে তার শট পোস্টে লেগে ফিরলে আবার বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ৭৮ মিনিটে বদলি সাগরিকার শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের কাছে টানা তিন ম্যাচ হারলো নেপাল। তবে ভুটানের রেফারি ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়ের খেলা চালিয়েছেন ১৩ মিনিটের মতো।

বাংলাদেশ একাদশ

মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন (মনিকা চাকমা, ৪৬ মিনিট), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী (সাগরিকা), উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ষষ্ঠ তলায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি।

নতুন মূল্য গত ১ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।