খুঁজুন
, ,

ফেসবুক লাইভে নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা শুনে সমাধান দিলেন সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 April, 2020, 5:24 pm
ফেসবুক লাইভে নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা শুনে সমাধান দিলেন সুজন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সরকারের নির্দেশনা মেনে বাসায় অবস্থান করা নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৮টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা শুনেন এবং তাৎক্ষণিক বেশ কিছু সমস্যার সমাধানও দেন।

এ সময় সুজন বলেন, দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছেন। ইতিমধ্যে সরকার গত ২৬শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে এবং সবাইকে বাসায় অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশনার মধ্যে নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা জানতে নাগরিক উদ্যোগ অনলাইনে তাদের প্রাত্যহিক কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছে তারাই ধারাবাহিকতায় ফেসবুক লাইভে এসে জনগনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে নাগরিক উদ্যোগ।

করোনা এবং আমাদের জীবনধারা নামক আলোচনায় তিনি বলেন, আমরা সবাই নিজেকে নিয়ে এমনভাবে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে আমাদের পরিবার, সমাজ এমনকি ধর্মকর্মও আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। করোনা আমাদেরকে সে বিভক্তি দূর করার সুযোগ করে দিয়েছে। এ সময়টা যদি এখন পরিবার, সমাজ, ধর্মকর্ম এবং মানবিকতায় ব্যয় করি দেখবেন জীবনটা কতই সুন্দর। আজ পৃথিবীর কোথাও নেই কোন প্রকার হানাহানি বা রক্তারক্তি, আছে শুধুই মানবতা।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করায় তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। বিশেষ করে চাহিদা অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধ সামগ্রী সংগ্রহ করে মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ গ্রহণ করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারের এতো রকম উদ্যোগের পরও যারা অযথা বাসার বাহিরে বের হচ্ছেন এবং সরকারের নির্দেশনা পালন করছেন না তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন আপনারা বাড়িতে থাকুন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন, নিজে বাঁচুন সর্বোপরি দেশকে বাঁচান। এক্ষেত্রে নগরবাসীকে সিএমপি’র মানবিক উদ্যোগেরও সহায়তা নেওয়ার আহবান জানান তিনি। লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই মশার উৎপাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার অনুরোধ জানান। এছাড়া পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাড়িতে বসে বিদ্যুৎ বিল প্রদান, ওয়াসার অনিয়মিত পানি প্রদান থেকে মুক্তি, গ্যাসের দুস্প্রাপ্যতা, চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী না দেখাসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই দেখি বিভিন্ন দুর্যোগে মানবিকতার উদার দৃষ্টি দিয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে আমাদের তরুন সমাজ। এখনও তারা যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। তবে বিক্ষিপ্তভাবে ত্রাণ সামগ্রী না দিয়ে এসব ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন অথবা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার আহবান জানান তিনি।

বর্তমান সময়ের আলোচিত মশার কামড় থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার বিনীত অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মশার কামড়ে সত্যিই জনজীবন বিপর্যস্ত। কোন কিছুতেই মশার কামড় থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। ফলতঃ বাড়িতে থাকা, ইবাদত বন্দেগী করা এমনকি ছাত্র ছাত্রীদের পড়ালেখাও ব্যহত হচ্ছে মারাত্নকভাবে। তিনি মশা নিধনকে অগ্রাধিকার গুরুত্ব দানের জন্যও চসিক মেয়রের প্রতি বিশেষ আহবান জানান।

এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানির স্বাভাবিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ফলে নগরবাসীর দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি যে কোন মূল্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ওয়াসার এমডি’র নিকট বিনীত অনুরোধ জানান এবং যে সকল এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সে সকল এলাকায় নিয়মিত ভাউচারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রদানের আহবান জানান।

তিনি নগরীর যে সব এলাকায় গ্যাসের চাপ অপর্যাপ্ত রয়েছে সে সব এলাকায় বিশেষ নজর দানের মাধ্যমে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করে নগরবাসীর গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের এমডি’র আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তাছাড়া বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিদ্যুতের প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান তিনি। লোডশেডিং এবং ট্রিপ ডাউনের নামে নগরবাসীর যেন কোন ধরনের ভোগান্তি না হয় সেদিকে দৃষ্ঠি দানের অনুরোধ জানান। বর্তমান সাধারন ছুটিকালীন সময়ে বাড়িতে বসে বিদ্যুৎ বিল প্রদান এবং প্রি-পেইড মিটারের কার্ড রিচার্জের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইমারজেন্সি ব্যালেন্স রাখার জন্যও কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা একটি মহৎ পেশা। এই পেশায় সহজেই মানুষের কাছে যাওয়া যায়, তাদের সেবা করা যায়। মূলত যাদের সেবার মানসিকতা আছে তারাই এ মহান পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেছে। বর্তমান সময়ে একজন চিকিৎসকই জাতির একজন শ্রেষ্ট সন্তান। তিনি চিকিৎসকদের জাতীয় বীর আখ্যা দিয়ে বলেন রোগগ্রস্ত অবস্থায় একজন মানুষ সবচেয়ে বেশী অসহায় এবং দুর্বল থাকে। এই দুর্বল সময়ে চিকিৎসকই তার অসহায়ের একমাত্র অবলম্বন। বর্তমান সময়টা এমনিতেই জ্বর, সর্দি, কাশির সময়। ঋতু পরিবর্তনের ফলে বেশীরভাগ মানুষই এ সময় জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হয়। তাছাড়া প্রতিনিয়তই মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে করোনাভাইরাস আতংকে আমাদের অধিকাংশ চিকিৎসকই প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা থেকে বিরত রয়েছেন। এর ফলে সাধারন অসুখে অসুস্থ রোগীরা প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে পড়ছে। আমরা কামনা করি একজন চিকিৎসকের সুরক্ষা অবশ্যই সবার আগে। কিন্তু জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাটাও একজন চিকিৎসকের মূল লক্ষ্য। তাই বর্তমান সময়ে চিকিৎসকদের পেশার প্রতি আরও বেশী আন্তরিক হতে হবে, রোগীর সেবায় নিজেকে বেশী করে আত্মনিয়োগ করতে হবে। মনুষ্যত্ববোধ, মানবতাবোধ হৃদয়ে লালন করতে হবে।

তিনি চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, সিভিল সার্জন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ সর্বস্তরের চিকিৎসকের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সারাদেশে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে। দেখা যাচ্ছে যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনার ফলে ক্রেতাসাধারণ মূল সড়কে না এসে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় অবস্থান করছে। এতে করে জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির সরকারী মূল উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ারও আশংকা করেন সুজন। অসাধু ডিলাররা পণ্য সামগ্রী জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি না করে রমজানের জন্য মজুত করারও পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জনগন যাতে সঠিকমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ক্রয় করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে ডোর টু ডোর সার্ভিস প্রদান করার জন্য টিসিবি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস প্রধানের নিকটও আহবান জানান।

সুজন নগরবাসীর যে কোন সমস্যা, দূর্যোগ কিংবা ভোগান্তি নাগরিক উদ্যোগের ফেইসবুক পেইজ Nagorik Uddog Chattogram অথবা ০১৭৭২-৫০০৭০০ এই নাম্বারে জানানোর জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান।

ফেসবুক লাইভের লিঙ্ক:

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=220120115739122&id=1445104285781340

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 10:12 am
চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘লংমার্চ’ শুরু হয়েছে।

এর আগে আজ (শনিবার) সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ করেন ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম অভিমুখী এ ‘লং মার্চ’ শুরু হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়ায়াতরে মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

এতে বক্তব্য রাখছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের বহর রওনা হয়।

লং মার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্টান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মীরের সরাই এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:57 am
সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ উলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় নিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। ওকে ছেড়ে দেন। ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদিকে একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, কেউ বলতে পারবে না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, সিফাতের মুখের ভাষা দিয়ে নয়, কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট, ছয় দফা দাবি আপনারা দেখেছেন। তার সাথে সপ্তম দফা হবে, কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই। কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে। কারেন্টের ভূতুড়ে বিল আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ঢাকাবাসী আপনারা দোয়া করবেন। আমরা আপনাদের এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচির ঔষধ ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রিয়া হলে মোবারকবাদ। প্রতিক্রিয়া হলে আমরা বলে দিচ্ছি। আপনারা বলছেন, এই করলে সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ কোনো দল, ব্যক্তিগোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে এবং জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে আন্দোলন চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে।

আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:12 am
আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, আমাদের এই লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশ্যে লং মার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে, সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য আমাদের এই লং মার্চ।’

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই লং চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লং মার্চে অংশগ্রহণ করুন। এই লং মার্চ কোনো ১১ দলের লং মার্চ নয়। এই লং মার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লং মার্চ।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, এই লং মার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।’