খুঁজুন
, ,

ফেসবুক লাইভে নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা শুনে সমাধান দিলেন সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 April, 2020, 5:24 pm
ফেসবুক লাইভে নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা শুনে সমাধান দিলেন সুজন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সরকারের নির্দেশনা মেনে বাসায় অবস্থান করা নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৮টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা শুনেন এবং তাৎক্ষণিক বেশ কিছু সমস্যার সমাধানও দেন।

এ সময় সুজন বলেন, দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছেন। ইতিমধ্যে সরকার গত ২৬শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে এবং সবাইকে বাসায় অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশনার মধ্যে নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা জানতে নাগরিক উদ্যোগ অনলাইনে তাদের প্রাত্যহিক কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছে তারাই ধারাবাহিকতায় ফেসবুক লাইভে এসে জনগনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে নাগরিক উদ্যোগ।

করোনা এবং আমাদের জীবনধারা নামক আলোচনায় তিনি বলেন, আমরা সবাই নিজেকে নিয়ে এমনভাবে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে আমাদের পরিবার, সমাজ এমনকি ধর্মকর্মও আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। করোনা আমাদেরকে সে বিভক্তি দূর করার সুযোগ করে দিয়েছে। এ সময়টা যদি এখন পরিবার, সমাজ, ধর্মকর্ম এবং মানবিকতায় ব্যয় করি দেখবেন জীবনটা কতই সুন্দর। আজ পৃথিবীর কোথাও নেই কোন প্রকার হানাহানি বা রক্তারক্তি, আছে শুধুই মানবতা।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করায় তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। বিশেষ করে চাহিদা অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধ সামগ্রী সংগ্রহ করে মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ গ্রহণ করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারের এতো রকম উদ্যোগের পরও যারা অযথা বাসার বাহিরে বের হচ্ছেন এবং সরকারের নির্দেশনা পালন করছেন না তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন আপনারা বাড়িতে থাকুন, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন, নিজে বাঁচুন সর্বোপরি দেশকে বাঁচান। এক্ষেত্রে নগরবাসীকে সিএমপি’র মানবিক উদ্যোগেরও সহায়তা নেওয়ার আহবান জানান তিনি। লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই মশার উৎপাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার অনুরোধ জানান। এছাড়া পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাড়িতে বসে বিদ্যুৎ বিল প্রদান, ওয়াসার অনিয়মিত পানি প্রদান থেকে মুক্তি, গ্যাসের দুস্প্রাপ্যতা, চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী না দেখাসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই দেখি বিভিন্ন দুর্যোগে মানবিকতার উদার দৃষ্টি দিয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে আমাদের তরুন সমাজ। এখনও তারা যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। তবে বিক্ষিপ্তভাবে ত্রাণ সামগ্রী না দিয়ে এসব ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন অথবা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার আহবান জানান তিনি।

বর্তমান সময়ের আলোচিত মশার কামড় থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার বিনীত অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মশার কামড়ে সত্যিই জনজীবন বিপর্যস্ত। কোন কিছুতেই মশার কামড় থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। ফলতঃ বাড়িতে থাকা, ইবাদত বন্দেগী করা এমনকি ছাত্র ছাত্রীদের পড়ালেখাও ব্যহত হচ্ছে মারাত্নকভাবে। তিনি মশা নিধনকে অগ্রাধিকার গুরুত্ব দানের জন্যও চসিক মেয়রের প্রতি বিশেষ আহবান জানান।

এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানির স্বাভাবিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ফলে নগরবাসীর দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি যে কোন মূল্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ওয়াসার এমডি’র নিকট বিনীত অনুরোধ জানান এবং যে সকল এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সে সকল এলাকায় নিয়মিত ভাউচারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রদানের আহবান জানান।

তিনি নগরীর যে সব এলাকায় গ্যাসের চাপ অপর্যাপ্ত রয়েছে সে সব এলাকায় বিশেষ নজর দানের মাধ্যমে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করে নগরবাসীর গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের এমডি’র আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তাছাড়া বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিদ্যুতের প্রধান প্রকৌশলীকে ফোন করে ধন্যবাদ জানান তিনি। লোডশেডিং এবং ট্রিপ ডাউনের নামে নগরবাসীর যেন কোন ধরনের ভোগান্তি না হয় সেদিকে দৃষ্ঠি দানের অনুরোধ জানান। বর্তমান সাধারন ছুটিকালীন সময়ে বাড়িতে বসে বিদ্যুৎ বিল প্রদান এবং প্রি-পেইড মিটারের কার্ড রিচার্জের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইমারজেন্সি ব্যালেন্স রাখার জন্যও কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা একটি মহৎ পেশা। এই পেশায় সহজেই মানুষের কাছে যাওয়া যায়, তাদের সেবা করা যায়। মূলত যাদের সেবার মানসিকতা আছে তারাই এ মহান পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেছে। বর্তমান সময়ে একজন চিকিৎসকই জাতির একজন শ্রেষ্ট সন্তান। তিনি চিকিৎসকদের জাতীয় বীর আখ্যা দিয়ে বলেন রোগগ্রস্ত অবস্থায় একজন মানুষ সবচেয়ে বেশী অসহায় এবং দুর্বল থাকে। এই দুর্বল সময়ে চিকিৎসকই তার অসহায়ের একমাত্র অবলম্বন। বর্তমান সময়টা এমনিতেই জ্বর, সর্দি, কাশির সময়। ঋতু পরিবর্তনের ফলে বেশীরভাগ মানুষই এ সময় জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হয়। তাছাড়া প্রতিনিয়তই মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে করোনাভাইরাস আতংকে আমাদের অধিকাংশ চিকিৎসকই প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা থেকে বিরত রয়েছেন। এর ফলে সাধারন অসুখে অসুস্থ রোগীরা প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে পড়ছে। আমরা কামনা করি একজন চিকিৎসকের সুরক্ষা অবশ্যই সবার আগে। কিন্তু জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাটাও একজন চিকিৎসকের মূল লক্ষ্য। তাই বর্তমান সময়ে চিকিৎসকদের পেশার প্রতি আরও বেশী আন্তরিক হতে হবে, রোগীর সেবায় নিজেকে বেশী করে আত্মনিয়োগ করতে হবে। মনুষ্যত্ববোধ, মানবতাবোধ হৃদয়ে লালন করতে হবে।

তিনি চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, সিভিল সার্জন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ সর্বস্তরের চিকিৎসকের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সারাদেশে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে। দেখা যাচ্ছে যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনার ফলে ক্রেতাসাধারণ মূল সড়কে না এসে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় অবস্থান করছে। এতে করে জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির সরকারী মূল উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ারও আশংকা করেন সুজন। অসাধু ডিলাররা পণ্য সামগ্রী জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি না করে রমজানের জন্য মজুত করারও পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জনগন যাতে সঠিকমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ক্রয় করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে ডোর টু ডোর সার্ভিস প্রদান করার জন্য টিসিবি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস প্রধানের নিকটও আহবান জানান।

সুজন নগরবাসীর যে কোন সমস্যা, দূর্যোগ কিংবা ভোগান্তি নাগরিক উদ্যোগের ফেইসবুক পেইজ Nagorik Uddog Chattogram অথবা ০১৭৭২-৫০০৭০০ এই নাম্বারে জানানোর জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান।

ফেসবুক লাইভের লিঙ্ক:

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=220120115739122&id=1445104285781340

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।