খুঁজুন
, ,

“শেষ বিদায়ের বন্ধু” মিরসরাই মানুষের শেষ ভরসা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 April, 2020, 3:47 pm
“শেষ বিদায়ের বন্ধু” মিরসরাই মানুষের শেষ ভরসা

আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:::মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার ৫ লক্ষাধীক মানুষের মানবিক সেবা প্রদানের লক্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে” শেষ বিদায়ের বন্ধু” সংগঠন।

গত শনিবার সকাল ১১টায় ওয়ার্লেস দারুল উলুম মাদ্রাসায় সংগঠনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ১৮ ইউনিটের টিম লিডারগন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় টিম লিডারদের প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট ব্যবহার বিধি, কর্মপরিকল্পনা ও সংগঠনের লক্ষ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এসময় লাশ গোসল ও দাপনের জন্য পিপিই, তিন স্তরের হ্যান্ড গ্লাভস, গগেজ, মাস্ক, গাম বুট, কবর খোডার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কোদাল, খুন্তি, বাডাইল,করাত, কুডাইল, মাটি তোলার ওয়া, জীবানু নাশক স্প্রে মেশিন, ব্লিচিং পাউডার, হ্যান্ড সেনিটাইজারসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ডাঃ এস এ ফারুক, চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, সাংবাদিক নুরুল আলম, কমফোট হাসপাতালের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন।

বারইয়ারহাট শেফা ইনসান হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডাঃ এস এ ফারুক বলেন, বেঁচে থাকতে জীবনে বন্ধুর অভাব হয়না। মৃত্যুর পর শেষ বিদায়ের বন্ধু সবাই হতে পারেনা। আমি “শেষ বিদায়ের বন্ধু” পরিবারের একজন হতে পেরে গর্বিত। এই মহৎ মানবিক উদ্যেগের জন্য উদ্যেক্তাদের ধন্যবাদ জানাই। এই করোনা পরিস্থিতিতে ছেলে মাকে জঙ্গলে রেখে আসছে, বাবাকে হাসপালে রেখে স্বজনরা খোঁজ নিচ্ছেনা৷ এ সমাজের কিছু মানুষ মৃত মানুষের সাথে নিষ্ঠুর নির্মম আচরণ করছে। মানুষ যখন মৃত মানুষের জানাযা নিয়ে শংকিত ঠিক তখনি জীবনের ঝুঁকি সত্বেও “শেষ বিদায়ের বন্ধু” সংগঠন
আমাদের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। হায়াত এবং মৃত্যু আল্লাহ জানেন কার কখন কোথায় রেখেছেন। অন্তত মিরসরাইবাসীর কাছে এ সংকটে আস্থার শেষ ভরসা হবে এ সংগঠন। আশাকরি সকল মিরসরাইবাসি এ মানবিক সংগঠনের পাশে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসবেন। এ সংগঠন যেন লাশ গোসল, দাফন-কাপন আর কবর খোড়ার কাজে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের প্রয়োজনে নানামুখী জনকল্যানে অবদান রাখে। মিরসরাই থেকে যাত্রা করে এ সংগঠন একদিন সারাদেশে মানব সেবায় অবদানের জন্য প্রশংসিত হবে।

চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠন এই মুহুর্তে সময়ের দাবী। আমি একজন সমাজকর্মী হিসেবে অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি ভালো কাজ করলে মানুষ ভালোবাসবে। কিছু বিরোধিতা আসলেও হতাশ হয়ে হাল ছাড়া যাবেনা। এ সংগঠন মিরসরাইয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদান রাখবে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যেক্তারা জানান, মিরসরাই অঞ্চলের গরিব, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে এবং পরিপূর্ন ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে যে কোন মৃত ব্যাক্তির লাশ গোসল, দাফন-কাপন ও জানাযার লক্ষে মিরসরাই উপজেলার ১৮টি ইউনিটে সমাজ দরদী মানবতাবাদীদের সহায়তায় গঠিত হয়েছে “শেষ বিদায়ের বন্ধু” সংগঠন।

প্রতিটি ইউনিটে ৭জন পুরুষ এবং ৫জন মহিলা হিসেবে মোট ২১৬জন সেবক হিসেবে কাজ করবেন। উপজেলা সমন্বয় কমিটির নির্ধারিত হটলাইনে ফোন দিয়ে মানুষ এ সংগঠনের ফ্রী সেবা গ্রহন করবে। এ সংগঠন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হবে। পর্যায়ক্রমে আরো কিছু সেবামূলক কার্যক্রম সংযোজন হবে।

লক্ষঃ-
কালক্রমে এই সংস্থা নানারূপ মানবতাবাদী বাস্তবমুখী জনহিতকর কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে আত্ম মানবতার সেবায় কাজ করবে।

এর উদ্দেশ্যঃ- বে-ওয়ারিশ লাশ দাফন ও অসমর্থ লোকদের লাশ দাফনের ব্যবস্থা। ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস প্রদান। এতিমখনা ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা। ঈদে দুঃস্থ পুরুষ ও মহিলাদের মাঝে নূতন কাপড় বিতরণ, দুঃস্থ ও অক্ষম পরিবারদের সাহায্য প্রদান। বিভিন্ন দুর্যোগের সময় দুর্গত এলাকায় ত্রাণকার্য্য পরিচালনা করা । রমযানে দুস্থ এতিমদের ইফতার সামগ্রী পোঁছে দেওয়া।  লাশ গোসলের স্থায়ী ব্যবস্থা করা।উপজেলা কেন্দ্রীয় গোরস্থান নির্মাণ। গ্রামে যারা মৃত ব্যক্তিকে গোসল ও কবর খোড়ার কাজ করেন তাদের প্রশিক্ষন।
মসজিদ ভিত্তিক কোরআন শিক্ষা।  কেরাত প্রতিযোগিতা। ইসলামি সাধারণ জ্ঞান রচনা প্রতিযোগিতা। রমযান মাসে সেরা হাফেজ নির্বাচন সম্মাননা প্রদান।

“শেষ বিদায়ের বন্ধু” সংগঠনের সেবা পেতে নিচের হটলাইন নাম্বারে ফোন দিন
+8801815604723
+8801819107171
+8801726301123

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।