খুঁজুন
শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“শেষ বিদায়ের বন্ধু” মিরসরাই মানুষের শেষ ভরসা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
“শেষ বিদায়ের বন্ধু” মিরসরাই মানুষের শেষ ভরসা

আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:::মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার ৫ লক্ষাধীক মানুষের মানবিক সেবা প্রদানের লক্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে” শেষ বিদায়ের বন্ধু” সংগঠন।

গত শনিবার সকাল ১১টায় ওয়ার্লেস দারুল উলুম মাদ্রাসায় সংগঠনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ১৮ ইউনিটের টিম লিডারগন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় টিম লিডারদের প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট ব্যবহার বিধি, কর্মপরিকল্পনা ও সংগঠনের লক্ষ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এসময় লাশ গোসল ও দাপনের জন্য পিপিই, তিন স্তরের হ্যান্ড গ্লাভস, গগেজ, মাস্ক, গাম বুট, কবর খোডার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কোদাল, খুন্তি, বাডাইল,করাত, কুডাইল, মাটি তোলার ওয়া, জীবানু নাশক স্প্রে মেশিন, ব্লিচিং পাউডার, হ্যান্ড সেনিটাইজারসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ডাঃ এস এ ফারুক, চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, সাংবাদিক নুরুল আলম, কমফোট হাসপাতালের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন।

বারইয়ারহাট শেফা ইনসান হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডাঃ এস এ ফারুক বলেন, বেঁচে থাকতে জীবনে বন্ধুর অভাব হয়না। মৃত্যুর পর শেষ বিদায়ের বন্ধু সবাই হতে পারেনা। আমি “শেষ বিদায়ের বন্ধু” পরিবারের একজন হতে পেরে গর্বিত। এই মহৎ মানবিক উদ্যেগের জন্য উদ্যেক্তাদের ধন্যবাদ জানাই। এই করোনা পরিস্থিতিতে ছেলে মাকে জঙ্গলে রেখে আসছে, বাবাকে হাসপালে রেখে স্বজনরা খোঁজ নিচ্ছেনা৷ এ সমাজের কিছু মানুষ মৃত মানুষের সাথে নিষ্ঠুর নির্মম আচরণ করছে। মানুষ যখন মৃত মানুষের জানাযা নিয়ে শংকিত ঠিক তখনি জীবনের ঝুঁকি সত্বেও “শেষ বিদায়ের বন্ধু” সংগঠন
আমাদের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছে। হায়াত এবং মৃত্যু আল্লাহ জানেন কার কখন কোথায় রেখেছেন। অন্তত মিরসরাইবাসীর কাছে এ সংকটে আস্থার শেষ ভরসা হবে এ সংগঠন। আশাকরি সকল মিরসরাইবাসি এ মানবিক সংগঠনের পাশে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসবেন। এ সংগঠন যেন লাশ গোসল, দাফন-কাপন আর কবর খোড়ার কাজে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের প্রয়োজনে নানামুখী জনকল্যানে অবদান রাখে। মিরসরাই থেকে যাত্রা করে এ সংগঠন একদিন সারাদেশে মানব সেবায় অবদানের জন্য প্রশংসিত হবে।

চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, শেষ বিদায়ের বন্ধু সংগঠন এই মুহুর্তে সময়ের দাবী। আমি একজন সমাজকর্মী হিসেবে অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি ভালো কাজ করলে মানুষ ভালোবাসবে। কিছু বিরোধিতা আসলেও হতাশ হয়ে হাল ছাড়া যাবেনা। এ সংগঠন মিরসরাইয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদান রাখবে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যেক্তারা জানান, মিরসরাই অঞ্চলের গরিব, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে এবং পরিপূর্ন ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে যে কোন মৃত ব্যাক্তির লাশ গোসল, দাফন-কাপন ও জানাযার লক্ষে মিরসরাই উপজেলার ১৮টি ইউনিটে সমাজ দরদী মানবতাবাদীদের সহায়তায় গঠিত হয়েছে “শেষ বিদায়ের বন্ধু” সংগঠন।

প্রতিটি ইউনিটে ৭জন পুরুষ এবং ৫জন মহিলা হিসেবে মোট ২১৬জন সেবক হিসেবে কাজ করবেন। উপজেলা সমন্বয় কমিটির নির্ধারিত হটলাইনে ফোন দিয়ে মানুষ এ সংগঠনের ফ্রী সেবা গ্রহন করবে। এ সংগঠন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হবে। পর্যায়ক্রমে আরো কিছু সেবামূলক কার্যক্রম সংযোজন হবে।

লক্ষঃ-
কালক্রমে এই সংস্থা নানারূপ মানবতাবাদী বাস্তবমুখী জনহিতকর কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে আত্ম মানবতার সেবায় কাজ করবে।

এর উদ্দেশ্যঃ- বে-ওয়ারিশ লাশ দাফন ও অসমর্থ লোকদের লাশ দাফনের ব্যবস্থা। ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস প্রদান। এতিমখনা ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা। ঈদে দুঃস্থ পুরুষ ও মহিলাদের মাঝে নূতন কাপড় বিতরণ, দুঃস্থ ও অক্ষম পরিবারদের সাহায্য প্রদান। বিভিন্ন দুর্যোগের সময় দুর্গত এলাকায় ত্রাণকার্য্য পরিচালনা করা । রমযানে দুস্থ এতিমদের ইফতার সামগ্রী পোঁছে দেওয়া।  লাশ গোসলের স্থায়ী ব্যবস্থা করা।উপজেলা কেন্দ্রীয় গোরস্থান নির্মাণ। গ্রামে যারা মৃত ব্যক্তিকে গোসল ও কবর খোড়ার কাজ করেন তাদের প্রশিক্ষন।
মসজিদ ভিত্তিক কোরআন শিক্ষা।  কেরাত প্রতিযোগিতা। ইসলামি সাধারণ জ্ঞান রচনা প্রতিযোগিতা। রমযান মাসে সেরা হাফেজ নির্বাচন সম্মাননা প্রদান।

“শেষ বিদায়ের বন্ধু” সংগঠনের সেবা পেতে নিচের হটলাইন নাম্বারে ফোন দিন
+8801815604723
+8801819107171
+8801726301123

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।