রমজানে ভোক্তাগণকে তিন দিনের অতিরিক্ত ইফতার সামগ্রী ক্রয় না করতে সুজনের আহবান
খোরশেদ আলম সুজন
আসন্ন রমজানে ভোক্তাগণকে তিন দিনের অতিরিক্ত ইফতার সামগ্রী ক্রয় না করার বিনীত আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।
তিনি আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপরোক্ত আহবান জানান।
এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন দীর্ঘ এক বছর পর মুসলমানদের দ্বারে আবার ফিরে এসেছে সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আর মাত্র দুইদিন পরেই শুরু হবে এই মাসটি। অশেষ রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের এ মাস মহান আল্লাহর নৈকট্য, শান্তি এবং তাকওয়া অর্জনের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। সাধারণত রমজান মাসেই দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে রোজায় যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে সেগুলোরই দামও বেশি হয়। তাছাড়া এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজান মাসকে টার্গেট করে তাদের অতিরিক্ত মুনাফা লুফে নেওয়ার জন্য। এছাড়া আমরা দেখতে পাই ভোক্তাগণ রমজান মাসে তাদের ব্যবহার্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী একসাথে ক্রয় করে থাকে। এতে করে বাজারে পণ্যের উপর একটা প্রভাব পড়ে থাকে। অন্যদিকে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা সে সুযোগটা গ্রহণ করে জনগনের পকেট কাটতে থাকে।
তিনি দ্রব্যমূল্য সিন্ডিকেটদের ষড়যন্ত্র দমন করতে ক্রেতা ক্রয় কৌশল প্রয়োগ করার জন্য ভোক্তাগণের নিকট বিনীত আহবান জানান।
এছাড়া ত্রাণের জন্য ব্যবহৃত পণ্য সামগ্রী ব্যতিত রমজানে ব্যবহার্য ইফতার সামগ্রীর পণ্য তিন দিনের অতিরিক্ত ক্রয় না করার জন্য ক্রেতা সাধারণের নিকট সবিনয় অনুরোধ জানান।
তাছাড়া বর্তমান করোনা কেন্দ্রিক পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্য নতুন কুট কৌশলে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ভোক্তাগণের চোখ এড়িয়ে প্রতিটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম ধীরেধীরে বাড়াতে শুরু করেছে। তাই তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ভোক্তাগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরো বলেন বছরজুড়ে ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির রমরমা বাণিজ্য চললেও রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কতিপয় মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের এ তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ইফতারির চাহিদায় গুরুত্বপূর্ণ ফল আপেল, কমলা, খেজুর, পাকা পেঁপে, বেল, আনারস, তরমুজসহ সব ফলে মেশানো হয় ফরমালিন, কার্বাইড এবং রাইপেন নামের বিষাক্ত কেমিক্যাল। এ ছাড়া ইফতারের অপরিহার্য পাঁচটি সামগ্রী ছোলা, পিয়াজু, বেগুনি, মুড়ি ও জিলাপির প্রতিটিতেই নানাভাবে মেশানো হয় ভেজাল। এ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় বিষাক্ত রাসায়নিক সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইড, টেক্সটাইল কালার, সোডিয়াম সাইক্লামেট, স্যাকারিন এবং সুকরালেস। তিনি বাজারের পণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজাল খাদ্য দ্রব্য বিপণন বন্ধ রাখতে বিগত বছরগুলোর মতো আসন্ন রমজান মাসে সিটি কর্পোরশেন, জেলা প্রশাসন এবং বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের দ্বারা ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করারও আহবান জানান।
এছাড়া ইফতার সামগ্রী তৈরী এবং বিপণনের সাথে নিয়োজিত বাবুর্চি, সহকারী এবং বিক্রয় কর্মীদের করোনা মুক্ত আছে কি-না তা জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করে স্বাস্থ্য সনদ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং সিভিল সার্জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ইফতার সামগ্রী বিক্রয় এবং প্রয়োজনে হোম সার্ভিসের ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানান। এছাড়া ভোক্তা সাধারণকে যতটুকু সম্ভব বাসায় তৈরী ইফতার সামগ্রী পরিবেশন করারও অনুরোধ জানান সুজন।
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন