খুঁজুন
, ,

হুকুম দখলের জায়গা লীজ কিংবা বিক্রয় করা চলবে না : সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 February, 2020, 8:01 pm
হুকুম দখলের জায়গা লীজ কিংবা বিক্রয় করা চলবে না : সুজন

হুকুম দখলের জায়গা লীজ কিংবা বিক্রয় করা চলবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেছেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরীর জামালখানস্থ প্রেস ক্লাব চত্বরে রেলওয়ে কর্তৃক হুকুম দখলকৃত জায়গা বাণিজ্যিক লীজ প্রদানের প্রতিবাদে নাগরিক উদ্যোগ আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

এ সময় সুজন বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে চট্টগ্রামবাসীর ৬০ ভাগ সম্পত্তি রাষ্ঠ্রীয় কাজে হুকুম দখল করেছে সরকারী এবং স্বায়ত্বশাসিত বিভিন্ন সংস্থা। হুকুম দখলের সময় শর্ত ছিল হুকুম দখলকৃত জায়গা ১২ বছরের মধ্যে যে উদ্দেশ্যে হুকুম দখল করা হয়েছে সে উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না হলে হুকুম দখলকৃত জায়গা স্ব স্ব মালিককে ফেরত প্রদান করা হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এই যে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দাদের জায়গা হুকুম দখল হতে হতে আজ ক্রমান্বয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামবাসী আজ নিজ দেশে পরবাসী। যাদের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল তারা হয়তো পূণরায় জায়গা জমি ক্রয় করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে কিন্তু বেশীর ভাগ জায়গার মালিকই মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেখা যাচ্ছে যে হুকুম দখলকৃত জায়গা যে উদ্দেশ্যে হুকুম দখল করা হয়েছে সে উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট লীজ কিংবা বিক্রয় করে দেওয়া হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ হুকুম দখলের শর্ত বিরোধী কাজ বলে আমরা মনে করি। এজন্য জনগনের অধিকার আদায়ে নাগরিক উদ্যোগ অতীতের ন্যায় জনগনের পাশে এসে দাড়িয়েছে। যে কোন প্রকার নাগরিক দুর্ভোগ কিংবা অসুবিধায় নাগরিক উদ্যোগ জনগনকে সাথে নিয়ে জনগনের দাবী আদায়ে সর্বদা সোচ্চার থাকবে।

সম্প্রতি আমরা জানতে পারলাম বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বেসরকারি হাসপাতালের জন্য ৬ একর জায়গা বরাদ্ধ করে রেখেছে। সিআরবি এলাকায় রেলওয়ের জমিতে গড়ে তোলা হবে ৫০০ শয্যার একটি বেসরকারি হাসপাতাল। অথচ ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করার। সেই হাসপাতালটি বাস্তবায়নে কাজও শুরু করেছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। কিন্তু দু একর জায়গা নির্বাচনের অভাবে সে প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে না। আমরা আরো জানতে পেরেছি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া সরকারি জমিতে হাসপাতালটি নির্মিত হলেও এর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা হবে সম্পূর্ণ বেসরকারি মালিকানায়। যার ফলে এ হাসপাতালের চিকিৎসাব্যয়ও থাকবে সাধারণ মানুষের নাগালের বাহিরে। এতে করে স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যকরী দিক নির্দেশনা পুরোপুরি উপেক্ষিত হবে এবং সাধারন জনগন পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা পরিস্কারভাবে বলতে চাই চট্টগ্রামের জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই আরো একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা প্রয়োজন এবং তা হতে হবে সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায়। কোনভাবেই জনগনের হুকুম দখলকৃত জায়গার উপর বেসরকারি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় হাসপাতাল নির্মিত হতে পারে না।

আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে সবিনয় আহবান জানাবো উক্ত জায়গাগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নিকট হস্তান্তর করা হোক যাতে নগরবাসীকে পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা দিতে চট্টগ্রামে একটি ১০০০ শয্যা বিশিষ্ঠ বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা যায়।

এছাড়া চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হচ্ছে নগরীর সল্টগোলা হতে পতেঙ্গা পর্যন্ত। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত এবং সিইপিজেড কেইপিজেডসহ বিভিন্ন ভারী এবং হালকা শিল্প ঐ অঞ্চলে অবস্থিত। ঐ এলাকায় প্রায় ৫ লক্ষাধিক নারী জীবন ও জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে এখানে বসবাস করে। এতো বিপুল সংখ্যক নারীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য এখানে নেই কোন প্রকার হাসপাতাল কিংবা মাতৃসদন। ফলত কোন অসুখ বিসুখ কিংবা সন্তান জন্মদানের জন্য ঐ অঞ্চলে বসবাসরত নারীদের কাঠখড় পুড়িয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তায় সন্তান জন্মদানের মতো অমানবিক পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হয়েছে সন্তান সম্ভবা মা দের। অথচ সল্টগোলা ক্রসিং মোড়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি বিশাল বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করেছে যা মোটেও কাম্য নয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কোন অবস্থাতেই সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়াতে পারে না।

আমরা আজকের এই মানববন্ধন কর্মসূচী থেকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই অবিলম্বে উক্ত বাণিজ্যিক স্থাপনাটিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিকট হস্তান্তর করা হোক। যাতে ঐ এলাকায় বসবাসরত বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রী নির্দেশিত স্বাস্থ্য সেবার সুফল পেতে পারে। আমরা আরো আহবান জানাই বিভিন্ন সময় দেখতে পাই যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাঝেমাঝে লোকদেখানো কিছু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের গরীব মানুষদের উচ্ছেদ করে সেসব জায়গা জমি ধনীদের বরাদ্ধ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাই হাসপাতালের নামে বাণিজ্যিক লীজ প্রদান বাতিল করা হোক এবং সেই জায়গাটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিকট হস্তান্তর করা হোক। যদি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অতিসত্বর প্রস্তাবিত ঘোষণা থেকে সরে না আসে সেক্ষেত্রে জনগনের অধিকার আদায়ে যে কোন প্রকার কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করবে নাগরিক উদ্যোগ। এই নগরীতে বসবাসরত সকল নাগরিকবৃন্দকে নাগরিক উদ্যোগের নিয়মতান্ত্রিক সকল কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করার সবিনয় অনুরোধ জানান সুজন। তিনি জনগনের প্রাপ্য হক আদায়ে জনপ্রতিনিধিগণকেও সোচ্চার হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

নাগরিক উদ্যোগের অন্যতম উপদেষ্টা হাজী মোঃ ইলিয়াছ এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এস.এম.আবু তাহের, আব্দুর রহমান মিয়া, সাইদুর রহমান চৌধুরী, নিজাম উদ্দিন, নগর যুবলীগ যুগ্ম-আহবায়ক মাহবুবুল হক সুমন, নগর সৈনিক লীগ আহবায়ক শফিউল আজম বাহার, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য নুরুল কবির, মোরশেদ আলম, ডা. অঞ্জন দাশ, হাফেজ মোঃ ওকার উদ্দিন, এজাহারুল হক, শেখ মামুনুর রশীদ, এ.এস.এম জাহিদ হোসেন, অনির্বাণ দাশ বাবু, সোলেমান সুমন, হারুন উর রশীদ, মোঃ জাহাঙ্গীর, মোঃ আলমগীর, সাইফুল্লাহ আনছারী, রকিবুল আলম সাজ্জী, আশিকুননবী চৌধুরী, মহানগর নগর ছাত্রলীগ সভাপতি এম ইমরান আহমেদ ইমু, সহ-সভাপতি নোমান চৌধুরী, মিনহাজুল আবেদীন সানী, ওমর ফারুক, শফিকুল আলম পারভেজ, ফয়সাল অভি, আরাফাত রুবেল, মোঃ ওয়াসিম, মোঃ বেলাল, হাসান হাবিব সেতু, মোঃ কাইয়ুম, সৈয়দ তৌহিদ, ফরহাদ সায়েম, শহীদুল আলম, রাকিবুল ইসলাম, মীর মোঃ ইমতিয়াজ, ফয়সাল সাব্বির, সৈয়দ ইবনে জামান ডায়মন্ড, আব্দুল্লাহ আল নোমান সাইফ, মোঃ আলী মিঠু, আরমান সাজিদ, আব্দুল হাবিব বাপ্পী, মিজানুর রহমান প্রমূখ।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।