খুঁজুন
, ,

ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীরা সঠিক তথ্য দিয়ে বিড়ম্বনা এড়াতে পারেন: সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 29 October, 2020, 4:10 pm
ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীরা সঠিক তথ্য দিয়ে বিড়ম্বনা এড়াতে পারেন: সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য উপাত্ত প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ফরম পূরণের সময় ভুল তথ্য দিলে পাসপোর্টধারীকে অনাকাক্সিক্ষত বিড়ম্বনা পোহাতে হয়, তাই ধৈর্যের সাথে সঠিক তথ্য দিয়ে ই- পাসপোর্ট এর ফরম পূরণের জন্য তিনি আবেদনকারীদের প্রতি আহবান জানান।

তিনি আজ সকালে মুনসুরাবাদে বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয়ে ই-পাসপোর্ট, এম আরপি, পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ ও ডেলিভারি কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।

প্রশাসকের আগমনে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বিভাগীয় পাসপোর্টের কার্যালয়ের অফিস ব্যবস্থাপনা সহ সামগ্রিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রবাসীদের পাসপোর্ট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যাতে কোন হয়রানি না হয় সে বিষয়ে অধিকতর মনোযোগী হওয়ার জন্য তিনি বিভাগীয় পাসপোর্ট পরিচালককে অনুরোধ করেন। কারণ পাসপোর্ট গ্রহীতা দেশের নাগরিকরা বিদেশ ভ্রমনের পাশাপাশি রেমিটেন্সও প্রেরণ করেন।

তিনি আরো বলেন, ই-পাসপোর্ট পদ্ধতিতে অনিয়ম ও দালাল চক্রের উৎপাতের সুযোগ নেই। তাই স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠারও অবকাশ নেই। তারপরও অনিয়ম ও দুর্নীতি বা আইনী কোন ফাঁক-ফোকর যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকেও সজাগ থাকতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস চট্টগ্রামের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাইদ, চসিক প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, সহকারী পরিচালক সাধন সাহা সহ পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্রা-কর্মচারীবৃন্দ।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত খতমে কোরান, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভায় মুনাজাত করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

এবারের মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপনের বিশেষত্ব রয়েছে : সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, আগামীকাল ১২ রবিউল আওয়াল মুসলিম সম্প্রদায়ের দুটি ঈদ। একটি ঈদ হলো বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স.) এর জন্মদিন। এ বছর ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপিত হচ্ছে শুক্রবার জুম্মাবারে। জুম্মাবারও মুসলিমদের আরেকটি ঈদ আনন্দ। তাই এবারের মিলাদুন্নবী (স.) পালনের বিশেষত্ব রয়েছে।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে আন্দরকিল্লাস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পুরনো নগর ভবনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত খতমে কোরান, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আল্লামা সৈয়দ অছিয়র রহমান, হযরত খাজা গরিবুল্লাহ শাহ (র.) মসজিদের খতিব আল্লামা হাফেজ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান আলকাদেরী।এতে উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেশনের সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়া, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা দায়রা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আক্তার, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিক মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুন উর রশিদ চৌধুরীসহ কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

আলোচনা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আরো বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন না হলে আমাদের সব অর্জন বৃথা। তিনি চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলাদুন্নবীর উছিলায় যাতে বৈশ্বিক মহামারী করোনা থেকে দেশের জনসাধারণ রক্ষা পান এবং মানুষের আয় রোজগারে যাতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বরকত দান করেন সেই প্রার্থনা করতে বলেন।

কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমাদের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের সাথে পবিত্র মিলাদুন্নবী (স.) এর অনুষ্ঠানও এখন যুক্ত হয়েছে। এবারের মিলাদুন্নবী বৈশ্বিক মহামারীর কারণে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করে উদ্যাপনের সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা যারা মুসলিম তারা যেন ধর্মীয় আবেগ আড়ম্বরের সাথে মিলাদুন্নবী পালন করতে গিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের সাথে বিরোধ তৈরি না করি, সেই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নিজেকে সুরক্ষিত না রাখলে জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি ও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ইসলাম আধুনিক ধর্ম। এই ধর্ম প্রযুক্তির সাথে সঙ্গতি রেখে পালন করা যায়। প্রধান নির্বাহী মুসলিমদের ধর্মীয় অনুশাসন মানার পাশাপাশি নিজ ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের অনুরোধ করেন।

শেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা ও বৈশ্বিক মহামারী করোনা থেকে দেশের জনসাধারণের রক্ষা এবং সাবেক প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রূহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আল্লামা সৈয়দ অছিয়র রহমান।

দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা’র আয়োজিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে খতমে কোরান, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা’র আয়োজিত পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা) উপলক্ষে খতমে কোরান ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) বিশ্বের ঈমানী প্রেরণার জয় বাণী নিয়ে আমাদের সামনে রবিউল আওয়াল মাসে হাজির হয়। আগামীকাল শুক্রবার মুসলিম উম্মাহ জন্য দুইটি ঈদ। একটি হচ্ছে ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) আরেকটি জুম্মাবার হিসেবে ঈদ। এই জন্য এ বছরের ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের মনে কালিমা দূর করার জন্য ঈদে মিলাদুন্নবীতে রাসুল (সা:) এর আকীদা ও নির্দেশনা মেনে চলাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র পাথেয়।

তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) -এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ সমগ্র বিশ্বজগতের রহমত ও শান্তির দূত হসিেেব হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ জগতে প্রেরণ করেন। তিনি ছিলেন তাওহীদের প্রচারক, রিসালাতের ধারক ও বাহক এবং সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল। প্রশাসক এই মহামারী করোনা থেকে মুক্তি পেতে হলে রাসুলের জীবনাদর্শকে ধারণ করে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মহান আল্লাহ’র নিকট প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।

তিনি পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা কর্তৃক আয়োজিত আজ বৃহস্পতিবার সকালে চন্দনপুরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে খতমে কোরান ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি ছৈয়দ মোহাম্মদ অছিয়র রহমান আল কাদেরী বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে নবী! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সর্তককারীরূপে, আল্লাহর নির্দেশ সাপেক্ষে তার দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।মহানবী (সা.)-এর জীবনার্দশ আমাদের সকলের জীবনকে আলোকিত করুক, পবত্রি ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)-এর দিবসে মহান আল্লাহর কাছে এ র্প্রাথনা জানান। প্রিয়নবী (সা.)-এর অনুপম শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে, পাপাচার, অত্যাচার, মিথ্যা, কুসংস্কার ও সংঘাত র্জজরিত পৃথিবীতে তিনি মানবতার মুক্তিদাতা ও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পবিত্র দিনে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ তথা বিশ্ববাসীর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়।

মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এর সঞ্চালনায় মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হযরত মাওলানা মাহবুবুল আলম ছিদ্দিকী, শায়খুল হাসিদ হযরত মাওলানা মকছুদ আহমদ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি ছৈয়দ মোহাম্মদ অছিয়র রহমান আল কাদেরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দারুল উলুম কামিল (অনার্স-মাষ্টার্স) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবউদ্দিন আহমেদ, সদস্য মো. শহিদুল আলম, শিক্ষক প্রতিনিধি হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ, বিশেষ মুহাদ্দিস শাহজাদা শাহ হজরত মাওলানা মুনিরুল মন্নান আল মাদানী সহ অন্যরা।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 8:16 pm
স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার একসঙ্গে হয়েছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই আমরা দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আপত্তি থাকবে কেমন করে, বরাবরই তো এরা একসঙ্গে ছিল। ৯১-তেও তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৬ সালেও একসঙ্গে ছিল, গত নির্বাচনের সময়ও তারা একসঙ্গেই ছিল। তলে তলে কাজ করেছিল। এজন্যই তো তাদের গুপ্ত বলা হয়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যা, গায়েবি মামলার শিকার হয়েছে। শুনেছেন তাদের কেউ এসবের শিকার হয়েছিল? আপনারাও তো মাঠে নেমে এসেছিলেন, হরতাল, মিছিল-মিটিং করেছিলেন, তাদের কাউকে দেখেছিলেন? তারা রাজপথে কেউ ছিল না।

তারেক রহমান বলেন, আমরা কিছুদিন যাবত খেয়াল করে দেখছি, এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষ একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। করছে না? খেয়াল করেছেন আপনারা? কি বলে-এক দফা এক দফা। আপনারাই কিন্তু বললেন, আমরা যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছি, বর্তমান সরকার যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে, এ কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করলে কার উপকার হবে? মানুষের উপকার হবে। সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের উপকার হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি, যারা এক দফা এক দফা বলছে অথবা যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছিল, যারা মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল-এদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? এদের কি খালকাটা কর্মসূচি আছে? এদের কি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আছে? এদের কি কৃষক কার্ড আছে? এদের দলের কর্মসূচির মধ্যে কি ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা আছে? এদের কি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০-এর বদলে ১৫০ বেডে করার কর্মসূচি আছে? তাহলে তারা কিসের রাজনীতি করে? মানুষের কর্মসূচি কই?

সরকার প্রধান আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন চায় ভাগ্যের পরিবর্তন। কেউ কি খারাপ অবস্থায় সবসময় থাকতে চায়? মানুষ তার অবস্থার পরিবর্তন করতে চায়। আমরা মনে করি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যদি মা-বোনদের জন্য সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, ইমাম সাহেব মুয়াজ্জিন সাহেবসহ অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের মিনিমাম একটি সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি কৃষক ভাইদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে পারি তাহলে ধীরে ধীরে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো আস্তে আস্তে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বচ্ছল হয়ে উঠবে তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠবে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে চায়, ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের সম্মানী বাস্তবায়ন করতে চায়, বিএনপি কৃষক কার্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়, খাল খনন করতে চায়, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করতে চায়। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের এই কর্মসূচিগুলো দেখেছেন? যদি না দেখে থাকেন তাহলে যারা আজ দেশে অরাজকতা তৈরি চেষ্টা করছে, দেশের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে তাদের ব্যাপারে আমাদের কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? মুয়াজ্জিন সাহেবরা বলেন না, তাদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত? তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক হতে হবে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের থেকে ধর্মের জ্ঞান আপনাদের বেশি আছে। একটু ভাই বলেন তো, নির্বাচনের আগে একটি দল বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। বলছিল না মানুষকে, আপনারাও তো শুনেছেন। দেখছেন না, দেখেছেন। বেহেশত-দোজগের মালিক কে? একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। যেটার মালিক আল্লাহ সেটার কথা কি কোনো মানুষ বলতে পারে? যেটা দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার, সেটি যদি মানুষ বলে আমি দেব, সেটি কি শিরিকের পর্যায়ে পড়ে? যারা শিরিকি করে, আল্লাহর সঙ্গে নাফরমানি করে, তাহলে মানুষের সঙ্গে তারা কত বড় মুনাফিকি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, স্বৈরাচারী রাজনীতি করে, যাদের কাছে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার কোনো কর্মসূচি নেই, শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যারা রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ এরা যদি দেশ চালানোর দায়িত্ব পায়, আর যাই করুক জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি গ্রহণ করবে না। যদি তাদের নেওয়া জনগণের জন্য কোন কর্মসূচি থাকতো, তাহলে তারা বলতে পারতো কি কর্মসূচি তারা গ্রহণ করতে পারে। আজ পর্যন্ত জনগণের উপকার হয় এরকম কোন কর্মসূচির কথা তারা তুলে ধরতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিএনপি সরকার প্রমাণ করেছি আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আমাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে প্রমাণ করেছি বিএনপির যা বলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। আমরা আমাদের কর্মসূচি দিয়ে প্রমাণ করেছি বিএনপি সব সময় জনগণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করে।

এর আগে সভার শুরুতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 8:11 pm
দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেখা দেওয়া তথ্যমতে, সরকারি ভবনে স্থাপিত দেশের প্রথম এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে তিন উপজেলায় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা শূন্য দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় এসব স্থাপনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহার হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফুলগাজী উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ও ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আটটি সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রতিটিতে প্রায় ২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ভবনে স্থাপিত সিস্টেমের সক্ষমতা প্রায় ১০৩ কিলোওয়াট।

ছাগলনাইয়া উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, ডাকবাংলো ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদসহ মোট ১২টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট ৪১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া পরশুরাম উপজেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম ভবন, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসহ মোট ছয়টি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) দায়িত্ব দেওয়া হলেও মোট ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুল হোসাইন জানিয়েছেন, তিন উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর আড়াইটার দিকে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 October, 2026, 5:06 pm
মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পদত্যাগ করায় জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর আসন (মহিলা আসন-২৩) বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একই তারিখ থেকে শূন্য হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষর করেন। আসনটি শূন্য হওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৭ বিধি অনুযায়ী, কোনও সংসদ সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারকে উদ্দেশ করে নিজ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে তা জানাতে হয়। পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ কার্যকর এবং সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি সংসদে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।