খুঁজুন
, ,

আজ গিটারের জাদুকরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 18 October, 2019, 12:36 am
আজ গিটারের জাদুকরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

ঘুমন্ত শহরে অবিরাম বাজে রুপালি গিটার। সত্যই প্রতি রাতে কোন না কোন শহরে আইয়ুব বাচ্চুর রেখে যাওয়া গিটারের টোন বেজে ওঠে! সঙ্গে তার শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। গেয়ে যাচ্ছে নিরবধি। বিশেষ করে যখন উৎসবের আনন্দে পুরো দেশ উদ্ভাসিত হয়। আইয়ুব বাচ্চু তখন আমাদের কাছে অনিবার্য।

‘অনেক কথায় মুখর আমার দেখো, দেখো না শুধু হাসি শেষে নীরবতা’—এভাবেই গেয়েছিলেন বাংলা ব্যান্ড জগতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। রুপালি গিটার ফেলে চলে যাওয়ার আভাস দিয়েছিলেন অনেক আগেই। তবে সেই সময়টা যেদিন এলো, অশ্রু গোপন করে রাখতে পারেননি তাঁর ভক্তদের কেউই। গত বছর ঠিক এই দিনে অগণিত ভক্তকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা আইয়ুব বাচ্চু। আজ এই সুরের সাধকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

কি দুর্ভাগ্য আমাদের কত অল্প বয়সে সঙ্গীতের এই বরপুত্রকে আমরা হারিয়েছি। অথচ তার গাওয়া গান, বাজানো গিটারের টোন প্রতিদিনই আমাদের কানকে স্পর্শ করে যাচ্ছে। সত্যি বলতে কি শহর কি বন্দর আয়োজিত ব্যান্ডসঙ্গীতের অনুষ্ঠান মানেই আয়ুব বাচ্চুর গান। দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি কিংবা কান ফাটানো শিষ- পেতে হলে তার গান গাইতে হবে।

কয়েকটি প্রজন্মকে গানের বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সেই ক্যাসেট-ফিতার কাল পেরিয়ে স্মার্টফোন-ল্যাপটপের যুগে এসেও তাঁর গানের আবেদন কমেনি এতটুকুও। বইয়ের ফাঁকে তাঁর ভিউকার্ড জমানোর সেই উন্মাদনা কখনো কি ভোলা সম্ভব? অটোগ্রাফের জমানা শেষে ফটোগ্রাফের আমলে, বাঙালির চিঠি লেখার অভ্যেস ফুরিয়ে যাওয়ার পরে, ই-মেইল, ফেসবুকের কালে প্রবেশের পরেও তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি একটুকুও।

কত লক্ষ-কোটি বিরহী প্রেমিক তারাভরা রাতে তাঁর গানকে সঙ্গী করেছেন, সে হিসাব কেউ কি জানে? ফেরারি মন নিয়ে নিয়ন আলোয় হেঁটে যাওয়া তরুণ-তরুণীর বড্ড আপনজন ছিলেন বাচ্চু। ইট-কাঠের শহর ঢাকাবাসীকে সুরের মূর্ছনায় ভাসাতে মঞ্চে কেবল আইয়ুব বাচ্চুর উপস্থিতি থাকলেই হতো। কী এক অদ্ভুত মায়া, টান ছিল তাঁর গিটারে! গভীর কোনো বেদনা থেকেই কি অমন বিরহের সুর তুলতেন তিনি!

হৃদয় স্পর্শ করে যাওয়া অমন সুরের মোহে আচ্ছাদিত থাকত উপস্থিত সকলে। শুধু কি শহর! মফস্বল কিংবা গ্রামেও আইয়ুব বাচ্চুর উপস্থিতি মানেই ছিল রোমাঞ্চকর, সারা জীবন মনে রাখার মতো কিছু মুহূর্ত।

তবে সবাইকে দুহাতে আনন্দে বিলিয়ে বেড়ানো আইয়ুব বাচ্চুর সুরের বুকে লুকিয়ে থাকা কান্নার সন্ধান পেয়েছিলেন ক’জনা? সবাইকে ফাঁকি দিয়ে আকাশে উড়াল দেওয়ার প্রবণতা কেউ কি ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিলেন?

বড্ড অচেনা হয়ে বিদায় নিলেন আইয়ুব বাচ্চু। এভাবেই কি যাওয়ার কথা ছিল! এভাবে কি যেতে হয়! মঞ্চে সুরের ঝংকার তোলা সুরস্রষ্টার চিরবিদায় বেলায় শীতপ্রকৃতির মতোই নির্জীবতা বিরাজ করছিল সর্বত্র। কফিনবন্দি বাচ্চু সবাইকে কাঁদিয়ে উড়াল দেওয়ার দিনেই যেন শেষ হলো বাংলা সংগীত জগতের একটি অধ্যায়।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। জনপ্রিয় ব্যান্ডদল এলআরবির দলনেতা ছিলেন তিনি। একাধারে গায়ক, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক আইয়ুব বাচ্চুর হাত ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা ব্যান্ডজগৎ।

ছোটবেলা থেকেই গিটারের প্রেমে পড়েন তিনি। কলেজজীবনে বন্ধুদের নিয়ে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ নামে একটা ব্যান্ডদল গড়ে তোলেন আইয়ুব বাচ্চু, পরে এর নাম পাল্টে রাখা হয় ‘আগলি বয়েজ’। বিয়েবাড়ি, জন্মদিন আর ছোটখাটো নানা অনুষ্ঠানে তাদের এই ব্যান্ডদল গান করত।

আইয়ুব বাচ্চুর বন্ধুরা যে যার মতো একেক দিকে ছড়িয়ে পড়লেও আইয়ুব বাচ্চু ব্যান্ডদল ‘ফিলিংস’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি যোগ দেন ‘সোলস’ ব্যান্ডে। এই ব্যান্ডের লিডগিটার বাজানোর দায়িত্বে ছিলেন টানা ১০ বছর। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল গড়ে তোলেন নতুন ব্যান্ড ‘এলআরবি’।

গিটার বাজানোর ক্ষেত্রে অনন্য স্টাইল এবং নান্দনিক দক্ষতাগুণে ‘গিটার লিজেন্ড’ খ্যাতিটি তার নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল অনেকদিন আগেই। প্রিয় যে কোনো একটি গিটার কাঁধে ঝুলিয়ে তিনি যখন মঞ্চে এসে দাঁড়াতেন তখন দর্শক সারিতে তুমুল আনন্দ, মুহুর্মুহু করতালি এবং তার নাম ধরে চিৎকার করে করে সীমাহীন উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো।

তিনি যখন তার গিটারে সুর তুলতেন তখন দর্শক সারির সে উত্তেজনা রূপ নিতো চরম উন্মাদনায়। আর গিটারের তালে তালে তার কণ্ঠে যখন উচ্চারিত হতো গান তখনতো কথাই ছিল না। দর্শকদের আনন্দ যেন আর ধরতো না। তিনি, তার গিটার, গান আর দর্শক মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতেন।

আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তার প্রিয়জনেরা নানা আয়োজনে স্মরণ করছেন তাকে।

শুক্রবার বাদ আসর মগবাজার মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করছে তার পরিবার। এছাড়া চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর কবর জিয়ারত করবেন তার প্রিয়জনেরা। সেখানে দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী চন্দনা। চন্দনা জানালেন, মেয়ে ফাইরুজ সাফরাকে নিয়ে তিনি চট্টগ্রামেই থাকবেন ১৮ অক্টোবর।

পরিবারের আয়োজন ছাড়াও তার শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তরাও বিভিন্ন স্থানে দোয়ার আয়োজন করেছেন। চ্যানেল আই, নাগরিক টেলিভিশনসহ কয়েকটি টিভি চ্যানেলও আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

মূলত রক ঘরানার কণ্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত এবং লোকগীতি দিয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠ দেয়া প্রথম গান ‘হারানো বিকেলের গল্প’।

আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। তার সফলতার শুরু দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’র মাধ্যমে। তিনি বেশ কিছু বাংলা ছবিতে প্লে-ব্যাকও করেছেন। এছাড়া অসংখ্য অ্যালবামেও কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে ময়না, কষ্ট, প্রেম তুমি কষ্ট, দুটি মন, সময়, একা, পথের গান, ভাটির টানে মাটির গানে, জীবন, সাউন্ড অব, সাইলেন্স, রিমঝিম বৃষ্টি অ্যালবামগুলো উল্লেখযোগ্য।

দীর্ঘ কয়েক দশকে অসংখ্য কালজয়ী, জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘চলো বদলে যাই,’ ‘হাসতে দেখো,’ ‘এখন অনেক রাত,’ ‘রুপালি গিটার’, ‘মেয়ে’ ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি,’ ‘সুখের এ পৃথিবী,’ ‘ফেরারী মন,’ ‘উড়াল দেবো আকাশে,’ ‘বাংলাদেশ,’ ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি,’ ‘এক আকাশের তারা,’ ‘সেই তারা ভরা রাতে,’ ‘কবিতা,’ ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি,’ ‘তিন পুরুষ,’ ‘যেওনা চলে বন্ধু,’ ‘বেলা শেষে ফিরে এসে,’ ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি,’ ‘তিন পুরুষ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই কিংবদন্তি শিল্পী।

Feb2
Feb2

১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 July, 2026, 12:33 am
১০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ইংল্যান্ডকে জেতালেন কেইন

ম্যাচের শুরুতেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধজুড়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি থ্রি লায়নরা। তবে বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত দারুণ এক প্রত্যাবর্তন করেছে তারা। কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।

৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এরপর ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আবারও জালে বল জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড। আর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের নায়ক অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে অসাধারণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো ডিআর কঙ্গোকে।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ৭ম মিনিটে দারুণ এক গোলে ডিআর কঙ্গোকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান সিপেঙ্গার। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের নিচের বাঁ কোণে পাঠিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড। গোলটির পেছনে বড় অবদান ছিল অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার, তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোল হয়।

গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৩০ মিনিটে জুড বেলিংহাম সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। শূন্যে ভেসে আসা ক্রসে দারুণ এক হেডে বল পোস্টের ডান দিকে পাঠান তিনি। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি অসাধারণ রিফ্লেক্সে বলটি ফিরিয়ে দেন। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি।

পাঁচ মিনিট পর আবারও সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই জোরালো শট নেন মার্কাস রাশফোর্ড। তবে কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করায় হতাশ হতে হয় তাকে। সমতায় ফেরার আরেকটি সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায় ইংলিশদের।

৪২ মিনিটে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছিল ডিআর কঙ্গো। ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে সুযোগ পেয়ে যান ইওয়ান উইসা। অ্যারন ওয়ান-বিসাকার বাড়ানো বলে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন তিনি। তবে ইংল্যান্ডকে রক্ষা করে গোলপোস্ট। বল পোস্টে লেগে ফিরে এলে বড় বিপদ থেকে বেঁচে যায় থ্রি লায়নরা।

এর দুই মিনিট পর ম্যাচে তৈরি হয় বিতর্ক। মাঝমাঠ থেকে আসা লম্বা বল ধরে কঙ্গোর বক্সে ঢুকে পড়েন হ্যারি কেইন। তাকে থামাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গোলরক্ষক এমপাসি। দুজনের সংঘর্ষে বক্সের ভেতরে পড়ে যান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। পেনাল্টির জোরালো দাবি তুললেও রেফারি উল্টো কেইনের বিপক্ষেই ফাউলের বাঁশি বাজান। ফলে পেনাল্টির বদলে ফ্রি-কিক পায় ডিআর কঙ্গো।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে বেলিংহামের নিচু হেড গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু আবারও সামনে দাঁড়িয়ে যান এমপাসি। বাঁ দিকের নিচের কোণ থেকে দুর্দান্ত সেভ করে ইংল্যান্ডকে গোলবঞ্চিত করেন তিনি।

৫৪তম মিনিটে আবারও দুর্দান্ত এক সেভে ইংল্যান্ডকে হতাশ করেন এমপাসি। জুড বেলিংহামের শট কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় বলটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

তবে ৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো ক্রসে হেড করে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। কঙ্গোর গোলরক্ষক বলটিতে হাত লাগালেও সেটিকে জালে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেননি।

সমতায় ফেরার মাত্র ১১ মিনিট পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন কেইন। ৮৬তম মিনিটে গর্ডনের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। ১১ মিনিট আগে ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

কেইনের এই জোড়া গোলই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে এনে দেয় মূল্যবান জয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে মোট ১৩ গোল করে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এবারের আসরে তার গোল মোট ৫টি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 11:04 pm
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্র ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারাদেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ।

তিনি জানান, সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবেন একজন প্লাটুন কমান্ডার, একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার এবং আটজন আনসার সদস্য। তারা ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্র, অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য, ঔষধ চক্র এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো সংবেদনশীল কর্মস্থলে কোনো সদস্য অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বাহিনীর নিয়োগ ও মোতায়েন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক সফ্‌টওয়্যারভিত্তিক যাচাই-বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে যোগ্য সদস্য নির্বাচন এবং বাহিনীর পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্যদের সততা ও দক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মলদোভাসহ বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল মজিদ এবং মো. রাশেদুজ্জামানসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 10:16 pm
ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি কতটা হলো, তা নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসন কীভাবে হবে, তা বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে।

ঢাকার এই বৃত্তাকার সড়কের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারিঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেইট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরায় যাবে। সবমিলিয়ে প্রায় প্রায় ৮৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ চলছে। বৈঠকে জানানো হয় এই পথে ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃত্তাকার এই সড়ক নির্মাণ হলে রাজধানীর ভেতরের সড়ক ব্যবহার না করেই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়া যাবে। সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামের যাত্রীরা ঢাকা না ঢুকেও গন্তব্যে যেতে পারবেন। এতে শহরে যানবাহনের চাপ কমবে এবং একই সঙ্গে যানজটও কমে আসবে।

একইভাবে ঢাকা শহরে ঘিরে ১১০ কিলোমিটারের নদী পথ রয়েছে তার চালু করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে এবং রাজধানীর বৃত্তকার নদী পথে মানুষজন এক গন্তব্যে থেকে অন্য গন্তবে যেতে পারবে অনায়াসে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, এই বিষয়গুলো বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা এর কারিগরি দিক উপস্থাপন করেন। নদী পথ ব্যবহার করলে পরিবেশ দুষণমুক্ত থাকবে, জ্বালানি সাশ্র্রয়ী হবে, সময়ও কম লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে বলেছেন। কারণ নদী পথের যানবাহনগুলো হবে বিদ্যুৎচালিত।

বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেল পথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডাব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।