খুঁজুন
সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ গিটারের জাদুকরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
আজ গিটারের জাদুকরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

ঘুমন্ত শহরে অবিরাম বাজে রুপালি গিটার। সত্যই প্রতি রাতে কোন না কোন শহরে আইয়ুব বাচ্চুর রেখে যাওয়া গিটারের টোন বেজে ওঠে! সঙ্গে তার শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। গেয়ে যাচ্ছে নিরবধি। বিশেষ করে যখন উৎসবের আনন্দে পুরো দেশ উদ্ভাসিত হয়। আইয়ুব বাচ্চু তখন আমাদের কাছে অনিবার্য।

‘অনেক কথায় মুখর আমার দেখো, দেখো না শুধু হাসি শেষে নীরবতা’—এভাবেই গেয়েছিলেন বাংলা ব্যান্ড জগতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। রুপালি গিটার ফেলে চলে যাওয়ার আভাস দিয়েছিলেন অনেক আগেই। তবে সেই সময়টা যেদিন এলো, অশ্রু গোপন করে রাখতে পারেননি তাঁর ভক্তদের কেউই। গত বছর ঠিক এই দিনে অগণিত ভক্তকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা আইয়ুব বাচ্চু। আজ এই সুরের সাধকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

কি দুর্ভাগ্য আমাদের কত অল্প বয়সে সঙ্গীতের এই বরপুত্রকে আমরা হারিয়েছি। অথচ তার গাওয়া গান, বাজানো গিটারের টোন প্রতিদিনই আমাদের কানকে স্পর্শ করে যাচ্ছে। সত্যি বলতে কি শহর কি বন্দর আয়োজিত ব্যান্ডসঙ্গীতের অনুষ্ঠান মানেই আয়ুব বাচ্চুর গান। দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি কিংবা কান ফাটানো শিষ- পেতে হলে তার গান গাইতে হবে।

কয়েকটি প্রজন্মকে গানের বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সেই ক্যাসেট-ফিতার কাল পেরিয়ে স্মার্টফোন-ল্যাপটপের যুগে এসেও তাঁর গানের আবেদন কমেনি এতটুকুও। বইয়ের ফাঁকে তাঁর ভিউকার্ড জমানোর সেই উন্মাদনা কখনো কি ভোলা সম্ভব? অটোগ্রাফের জমানা শেষে ফটোগ্রাফের আমলে, বাঙালির চিঠি লেখার অভ্যেস ফুরিয়ে যাওয়ার পরে, ই-মেইল, ফেসবুকের কালে প্রবেশের পরেও তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি একটুকুও।

কত লক্ষ-কোটি বিরহী প্রেমিক তারাভরা রাতে তাঁর গানকে সঙ্গী করেছেন, সে হিসাব কেউ কি জানে? ফেরারি মন নিয়ে নিয়ন আলোয় হেঁটে যাওয়া তরুণ-তরুণীর বড্ড আপনজন ছিলেন বাচ্চু। ইট-কাঠের শহর ঢাকাবাসীকে সুরের মূর্ছনায় ভাসাতে মঞ্চে কেবল আইয়ুব বাচ্চুর উপস্থিতি থাকলেই হতো। কী এক অদ্ভুত মায়া, টান ছিল তাঁর গিটারে! গভীর কোনো বেদনা থেকেই কি অমন বিরহের সুর তুলতেন তিনি!

হৃদয় স্পর্শ করে যাওয়া অমন সুরের মোহে আচ্ছাদিত থাকত উপস্থিত সকলে। শুধু কি শহর! মফস্বল কিংবা গ্রামেও আইয়ুব বাচ্চুর উপস্থিতি মানেই ছিল রোমাঞ্চকর, সারা জীবন মনে রাখার মতো কিছু মুহূর্ত।

তবে সবাইকে দুহাতে আনন্দে বিলিয়ে বেড়ানো আইয়ুব বাচ্চুর সুরের বুকে লুকিয়ে থাকা কান্নার সন্ধান পেয়েছিলেন ক’জনা? সবাইকে ফাঁকি দিয়ে আকাশে উড়াল দেওয়ার প্রবণতা কেউ কি ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিলেন?

বড্ড অচেনা হয়ে বিদায় নিলেন আইয়ুব বাচ্চু। এভাবেই কি যাওয়ার কথা ছিল! এভাবে কি যেতে হয়! মঞ্চে সুরের ঝংকার তোলা সুরস্রষ্টার চিরবিদায় বেলায় শীতপ্রকৃতির মতোই নির্জীবতা বিরাজ করছিল সর্বত্র। কফিনবন্দি বাচ্চু সবাইকে কাঁদিয়ে উড়াল দেওয়ার দিনেই যেন শেষ হলো বাংলা সংগীত জগতের একটি অধ্যায়।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। জনপ্রিয় ব্যান্ডদল এলআরবির দলনেতা ছিলেন তিনি। একাধারে গায়ক, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক আইয়ুব বাচ্চুর হাত ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা ব্যান্ডজগৎ।

ছোটবেলা থেকেই গিটারের প্রেমে পড়েন তিনি। কলেজজীবনে বন্ধুদের নিয়ে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ নামে একটা ব্যান্ডদল গড়ে তোলেন আইয়ুব বাচ্চু, পরে এর নাম পাল্টে রাখা হয় ‘আগলি বয়েজ’। বিয়েবাড়ি, জন্মদিন আর ছোটখাটো নানা অনুষ্ঠানে তাদের এই ব্যান্ডদল গান করত।

আইয়ুব বাচ্চুর বন্ধুরা যে যার মতো একেক দিকে ছড়িয়ে পড়লেও আইয়ুব বাচ্চু ব্যান্ডদল ‘ফিলিংস’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। এরপর ১৯৮০ সালে তিনি যোগ দেন ‘সোলস’ ব্যান্ডে। এই ব্যান্ডের লিডগিটার বাজানোর দায়িত্বে ছিলেন টানা ১০ বছর। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল গড়ে তোলেন নতুন ব্যান্ড ‘এলআরবি’।

গিটার বাজানোর ক্ষেত্রে অনন্য স্টাইল এবং নান্দনিক দক্ষতাগুণে ‘গিটার লিজেন্ড’ খ্যাতিটি তার নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল অনেকদিন আগেই। প্রিয় যে কোনো একটি গিটার কাঁধে ঝুলিয়ে তিনি যখন মঞ্চে এসে দাঁড়াতেন তখন দর্শক সারিতে তুমুল আনন্দ, মুহুর্মুহু করতালি এবং তার নাম ধরে চিৎকার করে করে সীমাহীন উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো।

তিনি যখন তার গিটারে সুর তুলতেন তখন দর্শক সারির সে উত্তেজনা রূপ নিতো চরম উন্মাদনায়। আর গিটারের তালে তালে তার কণ্ঠে যখন উচ্চারিত হতো গান তখনতো কথাই ছিল না। দর্শকদের আনন্দ যেন আর ধরতো না। তিনি, তার গিটার, গান আর দর্শক মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতেন।

আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তার প্রিয়জনেরা নানা আয়োজনে স্মরণ করছেন তাকে।

শুক্রবার বাদ আসর মগবাজার মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করছে তার পরিবার। এছাড়া চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর কবর জিয়ারত করবেন তার প্রিয়জনেরা। সেখানে দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী চন্দনা। চন্দনা জানালেন, মেয়ে ফাইরুজ সাফরাকে নিয়ে তিনি চট্টগ্রামেই থাকবেন ১৮ অক্টোবর।

পরিবারের আয়োজন ছাড়াও তার শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তরাও বিভিন্ন স্থানে দোয়ার আয়োজন করেছেন। চ্যানেল আই, নাগরিক টেলিভিশনসহ কয়েকটি টিভি চ্যানেলও আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

মূলত রক ঘরানার কণ্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত এবং লোকগীতি দিয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠ দেয়া প্রথম গান ‘হারানো বিকেলের গল্প’।

আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। তার সফলতার শুরু দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’র মাধ্যমে। তিনি বেশ কিছু বাংলা ছবিতে প্লে-ব্যাকও করেছেন। এছাড়া অসংখ্য অ্যালবামেও কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে ময়না, কষ্ট, প্রেম তুমি কষ্ট, দুটি মন, সময়, একা, পথের গান, ভাটির টানে মাটির গানে, জীবন, সাউন্ড অব, সাইলেন্স, রিমঝিম বৃষ্টি অ্যালবামগুলো উল্লেখযোগ্য।

দীর্ঘ কয়েক দশকে অসংখ্য কালজয়ী, জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘চলো বদলে যাই,’ ‘হাসতে দেখো,’ ‘এখন অনেক রাত,’ ‘রুপালি গিটার’, ‘মেয়ে’ ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি,’ ‘সুখের এ পৃথিবী,’ ‘ফেরারী মন,’ ‘উড়াল দেবো আকাশে,’ ‘বাংলাদেশ,’ ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি,’ ‘এক আকাশের তারা,’ ‘সেই তারা ভরা রাতে,’ ‘কবিতা,’ ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি,’ ‘তিন পুরুষ,’ ‘যেওনা চলে বন্ধু,’ ‘বেলা শেষে ফিরে এসে,’ ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি,’ ‘তিন পুরুষ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই কিংবদন্তি শিল্পী।

Feb2

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই সরকারের আমলে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই সরকারের আমলে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনএমসিটি) প্রকল্পের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ড খসড়া কনসেশন চুক্তি (ড্রাফট কনসেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) পর্যালোচনার জন্য আরও সময় চেয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়সূচিতে হাতে রয়েছে মাত্র দুই কার্যদিবস। এ অবস্থায় আলোচনাটি আসন্ন নির্বাচন পেরিয়ে পরবর্তী সরকারের সময়েও চলতে পারে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, চলমান আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড। প্রতিষ্ঠানটি আলোচনার বর্তমান ধারাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। অংশীদারিত্ব সঠিক পথেই এগোবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

আশিক মাহমুদ বলেন, এনএমসিটি প্রকল্পটি সরকার টু সরকার (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে উদ্ভূত। এই প্রকল্পভিত্তিক অংশীদারিত্বে প্রধান সংশ্লিষ্ট সংস্থা হলো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও ডিপি ওয়ার্ল্ড।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ আলোচনাকে সহজ ও কার্যকর করতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নয়— এ কথা উল্লেখ করে আশিক চৌধুরী বলেন, চুক্তি সম্পাদনকারী কর্তৃপক্ষকে পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করাই তাদের ভূমিকা।

তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এনএমসিটি প্রকল্পটি গত এক মাসে আলোচনার একটি চূড়ান্ত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে বর্তমানে এসব আলোচনা চলমান রয়েছে, যাতে সফলভাবে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা যায়।

আশিক চৌধুরী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের বন্দর সক্ষমতা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, বন্দর উন্নয়নের মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা হয়, যা দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ অগ্রগতি দেখা যাবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো বিদ্যমান প্রকল্প পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

নিজের বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির খোদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
নিজের বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির খোদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজধানীতে নিজের বিরুদ্ধে ডাকা এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এমন ঘটনার সাক্ষী হয় উপস্থিত জনতা ও সংবাদকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেফাজতে ইসলামের সাবেক মহাসচিব ও আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মিথ্যাচার ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বাদ আসর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী স্মৃতি সংসদ কর্তৃক আয়োজিত এই বিক্ষোভ শুরু হয়। যখন সবাই স্লোগানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই সেখানে হাজির হন নাসীরুদ্দীন নিজেই।

পরে তিনি উপস্থিত সবার কাছে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে সমাবেশস্থলের সামনেই তাকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। সেখানে তাকে বক্তব্য দিতেও দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ একে নাসীরুদ্দীনের ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্ট’ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে তার এই সাহস ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

যদিও পরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুকে নিজের আইডিতে এক পোস্টে লেখেন, ‘‘আমার কথায় বা আচরণে যারা মনঃকষ্ট পেয়ে থাকেন, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করছি।’’

ভোট ঘিরে চট্টগ্রামে নিরপেক্ষতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
ভোট ঘিরে চট্টগ্রামে নিরপেক্ষতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, দায়িত্ব শতভাগ নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে রাষ্ট্রকে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে মানুষ সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত নির্বাচন দিতে না পারার অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার সেই আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা পক্ষপাতদুষ্ট—এমন অভিযোগে তারা বারবার আহত হয়েছেন। এবার মাঠপর্যায়ে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটির আলোকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা হবে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ব যেভাবে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে দেশের ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।প্রত্যেকটি এলাকা ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। মাঠে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কর্মকর্তারা একটি প্রিভিলেজড অবস্থানে রয়েছেন। অতীতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও এখন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাঁদের সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন—কেউ জয়ী হবেন, কেউ পরাজিত হবেন। তবে প্রশাসনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও জনগণের জয় নিশ্চিত করা।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচন হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

নাগরিকদের প্রতি শতভাগ দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত। যে কোনো কেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলার বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

শেষে তিনি বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য একটি উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজন করা। মানুষের আস্থা ফিরে আসছে, যা সবার সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। স্বল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভা শুরুর পরেই জেলা প্রশাসক আগত সকল প্রতিনিধির নিকট থেকে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া হন। পরবর্তীতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন তিনি।

মতবিনিময়ের শুরুতেই তিনি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিকট জানতে চান—নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে কিনা এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে কিনা সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র কী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামিম, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমানসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।