খুঁজুন
, ,

রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে – রোগীকে বললেন স্কয়ারের নারী ডাক্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 14 July, 2020, 11:44 am
রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে – রোগীকে বললেন স্কয়ারের নারী ডাক্তার

“এইসব মেয়েদের হাসব্যান্ড একটু জংলী টাইপের হওয়া উচিত, যাতে তারা একবারে রেপ করে ফেলে। কারণ এই মেয়েরা পারমিশন দিতে চায়না, যেহেতু ওদের সেক্স এর সময় ব্যাথা লাগে। সো, একবারে রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যুবতী রোগীকে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আফসানা বুশরা নামের এক নারী রবিবার (১২ জুলাই) রাতে সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ফেসবুকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ আনেন।

বুশরা ফেসবুকে জানান, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসক তার যৌনাঙ্গের সমস্যা পরীক্ষা করার সময় মন্তব্য করেন, “আপনাকে ধর্ষণ করা দরকার।”

এবিষয়ে উক্ত চিকিৎসক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, “কনসালটেন্সি চলাকালীন সময়ে রোগী এবং তার মায়ের সাথে কথোপকথনে কোনো প্রকার অসঙ্গতি ওনারা পেয়েছেন কিনা তা আমার কাছে পরিলক্ষিত হয়নি। তাছাড়া এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ওনারা আমার বা হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো প্রকার অভিযোগও করেননি।”

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন গত শনিবার (১১ জুলাই) ২১ বছর বয়সী বুশরা যৌনাঙ্গের “ভিজিনিসমাস” নামক এক অসুস্থতার জন্য স্কয়ার হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শক ডা. কাজী শামসুন নাহারের কাছে যান।

রোগটি পরীক্ষার এক পর্যায়ে ডাক্তারের কারণে যৌনাঙ্গের পেশীতে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হলে, ডা. শামসুন নাহার এই মন্তব্য করেন বলে বুশরা ফেসবুকে জানান।

পরে বুশরা বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে তার ফেসবুক প্রোফাইলে তুলে ধরেন।

বুশরা লিখেন: “ডাক্তার কাজী শামসুন নাহার, আপনি ডাক্তার নামের কলঙ্ক। আপনি পৃথিবীর সমস্ত ডাক্তারদের জন্য কলঙ্কসরূপ, যারা অন্যদের সেবা দিয়ে চলেছে। আপনি আমার রোগ নির্ণয়ের সময় আমাকে ধর্ষণ করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন, যা সমস্ত মানুষের জন্য অপমানজনক।”

বুশরা বলেন, “আমার মা চেম্বারে আমার সাথে গিয়েছিলেন, তিনি একজন প্রত্যক্ষদর্শী, কিন্তু আমি জানি আমি কোনো বিচার পাবো না। যাইহোক, আমি ঘটনাটি ফেসবুকে পোস্ট করেছি যাতে অন্য কোনও মেয়ে তার (কাজী শামসুন নাহার) কাছ থেকে এই ধরনের মানসিক আঘাতের সম্মুখীন না হয়।”

বুশরা বলেন, “আমার আপত্তি এই বিশেষ চিকিৎসককে নিয়ে, স্কয়ার হাসপাতালের প্রতি নয়। হাসপাতালের সুনামের প্রতি আমার কোনো সন্দেহ নেই।”

তিনি তার ফেসবুক পোস্টে আরও লিখেছেন, “মহিলা (ডা. কাজী শামসুন নাহার) আমার পেশির পরীক্ষা করছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমি তাকে বলেছিলাম, আমি ব্যাথা পাচ্ছি। পরীক্ষার পর তিনি আমার সামনে বসলেন এবং কারও মুখ থেকে শুনলাম এমন ভয়াবহ কথা শুনলাম।”

বুশরা লিখেছেন, “তিনি আমাকে বলেছিলেন যে আমার স্বাস্থ্যের উদ্বেগজনক বিষয়টি সম্পর্কে কারও সাথে কথা বলা উচিত নয় এবং আমার যৌনাঙ্গ ভবিষ্যতের জন্য আমার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে চলেছে।”

“তারমানে তিনি যৌনশিক্ষার চূড়ান্ত বিরোধী এবং মানুষ তাদের যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু শিখতে চায় না।” তিনি বলেন, “আধুনিকতাবাদের নামে এই বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করবেন না।”

তিনি আরও লিখেছেন: “আমি তার পরবর্তী কথাটি আমি উদ্ধৃতিতে রেখে দেব, কারণ এটি আমার কাছে ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মানসিকতা নেই।”

“এইসব মেয়েদের হাসব্যান্ড একটু জংলী টাইপের হওয়া উচিত, যাতে তারা একবারে রেপ করে ফেলে। কারণ এই মেয়েরা পারমিশন দিতে চায়না, যেহেতু ওদের সেক্স এর সময় ব্যাথা লাগে। সো, একবারে রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

“আমি চোখে জল নিয়ে কক্ষটি ছেড়ে বের হয়ে এলাম। এ সময় আমি খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, শুধু এই কথাটি বলার জন্য আমি কাউকে টাকা দিয়েছি। আমি খুবই আঘাত পেয়েছি, ভেঙে পড়েছি এবং নিজেকে অসহায় মনে হয়েছে।”

আফসানা তার ফেসবুক পোস্টে আরও লিখেছেন, “তাকে কিছু না বলে আমি নিজের উপর রেগে গিয়েছিলাম, কারণ কে জানে যে কত মেয়ে এই মহিলার (ডাক্তার) চেম্বার থেকে ভাঙা মন ও চোখে জল নিয়ে বের হয়ে গেছে, এই ভেবে যে তাদেরও ধর্ষণ করা দরকার।”

রোগীর বিলের রশিদ

ডা. কাজী শামসুন নাহারের বক্তব্য

বুশরা চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রদত্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডা. শামসুন নাহার একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন: “গত শনিবার বুশরা নামের কিছু সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসেন।”

“রোগীর সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে তার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য এবং রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য খুবই যুক্তিসংগত এবং প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন করি।”

“রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝার জন্য (যা রোগ নির্ণয়ের জন্য আবশ্যক) অনুমতি সাপেক্ষে তার মায়ের উপস্থিতিতে শারীরিক পরীক্ষা করা হয় এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।”

“পরবর্তীতে আমি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানতে পারি যে, উক্ত রোগী আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মনগড়া একটি অনৈতিক ব্যাখ্যামূলক অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

“আমার বক্তব্যে আফসারা তাসনিম বুশরার যদি মনে হয়ে থাকে যে আমি চিকিৎসাগত কোনো প্রকার অসদাচারণ

করেছি তাহলে তিনি অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন। তা না করে তিনি আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”

ডা. শামসুন নাহারের বক্তব্য

হতে পারে মামলা

এদিকে ডা. শামসুন নাহারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বুশরা বলেন, “ওই চিকিৎসক আমার অভিযোগের বিষয়ে কিছুই বলেননি (ধর্ষণ বিষয়ক মন্তব্য) এবং তিনি ক্ষমাও চাননি।”

“আমি বানিয়ে বলছি না। এমনটা করে আমার কোনো লাভ নেই। তাছাড়া, আমার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী রয়েছে। তার দায় এড়ানোর বিষয়টি আমাকে হতাশ করেছে।”

বুশরা বলেন, “এমনকি তিনি এখন বিষয়টি অস্বীকার করছেন। আমি আশা করি তিনি উচিৎ শিক্ষা পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ভাষা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন (অন্য রোগীদের সঙ্গে)।”

আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আমার আইনি পরামর্শ নেয়ার একমাত্র কারণ আমি ভয় পাচ্ছি স্কয়ার (হাসপাতাল) আমার বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করবে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌরভ আলজাহিদ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তার গর্ভবতী স্ত্রীকে ডা. নাহারের ভুল চিকিৎসায় ২০১৭ সালে তাদের সন্তানের অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়।

এই অভিযোগের বিষয়ে ডা. নাহার বলেন, “এটা অনেক আগে ঘটেছিলো। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো সময় আমার নেই।”

এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিসেস) ওয়াহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “আমরা চিকিৎসকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম। আমরা সম্ভবত আজ (সোমবার) আমাদের অফিসিয়াল বিবৃতি দেব।”

“মেয়েটির গণমাধ্যমের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে প্রথমেই স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাওয়া উচিত ছিল,” যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, “এই ধরনের ভাষা একজন ডাক্তারের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত। এটা সত্য কিনা তা আমি জানি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই কোনো পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই বিষয়টি তদন্ত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস হবে না: জেলা প্রশাসক শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 12:21 pm
দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস হবে না: জেলা প্রশাসক শামীম

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, জেলা পরিষদে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দুর্নীতির সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করাই হবে জেলা পরিষদের প্রধান লক্ষ্য।

এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তিনি যোগদান করেন।

পরিচিতি সভায় মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, প্রায় ৩৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি জনগণের আরও কাছাকাছি থেকে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান।

তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সংস্কৃতি ছিল। আমরা চাই সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সততা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জেলা পরিষদ পরিচালনা করতে। কাজের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে আমি আপস করব না।

তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের প্রতিটি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন হলেও আপনারা অভিজ্ঞ। আপনাদের সহযোগিতা নিয়েই কাজ করতে চাই। কোনো সমস্যা বা প্রয়োজন হলে সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলবেন। এমন কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যেন সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

জেলা পরিষদের সীমিত বাজেটের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিচিতি সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম, নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার ইখতেখার উদ্দীন আরফাত, ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. এস এম খালেদ উদ্দীন জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনিছ উদ্দীন ভূঞাসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 12:06 pm
সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।

রোববার (১৯ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মো. রাশেদ খানকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।

আজ সোমবার রাশেদ খান নিজেই ফেসবুকে এক পোস্টে বিজ্ঞপ্তিটি শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার সহকারী (রাজনৈতিক ) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিমূর্তি, বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। আমি যাতে আস্থা ও বিশ্বাসের সহিত আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারি, এজন্য সবার দোয়া ও ভালবাসা চাই। নতুন জীবনের এই পথচলায় সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

গোল-অ্যাসিস্ট না করেও রদ্রির ‘গোল্ডেন বল’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 5:55 am
গোল-অ্যাসিস্ট না করেও রদ্রির ‘গোল্ডেন বল’

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের জমকালো মঞ্চে যখন আতশবাজির আলো আর সব ক্যামেরা লিওনেল মেসি কিংবা লামিন ইয়ামালকে খুঁজছিল, তখন ডাগআউটের এক কোণে দাঁড়িয়ে শান্ত মুখে হাসছিলেন একজন। তিনি রদ্রিগো হার্নান্দেজ কাসকান্তে—ফুটবলবিশ্ব যাঁকে চেনে কেবল ‘রদ্রি’ নামে।

বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ উঠেছে তাঁরই হাতে। ফুটবল যেখানে কেবলই গতি আর চটকদার ড্রিবলিংয়ের প্রদর্শনী, সেখানে রদ্রি প্রমাণ করলেন—মাঠের আসল নিয়ন্ত্রণ থাকে নীরব মস্তিষ্কের আর নিখুঁত টেকনিকের হাতে।

পুরো বিশ্বকাপে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না করেও গোল্ডেন বল পুরস্কার হাতে তুলেছেন রদ্রি। মাঝমাঠে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রধান ইঞ্জিন এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের নিউক্লিয়াস ছিলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল হজম করেছে মাত্র ১টি। মিডফিল্ডের পাশাপাশি ডিফেন্স সহায়তায়ও রদ্রি ছিলেন দারুণ কার্যকর।

টুর্নামেন্ট জুড়ে রক্ষণ আর আক্রমণের মাঝে এক অদৃশ্য সুতোর মতো কাজ করেছেন রদ্রি। গোল হয়তো তিনি প্রতি ম্যাচে করেন না, অ্যাসিস্টের খাতায়ও হয়তো স্ট্রাইকারদের মতো বড় বড় সংখ্যা থাকে না; কিন্তু স্পেনের প্রতিটি পাস, প্রতিটি আক্রমণ আর প্রতিটি মাঝমাঠের প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে তাঁর পা ছুঁয়েই।

রদ্রি ৮টি ম্যাচ খেলেছেন, টুর্নামেন্টের রেকর্ড গড়ে ৬৫০টিরও বেশি সফল পাস দিয়েছেন এবং যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হাই-ইনটেনসিটি রান সম্পন্ন করেছেন। আর তাই, বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্যে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের মুকুটটি তাঁর হাতেই উঠেছে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল্ডেন বল সাধারণত ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গারদের দখলে যায়, যাঁরা গোল করে গ্যালারিতে উদযাপনের রোল তোলেন। কিন্তু কাতার বিশ্বকাপে মেসির জাদুর পর, ২০২৬-এর এই উত্তর আমেরিকান মঞ্চ দেখল এক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারের মস্তিষ্কের লড়াই।

ফাইনাল শেষে পুরস্কার হাতে রদ্রির সেই চেনা লাজুক হাসিই বলে দিচ্ছিল, তিনি স্পটলাইটের চেয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতেই বেশি ভালোবাসেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর পাসিং অ্যাকুরেসির গ্রাফ আর মাঠের প্রতিটি ইঞ্চিতে তাঁর উপস্থিতি বাধ্য করেছে বিচারকদের তাঁর হাতেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি তুলে দিতে। তিনি ৮টি ম্যাচ খেলেছেন, টুর্নামেন্টের রেকর্ড গড়ে ৬৫০টিরও বেশি সফল পাস দিয়েছেন এবং যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হাই-ইনটেনসিটি রান (তীব্র গতির দৌড়) সম্পন্ন করেছেন।”

লিওনেল মেসি ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের দাবিদার ছিলেন। তবে বিচারকদের ভোটে রদ্রি জিতলেন পুরস্কার।

গুরু লুইস দে লা ফুয়েন্তের ফুটবল দর্শনের আদর্শ প্রতিচ্ছবি হয়ে রদ্রিরা আজ স্পেনের জার্সিতে যোগ করলেন দ্বিতীয় তারকা। বিশ্বজয়ের ট্রফি আর গোল্ডেন বল বগলদাবা করে রদ্রি বুঝিয়ে দিলেন, ফুটবলে রাজত্ব করতে হলে সবসময় উচ্চস্বরে চিৎকার করতে হয় না, মাঝমাঠে শান্ত থেকে নিখুঁত একটা পাস দিয়েই পুরো বিশ্বকে পায়ের মুঠোয় আনা যায়।