খুঁজুন
বুধবার, ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে – রোগীকে বললেন স্কয়ারের নারী ডাক্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে – রোগীকে বললেন স্কয়ারের নারী ডাক্তার

“এইসব মেয়েদের হাসব্যান্ড একটু জংলী টাইপের হওয়া উচিত, যাতে তারা একবারে রেপ করে ফেলে। কারণ এই মেয়েরা পারমিশন দিতে চায়না, যেহেতু ওদের সেক্স এর সময় ব্যাথা লাগে। সো, একবারে রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যুবতী রোগীকে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আফসানা বুশরা নামের এক নারী রবিবার (১২ জুলাই) রাতে সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ফেসবুকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ আনেন।

বুশরা ফেসবুকে জানান, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসক তার যৌনাঙ্গের সমস্যা পরীক্ষা করার সময় মন্তব্য করেন, “আপনাকে ধর্ষণ করা দরকার।”

এবিষয়ে উক্ত চিকিৎসক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, “কনসালটেন্সি চলাকালীন সময়ে রোগী এবং তার মায়ের সাথে কথোপকথনে কোনো প্রকার অসঙ্গতি ওনারা পেয়েছেন কিনা তা আমার কাছে পরিলক্ষিত হয়নি। তাছাড়া এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ওনারা আমার বা হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো প্রকার অভিযোগও করেননি।”

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন গত শনিবার (১১ জুলাই) ২১ বছর বয়সী বুশরা যৌনাঙ্গের “ভিজিনিসমাস” নামক এক অসুস্থতার জন্য স্কয়ার হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শক ডা. কাজী শামসুন নাহারের কাছে যান।

রোগটি পরীক্ষার এক পর্যায়ে ডাক্তারের কারণে যৌনাঙ্গের পেশীতে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হলে, ডা. শামসুন নাহার এই মন্তব্য করেন বলে বুশরা ফেসবুকে জানান।

পরে বুশরা বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে তার ফেসবুক প্রোফাইলে তুলে ধরেন।

বুশরা লিখেন: “ডাক্তার কাজী শামসুন নাহার, আপনি ডাক্তার নামের কলঙ্ক। আপনি পৃথিবীর সমস্ত ডাক্তারদের জন্য কলঙ্কসরূপ, যারা অন্যদের সেবা দিয়ে চলেছে। আপনি আমার রোগ নির্ণয়ের সময় আমাকে ধর্ষণ করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন, যা সমস্ত মানুষের জন্য অপমানজনক।”

বুশরা বলেন, “আমার মা চেম্বারে আমার সাথে গিয়েছিলেন, তিনি একজন প্রত্যক্ষদর্শী, কিন্তু আমি জানি আমি কোনো বিচার পাবো না। যাইহোক, আমি ঘটনাটি ফেসবুকে পোস্ট করেছি যাতে অন্য কোনও মেয়ে তার (কাজী শামসুন নাহার) কাছ থেকে এই ধরনের মানসিক আঘাতের সম্মুখীন না হয়।”

বুশরা বলেন, “আমার আপত্তি এই বিশেষ চিকিৎসককে নিয়ে, স্কয়ার হাসপাতালের প্রতি নয়। হাসপাতালের সুনামের প্রতি আমার কোনো সন্দেহ নেই।”

তিনি তার ফেসবুক পোস্টে আরও লিখেছেন, “মহিলা (ডা. কাজী শামসুন নাহার) আমার পেশির পরীক্ষা করছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমি তাকে বলেছিলাম, আমি ব্যাথা পাচ্ছি। পরীক্ষার পর তিনি আমার সামনে বসলেন এবং কারও মুখ থেকে শুনলাম এমন ভয়াবহ কথা শুনলাম।”

বুশরা লিখেছেন, “তিনি আমাকে বলেছিলেন যে আমার স্বাস্থ্যের উদ্বেগজনক বিষয়টি সম্পর্কে কারও সাথে কথা বলা উচিত নয় এবং আমার যৌনাঙ্গ ভবিষ্যতের জন্য আমার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে চলেছে।”

“তারমানে তিনি যৌনশিক্ষার চূড়ান্ত বিরোধী এবং মানুষ তাদের যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু শিখতে চায় না।” তিনি বলেন, “আধুনিকতাবাদের নামে এই বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করবেন না।”

তিনি আরও লিখেছেন: “আমি তার পরবর্তী কথাটি আমি উদ্ধৃতিতে রেখে দেব, কারণ এটি আমার কাছে ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মানসিকতা নেই।”

“এইসব মেয়েদের হাসব্যান্ড একটু জংলী টাইপের হওয়া উচিত, যাতে তারা একবারে রেপ করে ফেলে। কারণ এই মেয়েরা পারমিশন দিতে চায়না, যেহেতু ওদের সেক্স এর সময় ব্যাথা লাগে। সো, একবারে রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

“আমি চোখে জল নিয়ে কক্ষটি ছেড়ে বের হয়ে এলাম। এ সময় আমি খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, শুধু এই কথাটি বলার জন্য আমি কাউকে টাকা দিয়েছি। আমি খুবই আঘাত পেয়েছি, ভেঙে পড়েছি এবং নিজেকে অসহায় মনে হয়েছে।”

আফসানা তার ফেসবুক পোস্টে আরও লিখেছেন, “তাকে কিছু না বলে আমি নিজের উপর রেগে গিয়েছিলাম, কারণ কে জানে যে কত মেয়ে এই মহিলার (ডাক্তার) চেম্বার থেকে ভাঙা মন ও চোখে জল নিয়ে বের হয়ে গেছে, এই ভেবে যে তাদেরও ধর্ষণ করা দরকার।”

রোগীর বিলের রশিদ

ডা. কাজী শামসুন নাহারের বক্তব্য

বুশরা চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রদত্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডা. শামসুন নাহার একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন: “গত শনিবার বুশরা নামের কিছু সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসেন।”

“রোগীর সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে তার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য এবং রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য খুবই যুক্তিসংগত এবং প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন করি।”

“রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝার জন্য (যা রোগ নির্ণয়ের জন্য আবশ্যক) অনুমতি সাপেক্ষে তার মায়ের উপস্থিতিতে শারীরিক পরীক্ষা করা হয় এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।”

“পরবর্তীতে আমি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানতে পারি যে, উক্ত রোগী আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মনগড়া একটি অনৈতিক ব্যাখ্যামূলক অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

“আমার বক্তব্যে আফসারা তাসনিম বুশরার যদি মনে হয়ে থাকে যে আমি চিকিৎসাগত কোনো প্রকার অসদাচারণ

করেছি তাহলে তিনি অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন। তা না করে তিনি আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”

ডা. শামসুন নাহারের বক্তব্য

হতে পারে মামলা

এদিকে ডা. শামসুন নাহারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বুশরা বলেন, “ওই চিকিৎসক আমার অভিযোগের বিষয়ে কিছুই বলেননি (ধর্ষণ বিষয়ক মন্তব্য) এবং তিনি ক্ষমাও চাননি।”

“আমি বানিয়ে বলছি না। এমনটা করে আমার কোনো লাভ নেই। তাছাড়া, আমার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী রয়েছে। তার দায় এড়ানোর বিষয়টি আমাকে হতাশ করেছে।”

বুশরা বলেন, “এমনকি তিনি এখন বিষয়টি অস্বীকার করছেন। আমি আশা করি তিনি উচিৎ শিক্ষা পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ভাষা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন (অন্য রোগীদের সঙ্গে)।”

আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আমার আইনি পরামর্শ নেয়ার একমাত্র কারণ আমি ভয় পাচ্ছি স্কয়ার (হাসপাতাল) আমার বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করবে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌরভ আলজাহিদ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তার গর্ভবতী স্ত্রীকে ডা. নাহারের ভুল চিকিৎসায় ২০১৭ সালে তাদের সন্তানের অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়।

এই অভিযোগের বিষয়ে ডা. নাহার বলেন, “এটা অনেক আগে ঘটেছিলো। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো সময় আমার নেই।”

এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিসেস) ওয়াহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “আমরা চিকিৎসকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম। আমরা সম্ভবত আজ (সোমবার) আমাদের অফিসিয়াল বিবৃতি দেব।”

“মেয়েটির গণমাধ্যমের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে প্রথমেই স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাওয়া উচিত ছিল,” যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, “এই ধরনের ভাষা একজন ডাক্তারের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত। এটা সত্য কিনা তা আমি জানি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই কোনো পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই বিষয়টি তদন্ত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের ১০০ দিন-জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে।

বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এ চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়। এই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

সুপার সাব মোসাম্মাৎ সাগরিকার গোলে নেপালকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছে নেপালকে।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার পর টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দু’বার এই নেপালকে হারিয়েই হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এবার চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক করার মিশন বাংলাদেশের সামনে।

দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি খেলোয়াড় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার চমৎকার বোঝাপড়ায় লিড নেয় বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে ঢুকে শামসুন্নাহার বল ফেলেন গোলমুখে। কোনো ভুল করেননি সাগরিকা। নেপালের এক ডিফেন্ডার তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও পারেনি। বল ঠেলে দেন জালে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। বাকি কয়েক মিনিট ওই লিড ধরে রেখে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা উঠে যায় ফাইনালে। এই নিয়ে বাংলাদেশ টানা তিনবার উঠলো সাফের ফাইনালে।

২৩ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তারপর সমতায় ফেরে ইনজুরি সময়ে প্রথম মিনিটে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে করা গোলে স্বস্তি ফিরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েদের ডাগআউটে। ডানপ্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার নেওয়া অসাধারণ কর্নার কিকটি হাতে লাগিয়েছিলেন নেপালের গোলরক্ষক। তবে থামাতে পারেননি। গোলরক্ষকের হাত হয়ে বল চলে যায় জালে।

দিপা শাহীর কর্নার হাতে লাগিয়েও ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি মিলি আক্তার। বল চয়ে যায় একটু ফাঁকায় দাড়ানো গিতা রানার কাছে। তিনি সুযোগ বুঝে বলটি পাঠিয়ে দেন জালে। ম্যাচের প্রথম লিড নিয়েছিল নেপাল।

৩৬ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে প্রীতি রানীর নেওয়া শট গোলরক্ষক মিলি আক্তারের হাতে লেগে ক্রসবার হয়ে ফিরে আসলে বাংলাদেশ বেঁচে যায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম অর্ধ।

কোচ পিটার বাটলার ৪০ মিনিটে দুটি পরিবর্তন করেন। সুরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। শেষ দিকে আনিকাকে উঠিয়ে কোচ মাঠে নামান সাগরিকা। সেই সাগরিকাই বাংলাদেশকে ভাসান ফাইনালে ওঠার আনন্দে।

নেপালকে ফাইনালে হারিয়ে গত দুটি সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের লড়াইও জিতলো বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নও টিকে থাকলো।

৪৭ মিনিটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের ভুলে শট নিয়েছিলেন রেখা পাউদেল। তবে তার শট পোস্টে লেগে ফিরলে আবার বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ৭৮ মিনিটে বদলি সাগরিকার শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের কাছে টানা তিন ম্যাচ হারলো নেপাল। তবে ভুটানের রেফারি ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়ের খেলা চালিয়েছেন ১৩ মিনিটের মতো।

বাংলাদেশ একাদশ

মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন (মনিকা চাকমা, ৪৬ মিনিট), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী (সাগরিকা), উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ষষ্ঠ তলায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি।

নতুন মূল্য গত ১ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।