খুঁজুন
, ,

সহকারী জজের বিরুদ্ধে জমি জবর-দখলের অভিযোগ ভূক্তভোগী কৃষকের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2020, 6:15 pm
সহকারী জজের বিরুদ্ধে জমি জবর-দখলের অভিযোগ ভূক্তভোগী কৃষকের

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : আমার শ্বশুড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আমি জজ ও আমার বন্ধু-বান্ধব অনেকে ম্যাজিষ্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট। আমাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া কুল পাইবেন না। আমি কাউকে পরোয়া করি না। পথ হবে। বেশি বাড়াবাড়ি করিলে আজীবনভর মামলার বোঝা বইতে বইতে কবরে যাইতে হইবে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পশ্চিম কলাউজানের হাছন আলী মিয়াজী পাড়ার অসহায় কৃষক মোহাম্মদ আয়ুবের মৌরসী দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় চাষের জমির মাঝখানে জোর পূর্বক চলাচলের পথ নির্মাণসহ ১১ শতক জায়গা জোর পূর্বক জবর-দখল কাজে নেতৃত্ব দেয়া আব্বাস উদ্দিন নামের এক সহকারী জজ ঠিক এমনই দম্ভোক্তি প্রকাশ করার অভিযোগ তুলেছেন ভূক্তভোগী কৃষক মো : আয়ুব।

৮ আগষ্ট (শনিবার) দুপুর ১টায় লোহাগাড়ার বটতলী মোটর ষ্টেশনের একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলেন।

এছাড়াও সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিন ছাত্র থাকালীন সময়ে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক ক্যাডার এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল হিসেবে কর্মরত থেকে ঢাকার রাজপথে ইসলামী ছাত্র শিবির ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এসময়ে বাংলাদেশের অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে অনেক অপকর্মেও লিপ্ত ছিল বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো : আয়ুব। এ সময় তাঁর ছোট ভাই নুরুল আবছার ও রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে কৃষক মোহাম্মদ আয়ুব বলেন, দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন ইউসুফের সাথে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। গত ১২ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দীর্ঘদিনের ভোগদলীয় চাষের জন্য প্রস্তুতকৃত জমির মাঝখানে বিনা প্রয়োজনে পথ নির্মাণ করার চেষ্টা চালায় জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন ইউসুফ ও সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় ফরিদুল আলম, জোবাইয়ের হোসেন প্রকাশ যুবরাজ আদি, শাহাব উদ্দিন, মো : ফারুক, নাছির উদ্দিন, মো : ইউনুছ ও মহিউদ্দিন মো : ফারুক।

এ ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাযের করলে উপ-পরিদর্শক দুলাল বাড়ৈ ঘটনাস্থলে গিয়ে পথ নির্মাণকাজ না করার নির্দেশ দেন।

একইদিন বিকেল ৩টার দিকে এ নির্দেশ অমান্য করে সাবেক শিবির ক্যাডার আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক চলাচলের পথ নির্মাণ করেন।

এ সময় বাঁধা দিলে জোবাইয়ের হোসেন প্রকাশ যুবরাজ আদি কোমড় হইতে পিস্তল বের করে, “এক কদম সামনে আগালে বুক ঝাঁঝড়া করে ফেলিব” মর্মে হুমকি দিলে প্রাণের ভয়ে আমি সামনে আগাতে পারি নাই। এ সুযোগে প্রকাশ্যে আমার ভোগদখলীয় চাষের জমির মাঝখানে দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট ও প্রস্থ ৩ ফুট রাস্তা নির্মাণ করে ফেলে।

এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মিছ মামলা নং- ৫৩২/২০২০ দায়ের করি। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারামতে উভয়পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালতের দেয়া আদেশ অমান্য করে গত ২৪ জুলাই বিকেল ৩টায় স্বসস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে আমার মৌরসী ভোগদখলীয় পশ্চিম কলাউজান মৌজার বিএস ৯০৫ ও ১৪৬৯ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৪১৬৩ ও ৪৭১৯ দাগের ১১ শতক জায়গা জবর-দখল করেন।

অভিযুক্তরা সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের বলে বলিয়ান হয়ে সম্পুর্ন অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক আমার চাষের জমির মাঝখানে চলাচলের পথ তৈরির দু:সাহস দেখাইয়াছে। এছাড়াও আব্বাস উদ্দিন নিজেকে একজন সহকারী জজ হিসেবে ক্ষমতা দেখাইয়া সকল অভিযুক্তদের অবৈধ অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে নিজেই ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে এ রাস্তা নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় আমি উক্ত সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের নিকট গিয়ে এহেন জোরপূর্বক জমি দখলে আপনি কেন নেতৃত্ব দিচ্ছেন জানতে চাইলে, তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন যে, ” আমার শ্বশুড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আমি জজ ও আমার বন্ধু-বান্ধব অনেকে ম্যাজিষ্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট। আমাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া কুল পাইবেন না। আমি কাউকে পরোয়া করি না। পথ হবে। বেশি বাড়াবাড়ি করিলে আজীবনভর মামলার বোঝা বইতে বইতে কবরে যাইতে হইবে।

আব্বাস উদ্দিন

কে এই সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিন?

আব্বাস উদ্দিন (৩২)। পিতা মোহাম্মাদ আনিস। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের পশ্চিম কলাউজান ৫ নং ওয়ার্ডের হাছন আলী মিয়াজী পাড়ায় তার বাড়ী। ২০০৩ সালে কলাউজান ডা : এয়াকুব বজলুর রহমান সিকদার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। আব্বাস ছিলেন ২০০১ সালে উক্ত স্কুল শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী এবং ২০০৩ সালে সভাপতি। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত চারদলীয় জোটের দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে খালাসী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সচিব ছিলেন। ২০০৫ সালে ঢাকা কর্মাস কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। সে সময় তিনি কমার্স কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারী ও সাথী পর্যায়ের নেতা ছিলেন। ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাবি ইসলামী ছাত্র শিবিরের আইন বিভাগ শাখার বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের বায়তুল মাল সম্পাদক হিসেবে মাস্টার্স সম্পন্ন করে ঢাবি থেকে বিদায় নেন। ঢাকায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনাকালীন সময়ে ঢাকার রাজপথে ইসলামী ছাত্র শিবির ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এসময়ে বাংলাদেশের অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে অনেক অপকর্মে লিপ্ত ছিল। পরে
২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জুড়িসিয়্যাল সার্ভিসে যোগদান করেন। বর্তমানে সহকারী জজ হিসেবে কর্মরত।

সম্প্রতি লন্ডন থেকে প্রশিক্ষণশেষে দেশে ফিরে করোনাকালীন সময়ে বর্তমানে লোহাগাড়ার কলাউজান ইউনিয়নের পশ্চিম কলাউজান হাছন আলী মিয়াজী পাড়াস্থ গ্রামের বাড়ীতে অবস্থান করছেন।

সেই সহকারী জজের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে : বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সহকারী জজ পদে কর্মরত থেকেও নিজ গ্রামে এসে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিজে উপস্থিত থেকে জোরপূর্বক জায়গা জবর-দখলে নেতৃত্ব দেওয়া ও গ্রামের অসহায় কৃষকদের জজের ভয়-ভীতি দেখানোসহ আরো বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্র শিবিরের সাবেক ক্যাডার আব্বাস উদ্দিনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গত ১৫ জুলাই মাননীয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, স্বরাষ্ট মন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মহাপুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার, অধিনায়ক-RAB-7 সহ সরকারের কয়েকটি সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ দাযের করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েকটি সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্তও শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

সহকারী জজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাই ভূক্তভোগী কৃষকের কোরবানীর পশু জবাই করেনি ইমাম : ঘটনা এখানেই শেষ নয়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে সাবেক শিবির ক্যাডার সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের অপকর্মের বিচার চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বাবা মোহাম্মদ আনিস ও জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন ইউসুফসহ কয়েকজন মিলে গত পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানীর দিনে স্থানীয় মসজিদের ইমামকে অসহায় কৃষক মোহাম্মদ আয়ুবের পরিবারের কোরবানীর গরু জবাই করতে নিষেধ করার অভিযোগ তুলেছেন।

এছাড়াও পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেন এ কৃষক।

২৪ ঘণ্টা/আজাদ

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।