খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সহকারী জজের বিরুদ্ধে জমি জবর-দখলের অভিযোগ ভূক্তভোগী কৃষকের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সহকারী জজের বিরুদ্ধে জমি জবর-দখলের অভিযোগ ভূক্তভোগী কৃষকের

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : আমার শ্বশুড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আমি জজ ও আমার বন্ধু-বান্ধব অনেকে ম্যাজিষ্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট। আমাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া কুল পাইবেন না। আমি কাউকে পরোয়া করি না। পথ হবে। বেশি বাড়াবাড়ি করিলে আজীবনভর মামলার বোঝা বইতে বইতে কবরে যাইতে হইবে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পশ্চিম কলাউজানের হাছন আলী মিয়াজী পাড়ার অসহায় কৃষক মোহাম্মদ আয়ুবের মৌরসী দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় চাষের জমির মাঝখানে জোর পূর্বক চলাচলের পথ নির্মাণসহ ১১ শতক জায়গা জোর পূর্বক জবর-দখল কাজে নেতৃত্ব দেয়া আব্বাস উদ্দিন নামের এক সহকারী জজ ঠিক এমনই দম্ভোক্তি প্রকাশ করার অভিযোগ তুলেছেন ভূক্তভোগী কৃষক মো : আয়ুব।

৮ আগষ্ট (শনিবার) দুপুর ১টায় লোহাগাড়ার বটতলী মোটর ষ্টেশনের একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলেন।

এছাড়াও সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিন ছাত্র থাকালীন সময়ে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক ক্যাডার এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল হিসেবে কর্মরত থেকে ঢাকার রাজপথে ইসলামী ছাত্র শিবির ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এসময়ে বাংলাদেশের অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে অনেক অপকর্মেও লিপ্ত ছিল বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো : আয়ুব। এ সময় তাঁর ছোট ভাই নুরুল আবছার ও রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে কৃষক মোহাম্মদ আয়ুব বলেন, দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন ইউসুফের সাথে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। গত ১২ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দীর্ঘদিনের ভোগদলীয় চাষের জন্য প্রস্তুতকৃত জমির মাঝখানে বিনা প্রয়োজনে পথ নির্মাণ করার চেষ্টা চালায় জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন ইউসুফ ও সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় ফরিদুল আলম, জোবাইয়ের হোসেন প্রকাশ যুবরাজ আদি, শাহাব উদ্দিন, মো : ফারুক, নাছির উদ্দিন, মো : ইউনুছ ও মহিউদ্দিন মো : ফারুক।

এ ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাযের করলে উপ-পরিদর্শক দুলাল বাড়ৈ ঘটনাস্থলে গিয়ে পথ নির্মাণকাজ না করার নির্দেশ দেন।

একইদিন বিকেল ৩টার দিকে এ নির্দেশ অমান্য করে সাবেক শিবির ক্যাডার আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক চলাচলের পথ নির্মাণ করেন।

এ সময় বাঁধা দিলে জোবাইয়ের হোসেন প্রকাশ যুবরাজ আদি কোমড় হইতে পিস্তল বের করে, “এক কদম সামনে আগালে বুক ঝাঁঝড়া করে ফেলিব” মর্মে হুমকি দিলে প্রাণের ভয়ে আমি সামনে আগাতে পারি নাই। এ সুযোগে প্রকাশ্যে আমার ভোগদখলীয় চাষের জমির মাঝখানে দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট ও প্রস্থ ৩ ফুট রাস্তা নির্মাণ করে ফেলে।

এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মিছ মামলা নং- ৫৩২/২০২০ দায়ের করি। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারামতে উভয়পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালতের দেয়া আদেশ অমান্য করে গত ২৪ জুলাই বিকেল ৩টায় স্বসস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে আমার মৌরসী ভোগদখলীয় পশ্চিম কলাউজান মৌজার বিএস ৯০৫ ও ১৪৬৯ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৪১৬৩ ও ৪৭১৯ দাগের ১১ শতক জায়গা জবর-দখল করেন।

অভিযুক্তরা সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের বলে বলিয়ান হয়ে সম্পুর্ন অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক আমার চাষের জমির মাঝখানে চলাচলের পথ তৈরির দু:সাহস দেখাইয়াছে। এছাড়াও আব্বাস উদ্দিন নিজেকে একজন সহকারী জজ হিসেবে ক্ষমতা দেখাইয়া সকল অভিযুক্তদের অবৈধ অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে নিজেই ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে এ রাস্তা নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় আমি উক্ত সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের নিকট গিয়ে এহেন জোরপূর্বক জমি দখলে আপনি কেন নেতৃত্ব দিচ্ছেন জানতে চাইলে, তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন যে, ” আমার শ্বশুড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আমি জজ ও আমার বন্ধু-বান্ধব অনেকে ম্যাজিষ্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট। আমাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া কুল পাইবেন না। আমি কাউকে পরোয়া করি না। পথ হবে। বেশি বাড়াবাড়ি করিলে আজীবনভর মামলার বোঝা বইতে বইতে কবরে যাইতে হইবে।

আব্বাস উদ্দিন

কে এই সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিন?

আব্বাস উদ্দিন (৩২)। পিতা মোহাম্মাদ আনিস। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের পশ্চিম কলাউজান ৫ নং ওয়ার্ডের হাছন আলী মিয়াজী পাড়ায় তার বাড়ী। ২০০৩ সালে কলাউজান ডা : এয়াকুব বজলুর রহমান সিকদার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। আব্বাস ছিলেন ২০০১ সালে উক্ত স্কুল শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী এবং ২০০৩ সালে সভাপতি। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত চারদলীয় জোটের দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে খালাসী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সচিব ছিলেন। ২০০৫ সালে ঢাকা কর্মাস কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। সে সময় তিনি কমার্স কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারী ও সাথী পর্যায়ের নেতা ছিলেন। ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাবি ইসলামী ছাত্র শিবিরের আইন বিভাগ শাখার বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের বায়তুল মাল সম্পাদক হিসেবে মাস্টার্স সম্পন্ন করে ঢাবি থেকে বিদায় নেন। ঢাকায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনাকালীন সময়ে ঢাকার রাজপথে ইসলামী ছাত্র শিবির ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এসময়ে বাংলাদেশের অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে অনেক অপকর্মে লিপ্ত ছিল। পরে
২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জুড়িসিয়্যাল সার্ভিসে যোগদান করেন। বর্তমানে সহকারী জজ হিসেবে কর্মরত।

সম্প্রতি লন্ডন থেকে প্রশিক্ষণশেষে দেশে ফিরে করোনাকালীন সময়ে বর্তমানে লোহাগাড়ার কলাউজান ইউনিয়নের পশ্চিম কলাউজান হাছন আলী মিয়াজী পাড়াস্থ গ্রামের বাড়ীতে অবস্থান করছেন।

সেই সহকারী জজের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে : বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সহকারী জজ পদে কর্মরত থেকেও নিজ গ্রামে এসে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিজে উপস্থিত থেকে জোরপূর্বক জায়গা জবর-দখলে নেতৃত্ব দেওয়া ও গ্রামের অসহায় কৃষকদের জজের ভয়-ভীতি দেখানোসহ আরো বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্র শিবিরের সাবেক ক্যাডার আব্বাস উদ্দিনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গত ১৫ জুলাই মাননীয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, স্বরাষ্ট মন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মহাপুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার, অধিনায়ক-RAB-7 সহ সরকারের কয়েকটি সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ দাযের করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েকটি সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্তও শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

সহকারী জজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাই ভূক্তভোগী কৃষকের কোরবানীর পশু জবাই করেনি ইমাম : ঘটনা এখানেই শেষ নয়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে সাবেক শিবির ক্যাডার সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের অপকর্মের বিচার চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বাবা মোহাম্মদ আনিস ও জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন ইউসুফসহ কয়েকজন মিলে গত পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানীর দিনে স্থানীয় মসজিদের ইমামকে অসহায় কৃষক মোহাম্মদ আয়ুবের পরিবারের কোরবানীর গরু জবাই করতে নিষেধ করার অভিযোগ তুলেছেন।

এছাড়াও পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেন এ কৃষক।

২৪ ঘণ্টা/আজাদ

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’