খুঁজুন
, ,

সহকারী জজের বিরুদ্ধে জমি জবর-দখলের অভিযোগ ভূক্তভোগী কৃষকের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 8 August, 2020, 6:15 pm
সহকারী জজের বিরুদ্ধে জমি জবর-দখলের অভিযোগ ভূক্তভোগী কৃষকের

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : আমার শ্বশুড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আমি জজ ও আমার বন্ধু-বান্ধব অনেকে ম্যাজিষ্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট। আমাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া কুল পাইবেন না। আমি কাউকে পরোয়া করি না। পথ হবে। বেশি বাড়াবাড়ি করিলে আজীবনভর মামলার বোঝা বইতে বইতে কবরে যাইতে হইবে।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পশ্চিম কলাউজানের হাছন আলী মিয়াজী পাড়ার অসহায় কৃষক মোহাম্মদ আয়ুবের মৌরসী দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় চাষের জমির মাঝখানে জোর পূর্বক চলাচলের পথ নির্মাণসহ ১১ শতক জায়গা জোর পূর্বক জবর-দখল কাজে নেতৃত্ব দেয়া আব্বাস উদ্দিন নামের এক সহকারী জজ ঠিক এমনই দম্ভোক্তি প্রকাশ করার অভিযোগ তুলেছেন ভূক্তভোগী কৃষক মো : আয়ুব।

৮ আগষ্ট (শনিবার) দুপুর ১টায় লোহাগাড়ার বটতলী মোটর ষ্টেশনের একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলেন।

এছাড়াও সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিন ছাত্র থাকালীন সময়ে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক ক্যাডার এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল হিসেবে কর্মরত থেকে ঢাকার রাজপথে ইসলামী ছাত্র শিবির ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এসময়ে বাংলাদেশের অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে অনেক অপকর্মেও লিপ্ত ছিল বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো : আয়ুব। এ সময় তাঁর ছোট ভাই নুরুল আবছার ও রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে কৃষক মোহাম্মদ আয়ুব বলেন, দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন ইউসুফের সাথে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। গত ১২ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দীর্ঘদিনের ভোগদলীয় চাষের জন্য প্রস্তুতকৃত জমির মাঝখানে বিনা প্রয়োজনে পথ নির্মাণ করার চেষ্টা চালায় জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন ইউসুফ ও সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় ফরিদুল আলম, জোবাইয়ের হোসেন প্রকাশ যুবরাজ আদি, শাহাব উদ্দিন, মো : ফারুক, নাছির উদ্দিন, মো : ইউনুছ ও মহিউদ্দিন মো : ফারুক।

এ ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাযের করলে উপ-পরিদর্শক দুলাল বাড়ৈ ঘটনাস্থলে গিয়ে পথ নির্মাণকাজ না করার নির্দেশ দেন।

একইদিন বিকেল ৩টার দিকে এ নির্দেশ অমান্য করে সাবেক শিবির ক্যাডার আব্বাস উদ্দিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক চলাচলের পথ নির্মাণ করেন।

এ সময় বাঁধা দিলে জোবাইয়ের হোসেন প্রকাশ যুবরাজ আদি কোমড় হইতে পিস্তল বের করে, “এক কদম সামনে আগালে বুক ঝাঁঝড়া করে ফেলিব” মর্মে হুমকি দিলে প্রাণের ভয়ে আমি সামনে আগাতে পারি নাই। এ সুযোগে প্রকাশ্যে আমার ভোগদখলীয় চাষের জমির মাঝখানে দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট ও প্রস্থ ৩ ফুট রাস্তা নির্মাণ করে ফেলে।

এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মিছ মামলা নং- ৫৩২/২০২০ দায়ের করি। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারামতে উভয়পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালতের দেয়া আদেশ অমান্য করে গত ২৪ জুলাই বিকেল ৩টায় স্বসস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে আমার মৌরসী ভোগদখলীয় পশ্চিম কলাউজান মৌজার বিএস ৯০৫ ও ১৪৬৯ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৪১৬৩ ও ৪৭১৯ দাগের ১১ শতক জায়গা জবর-দখল করেন।

অভিযুক্তরা সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের বলে বলিয়ান হয়ে সম্পুর্ন অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক আমার চাষের জমির মাঝখানে চলাচলের পথ তৈরির দু:সাহস দেখাইয়াছে। এছাড়াও আব্বাস উদ্দিন নিজেকে একজন সহকারী জজ হিসেবে ক্ষমতা দেখাইয়া সকল অভিযুক্তদের অবৈধ অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে নিজেই ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে এ রাস্তা নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় আমি উক্ত সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের নিকট গিয়ে এহেন জোরপূর্বক জমি দখলে আপনি কেন নেতৃত্ব দিচ্ছেন জানতে চাইলে, তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন যে, ” আমার শ্বশুড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আমি জজ ও আমার বন্ধু-বান্ধব অনেকে ম্যাজিষ্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট। আমাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া কুল পাইবেন না। আমি কাউকে পরোয়া করি না। পথ হবে। বেশি বাড়াবাড়ি করিলে আজীবনভর মামলার বোঝা বইতে বইতে কবরে যাইতে হইবে।

আব্বাস উদ্দিন

কে এই সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিন?

আব্বাস উদ্দিন (৩২)। পিতা মোহাম্মাদ আনিস। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের পশ্চিম কলাউজান ৫ নং ওয়ার্ডের হাছন আলী মিয়াজী পাড়ায় তার বাড়ী। ২০০৩ সালে কলাউজান ডা : এয়াকুব বজলুর রহমান সিকদার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। আব্বাস ছিলেন ২০০১ সালে উক্ত স্কুল শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী এবং ২০০৩ সালে সভাপতি। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত চারদলীয় জোটের দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে খালাসী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সচিব ছিলেন। ২০০৫ সালে ঢাকা কর্মাস কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। সে সময় তিনি কমার্স কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারী ও সাথী পর্যায়ের নেতা ছিলেন। ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাবি ইসলামী ছাত্র শিবিরের আইন বিভাগ শাখার বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের বায়তুল মাল সম্পাদক হিসেবে মাস্টার্স সম্পন্ন করে ঢাবি থেকে বিদায় নেন। ঢাকায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনাকালীন সময়ে ঢাকার রাজপথে ইসলামী ছাত্র শিবির ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি মিছিল-মিটিং ও আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এসময়ে বাংলাদেশের অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে অনেক অপকর্মে লিপ্ত ছিল। পরে
২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জুড়িসিয়্যাল সার্ভিসে যোগদান করেন। বর্তমানে সহকারী জজ হিসেবে কর্মরত।

সম্প্রতি লন্ডন থেকে প্রশিক্ষণশেষে দেশে ফিরে করোনাকালীন সময়ে বর্তমানে লোহাগাড়ার কলাউজান ইউনিয়নের পশ্চিম কলাউজান হাছন আলী মিয়াজী পাড়াস্থ গ্রামের বাড়ীতে অবস্থান করছেন।

সেই সহকারী জজের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে : বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সহকারী জজ পদে কর্মরত থেকেও নিজ গ্রামে এসে ক্ষমতার অপব্যবহার, নিজে উপস্থিত থেকে জোরপূর্বক জায়গা জবর-দখলে নেতৃত্ব দেওয়া ও গ্রামের অসহায় কৃষকদের জজের ভয়-ভীতি দেখানোসহ আরো বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্র শিবিরের সাবেক ক্যাডার আব্বাস উদ্দিনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গত ১৫ জুলাই মাননীয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, স্বরাষ্ট মন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মহাপুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার, অধিনায়ক-RAB-7 সহ সরকারের কয়েকটি সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ দাযের করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েকটি সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্তও শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

সহকারী জজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাই ভূক্তভোগী কৃষকের কোরবানীর পশু জবাই করেনি ইমাম : ঘটনা এখানেই শেষ নয়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে সাবেক শিবির ক্যাডার সহকারী জজ আব্বাস উদ্দিনের অপকর্মের বিচার চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বাবা মোহাম্মদ আনিস ও জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন ইউসুফসহ কয়েকজন মিলে গত পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানীর দিনে স্থানীয় মসজিদের ইমামকে অসহায় কৃষক মোহাম্মদ আয়ুবের পরিবারের কোরবানীর গরু জবাই করতে নিষেধ করার অভিযোগ তুলেছেন।

এছাড়াও পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেন এ কৃষক।

২৪ ঘণ্টা/আজাদ

Feb2
Feb2

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে : নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 8:22 pm
শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে : নাহিদ ইসলাম

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আজ একটা ইন্টারভিউ আমরা দেখেছি, যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। আমাদের দাবি থাকবে, দেশ তো অলরেডি ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই তিনি দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।’

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে আসবে, তিনি কাদের নিয়ে আসবেন, তিনি সারেন্ডার করবেন কি করবেন না। এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে। এখানে আর কোনো পক্ষ নেই। ফলে সরকারই ঠিক করবে তাকে কখন আনবে, কীভাবে আনবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সব প্রস্তুতি নিয়েই তাকে আনতে হবে।

বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গিয়েছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরেও, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।
নাহিদ ইসলাম, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাকে যতটুকু পারমিট করা হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কীভাবে আসবেন, বিচার হবে কি না? এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।

জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয়, সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ত্রিশ হাজার আহত ও ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য, আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।

আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গিয়েছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। ফলে সেটার জন্য আমরাও চাই যে ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।’

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্যোক্তা অংশ নেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, না উদ্যোক্তাগণ বক্তব্য প্রদান করেন।

রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ পেলেন মেয়রের ত্রাণ সামগ্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 8:16 pm
রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ পেলেন মেয়রের ত্রাণ সামগ্রী

চট্টগ্রামে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে মৌসুমের রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার হাজারো মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি চট্টগ্রাম ৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচলাইশ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অক্সিজেন কুয়াইশ সংযোগ সড়কের ওয়াজেদিয়া, বোর্ড অফিস, চালিতাতলী বাজার, হাজীপাড়া, বেলতলা, শহীদনগর সহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থানরত হাজারো মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পর থেকে সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দশ হাজার পরিবারের মাঝে রান্না করা এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা বসে থাকিনি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করেছি। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কোথায় পানি আটকে আছে, কীভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায়, এসব বিষয়ে একযোগে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মেয়র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন, খাল ও নালা সচল রাখা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মাসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়রের নির্দেশনা গ্রহণ করেন।

এসময় মেয়র ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এর আগে তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে পানিবন্দী মানুষের খোঁজখবর নিতে চান্দগাঁও ওয়ার্ডের হাজীরপুল, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুরটাল, অনন্যা আবাসিক এবং শমসেরপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি প্রায় এক হাজার পরিবারের মাঝে রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে তারা কোথায় কী কারণে পানি আটকে আছে, পানি নিষ্কাশনে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাফর আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম, আবু ইউসুফ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক জি এম আইয়ুব খান, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, বায়েজিদ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের জসিম, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম, পাঁচলাইশ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক শামসুল আলম, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল কালাম আবু, সদস্য সচিব সোলায়মান বাদশা, বিএনপি নেতা মোরশেদুল আলম, লিয়াকত আলী জসিম, মোহাম্মদ ইসমাইলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।